Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশে বিদায়ী বছরে অভিবাসীর সংখ্যা ৩০ ভাগ বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 62 বার

প্রকাশিত: December 27, 2015 | 4:09 PM

গত ১০ বছরে প্রায় ৫ লাখ কর্মী বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। এ সময়ে বিদেশ গেছেন ৫৫ লাখের ওপরে বাংলাদেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) গবেষণা এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের জন্য ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করতে গিয়ে রামরুর চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে নারী অভিবাসীর সংখ্যাও। তবে বিদেশে নারী অভিবাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যবস্থাগুলো এখনও নেয়া হয়নি। পাশাপাশি সমুদ্রপথে মানব পাচারসহ অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি আছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও  প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গেছেন। ২০১৪ সালের তুলনায় এই হার ৩০ শতাংশ বেশি। আর নারী অভিবাসনকারীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর নারী অভিবাসনকারীর সংখ্যা এক লাখ হতে পারে। তবে তাদের সুরক্ষার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার মতো অঙ্গীকার এখনও পূরণ হয়নি। তেমনি তাদের ওপর নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটছে তা দূর করতে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে একটি চক্র বাংলাদেশের লোকজনের জন্য একটি নতুন অনিয়মিত রুট চালু করেছে। সিরিয়ার শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকজনকেও অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া সুদানের পর্যটন ভিসার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের লোকজনকে সুদান থেকে লিবিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে।
বিএমইটির তথ্য ভাণ্ডারের কথা উল্লেখ করে গবেষণা এই সংস্থাটি বলছে, ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটির কাছাকাছি লোক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে অভিবাসন করেছে। কিন্তু, বাংলাদেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের তথ্য সংরক্ষণের কোনো প্রক্রিয়া নেই। সরকার, নাগরিক সমাজ, এবং বিশেষজ্ঞদের সবাই ফিরে আসা অভিবাসীদের তথ্য জানতে আগ্রহী। তবুও ফিরে আসা অভিবাসীদের তথ্য সংরক্ষণের কোনো পদ্ধতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এসডিসি ও রামরু পরিচালিত খানা জরিপে দেখা যায়, অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ৯  শতাংশ ফিরে আসা অভিবাসী। এই গবেষণায় শুধু তাদেরকেই ফিরে আসা অভিবাসী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যারা গত ১০ বছরের মধ্যে ফিরে এসেছে এবং বাংলাদেশে ১ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন। বিএমইটির তথ্য মতে, গত ১০ বছরে মোট ৫৫ লাখ ৪ হাজার ৬২৪ জন কর্মসংস্থানের জন্য অভিবাসন করেছেন। যদি তাদের মধ্যে ৯ শতাংশ ফেরত আসে। এই হিসাবে গত ১০ বছরে ৪৯৫,৪১৬ জন কর্মী ফেরত এসেছেন।
সমুদ্রপথে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত কারা এবং এদের  কেন বিচার করা হচ্ছে না জানতে চাইলে তাসনিম সিদ্দিকী কক্সবাজার-৪ আসনের (উখিয়া- টেকনাফ) সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের তালিকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও তার পরিবারের ২৬ জন সদস্যের নাম এসেছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। অথচ ২০১৩ সালের অভিবাসী আইন ও মানব পাচার আইনের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির ধারায় মামলা  করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে যে অভিবাসী ও মানব পাচারের আইনে মামলা করতে হবে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতার ঘাটতি আছে।
তবে কি সরকার এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ  নেয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মনে হয় না সরকার এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট করেছে। এখানে সরকারের অঙ্গীকারের প্রয়োজন ছিল। এই অধ্যাপক মনে করেন, মানব পাচারসহ অভিবাসনের ক্ষেত্রে অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য জনসচেতনতার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ পাচারকারীদের কাছে না যাওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থ পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করবেন। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ