Friday, 20 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

ফাঁসি কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 147 বার

প্রকাশিত: December 12, 2013 | 6:26 PM

জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গতরাত ১০টা ১ মিনিটে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে ছয় জল্লাদের একটি দল এ ফাঁসি কার্যকর করে। সন্ধ্যা থেকেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করে কারাকর্তৃপক্ষ। এসময় তার সঙ্গে শেষ দেখা করে আসেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে কাদের মোল্লা বলেন, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। রাত ৯টার কিছু পরে কারাগারে প্রবেশ করেন ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার। তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন ও মসজিদের ইমাম। তাদের উপস্থিতিতে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। শাহজাহানের নেতৃত্বে জল্লাদ দলে ছিলেন তানভীর, জনি, ফারুক, হামিদ ও সরোয়ার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। কোন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় কোন নেতার ফাঁসিও এটাই প্রথম। রাত সোয়া ১১টায় কাদের মোল্লার লাশ নিয়ে গাড়ি বহর ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে আজ কাদের মোল্লার লাশ দাফন করা হবে। এদিকে ফাঁসি কার্যকরের পর কারা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কেউ কোন কথা বলেননি।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে আবদুল কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। এরফলে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে বাধা দূর হয়েছে বলে জানান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার পাননি।
যেভাবে ফাঁসি কার্যকর: গতকাল দুপুরে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকে রাতেই আাব্দুল কাদের মোল্লার রায় কার্যকর করা হবে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে কাদের মোল্লার স্বজনেরা শেষবারের মতো দেখা করতে যান কারাগারে। এর আগেই রায় পুনর্বিবেচনার আদেশ কারাগারে যাওয়ার পর একজন ডেপুটি জেলার তাকে বিষয়টি জানান। এছাড়া আজই তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে বলেও জানানো হয়। সন্ধ্যা থেকেই চলতে থাকে প্রস্তুতি। তবে রায় কার্যকর করার সময় নিয়ে বিভিন্ন রকম তথ্য আসতে থাকে। নির্ভরযোগ্য একটি কারাসূত্র জানায়, রাত ১২টা ১ মিনিটে রায় কার্যকর হলে তা শুক্রবার পড়বে বলে রাত ১২টার আগেই কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ও চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে সংবাদকর্মীদের। রাত নয়টার দিকে ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার ও ঢাকার সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা একসঙ্গে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ভেতরে প্রবেশ করেন ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ ইউসুফ হারুণ। এর কিছুক্ষণ পরই ভেতরে যান আইজি প্রিজন মাঈন উদ্দিন খন্দকার।
কারা সূত্র জানায়, জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ছয় জল্লাদ দল। হামিদ, সারোয়ার, তানভীর, জনি ও ফারুক জল্লাদ মিলে সন্ধ্যার পরপরই ফাঁসির মঞ্চে একবার রিহার্সেল  দেয়। আগে থেকেই প্রস্তুত ফাঁসির রজ্জুতে শেষবারের মতো মাখানো হয় তেল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বজনেরা শেষ দেখা করে বেরিয়ে যাওয়ার পর কাদের মোল্লাকে নেয়া হয়। তবে তিনি রাতের খাবারের একটি দানাও মুখে তোলেননি। রাত ৮টার দিকে তাকে শেষ গোসল করানো হয়। পড়ানো হয় ফাঁসির আসামীদের জন্য নির্ধারিত নতুন একসেট জামা। এসময় তাকে নামাজ আদায় করার জন্য বলা হলে কাদের মোল্লা নামাজ আদায় করেন। এসময় বেশ কিছুক্ষণ তিনি সিজদায় পড়ে ছিলেন। নামাজ শেষ হলে তাকে তওবা পড়ান কারা জামে মসজিদের ইমাম মনির হোসেন।
সূত্র জানায়, রাত দশটার কিছু আগে প্রধান জল্লাদ শাহজাহান তার সহকারীদের নিয়ে কাদের মোল্লাকে কনডেম সেল থেকে নিয়ে ফাঁসির মঞ্চের দিকে যায়। এসময় কাদের মোল্লা ছিলেন নিশ্চুপ। তবে সে সময় আল্লাহকে ডাকছিলেন তিনি। আইজি প্রিজন মাঈন উদ্দিন খন্দকার মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, ফাঁসির মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। আমি কোন কথা বলতে শুনিনি। একই মন্তব্য করেন ঢাকার সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা। তিনিও মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি তাকে কোন কথা বলতে শুনিনি।
ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত থাকা সূত্রগুলি জানায়, কনেডম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চর দুরত্ব খুব বেশি নয়। রাত দশটার মিনিট পাঁচেক আগে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়। দুই মিনিট আগে কাদের মোল্লার মুখে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। গলায় পড়ানো হয় ফাঁসির রশি। এসময় হাতে রুমাল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। জল্লাদ শাজাহানের চোখ তখন ওই রুমালের দিকে। রাত ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাতের রুমালটি নিচে ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসির মঞ্চের হাতলটি টেনে দেন জল্লাদ শাজাহান। ফাঁসির মঞ্চের নিচের পাটাতন সরে গেলে দশ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা হয় কাদের মোল্লাকে। পরে মঞ্চের নিচের দরজা খুলে লাশ বের করে আনে জল্লাদরা। ঢাকার সিভিল সার্জন  আব্দুল মালেক মৃধা তার হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জনের এক সহকারী লাশের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন। এরপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার সুরতহাল প্রতিবেদন ও পোস্টমর্টেম করা হয়। এরপর সিভিল সার্জনের সহকারীরা কাটা অংশগুলি সেলাই করেন। পরে ফাঁসির মঞ্চের পাশেই কাদের মোল্লার মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী গোসল করানো হয়। কারা মসজিদের ইমাম মনির নিজ হাতেই সহযোগীদের নিয়ে গোসল করান। এর আগেই রাত দশটা ১৭ মিনিটে কফিন নিয়ে একটি নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা অ্যাম্বুলেন্স ভেতরে প্রবেশ করে। গোসল শেষে কাফনের কাপড় পড়িয়ে মরদেহ একটি কফিনে রাখা হয়। রাত সাড়ে ১০টার সময় লাকসাম ফেয়ার হসপিটালের একট অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো ছ-০৬৭৬) ও অপর একটি অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো ছ-৭১-০৬৫৪) ভেতরে প্রবেশ করে। সকল কার্য সম্পন্ন করে রাত সোয়া ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স দুটি বেরিয়ে যায়। বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে পেছনে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পনেরটি গাড়ির বহরও কাদের মোল্লার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এদিকে আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, কাদের মোল্লার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ফরিদপুরের জেলার ভায়ানচর ইউনিয়নের আলীয়াবাদ গ্রামে পিতামাতার কবরের পাশে রাতেই তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পরিবারের ইচ্ছাতে সকাল হওয়ার আগেই তার দাফন করা হবে। 
এদিকে রাতে রাজধানীর রমনা থানাধীন মগবাজারের বাসা থেকে আটক করা হয় কাদের মোল্লার ছোট ছেলে হাসান মওদুদ ও শ্যালক রাজিবুল হাসানসহ কমপক্ষে ১৬ জনকে। গতকাল রাতে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রর করার পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে। তবে আটকের কথা অস্বীকার করেছে রমনা থানা পুলিশ। সুত্র জানায়, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তার মগবাজারের বাসায় স্বজনেরা জড়ো হন। ওই সময়ে কে বা কারা রমনা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ বাসার নীচ থেকে কাদের মোল্লার ছোট ছেলে, তার শ্যালকসহ ১৬ জনকে আটক করে। পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান মানবজমিনকে বলেন কাদের মোল্লার পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই পরিবারের সদস্যদের থানা পুলিশের হেফাজত আনা হয়। পরে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে কাদের মোল্লার লাশের গাড়ি বহরে তাদেরকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করে পুলিশ। 
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরপরই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন। পরে কারাকর্তৃপক্ষও রায় কার্যকর নিয়ে বৈঠক করে। কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, কাদের মোল্লা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে কাদের মোল্লার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি এব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষকে এখনও কিছু বলেননি। 
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সময় নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর ৯০ মিনিট আগে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি ওই ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। গত দুই দিন আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার দায়ের করা রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হয়। গতকাল বেলা ১২টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতকক্ষে আবেদন খারিজের আদেশ ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। তবে কোন যুক্তিতে আবেদন খারিজ করা হয়েছে তা আদালতের ঘোষণায় বলা হয়নি। এর আগে গত দুই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার নভি পিল্লাই প্রধানমন্ত্রীকে এব্যাপারে চিঠি লেখেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শেখ হাসিনাকে ফোন করে বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করে দিতে পারে। দৃশ্যত সরকার এসব অনুরোধ আমলে নেয়নি।
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল দায়েরের কোন বিধান ছিল না। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে সরকারকে আপিল দায়েরের সুযোগ দেয়া হয়। এ আপিলের শুনানি শেষে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতের ভিত্তিতে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। গত ৫ই ডিসেম্বর এ রায় প্রকাশ করে আদালত। পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়।
মোমেনার সাক্ষ্যে অসঙ্গতি রয়েছে- ব্যারিস্টার রাজ্জাক: কাদের মোল্লার মামলায় রিভিউ শুনানিকে কেন্দ্র করে পুরো সুপ্রিম কোর্ট এলাকাকেই গতকাল নিরাপত্তা চাদরে ডেকে ফেলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি প্রবেশ পথে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশ। আইনজীবী এবং সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই আদালত এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শুনানিতে অংশ নিয়ে কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাক্ষী মোমেনার সাক্ষ্যের বৈপরিত্য তুলে ধরেন। সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ সাক্ষীর সাক্ষ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। মোমেনা বেগম একেক জায়গায় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। জল্লাদখানায় এক রকম, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এক রকম এবং ট্রাইব্যুনালে এক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকলে সেই সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আর বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেয়া যায় না। এক্ষেত্রে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তাই এর গ্রহণযোগ্যতা নেই। এরপর ব্যারিস্টার রাজ্জাক সম্পূর্ণ ন্যায় বিচার বিষয়ে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে। জেল কোড অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে যে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় সেই আদালত। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের ৪৭ (ক) ২ অনুযায়ী কাদের মোল্লার রিভিউ করার সুযোগ নেই। তিনি কোন প্রতিকার চাইতে পারেন না। ট্রাইব্যুনাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির আবেদনের সুযোগ থাকবে না। তবে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে শুনতে পারেন। আদালত তা শুনেন নাই। কাদের মোল্লার পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদেশ দেয় আদালত।
আদালতের আদেশ সর্বসম্মত- এটর্নি জেনারেল: আদেশের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালতের সর্বসম্মত আদেশের ফলে আসামি কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে আর কোন বাধা নেই। চেম্বার জজের আদেশে যে কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল এখন তা আবার চালু হলো। তিনি বলেন, আদালত তাদের দুটি রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন।  কোন অবজারভেশন দেননি। তাই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির দরকার নেই। আজ কোর্ট যে আদেশ দিয়েছে তার সংপ্তি আদেশ যাওয়ার দরকার নেই। জেল কর্তৃপ চাইলে বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি বলেন, এ মামলার ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য নয়। কাদের মোল্লার আর প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ারও অধিকার নেই।
কাদের মোল্লা ন্যায় বিচার পাননি- খন্দকার মাহবুব: কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, আমরা রিভিউ আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘ সময় শুনানি হয়েছে। শুনানির পর আদালত আমাদের আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন। আইনের শাসন যেখানে কায়েম আছে সেখানে আমরা মনে করি, এই রায় দিয়ে ন্যায়বিচার করা হয়নি। কাদের মোল্লা ন্যায় বিচার পাননি। তিনি বলেন,  কেন আবেদন খারিজ করা হয়েছে সেটাও আমরা জানি না। পূর্ণাঙ্গ রায় না পেলে এটা বোঝাও যাবে না।
আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, রায় কার্যকরের জন্য রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যা করতে হবে জেলকোড এবং আইন অনুযায়ীই করতে হবে। জেলকোডের বাইরে কিছু করা যাবে না।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নানা নির্দেশনা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়ার পর দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা। তারা পরবর্তী করণীয় নিয়ে মিটিং করেন। তবে সভাগুলো থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বা আইন প্রতিমন্ত্রী কোন কথা বলেননি। মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। এদিন দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রিভিউ আবেদন খারিজের পরপরই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আইন বিষয়ক উপদেষ্টা শফিক আহমেদের দপ্তরে একটি বৈঠক শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বড়দিন ও নতুন বছরের প্রথম প্রহর উদযাপন উপল েআইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ার পরে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয় নিয়ে সভা করেছি। সভার বাইরে কিছু বলবো না। তবে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা প্রসঙ্গে শামসুল হক টুকু বলেন, বড়দিন ও ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে’ দেশের সব গির্জা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। তিনি বলেন, যারা সারা দেশে যেখানে সেখানে নাশকতা সৃষ্টি করছে, জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা রায় সহায়তা করতে হবে। বিজিবি’র মহাপরিচালক আবদুল আজিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনুদ্দিন খন্দকার, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শহিদুল হকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 
তুরস্কের উদ্বেগ: কাদের মোল্লার ‘মৃত্যুদণ্ড’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। তারা বলেছে, তার ফাঁসি দেয়া হলে তাতে অতীতের ক্ষত পূরণ হবে না। হুরিয়েত ডেইলি নিউজ এ খবর দিয়েছে। এ বিষয়ে ১১ই ডিসেম্বর শেষ সময়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছে, কাদের মোল্লার সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, তার ফাঁসি দেয়া হলে তাতে বাংলাদেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এতে বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়। তুরস্ক মনে করে অতীতের ক্ষত এভাবে পূরণ করা যায় না। সামাজিক পুনর্জাগরণ এ উপায়ে রক্ষা করা যায় না। এ বিবৃতি দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট কাদের মোল্লার ফাঁসির পথ উন্মুক্ত করে দেয়। কাদের মোল্লার আইনজীবীর করা আপিল আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। গত ১০ই ডিসেম্বর রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়। তুরস্ক তার বিবৃতিতে আরও বলেছে, আমরা বাংলাদেশের সব দলের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কাজ করবেন বলে আশা করছি। সামাজিক পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে আবেগ এড়িয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আমরা আশা করি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্ক এখন যে পর্যায়ে আছে একই রকম রাখবে তার সম্পর্ক।  
ফাঁসি না দিতে এইচআরডব্লিউ-এর আহ্বান: জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর না করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারা বলেছে, ফাঁসি যদি কার্যকর করা হয় তাহলে তা হবে অবিচার। তাকে ফাঁসি দেয়া হলে তা হবে পূর্ণাঙ্গ আপিল করতে না দিয়ে এবং আংশিক আপিলের ওপর ভিত্তি করে। গতকাল মানবজমিন পত্রিকার ই-মেইলে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। ই-মেইলের সাবজেক্টে লেখা হয়েছে- ‘আর্জেন্ট: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্টেটমেন্ট অন মোল্লা এক্সিকিউশন’। বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার মিডিয়া কনসালট্যান্ট ইঙ্গা বাটেফিচ। এতে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তার বিচার সব সময়ই সমর্থন করে আসছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তবে এ দায়ে যারা অভিযুক্ত তাদের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে। যে কোন পরিস্থিতিতে সব রকম মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ সংস্থার এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, এ বছর এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন এই অবস্থায় এমন একটি বিতর্কিত মামলায়, ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে, যদি ফাঁসি কার্যকর করা হয় তাহলে আরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাদের মোল্লাকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তারপরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সরকার আইন পরিবর্তন করে, যার বলে প্রসিকিউশন আপিল করার অনুমতি পায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১২ বছর বয়স ছিল এমন একজন নারীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। ওই নারী তার কাহিনী পাল্টে ফেলেন। এ মামলায় শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড না দিতে অনেক সরকার ও জাতিসংঘ আহ্বান জানিয়েছে। তারা সুষ্ঠু বিচার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। কাদের মোল্লা দোষী নাকি নিরপরাধী সে বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কোন পক্ষ নিচ্ছে না। এটা বলা যাবে, শুধু সুষ্ঠু বিচারের পরে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই বিবৃতিতে আরও বলেছে, অনেক পর্যবেক্ষক বিশ্বাস করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে সুবিধা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ফাঁসি দিতে চাইছে। দেশে এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতিতে এমন দায়িত্বহীনের মতো কাজ করা উচিত হবে না। সহিংসতা পরিহার করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ অবশ্যই সরকার ও বিক্ষোভকারীদের নিতে হবে।
সর্বোচ্চ আইনে প্রদত্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে- জামায়াত: আবদুল কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ আইনে প্রদত্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে হয়েছে বরে অভিযোগ করেছে জামায়াত। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, সাড়ে ৪ ঘণ্টা শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট আবদুল কাদের মোল্লার আবেদন খারিজ করে দেন। ৭৯০ পৃষ্ঠার রায়ের রিভিউ পিটিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। সংবিধান সকল আইনের ঊর্ধ্বে। অথচ আবদুল কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছেন। জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে কিভাবে একজন রাজনীতিবিদ ও নাগরিককে হত্যা করার নীল-নকশা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয় তার একটি নিকৃষ্ট দলিল হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকবে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা প্রয়াসের ঘটনা। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ, সরকারের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ স্থগিতের আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণ এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করার প্রতিবাদে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার বিশ্ববাসীর এ আহ্বান অগ্রাহ্য করে বিশ্ব বিবেকের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের ন্যক্কারজনক কলঙ্ক উন্মোচিত করেছে। এ মানবতা বিরোধী হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তার সরকারকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সরকার যে অবিচার আবদুল কাদের মোল্লার প্রতি করেছে জনগণের কাছে অবশ্যই তার জবাবদিহি করতে হবে। ডা. শফিক বলেন, সরকার একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের যে ষড়যন্ত্র করছে তার বিরুদ্ধে জনগণের গড়ে ওঠা আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ৫ বছরের জুলুম, নির্যাতনের ফলে আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন হলে তাদের নিশ্চিত ভরাডুবি ঘটবে। এ জন্য কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করছে। সরকারের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ দেশব্যাপী গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এ আন্দোলন ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য সরকার আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করার নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।মানবজমিন 

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV