Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিদাতারা এখনো সুযোগ নিতে চান অভিবাসীদের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: December 3, 2017 | 12:47 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে চাকরিদাতাদের কাছে অভিবাসীদের আবেদন বাড়ছে। বিশেষত কম দক্ষতা প্রয়োজন হয় এমন কাজে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে অভিবাসীদেরই বেশি পছন্দ করছেন চাকরিদাতারা। অভিবাসীদের মধ্যে কম বেতনে কাজ করা ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার প্রবণতার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

অভিবাসীরা সাধারণত স্থানীয়দের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করেন। পাশাপাশি তুলনামূলক কম বেতন ও সুবিধাতেই তাঁরা সন্তুষ্ট থাকেন। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও ঊর্ধ্বতনদের আচরণ নিয়েও তাঁরা সহজে মুখ খোলেন না। আর এসব কারণেই স্থানীয় অধিবাসীদের তুলনায় অভিবাসীদের নিয়োগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন চাকরিদাতারা।

সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ জায়গাটি দখল করছেন অভিবাসীরা। কঠোর পরিশ্রমী এসব অভিবাসী স্থানীয়দের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য, নিয়মানুবর্তী ও মালিকপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একঘেয়ে কাজ করতে হলেও তাঁরা কোনো রা করেন না। পাশাপাশি তাঁদের দাবি-দাওয়াও স্থানীয় কর্মীদের তুলনায় কম। কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ নিয়ে তাঁরা খুব কমই অভিযোগ করেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিয়োগকর্তার প্রতি অভিবাসী কর্মীরা বেশি বিশ্বস্ত থাকেন। আর এসব কারণেই স্থানীয়দের বদলে অভিবাসীদেরই বেশি পছন্দ করছেন চারকরিদাতারা।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক অ্যামি এল ওয়াক্স ও রক্ষণশীল জননীতি গবেষক জেসন রিচওয়াইন গবেষণাটি করেছেন। এ জন্য তাঁরা প্রায় পাঁচ দশকের কর্মসংস্থান-সম্পর্কিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি নিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার।

২০০৩ থেকে ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে অল্প শিক্ষিত অভিবাসীরা বছরে গড়ে ৪৯ সপ্তাহ কাজ করেছেন। হাইস্কুল থেকে ঝরে পড়া স্থানীয় আমেরিকানদের গড় কর্ম সপ্তাহের তুলনায় এটি অনেক বেশি। স্থানীয়দের অনুরূপ শিক্ষিতদের চেয়ে অভিবাসীরা ১৪ সপ্তাহ বেশি কাজ করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, চাকরিদাতারা বিশেষত হিসপানিক ও এশীয়দের বেশি পছন্দ করেন। এর কারণ অল্প বেতনেই তাঁদের সন্তুষ্টি। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতনের বিরূপ আচরণ কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও তাঁরা সাধারণত মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না। এ ছাড়া দক্ষতার দিক থেকেও তাঁরা এগিয়ে।

বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসীদের কাছে নিজেদের কাজ হারানোর প্রসঙ্গটি বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এ ধরনের বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করিয়ে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এ ধরনের বক্তব্য ও পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন শ্রমবাজার বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, সস্তা শ্রম একটি বিষয়। কিন্তু মোটা দাগে এটিকেই অভিবাসীদের প্রতি চাকরিদাতাদের বেশি আস্থার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। অভিবাসীরা চাকরিদাতাদের আস্থা অর্জন করছেন তাঁদের কাজ ও দক্ষতা দিয়ে।

এদিকে কম দক্ষ কিংবা অদক্ষ অভিবাসীদের আমেরিকায় প্রবেশ কঠিন করে তুলতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাব করেছে দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসী গ্রহণ পদ্ধতির। এ পদ্ধতিতে প্রতিবছর দক্ষ অভিবাসী গ্রহণের সীমা ৫০ হাজারে সীমিত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহল থেকে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা আসছে। তারা বলছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত কম দক্ষ অভিবাসীরা আমেরিকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নারী অভিবাসীদের কথা বলে থাকে, যাঁদের একটি অংশ গৃহস্থালির কাজেই সময় ব্যয় করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রশাসন গৃহস্থালির কাজের অর্থনৈতিক গুরুত্বটি অনুধাবন করছে না।

এ বিষয়ে খোদ আমেরিকান অভিবাসন কাউন্সিলের বক্তব্য হচ্ছে, গৃহস্থালির কাজে যুক্ত অভিবাসী নারীরা বর্তমান শ্রমশক্তির সঙ্গে টিকে থাকায় সহায়তার পাশাপাশি সন্তান পালনের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ শ্রমশক্তিকেও। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তাৎক্ষণিক নয় বরং অনেক সুদূরপ্রসারী।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ