Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বুধবার থেকে রমজান শুরু

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 140 বার

প্রকাশিত: May 13, 2018 | 3:29 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে পারে পবিত্র মাহে রমজান। ইতোমধ্যেই বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাস পালনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। বুধবার প্রথম রমজান হলে সেহেরীর শেষ সময় হবে ভোর ৪টা ০৩ মিনিটে আর ইফতার সন্ধ্যা ৮ টা ০৭ মিনিটে।
প্রাকৃতিক ভাবে সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ও দেশে রোজা রাখার সময় কম-বেশি হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় এই সময় সীমা। আর তাই দেখা যায় রোজা কোথাও ২২ ঘণ্টা আবার কোথাও ১০ ঘণ্টারও কম। যে সকল দেশে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় ঠিক মতো হয় না, যেমন আলাস্কায় ও আর্কটিক অঞ্চলে, গ্রীষ্মকালে সেখানে ৬০ দিন পর্যন্ত সূর্যাস্ত হয় না। সে সকল দেশে পাশের দেশের সঙ্গে মোটামুটি মিলে এই সময়ে রোজা রাখতে হয় এবং ভঙ্গ করতে হয়।
তবে নরওয়ের উত্তরাঞ্চলের ইসলামি চিন্তাবিদরা ফতোয়া দিয়েছেন, মক্কার সঙ্গে মিলিয়ে ওখানকার মুসলমানরা রোজার সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। নরওয়েতে রোজার সময় ২০ ঘন্টার বেশি।
মার্কিন ইসলামি চিন্তাবিদরাও বলেছেন, আলাস্কার উত্তরাঞ্চলের মুসলমানরা পাশের রাজ্যের সময়সীমা অনুযায়ী রোজা রাখতে এবং ভাঙ্গতে পারবেন।

নিউইয়র্কে মাহে রমজানের প্রস্তুতি : সু-স্বাগত মাহে রমজান শীর্ষক অনুষ্ঠান
নিউইয়র্কে মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে রমজানের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রমজান মাস শুরুর কয়েকদিন আগ থেকে। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনওয়াইপিডিসহ কয়েকটি সংগঠন। এনওয়াইপিডি নিরাপত্তার বিষয়ে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে। অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোচকরা পবিত্র কুরআন হাদিসের আলোকে মাহে রমজানের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে রোজা পালনের নিয়ম-কানুনসহ মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় করনীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন আলেমগণ। তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস অন্যান্য মাস থেকে মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এ মাসেই মহান আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন নাজিল করেন। মহানবী (সা.)-এর নিকট মহান আল্লাহ প্রেরীত পবিত্র কোরআন বিস্ময়কর, বিশ্বজনীন, চিরন্তন এক মহাগ্রন্থ। আল-কোরআন সঠিক পথের দিশারী। ইহকালীন ও পরকালীন সব কিছুরই দিক নির্দেশনা রয়েছে এ পবিত্র কোরআনে। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচকরা বলেন, রমজান মাসেই পবিত্র শবেকদর নামে মহা মহিমান্বিত এক রজনী রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেন। শবেকদর রাত মুমিন মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগির, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তির। এ রাতে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বরকত ও রহমত নাজিল করেন। যারা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, গুনাহ মাফ চান, আল্লাহ পাক তাদেরকে মাফ করে দেন। গুনাহ মাফের জন্য রমজান মাস হচ্ছে সর্বোত্তোম মাস।

মাহে রমজানের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
মাহফুয আহমদ: প্রকৃত অর্থে রমজান মুসলমানের জন্য আল্ল¬াহ তায়ালার নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। একজন সত্যিকার মুসলমানের দায়িত্ব হলো, আল্ল¬াহ প্রদত্ত ইবাদতের বিশেষ মৌসুমগুলোর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা। সুতরাং রমজানের ববরকতময় মাসের জন্য প্রস্তুতিস্বরূপ আমরা কিছু কাজ এখন থেকে শুরু করতে পারি।
এক. সঠিক পরিকল্পনা করা। রমজানকে কীভাবে নিষ্ঠা ও ইখলাসের সঙ্গে আমল ও ইবাদতের মাঝে কাটানো যায়- সে চিন্তা এখন থেকেই শুরু করে দেয়া। সেজন্য একটি লিস্ট তৈরি করা যেতে পারে। দৈনিক পুণ্যকাজের লিস্ট, যেমন, নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত, নির্দিষ্ট সংখ্যক গরিব-মিসকিনকে খাবার প্রদান ইত্যাদি এবং পুরো মাসব্যাপী পুণ্যকাজের লিস্ট, যেমন- নির্ধারিত কিছুদিনে আত্মীয়স্বজন, বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে যাওয়া, নিজের ঘরে দাওয়াত করা ইত্যাদি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে।
দুই. শারীরিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এটাও খুব জরুরি। রমজান আসার আগেই শরীরকে রোজা রাখার উপযুক্ত করে রাখা। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকা। খাবারের রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন করা বরং কিছু বিষয় কমিয়ে নিতে চেষ্টা করা। যেমন- দিনেরবেলা কয়েকবার কফি পানের অভ্যাস থাকলে রমজানের কিছুদিন আগ থেকে সেটা বন্ধ করে দেয়া; যাতে নতুন রুটিনের সঙ্গে শরীর খাপ খেয়ে যায়। তাছাড়া শারীরিক কোনো অসুস্থতা থাকলে দ্বীনদার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। প্রয়োজনে সম্পূরক মেডিসিন পূর্ব থেকেই গ্রহণ করতে থাকা।
তিন. রমজান প্রবেশের আগ থেকে নফল রোজা রাখতে শুরু করা। নবীজি (সা.) শা’বান মাসে প্রচুর রোজা রাখতেন। প্রতিদিন রোজা রাখার দরকার নেই। যেসব দিনে রোজা পালন করা নবীজির সুন্নত ছিল, সেসব দিন হাতছাড়া না করা। যেমন, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ইত্যাদি। এতে করে রোজার ওপর শরীরের একরকম ট্রেনিং হয়ে যাবে। অন্যদিকে বিগত বছরগুলোর কোনো কাজা রোজা থাকলেও তা এখন আদায় করে নেয়া।
চার. বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা। এখন থেকেই মহৎ এই কাজটি শুরু করে দেয়া। প্রত্যহ আধা পারা, এক পারা কিংবা সম্ভব হলে আরও বেশি করে পড়তে থাকা। ফলত রমজানে বেশি বেশি কোরআন খতম করা সহজ হবে। সালাফে সালেহিন তথা আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরি মনীষীগণ রমজান আসলে কতবার কোরআন খতম করতেন- তা শুনলে আমাদের লজ্জা হয়। তাঁরা কেমন ছিলেন আর আমরা কেমন আছি! নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থাদিতে সেসব তথ্য উদ্ধৃত হয়েছে। বোঝে বোঝে তেলাওয়াত করতে পারলে বেশ ভালো এবং প্রত্যাশিত, তবে না বোঝলেও পড়া জারি রাখা। কেননা কোরআন আল¬াহ তায়ালার কালাম। সুতরাং পবিত্র ঐশীবাণী পাঠ করলে তা হৃদয়ে রেখাপাত করবেই।
পাঁচ. প্রচুর নফল নামাজ আদায় করা। নফল নামাজে সাধ্যমতো বেশি কোরআন পাঠ করা এবং লম্বা নামাজ আদায় করতে সচেষ্ট হওয়া। এতে রমজানে তারাবিহের নামাজ আদায় সহজ হয়ে যাবে। নামাজের প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে। আর অবশ্যই পেছনের নামাজ কাজা থাকলে সেগুলোও আদায় করতে শুরু করে দেয়া।
ছয়. রমজান মাস এলে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) প্রবাহিত বাতাসের গতির চেয়ে বেশিমাত্রায় দানখয়রাত করতেন। সুতরাং রমজানে অধিক দান করতে চেষ্টা করা। আর সেজন্য আগেই থেকে অনুশীলন করা। সামান্য হলেও প্রাত্যহিক একটা পরিমাণ আল¬াহর ওয়াস্তে খরচ করা। অন্যদিকে রমজানে কীভাবে বেশি দেয়া যাবে- সেই প্রস্তুতি নেয়া।
সাত. মোটকথা, এমন সংকল্প নেয়া যে, রমজানে যেন জীবনের গতিপথ বদলে যায় নিজের আমলের মাধ্যমে। চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও আত্মিক পরিশুদ্ধি সর্বক্ষেত্রেই যেন রমজানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। আল¬াহ তায়ালা আমাদের এসবের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ