Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

বহিষ্কার আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শোকজপ্রাপ্ত ৮ নেতা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 98 বার

প্রকাশিত: December 26, 2015 | 11:41 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন, নিউইয়র্ক : বহিষ্কার আতঙ্কে ভ’গছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ৮ নেতা। যে কোন সময় দল থেকে অব্যাহতির খড়গ নেমে আসতে পারে শোকজপ্রাপ্ত ওই নেতাদের ওপর। শোকজপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আবদুল হাসিব মামুন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া (হাজী এনাম) এবং উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনিকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদানের একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ গ্রহণ করে তা উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করেছে চ’ড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতোপূর্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিকভাবে ওই আটজনকে শোকজ করা হয়। জানা গেছে, সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ৩/৪ দিন আগে বাংলাদেশে গিয়েছেন। তিনি ফিরেই ওই ৮ নেতার অব্যাহতির ঘোষণা দেবেন। এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাশেম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা জানিয়েছেন, সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে জরুরী কাজে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। শোকজপ্রাপ্ত ৮ নেতার অব্যাহতির বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান নিউইয়র্ক ফিরেই ওই ৮ নেতার অব্যাহতির বিষয়ে ঘোষণা দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলীয় নেতাদের বহিষ্কার নিয়ে মহা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে। বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন শোকজপ্রাপ্ত আট নেতা। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই আট নেতা দলে তাদের অবস্থান ঠিক রাখতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নেতার কাছে জোড় তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তারা কোন সুবিধা করে ওঠতে পারছেন না বলে সূত্রটি জানায়।
আট নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তাদেরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব নিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, আট নেতার শোকজ জবাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি গত ২০ ডিসেম্বর এস্টোরিয়ার বৈশাখী রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে বৈঠকে বসে। সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাদের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তে বলা হয়, দোষীরা শোকজের সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন। তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও জনসম্মুখে দোষ স্বীকার করে দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে সভায় এই আটজনকে সংগঠন থেকে অব্যাহিত দেয়ার সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবটি ই-মেইলে পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর আই টি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছেও। যা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের গত ২০ ডিসেম্বরের কার্যকরী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত
গত ২০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে এস্টোরিয়ার বৈশাখী রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভার কার্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, সভায় সর্বসম্মতভাবে কতিপয় গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশাবলী প্রধান মন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কর্তৃক প্রেরিত ই-মেইল বার্তা মারফত দলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী ও আইরিন পারভীন, সহ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন দেওয়ান ও আব্দুল হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া (হাজী এনাম), মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম এবং উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি চঁনষরপ জবঃৎধপঃরড়হ রংংঁব না করায় দলের সকল কার্য্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো নি¤œলিখিত কারণেঃ
কারন দর্শাও নোটিশ প্রাপ্ত ৮ জনের কেউই চঁনষরপ জবঃৎধপঃরড়হ রংংঁব না করে অথবা এর মর্মার্থ অনুযায়ী নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও জনসম্মুখে দোষ স্বীকার করে দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেননি। তারা তাদের লিখিত বক্তব্যে ও প্রেস করফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্যে কারণ দর্শাও নোটিশকে ‘‘সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত” বলে প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান মন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অবজ্ঞা ও অসম্মান প্রদর্শন করেছেন।
দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ কর্তৃক আহুত বিগত ৬ ও ৮ ডিসেম্বরের অবৈধ সভা থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহঃ
ক) সভাপতি সহ ৭ জনকে কারন দর্শাও নোটিশ ও বহিস্কারাদেশ প্রদান।
খ) কার্যকরী কমিটির ৪৮ জন সদস্যের উপস্থিতির নামে (যা মোটেও সত্য নয়) অনুষ্ঠিত সভায় দলের শূন্য পদ পূরুনের জন্যে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বহিস্কৃত ‘‘জাগো বাংলাদেশর” নেতা জয়নাল আবেদীন ও নিজাম চৌধুরীর ভাই জাকারিয়া চৌধুরীকে দলে পূনর্বহাল করণ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রদান।
গ) বিগত সেপ্টেম্বর মাসে জননেত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আগমন উপলক্ষ্যে আগস্ট/সেপ্টেম্ব মাস থেকে ভিন্ন প্লাটফর্মে সাজ্জাদ-নিজাম টাউন হল মিটিং ডেকে দলের মধ্যে গ্রুপিং ও কোন্দল সৃষ্টি করণ।
ঘ) ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মিটিং এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভাপিতকে বহিস্কারের বিবৃতি সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের স্বাক্ষরিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে নিজাম চৌধুরী কর্তৃক ফেসবুকে বার বার শেয়ার করে সমর্থন দান।
ঙ) বিগত চার বছর যাবত বাংলাদেশে অবস্থান করে যখনই ২/১ সপ্তাহের জন্য নিজাম চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন তখনই দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং ও কোন্দল সৃষ্টি করেন।
চ) প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম ও উপ প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি কর্তৃক টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে সভাপতি কর্তৃক ৪ (চার) লক্ষ ডলার আত্মসাত সহ নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে অবৈধ সভা আহ্বান।
ছ) সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুল হাসিব মামুন অবৈধ সভার পক্ষে জনসংযোগ ও সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানের ডাকা অবৈধ সভায় যোগদান করতে সভার সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
ঝ) মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম কর্তৃক ৬ ও ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখের অবৈধ সভার আয়োজক হিসেবে কাজ করা ও সভাপতি কর্তৃক আহুত সভায় আগত কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দকে শারিরীকবাবে লাঞ্চিত করণ ও ভীতি প্রদর্শন।
ঞ) দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভীন সবকিছু জানা সত্ত্বেও উভয় মিটিং এ যোগদান করে দলের সভাপতির বিরুদ্ধে রসঢ়বধপযসবহঃ (অভিশংসন) করার প্রস্তাব উত্থাপন ও সভাপতি আহুত সভা সম্পর্কে মিথ্যাচার।
উপরোক্ত নেতৃবৃন্দ সভাপতি কর্তৃক ইস্যূকৃত প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত এক সপ্তাহ আগে ৬ ডিসেম্বর ডাকা অবৈধ সভার সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই জানার পরও দলে গ্রুপিং ও কোন্দল করে দলীয় গঠনতন্ত্রের বরখেলাপ করেছেন।
কার্য্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তাবলী ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে সরাসরি দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আরো ৮ জনকে সাত দিনের মধ্যে শোকজের নির্দেশ জারি করেন। সেদিন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম উল্লেখ করেন। শোকজপ্রাপ্তরা হলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাসিব মামুন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া হাজী এনাম ও উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি।
ওদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীসহ অভিযুক্ত ৭ নেতা সংবাদ সম্মেলনে এবং যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভীন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের জবাবী বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাপ্তির চার দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কার্যকরী কমিটির সভায় আমরা উপস্থিত ছিলাম। সেক্রেটারির নোটিশ পেয়ে সেখানে গিয়েছি। সে সভায় সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া দূরের কথা, এ ব্যাপারে কোন আলোচনাও হয়নি। ওই সভা আয়োজনের সাথে আমরা জড়িত বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করা হয় লিখিত বক্তব্যে। উল্লেখ করা হয়, বহিস্কার ও পাল্টা বহিস্কারের যে সংবাদ পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, এর সাথে আমাদের এই ৮ জনের কোন প্রকার যোগসূত্র বা সম্পর্ক নেই।
সংবাদ সম্মেলনে নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘সভাপতিকে বহিস্কারের কোন এখতিয়ার কার্যকরী কমিটির কিংবা আমাদের নেই। আমরা সে ধরনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা কল্পনাও করতে পারি না। তাই ভবিষ্যতে আমরা বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করার সংকল্প ব্যক্ত করছি।’
সভাপতি এবং তার স্ত্রীসহ ৪ কর্মকর্তাকে বহিস্কারের যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বিতরণ করেছিলেন সে ব্যাপারে এ ৮ জন কিছুই জানেন না বলেও উল্লেখ করা হয়। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের মত কোন কাজেই তারা কখনো জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে।
সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ গত ৬ ও ৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠান করে সে সভা থেকে সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বহিস্কার এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন বলে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শোকজ প্রাপ্ত কাউকেই এখন পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এই ব্যাপারে কোন প্রেস রিলিজও ইস্যু করেনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী সহ শোকজ প্রাপ্ত আটজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সকালে এক টেলিফোন বার্তায় বাংলাদেশ থেকে বার্তা সংস্থা বিডিএনএন২৪ কে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, দল থেকে শোকজ প্রাপ্ত কাউকেই সাসপেন্ড করা হয়নি এবং এ ব্যাপারে তিনি বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য দলের সকল সদস্য ও মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সাসপেন্ড বা বহিস্কারের ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পাওয়ার পর তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ