বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ড. মাহফুজের দাফন নিউইয়র্কে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক, সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ হিসেবে অবসরগ্রহণকারি ড. মাহফুজুর রহমান আর নেই। ১৫ নভেম্বর বুধবার বেলা আড়াইটায় নিউইয়র্কে নর্থশোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে—রাজেউন)। ২ নভেম্বর থেকেই এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮২ বছর বয়েসী ড. মাহফুজ।
নওগাঁর সন্তান মাহফুজের মৃত্যুসংবাদ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ফরিদা রহমান। তার পুত্র শাফিকুর রহমান অঞ্জন এবং কন্যাও হাসপাতালেই ছিলেন। ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে যোহর নামাজের পর তার নামাজে জানাযা এবং বিকেলেই নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন লং আইল্যান্ডে ওয়াশিংটন মেমরিয়ালে তাকে দাফন করা হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃদুভাষী ড. মাহফুজের চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখতেন স্থানীয় সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ। তিনি এনআরবি নিউজকে জানান, ৬ মাস আগে ড. মাহফুজের ক্যান্সার ধরা পড়লে ম্যানহাটানে মাউন্টশিনাই হাসপাতালে ৩টি কিমো প্রদানের পর চতুর্থ কিমোর জন্যে এই হাসপাতালে যান ড. মাহফুজ। সে সময় চিকিৎসকরা জানান যে, ড. মাহফুজের শরীর কিমো নিতে চাচ্ছে না। অর্থাৎ তার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ২ নভেম্বরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার ক্যান্সার ফুসফুস থেকে লিভারেও ছড়িয়ে পড়ে। একইসাথে ব্রেনেও টিউমার দেখা যায়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিউইয়র্কস্থ মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে জানান, গত বছরের মে মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘২৬তম একুশে গ্রন্থমেলা’র উদ্বোধক ছিলেন এই সাহিত্যিক। ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান ‘অটোবায়োগ্রাফি এবং ভ্রমণকাহিনী’র জন্যে।
১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পর ১৯৬৬ সালে আবারো একই বিষয়ে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চতর ডিগ্রি নেন মাহফুজ। ১৯৭৩ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন রোটারডেমে অবস্থিত নেদারল্যান্ড স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে। পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশন এবং সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনেও চাকরি করেছেন মাহফুজ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অর্থনীতিবিদ হিসেবে চাকরি শুরু করেন ১৯৭৬ সালে। ১৯৯৫ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে জাতিসংঘ থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে এবং সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছেন ড. মাহফুজ। এর অন্যতম হচ্ছে ‘খোদা হাফেজ ভার্সেস আল্লাহ হাফেজ’, ‘কত ঘরে দিলে ঠাঁই’, ‘বাংলার ফুল’, ‘অসুবিধা নাই’, লজ্ঝা আরেকবার, ‘আরজ আলী মাতব্বর’, ‘র্যাবের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কিছু বলা উচিত’, ‘সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং ইসলাম’ ইত্যাদি। এনআরবি নিউজ
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর