Friday, 20 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের রয়েছে একটি সাফল্যের কাহিনী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 155 বার

প্রকাশিত: February 11, 2014 | 7:34 PM

কাউসার মুমিন, যুক্তরাষ্ট্র : বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশটির গত দু’ দশকের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অর্জনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে এক অজানা গন্তব্যের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ নিয়ে যথেষ্ট শংকিত হওয়ার কারণ রয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন  ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ, বিতর্কিত। এখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যতদ্রুত সম্ভব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন প্রয়োজন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বাংলাদেশের ওপর শুনানিতে এসব কথা বলা হয়েছে। পাঁচ ইস্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুনানি। এগুলো হলো: একটি নতুন নির্বাচন, জিএসপি প্রসঙ্গ, বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্রামীণ ব্যাংক ও ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। পররাষ্ট্র বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিতে ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সিনেটর মেনেন্দেজের সভাপতিত্বে। এতে প্যানেল সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নতুন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতাপূর্ণ সংলাপ আয়োজনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে আরও বেশী চাপ দিতে ওবামা প্রশাসনকে আহ্বান জানায় সিনেট। জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে বলা হয়, জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত পূরণ করতে দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে কিছুটা অর্জিত হয়েছে। তবে তাদেরকে এখনও অনেক কিছু করতে হবে। শ্রমিকের অবস্থা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির অনেকটাই এখনও পূরণ হয় নি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার শামিল। সিনেটর ডারবিন বলেন, আমরা জানি এ সরকার মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীন ব্যাংকের সঙ্গে কি করেছে। এটা যে অন্যায় সেটা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝানোর জন্য আমরা কি করতে পারি? এটা তার দেশের জন্য ভুল, ওই মানুষটির প্রতি অন্যায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক সুসম্পর্কের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শুনানিতে বলা হয়, বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। তবে তাদের হারানোরও আছে অনেক। গতকালের শুনানি প্রসঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, বাংলাদেশ একটি সঙ্কটজনক অবস্থানে। তাই এই শুনানি সময়োপযোগী এবং এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়া হবে যে, বাংলাদেশ যেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ১০টায় এ শুনানি হয়। দু’পর্বে শুনানি হয়। প্রথম পর্বে প্যানেল সদস্য ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এসোসিয়েট ডেপুটি আন্ডারসেক্রেটারি এরিক আর বিয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিষয়ক বাণিজ্য সহকারী লুইস কারেশ। এছাড়া শুনানিতে অংশ নেন সিনেটর ডারবিন। নিশা দেশাই তার শুনানিতে বলেন, আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। বাংলাদেশের রয়েছে একটি সাফল্যের কাহিনী। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে মূল তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের খাদ্য। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, উন্নয়ন করেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কাজ করেছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এক কান্তিদায়ক রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ৫ই জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে তা ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এতে প্রধান দু’ রাজনৈতিক দলের একটি অংশ নেয় নি। ফলে জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকিরা নামমাত্র বিরোধিতা মোকাবিলা করেছেন। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার বিশ্বাসযোগ্য প্রকাশ ঘটেনি। এতে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। নিশা দেশাই বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সরকারি বিবৃতি দিয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথম ওই অঞ্চল সফরে যাই নভেম্বরে। তখন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের পন্থা বের করার আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ যে ভূমিকা গ্রহণ করে তাতে আমরা সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো সে উদ্যোগ সফল হয় নি। নির্বাচনের পর পরই আমরা কড়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিই যে, এ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, এতে জনগণের মতের কোন প্রতিফলন ঘটেনি। একই সঙ্গে নতুন একটি নির্বাচনের জন্য সংলাপের আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে সমপ্রতি বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ও গুমের যেসব রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে এসব নির্যাতন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা সহিংসতার নিন্দা জানাই। গণতন্ত্রে এটা কোন কৌশল হতে পারে না। ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কর্মকর্তা, স্টাফ, নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার তদারক করছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দ। শুনানিতে সিনেটর ডারবিন বলেন, ২০ বছর আগে আমি প্রথম বাংলাদেশ সফর করি। তারপর অনেকবার গেছি। আমি যা দেখেছি তাতে আমি অভিভুত হয়েছি। আমি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হই যিনি আমার ঘনিষ্ট বন্ধু হয়ে ওঠেন। আমার দেখা মতে তিনি সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা সঞ্চারকারী ব্যক্তিত্ব। আমি বলছি মুহাম্মদ ইউনুসের কথা, যিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। ুদ্র ঋণ তার প্রাথমিক ধারণা ছিল না। কিন্তু তিনি দরিদ্র থেকে হত দরিদ্রদের মাঝে ঋণ পৌঁছে দিয়েছেন। তার এ প্রচেষ্টাকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা বিশ্বে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি তার এ উদ্যোগের জন্য শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পান।  সিনেটের পক্ষ থেকে তাকে কংগ্রেশনাল মেডেল প্রদানের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমার বিশ্বাস এ পদক পাওয়া তিনি প্রথম মুসলিম। পদক দেয়ার সময় হলভর্তি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। নানা ধর্ম বর্ণের। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি উদ্বিগ্ন। তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া এবং গ্রামীণ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আমার কাছে মনে হয়, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে কোন না কোনভাবে শাস্তি দেয়া- দুঃখজনক হলেও যা লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার সামিল। যারা জীবনধারনের জন্য এ ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল। আশাহত নারীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক।
এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন নিশা দেশাইয়ের কাছে। জবাবে নিশা দেশাই বলেন, আপনি যেভাবে আপনার স্পষ্ট অনুভূতি উপস্থাপন করেছেন আমি তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে চাই। যতবারই আমার তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, এটা সত্যিকার অর্থে অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল। মানবতার প্রতি তার নিষ্ঠা বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সক্ষমতা এবং স্থিতিশীলতার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।  এটা বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। তারপরও বাংলাদেশে এটা এখন হুমকির মুখে। বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের পরিসর দিনে দিনে বৃদ্ধি এবং আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউএসএআইডি প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে। এর আগে ইউএসএআইডিতে কর্মরত থাকাকালীন আমার ড. ইউনূসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসা প্রকল্প আরও শক্তিশালী করে এবং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ নারীদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের সেবা পৌছে দেয়ার সক্ষমতা দৃঢ় করে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছিলাম। আমি মনে করি গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আমরা গ্রামীণ ব্যাংককে সমর্থন এবং তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা অব্যাহত রেখেছি। যেটা আমার কাছে হুমকিস্বরূপ মনে হয় সেটা হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী নারীদের সাহায্য অব্যাহত রাখার সক্ষমতা। 
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলবিহীন ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন এবং নির্বাচনোত্তর চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের ল্যে গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চক সিনেটের ‘সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনস’ আয়োজিত বাংলাদেশ বিষয়ক এক শুনানিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যগণ তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সীমাবদ্ধ সুযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, শ্রমিক অধিকার ও শ্রমিক নিরাপত্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এই সকল ইস্যুতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি কতটা কার্যকর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার পরও এখনও কেন বাংলাদেশে এই সকল ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না, এতে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে সিনেট সদস্যগণ শুনানিতে অংশ নেয়া প্রত্যেকের নিকট পৃথক পৃথকভাবে বিস্তারিত জানতে চান। এ ছাড়া শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের পথে বাংলাদেশকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের জিএসপি ইস্যুতে আগামী মে মাসে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার ব্যক্তিগত ভূমিকা, বাংলাদেশের উভয় নেত্রীর নিকট সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিঠি, সংলাপ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপর্যুপরি আহ্বান ইত্যাদি উল্লেখ করে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইয়ের কাছে জানতে চান ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গন্তব্য কোথায়?’ সিনেট শুনানির দ্বিতীয় প্যানেলে আলোচনায় অংশ নেন ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়াম মি. স্কট নোভা, বাংলাদেশ শ্রমিক নিরাপত্তা জোট-এর বোর্ড অব ডিরেক্টর্স-এর চেয়ারম্যান এলেন ট্যাশার এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার।

দ্রুত নতুন নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু একটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি নতুন নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কোন পক্ষ অবলম্বন করে নি যুক্তরাষ্ট্র। কে দেশ চালাবে তার পক্ষেও নয় তারা। তবে এ সিদ্ধান্তের মালিক বাংলাদেশের মানুষ, যাদের দাবির কথা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে শোনা হয় নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। দু’পর্বে সিনেট ডারকেন-৪১৯ হাউজে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রসপেক্টস ফর ডেমোক্রেটিক রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড ওয়ার্কার্স রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক শুনানি। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনেটর মেনেন্দেজ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ শুনানিতে প্রথম পর্বের প্যানেলে ছিলেন নিশা দেশাই, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল লেবার অ্যাফেয়ার্স-এর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত এসোসিয়েট ডেপুটি আন্ডারসেক্রেটারি এরিক বিয়েল ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি লুইস কারেশ। এছাড়া শুনানিতে অংশ নেন সিনেটর রিচার্ড ডারবিন। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একজন ব্যতিক্রমী মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া ও গ্রামীণ ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় নেয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দ্বিতীয় পর্বের শুনানির প্যানেলে ছিলেন এলায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ইলেন তুশার, ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের স্কট নোভা ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আকতার। এ শুনানিতে বাংলাদেশের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশটির গত দু’দশকের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অর্জনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে এক অজানা গন্তব্যের পথে হাঁটছে। এ দেশকে নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ, বিতর্কিত। এখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যত দ্রুত সম্ভব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন প্রয়োজন। শুনানিতে পাঁচ ইস্যু প্রাধান্য পায়। এগুলো হলো- একটি নতুন নির্বাচন, জিএসপি প্রসঙ্গ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে প্যানেল সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নতুন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতাপূর্ণ সংলাপ আয়োজনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে আরও বেশি চাপ দিতে ওবামা প্রশাসনকে আহ্বান জানায় সিনেট। জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে বলা হয়, জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত পূরণ করতে দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে কিছুটা অর্জিত হয়েছে। তবে তাদের এখনও অনেক কিছু করতে হবে। শ্রমিকের অবস্থা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির অনেকটাই এখনও পূরণ হয় নি। বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার শামিল। সিনেটর ডারবিন বলেন, আমরা জানি এ সরকার মোহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে কি করেছে। এটা যে অন্যায় তা প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর জন্য আমরা কি করতে পারি? এটা তার দেশের জন্য ভুল, ওই মানুষটির প্রতি অন্যায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক সুসম্পর্কের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া শুনানিতে অংশ নেন সিনেটর ডারবিন। নিশা দেশাই বলেন, আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। বাংলাদেশের রয়েছে একটি সাফল্যের কাহিনী। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে মূল তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের খাদ্য। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক  প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, উন্নয়ন করেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কাজ করেছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এক ক্লান্তিদায়ক রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ৫ই জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে তা ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একটি। ফলে জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকিরা নামমাত্র বিরোধিতা মোকাবিলা করেছেন। এ নির্বাচনে বাংলদেশের মানুষের ইচ্ছার বিশ্বাসযোগ্য প্রকাশ ঘটেনি। এতে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। নিশা দেশাই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। বেসরকারি পর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথম ওই অঞ্চল সফরে যাই নভেম্বরে। তখন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের পন্থা বের করার আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ যে ভূমিকা গ্রহণ করে তাতে আমরা সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো সে উদ্যোগ সফল হয় নি। নির্বাচনের পরপরই আমরা কড়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিই যে, এ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, এতে জনগণের মতের কোন প্রতিফলন ঘটেনি। একই সঙ্গে নতুন একটি নির্বাচনের জন্য সংলাপের আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে সমপ্রতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের যেসব রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এ নির্যাতন অবিলম্বে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা সহিংসতার নিন্দা জানাই। গণতন্ত্রে এটা কোন কৌশল হতে পারে না। আমরা আমাদের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে কাজ করছি। ঢাকায় অবস্থিত আমাদের দূতাবাস আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তা ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দূতাবাসে আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরাও কাজ করছে। সারা দেশে যেসব মার্কিন নাগরিক রয়েছেন তাদের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছে। আমাদের নাগরিক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বারবার আমরা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এ পর্যন্ত সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন নাগরিক বা স্বার্থে আঘাত করা হয় নি। তা সত্ত্বেও আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করছি।
নিশা দেশাই বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশের জনজীবনে বিরাট হুমকি। এতে শুধু সাধারণ মানুষই তার নিত্যদিনের কাজে যেতে পারেন না। পাশাপাশি তা পঙ্গু করে দেয় অর্থনীতি। দেশ উন্নয়নের যা কিছু অর্জন করেছে তা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে বিদেশী বিনিয়োগ হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। একটি সূত্রের হিসাব মতে, বাংলাদেশে হরতালে প্রতিদিন ক্ষতি হয় প্রায় ২০ কোটি ডলার। কণ্ঠরোধ করে ধরার কারণে বাংলাদেশের উদ্দীপ্ত সুশীল সমাজ ও দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতাকে খাটো করা হয়েছে। তাই আমরা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির শান্তিপূর্ণ প্রকাশের সুযোগ দিতে আহ্বান জানাই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার কথা বলেছি।
আমরা আশা করি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতারা। শুনানিতে সিনেটর ডারবিন বলেন, ২০ বছর আগে আমি প্রথম বাংলাদেশ সফর করি। তারপর অনেকবার গেছি। আমি যা দেখেছি তাতে আমি অভিভূত হয়েছি। আমি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হই যিনি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। আমার দেখা মতে, তিনি সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা সঞ্চারকারী ব্যক্তিত্ব। আমি বলছি মুহাম্মদ ইউনূসের কথা, যিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। ক্ষুদ্রঋণ তার প্রাথমিক ধারণা ছিল না। কিন্তু তিনি দরিদ্র থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে ঋণ পৌঁছে দিয়েছেন। তার এ প্রচেষ্টাকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা বিশ্বে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি তার এ উদ্যোগের জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। সিনেটের পক্ষ থেকে তাকে কংগ্রেশনাল মেডেল প্রদানের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমার বিশ্বাস এ পদক পাওয়া তিনি প্রথম মুসলিম। পদক দেয়ার সময় হলভর্তি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। নানা ধর্ম-বর্ণের। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি উদ্বিগ্ন। তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া এবং গ্রামীণ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আমার কাছে মনে হয় এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে কোন না কোনভাবে শাস্তি দেয়া- দুঃখজনক হলেও যা লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার শামিল। যারা জীবন ধারণের জন্য এ ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। আশাহত নারীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক।
এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন নিশা দেশাইয়ের কাছে। জবাবে নিশা দেশাই বলেন, আপনি যেভাবে আপনার স্পষ্ট অনুভূতি উপস্থাপন করেছেন আমি তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে চাই। যতবারই আমার তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, এটা সত্যিকার অর্থে অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল। মানবতার প্রতি তার নিষ্ঠা বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সক্ষমতা এবং স্থিতিশীলতার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। তার পরও বাংলাদেশে এটা এখন হুমকির মুখে। বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের পরিসর দিনে দিনে বৃদ্ধি এবং আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউএসএআইডি প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে। এর আগে ইউএসএআইডিতে কর্মরত থাকাকালে আমার ড. ইউনূসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসা প্রকল্প আরও শক্তিশালী করে এবং বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ নারীদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা দৃঢ় করে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। আমি মনে করি গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আমরা গ্রামীণ ব্যাংককে সমর্থন এবং তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা অব্যাহত রেখেছি। যেটা আমার কাছে হুমকিস্বরূপ মনে হয় সেটা হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং লাখ লাখ বাংলাদেশী নারীকে সাহায্য অব্যাহত রাখার সক্ষমতা।
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলবিহীন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন এবং নির্বাচনোত্তর চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের লক্ষ্যে গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ‘সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনস’ আয়োজিত বাংলাদেশ বিষয়ক এক শুনানিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যরা তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সীমাবদ্ধ সুযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, শ্রমিক অধিকার ও শ্রমিক নিরাপত্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এসব ইস্যুতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি কতটা কার্যকর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার পরও এখনও কেন বাংলাদেশে এসব ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না, এতে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে সিনেট সদস্যরা শুনানিতে অংশ নেয়া প্রত্যেকের কাছে পৃথক পৃথকভাবে বিস্তারিত জানতে চান। এছাড়া শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পথে বাংলাদেশকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের জিএসপি ইস্যুতে আগামী মে মাসে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার ব্যক্তিগত ভূমিকা, বাংলাদেশের উভয় নেত্রীর কাছে সংলাপের গুরুত্ব নিয়ে চিঠি, সংলাপ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপর্যুপরি আহ্বান ইত্যাদি উল্লেখ করে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইয়ের কাছে জানতে চান ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গন্তব্য কোথায়?’ বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে নিশা দেশাই বলেন, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড, সাভারে রানা প্লাজা ধসের মতো ট্র্যাজেডির পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৩ সালের জুনে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেন। এরপর আমরা শ্রমিক অধিকার উন্নয়ন, অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা, ভবন সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছে কিনা তার জন্য একটি অ্যাকশন প্ল্যান গঠন করি। এর মাধ্যমে শ্রমিক ইউনিয়নের মত প্রকাশে বাধা দূর করার কথা বলা হয়, যাতে তারা দর কষাকষি করতে পারেন। শ্রম আইন সংস্কার করতে বলা হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায়ও এ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। নিশা দেশাই বলেন, আমরা বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও)-র সঙ্গে স্থিতিশীল একটি অবস্থা টিকিয়ে রাখতে কাজ করছি। এছাড়া আমরা কাজ করছি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য তৈরী পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে। বিশেষ করে বাংলাদেশে যাদের উল্লেখযোগ্য কাজ হয় তাদের সঙ্গে। ঢাকা ও ওয়াশিংটনে আমাদের প্রতিনিধিদল নিয়মিত মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তার মান ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার পন্থা বের করা হয়। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সরকারে আমরা ইউএস এইড, শ্রম মন্ত্রণালয় ও ইউএসটিআরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে নিশ্চিত হতে পারি যে আমরা শ্রমিকের অধিকার উন্নয়নে ও সঠিক কৌশলে অবস্থান করছি। তবে বাংলাদেশ কিছু কিছু অর্জন করলেও তাকে এখনও অনেক কিছু করতে হবে। কর্মক্ষেত্রের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয় নি। অধিক ইন্সপেক্টর নিয়োগ, শ্রম-অগ্নি ও ভবন পর্যবেক্ষণ চলছে ধীরগতিতে। স্থানীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে ফারাক। রপ্তানি প্রক্রিয়া এলাকাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আনতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। শ্রমিক অধিকার কর্মীদের ওপর নির্যাতন নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার তদন্ত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার উন্নয়ন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে অব্যাহত চাপ দিয়ে যাবো।
লুইস ক্যারেশের সাক্ষ্য
বাংলাদেশের শ্রমবিষয়ক ইস্যুগুলো নিয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি শ্রম কার্যালয়ের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি লুইস ক্যারেশ। বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন অংশীদার এ পর্যন্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। শুরুতে তিনি জিএসপি বাতিলের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে সরকারের দায়িত্বশীলতার কমতির অভিযোগ নিয়ে এফএল-সিআইও যে আবেদন করেছিল তার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। ওই আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বর্ণনা করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংগঠনের মত প্রকাশে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী ও বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী যারা শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করে তাদেরকে নানা প্রকারে হয়রানি এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলা। শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যাচাই করে জিএসপি বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এবিষয়ে ইউএসটিআর জনমত চেয়ে একটি ফেডারেল নোটিশ জারি করে এবং ২০১৩ সালের মার্চে একটি উন্মুক্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাংলাদেশ সরকার এবং আবেদনকারী এএফএল-সিআইও অংশগ্রহণ করেছিল। এর এক মাস পরেই রানা প্লাজা ধসের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার ইস্যু গুরুত্ব দেয়ার ব্যর্থতার ভয়াবহ পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে ওই ঘটনা ছিল তার স্পষ্ট নজির। বাংলাদেশ সরকার জিএসপি বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহতভাবে পাওয়ার জন্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৭শে জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া হয়। এতে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কারখানা ভবন নির্মাণ নীতিমালা, সংগঠনের স্বাধীনতা প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সমন্বিত দরকষাকষি এবং শ্রম আইন সংস্কারের সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়। জিএসপি সুবিধার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতামূলক এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইইউ, আইএলও, শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গার্মেন্ট ব্র্যান্ড ও ক্রেতা, বিভিন্ন ইউনিয়ন, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর সঙ্গে একযোগে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি বেগবান করতে ইউএসটিআর, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস এবং শ্রমবিষয়ক দপ্তর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকার শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকল্পে তাদের অগ্রগতির একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। পাশাপাশি এএফএল-সিআইও তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দেয়। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে যে বাংলাদেশ কিছু  কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি করেছে। তবে এখনও অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হওয়া বাকি। এগুলো হলো- শ্রম, অগ্নি ও ভবন বিধিমালা পর্যবেক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন। শ্রমিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা। শ্রমিক নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং দমন-পীড়ন বন্ধে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা, অন্যায় শ্রম চর্চার অভিযোগ কার্যকরভাবে বিবেচনায় নেয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা। ফাইন ও শাস্তির বিধান নিরূপণ করা। পাবলিক ডাটাবেজ এবং হটলাইন স্থাপন করা।
এরিক আর বিয়েল
জিপিএস বাণিজ্যিক সুবিধা বিষয়ে অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় অনেক কাজ করা হয়েছে। এর আগে এ কমিটির শুনানির ঠিক তিন সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেন। কারণ, জিএসপি সুবিধা পেতে শ্রমিক বিষয়ক যে সব শর্ত পালন করতে হয় তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘সাসটেইনেবলিটি কমপ্যাক্ট’ নামে একটি চুক্তি করে। এতে অ্যাকশন প্ল্যানের মূল পয়েন্টগুলো জানিয়ে দেয়া হয় এবং এই পরিকল্পনায় যেসব মৌলিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে তা চিহ্নিত করতে একটি পরামর্শমূলক কাঠামো গঠন করা হয়। এরপর থেকে ঢাকায় সিনিয়র কূটনীতিক ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ওদিকে গত মাসের শেষের দিকে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য এ পর্যন্ত অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় বাংলাদেশ সরকার বড় কোন অগ্রগতি আনেনি। তবে অ্যাকশন প্ল্যানের পর কোন কোন এলাকায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার, এ সংগঠনের নিবন্ধন। এছাড়া আরও অনেক বিষয়ে পরিকল্পনা উন্নয়নে আইএলও ও অন্য অংশীদারদের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ইপিজেডগুলো চালানো হচ্ছে পৃথক আইনের অধীনে। সেখানে শ্রমিকরা রয়েছেন নাজুক অবস্থায়। এ বিষয়ে আমরা ও আইএলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি অনেক আগেই।
ইলেন ট্যাশার
ব্যর্থতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে গার্মেন্ট শিল্প মূল ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। বাংলাদেশে ৪০ লাখের বেশি মানুষ, তার মধ্যে বেশির ভাগই নারী, এ শিল্পে পোশাক তৈরি করে নিজেদের ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করছে। গত অক্টোবরে আইএলও, এলায়েন্স, অ্যাকর্ড ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা একত্রে কাজ করেন। তারা অভিন্ন অগ্নিনিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মানদণ্ড উন্নয়নে কাজ করে। তবে শ্রমিকরা এখনও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শ্রমিকদের শতকরা ৬৫ ভাগ নিরাপত্তার জন্য ভবনের নিচ তলাকে বেশি পছন্দ করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৩৪ ভাগ বলেছেন তারা অগ্নিকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছেন। শতকরা ৪৭ ভাগ শ্রমিক বলেছেন জরুরি অবস্থায় তাদেরকে কারখানা থেকে বের হতে দেয়া হয় না। শতকরা ৩০ ভাগ বলেছে তাদের ভবন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মনে করেন। শতকরা ২৭ ভাগ মনে করেন তারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পান নি যে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে।
কল্পনা আক্তার
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সামপ্রতিক অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিজিআইডব্লিউএফ এবং বিআইজিইউএফ ইউনিয়ন দুটির কিছু নেতা এখনও ভিত্তিহীন অপরাধের অভিযোগ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। শ্রমিক অধিকারের প্রতি মর্যাদা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়ার কারণে শ্রমিকদের দমিয়ে রাখতে এখনও তাদেরকে চাকরিচ্যুত এবং মারধর করা হয়। গার্মেন্ট খাতের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি বেড়ে ৫৩০০ টাকা হয়েছে তবে তা শ্রমিকদের ৮০০০ টাকা দাবির তুলনায় কম। ২০১২ সালের এপ্রিলে শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের নির্মম হত্যাকাণ্ডের এখনও স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলেও এখনও কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ এখনও দেখা যায় নি। জিএসপি পুনর্বহাল করার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু বিষয় নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সকল ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহার। কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা। আমিনুল ইসলাম হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত। আন্তর্জাতিক শ্রম অধিদপ্তর-আইএলও’র মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রমিক আইন সংস্কার।মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV