Wednesday, 22 July 2026 |
শিরোনাম
ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান
সব ক্যাটাগরি

রাশেদ চৌধুরী ইস্যুতে সংসদীয় কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট : বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 11 বার

প্রকাশিত: August 23, 2022 | 10:57 PM

কাজী সোহাগ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর ইস্যুতে বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগের হাউস কমিটিতে রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে এই তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদন দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১০ই আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এর আগে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ভূমিকা পালন করছে তা জানতে চায়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সিনেটর টেড ক্রুজ (রিপাবলিকান টেক্সাস) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বিশদ তথ্যাদি সরবরাহ করার অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য সরবরাহ করেছে। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয়, মধ্য এশিয়া এবং নন-প্রলিফারেশন বিষয়ক ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব- কমিটির র?্যাঙ্কিং সদস্য কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট (রিপাবলিকান-ওহাইও) জানান যে, তিনি বিচার বিভাগের হাউস কমিটিরও সদস্য। এ কমিটিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া বিষয়ক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যাম্বাসেডর ডোনাল্ড লু বলেছেন যে, তিনি এই বিষয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বদা তৎপর রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় সর্বদাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশের এবং ১৯৭১ সালে প্রাণ বিসর্জন দেয়া ত্রিশ লাখ শহীদের, সম্ভ্রমহানি হওয়া লাখো মা-বোনের প্রাণের দাবি মেটাতে সক্ষম হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সর্বদাই সকল দেশকে তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডা তার ব্যতিক্রম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্বরত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাগণের সঙ্গে, সকল ফোরামে, সকল সভায় উক্ত বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত উপায়ে উপস্থাপন করে থাকেন। এটা যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি তা বুঝাতে সদা সচেষ্ট থাকেন। এতে বলা হয়েছে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সঙ্গে বিভিন্ন সভায় এ প্রসঙ্গে আলোচনা করে থাকেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো সরকারি সফর হলে, তাতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে এবং তাদের মাধ্যমেও এই দাবির ব্যাপারে মার্কিন সরকারকে অবহিত করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ২য় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ, ৮ম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ, ৮ম বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ক্লিনকেনের ৪ঠা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপে এ বিষয়টি উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উক্ত বিষয়টির গুরুত্ব মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে বুঝানোর জন্য সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ক্লিনকেনকেও অনুরোধ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সমপ্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে যে সফর করেন, সেখানেও সংসদীয় প্রতিনিধিদল সিনেটর টেড ক্রুজ (রিপাবলিকান-টেক্সাস), কংগ্রেসম্যান স্টিভশ্যাবট (রিপাবলিকান-ওহাইও) এবং কংগ্রেসম্যান ডোয়াইটইভান্স (ডেমোক্র্যাট-পেনসিলভানিয়া) এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট মি. ডোনাল্ড লু-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সকল বৈঠকেই ঘৃণিত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংসদ সদস্যবৃন্দ আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া সংসদীয় প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের তিন জন প্রভাবশালী সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে দেখা করে। এদের মধ্যে পেনসিলভেনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্সের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে দ্রুত প্রত্যর্পণ, র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ঢাকা-নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা এবং কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাস পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সমর্থন চাওয়া হলে তিনি এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তাই ওয়াশিংটন বাংলাদেশ মিশন থেকে কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত করার জন্য ঢাকা নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, রাশেদ চৌধুরী ব্রাজিল থেকে ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০০৪ সালে দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পান তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে। কিন্তু ফাঁসির আসামি বলে তাকে ফেরত দিতে অনীহা দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোররাতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রথমবারের মতো ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। ১৯৯৮ সালে হত্যার দায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০০০ সালে হাইকোর্টে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ২০০৯ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলে আসামিরা রিভিউ আপিল করেন। ২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি রিভিউ আপিল খারিজ করা হয় এবং পরদিন ২৮শে জানুয়ারি পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১০ বছর পর ২০২০ সালের ১১ই এপ্রিল খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসিও কার্যকর করা হয়। তাকে ভারত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ বছর তিনি ভারতের কলকাতায় লুকিয়ে ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ খুনির একজন আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV