Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

মৃত্যুর গন্ধ, মৃত্যুর শব্দ!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 138 বার

প্রকাশিত: December 30, 2014 | 11:56 AM

স্ত্রী জ্যাকুলিনের মিষ্টি সুগন্ধির সঙ্গে কেনেডির রক্তের গন্ধ মিলেমিশে কেমন গন্ধ হয়েছিল তিনি আততায়ীর গুলিতে মারা যাওয়ার সময়? কিংবা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুস্থলের গন্ধ কেমন ছিল? কেমন শব্দ ছিল সেখানে? শব্দ-গন্ধের মধ্য দিয়ে কি দর্শকেরা পৌঁছে যেতে পারবেন প্রিয় ব্যক্তিত্বের অন্তিম সময়ের কাছাকাছি! নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা অভিনব পদ্ধতিতে ইতিহাসের বিশেষ মুহূর্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন দর্শকদের। এএফপির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ব্রেদায় অ্যাভান্স ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্প্রতি চারজন বিখ্যাত ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ের শব্দ-গন্ধ নিয়ে অভিনব এই গবেষণা চালান। এই তালিকায় এমন চার ব্যক্তি আছেন, যাঁদের অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা দুনিয়াজুড়ে মানুষের সামষ্টিক স্মৃতিতে রয়ে গেছে। তাঁরা হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি (১৯৬৩), ব্রিটেনের রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা (১৯৯৭), লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি (২০১১) ও মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী হুইটনি হিউস্টন (২০১২)।
বিশ্ববিদ্যালয়টির কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া ডিজাইন অনুষদের বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক ডুয়েরিঙ্ক গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডুয়েরিঙ্ক বলেন, ‘বহুল আলোচিত এসব মৃত্যু ঘটনার অনেক ছবিই যেন দুনিয়ার মানুষের চোখে ভেসে আছে। কিন্তু তাঁদের অন্তিম সময়ের শব্দ-গন্ধের কাছে দর্শকদের নিয়ে যেতে চেয়েছি আমরা।’
এই বিশেষ আয়োজনে উৎসাহী দর্শনার্থীদের এমন একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে মর্গে লাশ রাখার বাক্সের মতো চারটি ধাতব বাক্স রাখা আছে। দর্শকেরা কিছুক্ষণ করে একেকটা বাক্সের ভেতরে শুয়ে থাকার সুযোগ পাবেন। এসব বাক্সের ভেতরটা পিচের মতো কালো রঙের এবং বাক্সের ভেতরে বিশেষভাবে শব্দ ও গন্ধ ছড়ানোর ব্যবস্থা আছে। প্রতিটা বাক্স আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশেষ ব্যক্তির অন্তিম সময়ের একটা ধারণা দেওয়ার জন্য।
গায়িকা-অভিনেত্রী হুইটনি হিউস্টন বেভারলি হিলসের একটা হোটেলের বাথটাবে মারা যান। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনাবশত বাথটাবের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার সঙ্গে কোকেন ও হৃদ্‌রোগকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো দর্শনার্থী হিউস্টনের বাক্সটিতে শুয়ে থাকলে প্রথমেই তাঁর নাকে আসবে হোটেলের মেঝে পরিষ্কারে ব্যবহার করা তরলের গন্ধ, পানি ছলকে পড়ার শব্দ ও হিউস্টনের কণ্ঠস্বর। এরপরই আসবে অলিভ অয়েলের গন্ধ, হিউস্টন যা গোসলের সময় ব্যবহার করতেন। এরপর আসবে কোকেনের গন্ধের মতো শক্তিশালী রাসায়নিকের গন্ধ। একর পর এক এসব গন্ধ আর শব্দে ভিন্ন এক জগতের আবেশে চলে যাবেন দর্শনার্থী। শেষ দিকে তাঁর মনে হবে কোকেনের গন্ধে যেন তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসছে। এ সময় পানি ছলকে পড়ার তীব্র শব্দের পরপরই বাক্সে নেমে আসবে কফিনের নীরবতা।
ফ্রেডেরিক ডুয়েরিঙ্ক বলেন, ‘যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গন্ধকে কাজে লাগানো হয় না বললেই চলে। কিন্তু আমরা গন্ধের ব্যবহারের সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে চাই। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, মস্তিষ্কের এমন অংশের সঙ্গে গন্ধের সম্পর্ক আছে, যা কিনা আবেগ ও স্মৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।’
ব্রেদার বিজ্ঞানীদের বানানো এই মৃত্যু-বাক্সে ঢুকে গাদ্দাফির মৃত্যুর সময়ে পৌঁছে যেতে চেয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী রিকস শোয়েপেনবার্গ। সে অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শোয়েপেনবার্গ বলেন, ‘যতবার চাইবেন, ততবারই আপনি মৃত্যুদৃশ্যের সেসব ছবি দেখতে পারবেন, কিন্তু এই বিষয়টা একেবারেই আলাদা।’ গাদ্দাফির বহরে হামলা চালিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার আগে বিদ্রোহীরা তাঁকে একটা নর্দমার পাইপের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওলন্দার এই যুবক বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি নিজেই যেন শিকারে পরিণত হচ্ছিলাম।’
আগামী কয়েক মাস ধরে ওলন্দাজ বিজ্ঞানীদের এই বিশেষ আয়োজন ইউরোপের শহরে শহরে ঘুরবে মৃত্যুর শব্দ-গন্ধ নিয়ে।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ