বরফের সঙ্গে বসবাস
রণক ইকরাম : বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। প্রমাণ চাপে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে পানি বরফে রূপান্তরিত হয়। আর বিশ্বের অনেক শীতপ্রধান দেশের মানুষকেই বরফের সঙ্গে বাস করতে হয়। অনেকেই বরফে ঢাকা প্রকৃতিতে রোমাঞ্চ আর আনন্দ খুঁজে পান। কিন্তু শীতপ্রধান দেশে মানুষের কষ্ট কী পর্যায়ে পৌঁছায় তা কল্পনা করা কঠিন। কিছু কিছু দেশে এমনিতেই বছরজুড়ে থাকে শীতের আমেজ। আর শীতের এ সময় প্রকৃতির বিরূপ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। করতে হয় শীতের সঙ্গে যুদ্ধ, বরফের সঙ্গে যুদ্ধ।
কানাডা
আয়তনের দিক থেকে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রায় ৪১% নিয়ে গঠিত। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর শীতলতম দেশগুলোর একটি। এই দেশের জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে হালকা ভ্যাপসা ঠাণ্ডা, ভিজা কুয়াশা (কিছু সময়ে গরম রৌদ্র সম্পন্ন), শীতকালে ভীষণ ঠাণ্ডা, বরফাচ্ছন্ন, শুষ্ক এবং তুষারপাত ইত্যাদি থাকে। এ দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই আর্কটিক বরফাচ্ছন্নের কারণে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। এদেশের জলবায়ু অনেকটাই রাশিয়ার মতো শৈত্যপূর্ণ এবং হিমশীতল। কানাডা বছরে ৮ মাস বরফাচ্ছন্ন থাকে। এ দেশে থাকাটা অনেকের কাছে প্রতিকূল মনে হলেও এখানকার মানুষজন ঠাণ্ডায় অভ্যস্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিণে সংযুক্ত মেঙ্কিান রাষ্ট্রসমূহ অবস্থিত। পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত এই দেশ। এ ছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলাস্কা অঙ্গরাজ্য এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন ভূমি এই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত।মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতি বিস্তৃত, আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত, উত্তরে কানাডা থেকে দক্ষিণে মেঙ্েিকা ও মেঙ্েিকা উপসাগর পর্যন্ত এর সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আয়তনের দিক থেকে আলাস্কা হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য এবং এটিই এখানকার সবচেয়ে শীতলতম স্থান। আলাস্কায় বছরের ৯ মাসেরও বেশি সময় তাপমাত্রা খুবই নিম্ন থাকে। এখানকার তাপমাত্রা সর্বনিম্ন মাইনাস ৬২.২ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে।
এস্তোনিয়া উত্তর-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। এস্তোনিয়া দেশটি বাল্টিক সাগরের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত। এস্তোনিয়া বাল্টিক দেশগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত। এস্তোনিয়ার পশ্চিমে বাল্টিক সাগরের অপর প্রান্তে সুইডেন অবস্থিত। এস্তোনিয়া মূলত জলা ও প্রাচীন অরণ্যে পূর্ণ একটি নিম্নভূমি। দেশটির উপকূলীয় জলসীমায় বহু দ্বীপ আছে। এস্তোনিয়ার রাজধানী তালি্লন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাল্টিক সমুদ্রবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম শহর। শীতপ্রধান অন্যান্য দেশগুলোর মতো এটিও বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এখানে প্রায় বরফঝড় এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
অ্যান্টার্কটিকা মানেই বরফের রাজ্য। সারা বছরজুড়ে সেখানে কেবল সাদা বরফের সারি। পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণের এ মহাদেশটি একই সঙ্গে সবচেয়ে শীতলতম, শুষ্কতম ও উচ্চতম মহাদেশ। আস্ত একটা মহাদেশ হলেও এখানে স্থায়ীভাবে মানুষ বসবাস করে না। তেমন সুযোগও নেই। তবে মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন রিসার্চ স্টেশনের কাজে বছরে অন্তত ৫ হাজার মানুষ অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থান করে। প্রবল শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম উদ্ভিদ ও প্রাণীরাই কেবল এ মহাদেশে টিকে থাকতে সক্ষম। যেমন শৈবাল ইত্যাদি।এই মহাদেশটি মানুষের চোখে প্রথম ধরা পড়ে ১৮২০ সালে। রুশ অভিযাত্রী মিখাইল লাজারেভ ও ফাবিয়ান গটলিয়েব ফন বেলিংশসেন সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব উদ্ভাবন করেন। অ্যান্টার্কটিকা শব্দটি গ্রিক যৌগিক শব্দ। যার সহজ মানে হলো উত্তরের বিপরীতে অবস্থিত।
রাশিয়া ইউরেশিয়া ভূখণ্ডের উত্তর অংশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ার বেশির ভাগ অংশ রাশিয়াতে পড়েছে। দেশটিতে ৪০টি ইউনেস্কো জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকা রয়েছে। এটি বিশ্বের শীতলতম দেশ। এখানে সারা বছর হিমশীতল এবং শৈত্যপূর্ণ থাকে। অতিরিক্ত আর্কটিক বরফাচ্ছন্নের, অতি উচ্চভূমি এবং রাশিয়ান প্রকৃতির কারণে শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হয় এবং সারাদিন শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকে। এই দেশে বছরে ১০ মাস শৈত্যপ্রবাহ (সেপ্টেম্বর-মে) এবং ৮ মাস বরফাচ্ছন্ন (অক্টোবর-এপ্রিল) হয়ে থাকে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া এলাকায় সারাদিন ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহ থাকে এবং পশ্চিম-দক্ষিণাংশে গরম থাকে।
গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ দ্বীপ যা ডেনমার্কের একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত অংশ হিসেবে স্বীকৃত। দ্বীপটির অধিকাংশই আর্কটিক বৃত্তের উত্তর অংশে অবস্থিত। এটি পশ্চিম দিকে ডেভিস প্রণালি ও ব্যাফিন উপসাগর দ্বারা প্রাথমিকভাবে কানাডীয় আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পূর্ব দিকে ডেনমার্ক প্রণালি দ্বারা আইসল্যান্ড থেকে পৃথক হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ। দেশটির তাপমাত্রা অত্যন্ত নিম্ন। এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৯ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ৭ ডিগ্রি হতে পারে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো গরম কালেও এখানকার মানুষজনকে বরফের সঙ্গেই বসবাস করতে হয়। গোটা দ্বীপটিই যেন স্থায়ী বরফের আচ্ছাদনে ঢাকা।
ফিনল্যান্ড উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। ফিনল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত দেশগুলোর একটি। এর এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সুমেরু বৃত্তের উত্তরে অবস্থিত। এখানে ঘন সবুজ অরণ্য ও প্রচুর হ্রদ রয়েছে। ফিনল্যান্ড একটি নিম্নভূমি অঞ্চল। কয়েক হাজার বছর আগেও এটি বরফে ঢাকা ছিল। বরফের চাপে এখানকার ভূমি স্থানে স্থানে দেবে গিয়ে হাজার হাজার হ্রদের সৃষ্টি করেছে। ফিনল্যান্ডের মেরু অঞ্চলে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় সব সময় দিন থাকে। মধ্যরাতের সূর্যের এই দিনগুলোতে ফিনল্যান্ডের নয়নাভিরাম উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হাজার হাজার লোক নৌকা নিয়ে বেড়াতে আসে।বাংলাদেশ প্রতিদিন
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights