ভালোবাসা কারে কয়?
অজয় দাশগুপ্ত: বাঙালির ভালোবাসা কখনোই কোনো দিবসের ঘেরটোপে বাঁধা নয়। যখন কোনো দিবস ছিল না তখনো আমরা ভালোবাসতাম। বিদেশে এসে জেনেছি এবং বুঝেছি দিবস না থাকলে অনেক কিছুই জীবন থেকে হারিয়ে যেত। আধুনিকায়নের এক বিশাল কুফল মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে তোলা। কাজ উপার্জন আর ভোগের চাপে তাকে মা-বাবাকে স্মরণ করার কথাও মনে করিয়ে দিতে হয়। ভালোবাসা তো কোন ছাড়।
আমরা দুনিয়া বিচ্ছিন্ন কেউ নই। পৃথিবীতে যা ঘটে তার প্রভাব কোনো না কোনোভাবে আমাদের উপরও এসে পড়ে। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে শুরু হয় শফিক রেহমানের হাত ধরে। তখন তিনি লাল গোলাপের মানুষ। ঝাঁ চকচকে আধুনিক। তার কথা বলার ধরন সেনাশাসনও একনায়কের বিরুদ্ধে শানিত রম্য লেখা ভালোবাসার গালগল্প মিলে তুমুল জনপ্রিয় এক মানুষ। কিন্তু যা হয়, একসময় এদের ওপর জিন্নাহর আছর এসে পড়ে। এরা নিজেরা জিন্নাহ সাহেবের মতো সুট-বুট, কোট-টাই পরে, হারাম-হালালের ধার ধারে না, মদিরায় অরুচি নেই, আজ ঢাকা তো কাল দিল্লি, আমেরিকা, বিলেত অথচ জনগণের বেলায় হয়ে ওঠে ঘোর প্রাচীন। মৌলবাদীও বটে। শফিক রেহমান ডুবে গেলেও ভালোবাসা দিবস পূর্ণ জ্যোতিতে বিরাজমান।
সামাজিক মিডিয়ায় এখন যেকোনো দিবস পালনের ধুম। আর এমন একটা মজা ও আনন্দের দিবস হাতছাড়া করবে কে? কিন্তু আই লাভ ইউ যে বড় সস্তা এখন। সে দিন নেই, একটি কাঁপা কাঁপা হাতের লেখার চিঠি লিখবে যুবক, সে চিঠি পড়ে নয়নজলে ভাসবে তরুণী। এখন মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ জানতেও পারে না, পাশের জন খটখট শব্দ করে মোবাইলে কয়েকশ বার লাভ ইউ লিখে চলেছে।
ভালোবাসা দিবসে পরিণত হবার পর এ দিনটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন কর্পোরেট দুনিয়ার লোকজন। ভালোবাসাও বাণিজ্য এমন হাত ধরাধরি করে চলবে, কে ভেবেছিল কোনোকালে? এত কার্ড, এত ফুল, এত মালা, এত চাইনিজ, এত এত কফি আর পিজ্জা কে খেয়েছে, কে দেখেছে আগে? ভালো দিকটা এই, কেউ আর পিছিয়ে থাকতে চায় না। ফের এই সমাজেই নারী এখনো বলৎকার আর হিংসার শিকার। এখনো পথে-ঘাটে অনিরাপদ তার জীবন। শিশু কিশোরেরা কি ভালোবাসার বাইরে? তাদের জীবনে আজ অপঘাত আর নির্যাতন নিয়তির মতো। তাদের ভালোবাসা দিতে না পারলে এ দিবসের মূল্য কোথায়?
ভালোবাসা নেই মানুষে মানুষে। নেই রাজনীতিতে। দেশের প্রধান প্রধান মানুষগুলোর ভিতর নেই ভালোবাসার বন্ধন। পরিবারে আজ সবচেয়ে বেশি অভাব ভালোবাসার। মা-বাবার সময় নেই। সন্তান তো আরও একধাপ এগিয়ে। বন্ধুর জন্য ভালোবাসা ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। বায়বীয় ভালোবাসার এই যুগে এর মানে যেন শরীর ও ইচ্ছা বিনিময়। অথচ যে মা তার সন্তানকে প্রথম স্কুলে পাঠাতে গিয়ে কপালে চুমু দিচ্ছে, যে মেয়েটি চোখে কাজল মেখে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে, যে পিতা তার মেয়ের জন্য চুড়ি কিনে ফিরছে, যে মা ছেলের মঙ্গল কামনায় নীরবে চোখের জল ফেলছে সেখানেই ভালোবাসা মহীরুহ। যে যুবক হাঁটু মুড়ে বসে প্রেমিকাকে একটি গোলাপ হাতে নিয়ে সৎভাবে আজীবনের জন্য চাইছে সেখানে দিবস পালিয়ে ভালোবাসা ফুটে আছে হাজার গোলাপ হয়ে। কবিগুরু তাই বলেছিলেন, ভালোবাসা কারে কয়?
লেখক: সিডনি প্রবাসী, কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ