নিউইয়র্কে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় দিনভর মতবিনিময়
ইউএসএনিউজ অনলাইন.কম, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় রোববারও দিনভর একের পর এক মতবিনিময় করছেন। পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেন নিউইয়র্কে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে। যেন বাংলাদেশেরই সর্বোচ্চ পর্যায়ের কেউ দেখা করতে এসেছেন তার নিজ দেশের লোকদের সুখ-দু:খের কথা শুনতে। এ মন্তব্য কয়েকজন প্রবাসীর। সভা গুলোতেও প্রবাসীরা প্রাণ খুলে মতবিনিময় করেছেন মজিনার সাথে। মজিনা যেন সকল বাংলাদেশীরই প্রতিনিধি। তার ক্ষেত্রে কোন দলাদলি নেই। তিনি যেন সবার ঐক্যের প্রতীক। যা সচরাচর বাংলাদেশীদের কোন প্রগ্রামে দেখা যায় না। তার সভায় যোগ দিয়েছেন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ সকল মতাদর্শের লোকজন। সবাই যার যার আর্জি নিয়ে হাজির হন তার কাছে। তারও সবাইকে খুশি করতে চেষ্টার কমতি ছিলোনা। কখনো সহজ সাবলিল ভঙ্গীতে আবার কখনো ক’টনৈতিক ভাষায়। এমন চিত্র ফুটে ওঠেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
এসব অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবার কথা বললেন। বলেছেন বাংলাদেশ হবে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার। দেশটির জনগণই এটি সম্ভব করে তুলবে। তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে। সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায়, প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে, ব্যবসা, বিনিয়োগসহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে।
স্থানীয় সময় রোববার সকালে উডসাইডের গুলশান টেরেসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাথে প্রাতঃরাশ বৈঠক, দুপুরে আমেরিকা বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস-এর আয়োজনে একই স্থানে মধ্যাহৃভোজ ও সভা, এরপর পায়ে হেঁটে বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখা, বিকেলে সম্প্রচারিতব্য টাইম টেলিভিশন স্টুডিওতে বিশেষ মতবিনিময় এবং সন্ধ্যায় ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এর আয়োজনে নৈশভোজ ও মত বিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা জ্যাকসন হাইটসে মান্নান গ্রোসারি, খামারবাড়ি খাবার বাড়ি, অবকাশ, ফুডকোর্ট ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খোলা রাস্তায় হকারদের ব্যবসার খোঁজ খবর নেন। তিনি বাংলাদেশি বিভিন্ন শাক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পর্কে জানতে চান। খদ্দেরদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশী রেস্তোরাঁগুলোতে। এসময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে তিনি বাংলাদেশের তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। জ্যাকসন হাইটসে প্রবাসীরা ড্যান মজীনাকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের ভালবাসা প্রকাশ করেন।

এদিন দুপুরে নিউইয়র্কে উডসাইডে গুলশান ট্যারেসে নিউইয়র্ক সফররত রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এক সংবর্ধনা দেয়া হয়। ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর জাষ্টিস ইনক এর চেয়ারপার্সন অষ্টিন ম্যানগাম এবং আমেরিকান বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইনক এর চেয়ারপার্সন এটর্নী মঈন চৌধুরীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলেন কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম, জিম ম্যাকলেন, কষ্টা কন্টারেইডস, বিচারপতি ক্যারেলন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ এর সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা: মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মান্নান গ্রোসারীর সত্ত্বাধিকারী ও জেবিবিএ‘র সাবেক সভাপতি সাইদ রহমান মান্নান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, আবুল কাশেম চৌধুরী, ডা: এহসান হক, হাটবাজার ও গুলশান ট্যারেসের সত্ত্বাধিকারী মহসিন প্রমুখ।
রাষ্ট্রদূত মজিনা বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দুর্যোগের দেশ হিসেবে জেনে এসেছি। কিন্তু এখন সে বাংলাদেশ নেই। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বাংলাদেশে যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে তাতে দেশটির অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল। ড্যান মজীনা বলেন, আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতেই নিউইয়র্কে তার এসব কর্ম সূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতু বন্ধনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
এটর্নী মঈন চৌধুরী প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে এবং দেশে জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসম্যানসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে একত্রে ভূমিকা রাখার উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সম্ভাব্য সকল উপায়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যে অবদান রাখছেন তার প্রশংসা করেন।
আলোচনার পর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পারফর্মিং আর্টস (বিপা)এর শিল্পীরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করে।

মার্কিন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে ‘পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি’ আওতায় ড্যান মজিনার এটি সরকারী কর্মসূচি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ড্যান মজীনা ১০ দিনের কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের পর টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ায় যাবেন।
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights