‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’-এর কান জয় : শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ব্রুস ডার্ন, অভিনেত্রী বিজিনিস বোজো
আহমেদ তেপান্তর :
কান চলচ্চিত্র উত্সবের ৬৬তম আসরের সবচেয়ে সম্মানজনক পাম ডি অর (গোল্ডেন পাম) জয় করে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’। এর ফরাসি নাম ‘লা ভি দ্য দেল’। বিশটি চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক আবদেললেতিফ কিশচিশ পরিচালিত ‘ব্লু ইজ দি ওয়ার্মেস্ট কালার’ সমকামী প্রেমের ছবি। তিন ঘণ্টার এ চলচ্চিত্রে সমকামী প্রেমের অন্তরঙ্গ একটি দৃশ্যই ১০ মিনিটের। এ কারণে বিচারকরা কিছুটা দ্বিধান্বিত হলেও শেষপর্যন্ত ‘ব্লু ইজ দি ওয়ার্মেস্ট কালার’-এর পরিচালক আবদেললেতিফ কিশচিশের হাতেই তুলে দেন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার। প্রধান বিচারক ও সমকামী সমর্থক স্পিলবার্গ বলেন, ‘এ পুরস্কার পরিচালক কিশিচিশ এবং তার দুই প্রধান অভিনেত্রী আদেল এক্সারকোপোওলস ও লিয়া সেদুর মধ্যে ভাগাভাগি হওয়া উচিত। চলচ্চিত্রটির সাফল্যের পেছনে এ দুই অভিনেত্রীর ভূমিকাই মুখ্য।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্পিলবার্গ বলেন, ‘আমি মনে করি, ছবিটি বহুবার দেখানো হবে। কারণ চলচ্চিত্রটি জোরালো এক বার্তা বহন করছে। আর সে বার্তা অত্যন্ত ইতিবাচক।’ আরেক বিচারক ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউ বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো রাজনৈতিক ইস্যু বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দেখেছি ছবিটি কেমন।’ এদিকে ছবিটির পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে উত্সব পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমাউক্স বলেন, ‘রোববার যখন প্যারিসের রাস্তায় সমকামী বিয়ে আইনের বিরুদ্ধে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছে, ঠিক তখনই সমকামী প্রেমের একটি ছবির কান উত্সবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হওয়া সময়োপযোগী বলেই মনে করছি।’ ছবিটির পরিচালক আবদেললেতিফ কিশচিশ তিউনিশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন অভিনেতা। ২০০০ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তিনি এ পুরস্কার ফরাসি তরুণ এবং তিউনিশিয়ার আরববসন্তের সূচনাকারী তরুণদের উত্সর্গ করেছেন। দ্বিতীয় সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যান্ড প্রিক্স অর্জন করেছেন কোয়েন ব্রাদার্স পরিচালিত ছবি ‘ইনসাইড লিউইন ডেভিস’। জুরি পুরস্কার জিতেছে জাপানিজ পরিচালক হিরোকাজু কোরিইডার ‘লাইক ফাদার লাইক সন’। এটি তৃতীয় সম্মানজনক পুরস্কার। ‘ইলো ইলো’ চলচ্চিত্রের জন্য ক্যামেরা ডি অর পুরস্কার জিতেছেন সিঙ্গাপুরিয়ান পরিচালক অ্যান্থনি চেন। মেক্সিকোর আমেত এসকালানতে তার ‘হেলি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার জয় করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ব্রুস ডার্ন ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’র পুরস্কার পান। ফরাসি অভিনেত্রী বিজিনিস বোজো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন। সমালোচকদের মতে, এ বছর পুরস্কারের জন্য জমা পড়া সব ছবি ছিল অত্যন্ত উঁচুমানের। এদের মধ্য থেকে কাউকে বাদ দেয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। কোয়েন ব্রাদার্স ‘রিপিট উইনারস’ : আমেরিকান সহোদর জোয়েল এবং ইথান কোয়েন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উত্সবের দ্বিতীয় বড় পুরস্কারটি অনানুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছেন। ‘ইনসাইড লিউইন ডেভিস’ ছবির জন্য এ পুরস্কার জয় করেন তারা। বেশ কয়েক বছর ধরেই কানে নিয়মিত হাজির হচ্ছেন এ সহোদর। অনেক পুরস্কারও জয় করেছেন কোয়েনরা। ১৯৯১ সালে ‘বার্টন ফিনক’ ছবির জন্য গোল্ডেন পাম জিতেছিলেন তারা। মুখ্য নারী : আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া ফরাসি অভিনেত্রী বেরেনিস বেশো এবার সেরা অভিনেত্রী অ্যাওয়ার্ড জয় করেছেন। ইরানি পরিচালক আসগর ফরহাদি (ছবিতে ডানে) পরিচালিত ‘দ্য পাস্ট’ ছবিতে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীর চরিত্রে অভিনয় করে এ খেতাব জয় করেন বোজো। ৭৬ বছর বয়সে সেরা অভিনেতা : অভিনেতাদের মধ্যে জুরিদের নজর কেড়েছেন ৭৬ বছর বয়সী ব্রুস ডার্ন। এ মার্কিন অভিনেতা ‘নেবরাস্কা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবিটিতে এক মাদকাসক্ত বুড়োর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডার্ন—যিনি তার ছেলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বের হন। চীনের জন্য পুরস্কার : এশিয়াও জিতেছে পুরস্কার। চীনা পরিচালক জিয়া ঝানকের ছবি ‘এ টাচ অব সিন’ জয় করেছে ‘বেস্ট স্ক্রিন প্লে অ্যাওয়ার্ড’। বিশ্ব চলচ্চিত্র সম্মাননা : কানে অন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননাগুলো গেছে মেক্সিকো এবং জাপানে মাদক নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘হেলি’র জন্য সেরা পরিচালকের সম্মাননা জয় করেছেন মেক্সিকোর আমাত এসকালান্তে, আর জাপানের হিরোকাজু কোরে-এডা জয় করেছেন সম্মানজনক জুরি অ্যাওয়ার্ড। ‘লাইক ফাদার, লাইক সন’ ছবির জন্য এই সম্মাননা জয় করেন আমাত। বাস্তবতার নিদর্শন : অন্যান্য বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের নানা ধরনের বাস্তবধর্মী, জটিল এবং ক্ষেত্রবিশেষে মর্মভেদী কাজ উপস্থাপন করেছেন। উদ্ভাবনী এবং দুঃসাহসিক কাজের জন্য ‘অ্যাঁ স্যারত্যাঁ রগার্দ’ খেতাব জিতেছেন ফরাসি-কম্বোডিয়ান পরিচালক রিতি পান। কম্বোডিয়ায় খামের রুজের নিপীড়নের শিকারদের নিয়ে ‘দ্য মিসিং পিকচার’ ছবিটি তৈরি করেছেন তিনি। জিতেছে জার্মানিও : জার্মানির একটি ছবিও এবার অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে। কান উত্সবে কোনো জার্মান কাহিনীচিত্র সম্মাননার জন্য মনোনয়ন পায়নি। তবে তিরিশ মিনিট দৈর্ঘ্যের শর্ট ফিল্ম ‘কম উন্ড স্পিল’ জয় করেছে ‘ইন্টারন্যাশানাল ক্রিটিক উইক’ অ্যাওয়ার্ড। আবহাওয়া বিড়ম্বনা : এ বছর কান চলচ্চিত্র উত্সবের মূল প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য বিভাগে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে কান কর্তৃপক্ষ। শুধু আবহাওয়াটাই তাদের কথা শোনেনি। তাই কানের লালগালিচায় শুকনো পায়ে হাঁটতে পেরেছেন কম অতিথিই। সব শেষে উত্সব সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছরও পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের প্রথাগত ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কান। অন্যদিকে নিন্দুকরাও একধাপ এগিয়ে বলছেন, মানের বিচারের দিক থেকে এবারও খুব উঁচুতে ছিল এ উত্সব। পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ চলচ্চিত্র উত্সব। উল্লেখ্য, ৬৬তম কান চলচ্চিত্র উত্সব গত ১৫ মে শুরু হয়ে ২৬ মে শেষ হয়।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes