Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

মোবাইল ফোনই বাঁচিয়ে দিলো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 61 বার

প্রকাশিত: July 16, 2016 | 10:54 PM

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও অন্যতম প্রধান শহর ইস্তাম্বুল দখলে নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহী সেনারা। তখন প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেপ এরদোগান সময় কাটাচ্ছিলেন একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে। কিছু একটা করে বসার আগেই সরকারি গণমাধ্যম সহ প্রায় সব টিভি চ্যানেল দখলে নিয়ে নেয় সৈন্যরা। এমন সময় আধুনিক প্রযুক্তিরই আশ্রয় নেন এরদোগান। উপায়ান্তর না দেখে আইফোনের ‘ফেসটাইম’ মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেন সিএনএন টার্কের কাছে। সিএনএন’র লাইভ আপডেটে এ সংবাদের প্রথম লাইন: ওয়েলকাম টু মডার্ন ওয়ার্ল্ড। সংবাদে বলা হয়, ভিডিওবার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে এরদোগান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসতে আহ্বান জানান। সমর্থকরা হতাশ করেননি তাকে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, বসফরাস ব্রিজের ওপরে সৈন্যদের ট্যাংকের সামনে জান হাতে রেখে প্রতিবাদ করেছেন অনেকে। এদের কারও কাছে ছিল তুর্কি জাতীয় পতাকা। ফাঁকা গুলি করেও থামানো যায়নি তাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বহু ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ উল্টো সেনাসদস্যদের আটক করছে। ধরে নিয়ে পুলিশে দিচ্ছে। এক ট্যাংকচালক বের হওয়ার চেষ্টা করতেই মানুষের পাথরবৃষ্টির মুখে পড়েন। পরে পুলিশ কোনোমতে তাকে উদ্ধার করে। মধ্যরাতে তখন রাজপথে এরদোগানের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ।
দৃশ্যত জনতার প্রতিরোধে বানচাল হয়ে গেছে তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টা। ইস্তাম্বুলে কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরের বাইরে একটি ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়ে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন একজন। বিভিন্ন রাস্তায় ট্যাংকের ওপর উঠে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।
সকালের দিকে রাস্তায় রাস্তায় দেখা মিলতে থাকে পরিত্যক্ত ট্যাংক। মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভ্যুত্থানকারীদের হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের দৃশ্য। কিন্তু ততক্ষণে কমপক্ষে বহু প্রাণ ঝরে গেছে।
ওদিকে দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় শহর মারমারিসে অবকাশ যাপন থেকে এরদোগান ফিরে যান ইস্তাম্বুলে কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে। স্থানীয় সময় তখন ভোর প্রায় সাড়ে চারটা। সেখানেই তিনি কড়া নিরাপত্তায় সংবাদ সম্মেলন করেন। বলেন, ‘আমার পতাকা আমার সম্মান, আমার দেশ আমার সম্মান। এ কারণেই আমি এখানে মরতে এসেছি। আমি মরতে প্রস্তুত।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছেন তারা রাষ্ট্রদ্রোহের কাজ করছেন। তাদেরকে কড়া মূল্য চুকাতে হবে।’ শনিবার সকালে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে বলেছেন, অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীরা জনগণের অস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে তাক করেছে। যে প্রেসিডেন্টকে শতকরা ৫২ ভাগ মানুষ ক্ষমতায় এনেছে সেই প্রেসিডেন্টই দেশের দায়িত্বে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা যদি প্রতিরোধ গড়ে তুলি তাহলে তারা সফল হতে পারবে না। তিনি যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন ইস্তাম্বুলের বসফোরাসে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্যকে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়। তারা তাদের ট্যাংক ফেলে দু’হাত উঁচু করে এগিয়ে যান। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী গ্রিসে একদল সেনা হেলিকপ্টার নিয়ে পৌঁছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রস্থল তাকসিম স্কোয়ার, পার্লামেন্ট ভবনে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। রাতভর সংঘর্ষ হয় ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায়। এতে কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। বলা হয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোকজন।
দুপুরের দিকেই স্পষ্ট হয়ে যায় অভ্যুত্থানকারীরা ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, সবার বোঝা উচিত জনতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারও কিছু করা সম্ভব নয়। তবুও সন্তুষ্ট নন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। আড়াইটার দিকেও তিনি গণহারে এসএমএস পাঠিয়েছেন জনগণের উদ্দেশে। তিনি তাদেরকে সড়কে অবস্থান নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অভ্যুত্থানকারীদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করবে সরকার। সঙ্গে সঙ্গে তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ‘মৃত্যুদণ্ড চাই’ হ্যাশট্যাগ। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ