Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদ সভায় নিউইয়র্কের সাংবাদিকরা যা বলেছিলেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 195 বার

প্রকাশিত: August 3, 2018 | 6:42 PM

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: বাংলাদেশের কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে ২২ জুলাই দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক উপর্যুপরি নির্যাতনের শিকার বরেণ্য সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েেেছন নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকবৃন্দ ।

নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আহূত প্রতিবাদ সভা ২৪ জুলাই নিউইয়র্ক নগরীর জ্যাকসন হাইট্সস্থ ক্লাবের অস্থায়ী (দেশ বাংলা) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সভাপতি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’এর সম্পাদক ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক টাইম টিভির বার্তা সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, হলি ডে’এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি মঈন উদ্দিন নাসের, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টিভি’র স্বত্ত্বাধিকারী আবু তাহের, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, রানার সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমদ, দেশ-বাংলার নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর সরকার, ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক মাওলানা রশীদ আহমেদ, বাংলা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি শেখ সিরাজুল ইসলাম, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের যুক্তরাষ্ট্র সংবাদদাতা ইমরান আনসারী, উত্তর আমেরিকা প্রথম আলো’র বিশেষ প্রতিনিধি শাহেদ আলম, দ্য ডেইলি সিটিজেন টাইম্স’এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী কাজল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সম্পাদক এমদাদ হোসেন দিপু প্রমুখ।

সব বক্তাই তাদের বক্তব্যে সরকারী ইন্ধনে ও সহযোগিতায় মাহমুদুর রহমানের উপর এমন অমানবিক ও অভূতপূর্ব হামলার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে এ ধরনের কুৎসিত অপকর্মের সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

প্রতিবাদ সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বক্তব্য প্রদানকারী সব সাংবাদিককের পর্যায়ক্রমিক বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

ইমরান আনসারী বলেন, কেবল ভিন্নমত প্রকাশের কারণে ১২৫ মামলার আসামী মাহমুদুর রহমান বার বার গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। দেশের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গেলে তিনি আদালত প্রাঙ্গনে ছয়বার হামলার শিকার হন তা সহজেই অনুমেয়।

ইমরান বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীন সংবাদপত্রের চেতনা, মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ভিন্নমত প্রকাশকারীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার প্রক্রিয়া বহু আগ থেকেই চলে আসছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের নমুনা দেখে এখন অনুভব করি তাকে তিনবার ভোট দিয়ে পাপ করেছি। সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক তিনি এটাই তার প্রত্যাশা।

রশিদ আহমেদ বলেন, স্বাধীন দেশে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা কেউই আশা করেন না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের হামলা না হয় সে উদ্দেশ্যে বিষয়টি জাতিসংঘকে জানানোর জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

শাহেদ আলম বলেন, আদালত সব মানুষের আশ্রয়ের জায়গা, নিরাপত্তার জায়গা। এ হামলার ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন কোন কোন সাংবাদিকও এ হামলার সমর্থনে কথা বলেন। তার প্রশ্ন কেউ আদালতে হামলার শিকার হলে মানুষ কোথায় যাবে?

এমদাদ চৌধুরী দীপু বলেন, এমন জঘন্য হামলায় আমি বিস্মিত নই। মাহমুদুর রহমান সত্য প্রকাশে নির্ভীক। তিনি নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতিনিধিত্ব করছেন। দীপুর প্রশ্ন যারা এমন হামলাকে সমর্থন করছেন, তারা কী ইঙ্গিত দিচ্ছেন? এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমাদেরকে এমন পরিস্থিতি ও মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে দেশ রক্ষার জন্য সোচ্চার হতে হবে।

আলমগীর সরকার বলেন, মাহমুদুর রহমানের রক্ত দেখে আমার সন্তানরা বিস্মিত হয়ে জানতে চায়: এটা বাংলাদেশ? এদেশকে আমরা কীভাবে দেখব?

আলমগীর বলেন, আদালত বিচারের জায়গা। মানুষের শেষ ভরসার স্থান। এ ধরনের জঘন্য ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় তিনি সে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্ভীক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান বারবার নিগৃর্হীত নির্যাতিত হয়েছেন। একজন বরেণ্য সাংবাদিককে রিমান্ডের নামে পিটিয়ে তার নি¤œাঙ্গ রক্তাক্ত করা হয় । তিনি তার রক্তাক্ত আন্ডারওয়্যার আদালতে দেখিয়েছিলেন। আদালত এমন অপমানজনক নির্যাতনের সাথে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয় নি।

তিনি বলেন, আদালত এমন নির্মমতার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলেই ক্ষমতাসীন দলের অপরাধীরা এমন বেপরোয়া অমানবিক অপরাধ করতে সাহস পায় এবং সে ধারাবাহিকতায় আদালত চত্বরে পুলিশের উপস্থিতিতে মাহমুদুর রহমান পুনরায় লাঞ্চিত ও রক্তাক্ত হন।

তিনি বলেন, আমাদেরকে এ ধরনের অপরাধীদের ইন্ধনদাতা এবং ইন্ধনদতার মূলশক্তি অনুঘটকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ইন্দনদাতার মূলশক্তির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

আবেদীন বলেন, যে চেতনাবোধ আদর্শ মাহমুদুর রহমানকে সব অত্যাচার সহ্য করতে প্রেরণা যোগায়, আমরা তা ধারণ না করলে তার মতো সত্য প্রকাশে নির্ভীক না হলে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এ সভা নিছক প্রহসন, প্রতারণা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপে এবং নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সত্য বলতে সত্য লিখতে ভয় করি। আমার মনে হয় আমরা কোন বিশেষ দেশের কাছে কোন না কোনভাবে দায়বদ্ধ হয়ে গেছি। ঐ বিশেষ দেশের অপকর্মের কাহিনী লিখতে কোন কোন সাংবাদিক মোটেই ইচ্ছুক নন। ঐ দেশের অপকর্ম প্রকাশ করতে চাইলেই এরা ক্ষেপে যান।

তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগের লোক, পাকিস্তান আমলে কারা নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে ভারতেই লেখক হিসেবে আমার প্রথম আত্মপ্রকাশ। কিন্তু ভারত প্রসঙ্গে কিছু বললে কিংবা লিখলে নিন্দাত্মক কথা শুনতে হয়।

নিজেদেরকে উদারমনা, অসাম্প্রদায়িক দাবি করেন এমন মহলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আমার ধর্মের আমার দেশের স্বাধীনতার কথাই বলবো । এটা আমার অধিকার। এটা সাম্প্রদায়িকতা নয়। আমার দেশ না থাকলে আমি যে অসাম্প্রদায়িক তা বলারও সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতের বিপরীতে পৃথক মুসলিম দেশের ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দেশের মালিক হওয়াতেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেছি। আমার জেলা নোয়াখালীর মতো গ্রামীণ শহরেও বহু সুউচ্চ ভবন নির্মিত হয়েছে। আমাদেরকে এসব অর্জন রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীন দেশের মালিক না হলে পশ্চিম বাংলার মুসলমানদের মতো আমাকে হয়তো রিক্সাচালক, কিংবা যুগালী অথবা খলিফা (দর্জ্জি), ভাগ্য ভালো হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েই খুশি থাকতে হতো। আরো আগেই হয়তো মরে যেতাম। আমাদের সব অর্জনই স্বাধীতার সুফল।

জনৈক মন্ত্রীর এলাকায় মাহমুদুর রহমান নির্যাতিত হয়েছেন উল্লেখ করে রানার সম্পাদক বলেন, এরাই মুক্তিযুদ্ধকে সম্পদ ও ক্ষমতা লাভের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এরাই জাসদ করে বঙ্গবন্ধুকে জীবিত কবর দিয়েছিলেন। এরাই এখন দেশপ্রেমিকদেরকে নিশ্চিহ্ন করছেন।

শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাহমুদুর রহমানের অঙ্গীকার তিনি সত্য ও ন্যায়র পক্ষে থাকবেন। তার বক্তব্য কিংবা নীতির সাথে আমাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। তাকে এ কারণে মারা হবে তা কোন মানুষই সমর্থন করতে পারেন না। বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া এ হামলা সমর্থনের মতো নিন্দনীয় কাজ করেছে।

শেখ সিরাজ বলেন, তিনি ছয়ঘন্টা আদালত এলাকায় অবরুদ্ধ ছিলেন। ক্রমাগত পুলিশের এসপি-ওসিকে ফোন করেও তাদের সাহায্য পাওয়া যায় নি। আমরা পুলিশের এসপি এবং ওসি’র বিচার দাবি করছি। তার প্রশ্ন রাষ্ট্র কার কথায় চলে? এ অদৃশ্য শক্তি কে?

নাজমুল আহসান বলেন, এ ধরনের হামলা খুবই নিন্দনীয়। সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক না হয়ে সাধারণ নাগরিক হলেও আদালতে নিগৃর্হীত হবার ঘটনা আমাদের দেশের ভাব-মর্যাদার চরম ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশকে যেন ‘অসভ্য’ দেশ না বলা হয় তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সর্বত্রই স্বীকৃত। একজন সাংবাদিক যদি একটি লেখার জন্যও নিগৃর্হীত হন, তবে আমাদের উচিত তার নিন্দা করা। বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকার কারণেই সাংবাদিকরা নিগৃর্হীত হচ্ছেন।

আবু তাহের বলেন, এ হামলা অচিন্তনীয়, নিন্দার অযোগ্য। সাংবাদিক না হয়ে সাধারণ মানুষ হলেও এমন হামলা নিন্দনীয়। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানের উপর এমন হামলা হলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন তা সহজেই অনুমেয়।

রতন তালুকদার বলেন, এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। মওদুদ আহমেদসহ বহু সম্মানিত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অপমানিত হয়েছেন। তার প্রশ্ন যে দেশের প্রধান বিচারপতি দেশ থেকে পালিয়ে যান সে দেশে কী কোন সুবিচার আশা করা যায়? হুমায়ুন আজাদসহ অনেক ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। কোন বিচার হয় নি।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানের রাজনীতি ও আদর্শের সাথে আমার মিল নেই। কিন্তু আমি তার ওপর হামলার নিন্দা করি। তিনি সৎ ও স্পষ্টভাষী। তিনি দেশ ও ধর্মের জন্য মরবেন এমন কথা বলার অধিকার তার রয়েছে। তবে আমি এ হামলার বিচার চাই না। কারণ কোন বিচার হবে না।

এ বি এম সালাহউদ্দিন বলেন, সাধারণ নাগরিক হিসেবেও মাহমুদুর রহমান অবিচারের শিকার। এ ধরনের বিষয়গুলো সংবাদপত্রে আসা উচিত। তিনি সাংবাদিকদেরকে সব বিভেদ ভুলে একমঞ্চে আসার আহ্বান জানান।

চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল বলেন, মাহমুদুর রহমান নির্ভীক সাংবাদিক। তিনি এমনসব খবর প্রকাশ করেছেন যা অন্যরা প্রকাশ করতে সাহস পান না। কাজল বলেন, এ হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে অন্য সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হবেন।

তিনি বলেন, হামলাকারী গোপন অচেনা কেউ নন। তাদেরকে ধরা অতি সহজ। আইন-শৃঙ্খলার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এ দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। হামলাকারীদের শাস্তির ভয় নেই। কারণ তারা জানে তাদের কিছুই হবে না।

মঞ্জুর আহমেদ বলেন, এ হামলার বিরুদ্ধে আমরা সবাই এক কথা এক ভাষায় কথা বলছি। সব সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার নিন্দা করছি।

মঞ্জুর আহমেদ বলেন, সাংবাদিক-সম্পাদক ছাড়ও তিনি তিনি একজন নাগরিক। তার প্রশ্ন মাহমুদুর রহমানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হবে কিংবা মেরে ফেলা হবে এমন শক্তি ও ঔদ্ধ্যত্য ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দুর্বল, পদানত ও শেষ করার জন্য সুকৌশলে ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, এদেশে যেন শিক্ষিত মানুষ তৈরি না হয়। ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেও অপমান করেছে।

সরকারের উদ্দেশ্য ও অপকৌশলের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যা চাই তা শক্তি দিয়ে আদায় করবো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে হিটলার বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতো। কিন্তু স্বৈরাচার কখনোই স্থায়ী হয় না। আমরা এ ধরনের প্রবণতা ও কৌশলের নিন্দা জানাই।

মঈন উদ্দিন নাসের বলেন, এটি জঘন্য নগ্ন উদাহরণ । ভিন্ন মতের প্রতি সরকার কেমন জঘন্য মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা তারই প্রমাণ।

তিনি প্রশ্ন করেন মাহমুদুর রহমানের উপর হামলার সময় বিএনপি’র লোকেরা কোথাও ছিলেন? তা’হলে কী আওয়ামী লীগ-বিএনপি যৌথভাবে তাকে মেরেছে? বিএনপির লোকজন কেন সেখানে ছিল না? তাহলে কী বুঝতে হবে বিএনপি বলতে কিছু নেই। আছে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী ডান্ডাবাজ।

আওয়ামী লীগের প্রশংসা করে এই সাংবাদিক বলেন, আওয়ামী লীগ খুব ভালো, সাজানো-গোছানো। শেখ হাসিনা যদি বলেন ‘চুপ’; তখন সবাই চুপ হয়ে যায়। আর মারতে বললে তারা পিটিয়ে মারে।

দেশে কারোরই যে নিরাপত্তা নেই তার প্রতি ইঙ্গিত করে নাসের বলেন, প্রধান বিচারপতি আমেরিকাতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। তিনি তার মেয়াদকাল শেষ করতে পারেন নি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হিন্দুদের সর্বাধিক ক্ষতি করেছে। অথচ তারপরেও হিন্দুরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলেও অনেকেই তা স্বীকার করেন না।

সভাপতির ভাষণে ওয়াজেদ এ খান বলেন, মাহমুদুর রহমান আদালতের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে বারবার অনুরোধ করলেও আদালত তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। আদালত তাকে রক্ষার জন্য কিছুই করে নি।

তিনি বলেন, পুলিশের সামনে তাকে কেমন নির্মমভাবে রক্তাক্ত করা হয় তা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। তার শরীর থেকে রক্তঝরা দেখে আমরা মর্মাহত হয়েছি। দেশে গণতন্ত্র নেই। ন্যায় বিচার নেই। ক্রমাগত হত্যার বিচার না হবার কারণে এমন বিচারহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কিংবা আদালত খুনের মামলা গ্রহণ করে না, অথচ যেখানে সেখানে তথাকথিত মানহানির উদ্দেশ্যমূলক মামলা গ্রহণ করে।

ওয়াজেদ এ খান বলেন, এই হামলার সাথে জড়িতদের গোপন রাখার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের ইন্ধনদাতা ও সমর্থকদের প্রতি তিনি নিন্দা জানান।

প্রতিবাদ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এ হামলার বিরুদ্ধে সব সাংবাদিক যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রচার করবেন, যা সব পত্রিকায় মুদ্রিত হবে। 

-মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক, সাপ্তাহিক রানার, নিউইয়র্ক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV