Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভায় ‘বাংলা’ নিষিদ্ধ, সাধারণ নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: July 18, 2016 | 9:36 AM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক, ১৭ জুলাই : বাংলায় কথা বলা নিষেধ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভায়। আর এ ফতোয়া দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। নিউইয়র্ক রাজ্য বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এ নির্দেশ জারি করেন মিলন। এ সময় উল্লেখ করা হয়, ‘সকলেই আমেরিকান এবং মূলধারায় রাজনীতি করছেন। তাই ইংরেজী চর্চা আরো বেশী করা প্রয়োজন। তা না হলে বিএনপির পক্ষে মার্কিন প্রশাসনে দেন-দরবার চালানো সহজ হবে না।’ মিলনের এমন ফতোয়ায় চুপসে যান প্রায় সকলেই। কারণ, ঐ সভায় উপস্থিত ৮০% এরই সে যোগ্যতা নেই। একই সভায় মিলনের আগ্রহে আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, রাজ্য কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করতে হবে নগদ ১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে। ৫ হাজার ডলার লাগবে সাধারণ সম্পাদক পদের মনোনয়ন পত্র ক্রয়ে। একইভাবে অপর পদের প্রার্থীদেরকেও মোটা অর্থ দিয়ে মনোননয়নপত্র ক্রয় করার এ বিধি মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের ক্ষেপিয়ে তোলেছে। ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এনআরবি নিউজের কাছে মন্তব্য করেছেন, ‘চাঁদাবাজির অভিনব এ অধ্যায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির চরম দুর্দিনে যারা নি:স্বার্থভাবে কাজ করেছেন এবং করছেন, তারা হতাশায় নিপতিত হয়েছেন।’ ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি দিনাজ খান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘১/১১ এর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত এই মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা আনার মতলবে ভিন্ন কৌশলে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ যাদের টাকা আছে তারা নেতৃত্ব ক্রয় করে নেবেন। কঠোর পরিশ্রমী কর্মীরা মূল্য পাবেন না।’ জাকির চৌধুরী বলেন, ‘ইংরেজী ছাড়া বাংলায় কথা বলা যাবে না বিএনপির সভায়, এমন নির্দেশ জারি করে মূলত: বিএনপিকে সাধারণ প্রবাসীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার গভীর একটি ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।’

বিএনপির সভায় বাংলা নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মিলনের সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘প্রবাসে রাজনীতির মূল টার্গেট হচ্ছে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করা। বাংলাদেশে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়তে ইংরেজী জানার বিকল্প নেই।’ গিয়াস উল্লেখ করেন, ‘অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার দায়ে ইতিপূর্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরাই জোট বেঁধেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির স্থবিরতা কাটিয়ে উঠার চমৎকার একটি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে।’ অপর একটি সূত্র অবশ্য এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন যে, ‘সাংগঠনিক আলোচনার সময় অনেকে একই প্রশ্নের অবতারণা করে অযথা সময় ক্ষেপন করছেন। এহেন অবস্থার অবসান ঘটানোর অভিপ্রায়ে বাংলায় কথা বলা নিষিদ্ধ করার সুফল ইতিমধ্যেই এসেছে। কারণ, ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন এমন বিএনপি কর্মীর সংখ্যা একেবারেই কম।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নেই ৩ বছর যাবত। এর ফলে ৫ খন্ডে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। এমনি অবস্থায় গত বছরের শেষার্ধে নিউইয়র্কে আসেন বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী মিলন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সকল অঙ্গরাজ্যে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দাবি উঠে। সকলেই আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দাবি জানান। কিন্তু নাছোড়বান্দা মিলন তা তোয়াক্কা না করে ৮ রাজ্যের কমিটি নিয়ে ফিরেন লন্ডনে। এরপর ফ্লোরিডা এবং নিউজার্সী রাজ্য বাদে অপর ৬ রাজ্য কমিটির অনুমোদন পায়। অনুমোদিত রাজ্য কমিটিগুলোর সভাপতি, সেক্রেটারি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। যদিও অনুমোদিত রাজ্য কমিটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।

গত মে মাসে আবারো এসেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিলন। এবারও লন্ডনের নির্দেশ অনুযায়ী অবশিষ্ট রাজ্য কমিটি গঠনে তৎপর হয়েছেন তিনি। সবার আগে তিনি নিউইয়র্ক রাজ্য কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। গত বছরের ডিসেম্বরে যারা মিলনকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন তাদের ৯৫% রণে ভঙ্গ দিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতির কাজ করছেন। এজন্যে গঠন করা হয়েছে ‘স্টিয়ারিং কমিটি’। ১০১ সদস্যের কমিটির আহবায়ক হয়েছেন মিলন নিজে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক গিয়াস আহমেদকে। অর্থাৎ সাবেক দুই আন্তর্জাতিক সম্পাদকের নেতৃত্বের এই স্টিয়ারিং কমিটি প্রায় দিনই বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। বৈঠকে আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নিউইয়র্ক রাজ্য কমিটির সম্মেলন ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতি পদের মনোনয়ন পত্রের ফি লাগবে ১০ হাজার ডলার। সাধারণ সম্পাদক পদের ফি ৫ হাজার ডলার। সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ফি ৩ হাজার ডলার করে। কোষাধ্যক্ষ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি পদের ফি ২ হাজার ডলার করে। আর সাধারণ সদস্য হতে ফি লাগবে মাত্র এক ডলার করে। আগে এটি ছিল ১০ ডলার।

সবকিছু আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে করা হচ্ছে। আর এই আলোচনার সময়ে বিভ্রাট ঘটছে অহেতুক প্রশ্নের অবতারণায়। প্রায় একইধরনের প্রশ্ন করেন সকলেই। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবেই এখন থেকে বাংলায় কথা বলার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন কমিটির আহবায়ক। তবে, সাধারণ কর্মীরা এতে প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। অনেকেই মিলনের এমন স্বেচ্ছাচারি আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘বিএনপি হচ্ছে আম জনতার সংগঠন, এখানে ইংরেজীকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে কেন’এ প্রশ্ন অনেকের। ‘তাহলে বিএনপিকে কী জনবিচ্ছিন্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন ১/১১ এর অনুসারি সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী’-এমন কথাও বলছেন নেতা-কর্মীরা।

জানা গেছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আজিজের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারই এস্টোরিয়াস্থ অফিসে বিএনপির বৈঠক হয়। এ কমিশনের সদস্যগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনও রয়েছেন। সে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ জুলাই থেকে সদস্য তথা কাউন্সেলর হবার ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। এরপরই নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, মিলনের এ প্রক্রিয়ায় দ্বিমত পোষণকারিদের সাথে ৬ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করার পর অতি সম্প্রতি ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের চর মেন্দি সাফাদির সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠকের কল্পকাহিনী ছড়িয়ে দেয়ার সাথে জড়িত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিদেশ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার সাদীও সম্পৃক্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, বিএনপির সমর্থনে ৬ কংগ্রেসম্যানের নামে বিবৃতি তৈরী করে তা মিডিয়ায় প্রকাশের পরই ঐ কংগ্রেসম্যানরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা এমন জালিয়াতি ও ধাপ্পাবাজির ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্দেশে এই সাদী ও তার পার্টনার ডা. মজিবর রহমান মজুমদারকেও একই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। মিলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াদের সাথে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ডা. মজুমদারও রয়েছেন। শুধু তাই নয়, অতি সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে ওয়াশিংটন বিএনপির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অপসারিত শরাফত হোসেন বাবুকেও দেখা গেছে ঐ বিদ্রোহীদের সাথে। অর্থাৎ মিলনের বিপক্ষে তথা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের আগে অঙ্গরাজ্য বিএনপির কমিটি না চাওয়া লোকজনের সংখ্যা এভাবেই ভারি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV