Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

‘বাংলাদেশ: ভায়োলেন্স অন দ্য স্ট্রিটস’ – দ্য ইকোনমিস্ট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 188 বার

প্রকাশিত: May 8, 2013 | 9:53 AM

ডেস্ক: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প বিপর্যয়ে সেনারা যখন মৃতদেহের হিসাব করছেন তখন ৬ই মে প্রথম প্রহরে কট্টর ইসলামপন্থিদের ওপর নৃশংস হত্যা (ম্যাসাকার) অভিযানের  বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার  বাণিজ্যিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও কট্টর ইসলামপন্থি গ্রুপ হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। আহত হয়েছেন কয়েক শত। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল অনলাইন দ্য ইকোনমিস্ট ‘বাংলাদেশ: ভায়োলেন্স অন দ্য স্ট্রিটস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, নিহতের চূড়ান্ত হিসাব আরও অনেক বেশি হতে পারে। বাংলা সংবাদপত্র প্রথম আলো বলেছে, নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। তাদের বেশির ভাগই নিহত হয়েছেন রাজধানীতে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরাও নিহত হয়েছেন। কিন্তু ঢাকায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই লক্ষাধিক প্রতিবাদীর। তাদেরকে সেদিন মধ্যরাতের মধ্যে শহর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আরেকটি নৃশংস হত্যার দু’মাসের মাথায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটলো। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও পীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের এক নেতাকে অভিযুক্ত করে যুদ্ধাপরাধ আদালত। এর পরেই সহিংস সংঘাতে কমপক্ষে ৬৭ জন নিহত হন। এ নিয়ে এ বছর ইসলামপন্থি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫০ জন নিহত হলেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের অ্যাকশনকে যথার্থতা দেয়ার চেষ্টা করছে। সম্ভবত তারা ভেবে থাকবেন যে, এ রকম হত্যাকাণ্ডের ফলে ইসলামী অধিকারের দাবি তীব্র হতে পারে। ৬ই মে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সরকারের পতন ঘটাতে ঢাকা এসেছে হেফাজত। ৬ই মে আসলে কি ঘটেছিল তার বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট। সহিংসতার গ্রাফিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের রাস্তায় রাস্তায় পড়ে আছে রক্তাক্ত মৃতদেহ। এ ঘটনা সরাসরি সমপ্রচার করছিল দু’টি ইসলামপন্থি টেলিভিশন চ্যানেল। চ্যানেল দু’টি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর ফলে এখন বিরোধীপন্থি একটিমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল (বাংলাভিশন) চালু রয়েছে। এখন শহরে চার জনের বেশি জনসমাগমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভয়াবহ সংঘাত অন্য স্থানেও হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ, দক্ষিণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কাছে হাটহাজারীতে ও দক্ষিণ-পশ্চিমের বাগেরহাটে। এতে ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে বলা হচ্ছে। ইসলামী ছোট ছোট গ্রুপের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে স্বল্প পরিচিত হেফাজতে ইসলাম। তাদের প্রতি সমর্থন রয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদরাসা ও কওমি মাদরাসার। মাদরাসাগুলো অতটা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় তারা শতকরা মাত্র ২ ভাগ। যুদ্ধাপরাধ আদালত নিয়ে এ গ্রুপটির যেমন কোন বিশেষ অবস্থান নেই, তেমনি তারা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল নয়। তবে তাদের রয়েছে জাতীয় আশা-আকাঙক্ষা। এপ্রিলে তারা ১৩ দফা দাবি দিয়ে সরকারকে তা মেনে নিতে ৫ই মে ডেডলাইন বেঁধে দেয়। তারা ধর্মবিরোধিতাবিষয়ক আইন (যাতে থাকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান) ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তালেবান স্টাইলের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে নারীর উন্নয়নবিষয়ক নীতি বাতিল করা, জনসমক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, আপত্তিকর আচরণ ও পোশাক বাতিল করা এবং সংস্কারবাদী আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা করা। ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের বাংলাদেশে ইসলামের আধুনিক ধ্যান-ধারণা অনুসরণ করা হয়। তাদের দাবি সেখান থেকে পশ্চাতে ফেরা। ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে দীর্ঘ দিনের যে ইতিহাস আছে এটা তার বিরোধী। তা সংবিধানেরও বিরোধী। বড় বড় সব রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের আগে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সমপ্রতি পিউ ফোরাম অন রিলিজিয়ন অন পাবলিক লাইফ সারা বিশ্বের মুসলমানদের ওপর একটি গবেষণা প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশ উদার হিসেবে উঠে এসেছে। বিস্ময়কর হলো, শতকরা ৮২ ভাগ মুসলিম ইসলামিক আইনের পক্ষে। দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অস্বস্তির বিষয় হলো, তারা হেফাজতের প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে তা বয়কটের হুমকি দিয়েছে বিএনপি। ধর্মের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। গত মাসে আরবের দূত সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এটা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থি বিনয়ী বিএনপির প্রতি ওই কূটনীতিকদের সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। এ দলটি আবার ধর্মীয় দল জামায়াতের মিত্র। সৌদি আরব বাংলাদেশে যেমন ইসলামের পক্ষে জামায়াত সেই একই মান বহন করে। সরকার বিরোধীদের ওপর যত কঠোর হচ্ছে জবাবে তারাও তাদের অবস্থান কঠোর করছেন। ১১ই এপ্রিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রচার সংখ্যার বিএনপিপন্থি একটি সংবাদপত্রের সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দৃশ্যত নির্যাতন করা হয়েছে। তার পত্রিকা বন্ধ রয়েছে। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ধর্মীয় রাজনীতি শক্তিশালী। এমনকি নির্বাচনের আগে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগও তার ইসলামপ্রীতির কথা বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ কট্টর ইসলামপন্থি খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে নির্বাচন-পূর্ববর্তী একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে তারা প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যদি তারা নির্বাচিত হয় তাহলে তারা ব্লাসফেমি বিরোধী আইন করবে এবং পবিত্র কোরআন ও হাদিস বিরোধী কোন আইন করবে না। এতে আরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, যোগ্যতাসম্পন্ন ধর্মীয় নেতাদের ফতোয়া দিতে দেয়া হবে। এটা এক রকম ধর্মীয় নির্দেশ বা আদেশ। যা বিচার বিভাগের স্থান দখল করতো। যেহেতু পরবর্তী নির্বাচন বাতিল হয়ে যায় তাই এর কোনটিই পাস হয় নি। এবার সরকার ইসলামিক অধিকার বিষয়ে কিছু আপস করেছে, নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে তাদের সমর্থন প্রয়োজন। তা করা হয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালতে ইসলামী কট্টরপন্থি নেতাদের বিচারকে কেন্দ্র করে জনমত দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার পর। গত মাসে পুলিশ চার নাস্তিক ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে। দৃশ্যত, হেফাজতের সরাসরি দাবির প্রেক্ষিতে তা করা হয়েছে। ৬ই মে ৯০ বছর বয়সী মাদরাসা শিক্ষক, হেফাজতের নেতাকে চট্টগ্রামের বিমানে তুলে দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। এভাবেই সামনের মাসগুলো হাঙ্গামাময় হয়ে উঠছে ক্রমশ। যুদ্ধাপরাধ আদালত ১০ জন অপরাধীর বিরুদ্ধে রায় দেয়ার পথে। কয়েকটি আপিলের রায় দেবেন। এ বছরের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন তারা। প্রতিবাদে বিএনপি নিয়মিত হরতাল আহ্বান করছে। আজ ও কাল এই হরতাল। এ বছর থেকে হরতালের কারণে এরই মধ্যে ৩০টি কর্মদিবস হারিয়ে গেছে। এমন দিনগুলোতে আরও রক্তপাতের আশংকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছের লোকজন বলছেন, আরও সহিংসতা এড়ানোর জন্য তিনি যুদ্ধাপরাধ আদালতের রায়ের একটি বা দু’টি রায় কার্যকর করার পথ বেছে নিতে পারেন। ১৯৯১ সালের পর ৬ষ্ঠ বারের মতো আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেগম জিয়া লড়াই করবেন। এ নিয়ে পূর্বাভাস হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। উত্তেজনা, রাজপথে সহিংসতা ও তীব্র অস্থিতিশীলতা- এসবই সেই সংকেত দিচ্ছে। সামনের একটি বছর নিয়ে আসবে কঠিন সময়।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV