লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর অকস্মাৎ চাপে গুগল, ফেসবুক ও টুইটার
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর অকস্মাৎ চাপে পড়েছে ইন্টারনেট প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল, টুইটার ও ফেসবুক। অভিযোগ উঠেছে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বহু প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে নিজেদের তৎপরতা চালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে অনেকে। আর এ তৎপরতা রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না এই কোম্পানিগুলো। এ অভিযোগ বহুদিনের। কিন্তু লন্ডন হামলার পর নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
লন্ডনে সন্ত্রাসী খালিদ মাসুদের হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪ জন। আহত হয়েছেন অনেকে। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, হামলা চালানোর মাত্র ২ মিনিট আগেও খালেদ মাসুদের ফোন ফেসবুকের মেসেজিং সেবাদাতা অ্যাপ হোয়্যাটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ ঘটনার ৫ দিন পর বিবিসি’র এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড বেশ কড়া ভাষায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, হোয়্যাটসঅ্যাপ সন্ত্রাসীদের লুকানোর স্থান হতে পারে না। তার আরো দাবি, হোয়্যাটসঅ্যাপের সুরক্ষিত বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সার্ভিসে অবশ্যই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। রাড আরো বলেছেন, তিনি এ সপ্তাহেই হোয়্যাটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। হোয়্যাটসঅ্যাপের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ হামলায় তারা স্তম্ভিত। তদন্তে তারা সহযোগিতা করছেন। হোয়্যাটসঅ্যাপে যত মেসেজ পাঠানো হয়, তার পুরোটাই ‘অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। ফলে কেউ হোয়্যাটসঅ্যাপ কথোপকথনে অনুপ্রবেশ করলেও আদান-প্রদানকৃত বার্তা বুঝতে পারবে না। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা হোয়্যাটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ নিজেরাও পারবে না। তাই খালিদ মাসুদের ফোন হোয়্যাটসঅ্যাপে যুক্ত থাকার বিষয়টি জানা গেলেও, কী তথ্য কার সঙ্গে আদান-প্রদান হয়েছে তা হয়তো পুলিশ উদ্ধার করতে পারবে না। তবে বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এনক্রিপ্টেট বা সুরক্ষিত বার্তার মর্মার্থও ক্ষেত্রবিশেষে সার্ভিস প্রোভাইডারের সহযোগিতায় উদ্ধার করা সম্ভব। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক উইল নাইট বলছিলেন, অনেক সময়ই এসব প্রযুক্তির বেলায় ‘ব্যাকডোর’ থাকে। আর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ তা ব্যবহার করে এনক্রিপ্টেড বার্তাও পড়তে পারে। কিন্তু ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রস অ্যান্ডারসন বলেন, যদি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সহযোগিতা করে কর্তৃপক্ষকে, তাহলে ব্যবহারকারীদের বুঝতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আর আজকের দুনিয়ায় এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ অ্যাপের অভাব নেই। ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পক্ষের সংগঠনগুলো সরকারের হাতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রদানের বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, সরকার যদি এনক্রিপশন প্রযুক্তি ভঙ্গের সুযোগ পায়, তাহলে অপরাধীরাও তা পেয়ে যাবে। কিন্তু ইউরোপে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিতর্কে নিরাপত্তার দিকেই যেন পাল্লা ঝুঁকছে। লন্ডন হামলার পর এ পাল্লা আরো ভারী হলো। এদিকে আরেক চাপে পড়েছে গুগল ও টুইটার। লন্ডন হামলার পর যুক্তরাজ্যের দুই শীর্ষ পত্রিকা দ্য টাইমস ও ডেইলি মেইল একটি ভিন্ন ধাঁচের তদন্ত চালিয়েছে। ডেইলি মেইলের তদন্তে উঠে এসেছে, খালিদ মাসুদ যে কায়দায় হামলা চালিয়েছিল, অর্থাৎ গাড়ি চাপা দিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মানুষ হত্যা করা, সেই ধরনের সন্ত্রাসবাদী কৌশলের বিস্তারিত সহ জঙ্গিদের ম্যানুয়াল ইন্টারনেটে বেশ সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। হামলার পরদিনও ডেইলি মেইলের সাংবাদিকরা টুইটার ও গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে কয়েকটি সাধারণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই ম্যানুয়াল পেয়ে গেছেন। এতে ছবি ও আনুষঙ্গিক গ্রাফিকস ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে যে, কিভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা করে আতঙ্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে আরো দেখানো হয়েছে, গাড়ি চাপার পর ছুরিকাঘাত করেও অনেককে হত্যা করা সম্ভব। লন্ডন হামলার আগে ফ্রান্সের নিস শহর ও জার্মানির বার্লিনে ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। তাই অভিযোগ উঠে, গুগল ও টুইটার এসব উগ্রবাদী বিষয়বস্তু সরাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অপরদিকে দ্য টাইমসের তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন চিহ্নিত চরমপন্থি ব্যক্তির বক্তব্য সংবলিত ভিডিও ইউটিউবে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই চরমপন্থায় দীক্ষিত হতে পারে। তদন্তে আরো উঠে আসে, ওই জঙ্গিবাদী বক্তব্যের ভিডিওতে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে। এ বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ভিডিওগুলোর আপলোডার আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে। এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে বেশ তীব্র। খুব দ্রুতই গুগলের সবচেয়ে বড় কিছু বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন ইউটিউব থেকে সরানোর ঘোষণা দিয়েছে। আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুই টেলিকম কোম্পানি এঅ্যান্ডটি ও ভেরাইজন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জিএসকে সহ পেপসি, ওয়ালমার্ট, স্টারবাকস, জনসন অ্যান্ড জনসন ও এন্টারপ্রাইজ ইউটিউব থেকে তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে। ইউরোপেরও অনেক বড় প্রতিষ্ঠান একই কাজ করেছে। ফলে কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন হারিয়েছে গুগল। বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের বিজ্ঞাপন উগ্রবাদী ভিডিওতে প্রদর্শিত হবে, তা মেনে নেয়া যায় না। যতদিন গুগল এটি ঠিক না করবে, ততদিন তাদের পরিষেবা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে তারা। গুগল ক্ষমা চেয়ে এ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কতটা সফল হবে গুগল, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। কারণ, গুগলের বিজ্ঞাপন ও সার্চ সেবা সমপূর্ণ ‘অ্যালগরিদম’ নিয়ন্ত্রিত। অ্যালগরিদম কতটা কার্যকরভাবে উগ্রবাদী কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।মানবজমিন
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর