Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য নায়ক তাজউদ্দীন আহমদের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 54 বার

প্রকাশিত: July 27, 2016 | 11:43 PM

সুব্রত বিশ্বাস : বামপন্থী রাজনৈতিক প্রভাবে ইতিমধ্যে ‘মুসলীম আওয়ামী লীগ’ থেকে ’আওয়ামী লীগ’ রূপ পরিগ্রহ করেছে। রূপান্তরিত আওয়ামী লীগের সভাপতি তখন যথাক্রমে মৌলানা ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিব এবং খন্দকার মোশতাক আহমদ। দলের অবস্থান ডান থেকে মধ্য-ডানে রূপান্তরিত। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক জেলে থাকা অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে ডান সমর্থক খন্দকার মোশতাককে বাদ দিয়ে মধ্য-ডান সমর্থক শেখ মুজিবকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খন্দকার মোশতাক সাধারণ সম্পাদক হতে না পেরে শেখ মুজিবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

বলাবাহুল্য, আওয়ামী লীগ বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে মুসলমান উঠতি ধনীদের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। পাকিস্তানী কাঠামোয় বাঙালীরা শিক্ষা, চাকুরী এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে উত্তর উত্তর বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। এমনি অবস্থায় দলের ওপর বাঙালী উঠতি ধনীদের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাওয়ার্দীর ওপর শেখ মুজিবের বিস্বস্ততা এবং সোহরাওয়ার্দীর আপোষকামিতার কারণে দল সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ ছিল। এমনি অবস্থায় স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি এবং সাম্রাজ্যবাদ ঘেষা নীতির প্রেক্ষিতে ’৫৭ সালে দলের প্রগতিশীল একটি অংশ দল থেকে বেরিয়ে এসে ’ন্যাশনেল আওয়ামী পার্টি‘ ‘ন্যাপ’ গঠন করে।

এদিকে ইতিমধ্যে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শেখ মুজিবের ওপর অর্পিত হয়। এমনি অবস্থায় পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন সামরিক লৌহমানব আইয়ূব খান। আইয়ূব খান পূর্ব পাকিস্তানের উদীয়মান বাঙালী জাতিয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক ধারাকে ডা-া মেরে ঠা-া করে দিতে অবতীর্ণ হন। আওয়ামী লীগের যে অংশটি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেনি তারা তখন তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে শেখ মুজিবের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এই অংশের পরামর্শে দলের ডান ঘরোনার অধিকাংশ নেতাদের বাদ দিয়ে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে মধ্য-বাম অবস্থানে নিয়ে আসেন। তাজ উদ্দিন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হন এবং বাম অংশের চাপে এক পর্যায় তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

এদিকে ন্যাশনেল আওয়ামী পার্টি ন্যাপও ইতিমধ্যে প্রগতিশীল দল হিসেবে জনগণের মাঝে ভাল অবস্থান করে নিয়েছে। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ঐক্যের। আত্মগোপনকারী কমিউনিষ্ট পার্টির সাথে মানিক মিয়ার যোগাযোগ ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। ফলে মানিক মিয়ার প্রচেষ্টায় শেখ মুজিব আন্ডার গ্রাউন্ড কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা মণি সিংহের সাথে আলোচনায় বসেন। মণি সিং তাঁকে বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনের পরামর্শ দেন। তাজউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির ওপর শেখ মুজিব বাঙালীর স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কর্মসূচী প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পন করেন। তাজউদ্দিন নির্দেশ মোতাবেক ৬ দফা প্রণয়ন করেন। শেখ মুজিব ৬ দফার ঘোষণা দেন। ঘোষিত প্রোগ্রাম বাস্তবাায়নের দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিনের ওপরই পড়ে। তারই প্রণীত ও ঘোষিত কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় শেখ মুজিব ’বঙ্গবন্ধুতে’ রূপান্তরিত হন ।

কাজের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দিনের সম্পর্ক এমন ভাবে গড়ে ওঠে যে, তাজউদ্দিনের সাথে পরামর্শ ছাড়া বঙ্গবন্ধু কোন সিদ্ধান্তই নিতেন না। তাজউদ্দিনও বঙ্গবন্ধর পরামর্শ ব্যতিরেকে কোন কর্মসূচী বাস্তবায়নে অপচেষ্টা করতেন না। তারা উভয়ই উপলদ্বি করতে সমর্থ হন, পাকিস্তানের দ্বিজাতি-তত্ত্বের অবকাঠামো থেকে বাঙালীকে বেরিয়ে আনতে না পারলে বাঙালীর স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। তাই বাঙালীকে পশ্চিমী সামন্তবাদী সামরিক শোষণ মুক্তির প্রচেষ্টায় রত হন। আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কমিউনিষ্ট পার্টি, ন্যাশনেল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর) এবং জাতীয়তাবাদী প্রগতিশীল সকল অংশের একই মঞ্চে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠায় ছাত্র রাজনীতির দুই বিবদমান ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র লীগের মাঝেও ঐক্য গড়ে ওঠে। ফলে জাতীয় দাবির আন্দোলন রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে ৬ দফা ১১ দফায় রূপান্তরিত হয়ে ৬৯-এ গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যূত্থানে পরিণত হয়। আইয়ূব খানের পতন ঘটে। বঙ্গবন্ধু আগরতলা মামলা থেকে বেরিয়ে আসেন। মণি সিং সহ সকল রাজবন্দী মুক্তি লাভ করেন।

নতুন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দ্বিজাতি-তত্বের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার ভিত্তিতে তৎকালীন পাকিস্তান পার্লামেন্টের আসন বণ্টন এবং অনতিবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তাব করে আওয়ামী লীগ। ইয়াহিয়া খান প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। তার ধারণা ছিল দ্বিজাতি-তত্বের মুসলিম লীগ ও জামাতে ইসলাম পূর্ব পাকিস্তানের ২০ থেকে ৩০টি আসন পাবে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তানে কোন আসন পাবে না। ফলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না।

দেশময় নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে এমন সময় প্রলয়ঙ্করী ঘুণিৃঝড়ের আঘাতে সমুদ্র উপকুলবর্তী জেলা সমূহ ল-ভ- হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ, গরু-ছাগল জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ত্রানকার্যে সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা না আসায় তাদের এরূপ বিমাতাসূলভ আচরণ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনে বিদ্বেষ আরো বিষিয়ে তুলে। তাই নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জাতির দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পন করে। তৎকালীন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে আবির্ভত হয়। কিন্তু ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনিহা প্রকাশ করে বাঙালীদের স্বার্থ নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিন বাঙালীদের স্বার্থ নিয়ে আপোষ না করায় ইয়াহিয়া সামরিক হস্তক্ষেপের চক্রান্ত আটতে থাকেন।

পঁচিশে মার্চ ইয়াহিয়ার বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর নৃশংস হত্যাকা- চালায়। বাধ্য হয়ে বাঙালীকে বর্বতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়ার বাহিনী ধরে নিয়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করে রাখে। নিরস্ত্র জনগণকে বাঁচানো, যুদ্ধ পরিচালনা, শরণার্থীদের দেখভাল সব দায়িত্বই এসে পড়ে বঙ্গবন্ধুর একান্ত ব্যক্তি তাজউদ্দিনের ওপর। সমগ্র বাঙালী জাতিও দেশ শত্রু মুক্ত করতে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। পঁচিশে মার্চের পর ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তাজউদ্দিন ভারতে পাড়ি দেন। সেখানে পৌছেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করে ভারতের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন।

তাজউদ্দিন তার প্রজ্ঞা দিয়ে বুজতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষ থাকায় একা ভারতের পক্ষে বাঙালীদের পক্ষে দাড়ানোয় কোন ফল ভয়ে আনবে না। সেজন্য প্রয়োজন চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমতুল্য বিপক্ষ শক্তির সাহায্য সমর্থন। ইন্দিরা গান্ধীর সাহায্য ও পরামর্শে আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠন করেন প্রবাসী সরকার। মণি সিং, ভাসানী, মোজাফফর সহ বাম প্রগতিশীল শক্তির সমন্বয়ে গঠিত হয় ওয়ার কাউন্সিল। উদ্দেশ্য যুদ্ধে তাজউদ্দিনকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া।

তাজউদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী এবং বাম প্রগতিশীল শক্তিরা ছিলেন স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বস্ত। কিন্তু আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী ছিলেন সুযোগ সন্ধানী। তারা ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগের উঠতি বাঙালী বুর্জোয়া শ্রেণী বিষয়টি দ্রুত নিস্পত্তির ভাবনার অধীর হয়ে উঠলেন। ডানপন্থী মোশতাককে করা হয় প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু মোশতাক দায়িত্ব পেয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। বিষয়টি তাজউদ্দিনের গোচরীভূত হলে তাকে সরিয়ে আব্দুস সামাদ আজাদকে করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। উঠতি মধ্যবিত্ত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সমন্বয়ে শেখ মণির নেতৃত্বে গঠিত মুজিববাহিনী ছিল ক্ষমতার ভাগভাটোরার অংশীদারিত্বে লালায়িত। আওয়ামী লীগের এসব সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠীর নানাবিদ অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত মোকাবেলা করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক নেতৃত্ব দিয়েছেন তাজউদ্দিন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে তাজউদ্দিন ছিলেন দৃঢ়চেতা ও আপোষহীন। তাই একইভাবে স্বাধীনতা উত্তর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ডানপন্থী এবং শেখ মণির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উঠতি বুর্জোয়াদের বিরোধীতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী লীগের মধ্যবিত্ত শ্রেণী এক ভিন্ন চরিত্রে আবির্ভূত হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধাদের কথা ভুলে গিয়ে এই উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী নিজেদের আখের গোছাতে তৎপর হয়ে উঠে। এতে তাদের প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়ায় বাম প্রগতিশীল শক্তি। তৎকালীন আওয়ামী লীগের ডান, উঠতি মধ্যবিত্ত ও পেটি বুর্জোয়াদের টার্গেটে পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি বাম প্রগতিশীলরা। বহু কমিউনিষ্ট নেতাকর্মী ও প্রগতিশীল কর্মীদের হত্যা করা হয়। এমনি পরিস্থিতিতে তাজউদ্দিনের শোষণহীন সমাজ গঠনের প্রোগ্রাম এবং বাম প্রগতিশীলদের প্রতি অনুরাগ এই উঠতি বুর্জোয়া শ্রেণী তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হয়েও দেশ, দেশের মানুষ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ মমত্ববোধের কারণে স্বাধীনতা উত্তর প্রথম কেবিনেটে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। কিন্তু এই লুটেরা শ্রেণী রিলিফের মালামাল চুরি, পারমিটবাজিতে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন বাধা হয়ে দাড়ালে তারা বুঝতে পারে তাকে এখান থেকে সরাতে না পারলে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি হবে না। তাই খন্দকার মোশতাকের মাধ্যমে ডান এবং শেখ মণির মাধ্যমে উঠতি বুর্জোয়া শ্রেণী তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কান ভারী করতে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাজউদ্দিনের কঠিন পদক্ষেপকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি চেলেঞ্জ হিসেবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ভারত ভর্তুকি মূল্যে মাল সরবরাহ, বাংলাদেশী মাল ক্রয়, পরিবহন ও নিজ বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়। খন্দকার মোশতাক নিজ পেটুয়া বাহিনী দ্বারা কম দামে নিম্নমানের ভারতীয় মাল কিনে অধিক মূল্য দেখিয়ে নিম্নমানের মাল বলে ভারতকে দোষারূপের প্রচার চালাতে থাকে। মালামাল পরিবহনে ভারতীয় ট্রাক সহযোগিতাকে বাংলাদেশী মালামাল নিয়ে যাওয়া হিসেবে প্রচার এবং ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিকে প্রচার করা হয় গোলামী হিসেবে।

এভাবে বিভিন্ন চক্রান্তের জমাট বাধা অপবাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কান ভারী করে তোলা হয়। বঙ্গবন্ধুও কান কথায় বিশ্বাস করলেন। দীর্ঘদিনের একান্ত কাছের দুর্দিনের আপন মানুষটির কাছ থেকে অভিযোগের বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে একটি বক্তব্যও শুনতে চাইলেন না। কান কথায় চক্রান্তকারী সুবিধাভোগীদেরই কুলে তুলে নিয়ে আপন বিশ্বস্ত মানুষটিকে দুরে ঠেলে দিলেন। একথা আজ নির্দিধায় বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে কোন বড় ভুল বা অন্যায় করে থাকলে সেটি তাজউদ্দিন আহমদকে তার কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেয়া। যে ভুলের সুদূর প্রসারী পরিণতির প্রায়শ্চিত্ত বঙ্গবন্ধুকেই দিতে হয়েছে। আর দেশ এবং জনগণ আজ অবধি খেসারত দিয়ে যাচ্ছে। দুঃখের বিষয় বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরী আওয়ামী লীগ, তদীয় কন্যা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব আজও সেই সংকীর্ণ আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

ইতিহাস বিকৃতির সংকীর্ণ মানসিকতায় আজ মুক্তিযুদ্ধের প্রধান, স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করে ইতিহাসে স্থান করে নেয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জনে তাজউদ্দিনই যে মূল ব্যক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি অত্যন্ত সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দিনের আপোষহীন সক্রীয় ও কঠিন ভূমিকা না থাকলে বাংলাদেশ ভারতের একটি করদ রাজ্য হতে পারতো অথবা খন্দকার মোশতাকের চক্রান্তে পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশনের আওতায় আজ বাস করতে হতো। এই দু’য়ের যেকোন একটি কার্যকর হলে বঙ্গবন্ধুর জীবিত থাকা কিংবা ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা ছিল না। সুতরাং তাজউদ্দিনকে বাদ দিয়ে কিংবা খাটো করে যতই ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা বা সংকীর্ণতা চলুক-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাজউদ্দিন আহমদ যেমন অচিচ্ছেদ্য অংশ তেমনি মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান নেতা এটা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। ইহাই সত্য এবং এটাই ইতিহাস।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV