সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির শতবর্ষে জাতিসংঘে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
এনা, জাতিসংঘ :- কবিতা এবং সাহিত্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে উজ্জীবিত করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আহবান রেখে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শত বছর পরও তা প্রতিটি সমাজে একইভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের অহিংস সেই অমর বাণীর জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ৩০ মে অপরাহ্নে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর রাত) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে মনোজ্ঞ এক অনুষ্ঠান হয়। শিরোনাম ছিল ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : বিশ্বজনীন একজন মানুষ’।জাতিসংঘের পাবলিক ইনফরমেশন বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল পিটার লোনস্কি-টিফেনথেলের তত্বাবধানে ‘ইউনাইটেড নেশন্স একাডেমিক ইমপেক্ট’র উদ্যোগে মূল ভবনের ৩ নম্বর কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন হোস্ট সংস্থার প্রধান রামু ডামোডারান। উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা কর্তৃক ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ এ লীলা তব’ স্বাগত সঙ্গীতের পর সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন।
তিনি বলেন, শতবর্ষ আগে (১৯১৩ সালে) বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয় বাঙালীর মননশীলতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। ড.এ.কে আব্দুল মোমেন বলেন, মানুষের ভাবনার জগত দিগন্ত বিস্তৃত। সেখানে সীমার মধ্যে অসীমের বিচরন। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা সাহিত্য জগৎকে কেবল সমৃদ্ধ করেছে তাই নয়, তার ভাবনার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তির চিন্তাও ছিল প্রবল। জমিদার পরিবারের সন্তান হিসাবে বিত্ত-বৈষয়িকতার মধ্যে তিনি বেড়ে উঠলেও মানব সমাজে শান্তি কামনায় তাঁর চিত্ত ছিল উদার ভর শূন্য। মানুষের আত্মিক উন্নয়নে তিনি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, তাই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। শান্তিনিকেতনে আজ রবীন্দ্র গবেষনা প্রতিভার বিকাশ-অন্বেষনে ব্রত ছাত্রদের উন্নত মানসচিত্ত গড়ে দিচ্ছে। ড.এ.কে আব্দুল মোমেন তার বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন কবিতার উদ্বৃতি তুলে ধরেন।তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন প্রথম এশিয়ান বাঙালি যিনি সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন একশত বছর আগে। তিনি হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা সংস্কৃতিকে অনেক উঁচুতে উঠিয়েছেন এবং তার কাব্যে মানবতার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। জাতিসংঘে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অশোক কুমার মুখার্জি অহিংস পথে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে নিরন্তরভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া ভারতীয় কবি রবী ঠাকুর স্মরণে এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় ‘ইউনাইটেড নেশন্স একাডেমিক ইমপেক্ট’-কে গীতাঞ্জলি গ্রন্থের একটি কপি প্রদান করেন।
এরপর আর্জেন্টিনার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মারিয়া ক্রিস্টিনা পারসিভেল রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজনীনতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তার কবিতা পড়েছি ক্লাসে এবং সেটি স্প্যানিশ ভাষায় ছিল। আজো আমার হৃদয়ে বাজে সে কবিতার পংক্তিগুলো।’ রাষ্ট্রদূত রবী ঠাকুরের একটি কবিতা (স্প্যানিশ ভাষায় অনুদিত) আবৃত্তি করেন। চীনা ভাষার কবিতা আবৃত্তি করেন কূটনীতিক ইলিং লি,কোরিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সানমিন পাার্ক আবৃত্তি করেন কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত কবিতা। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ইংরেজী বিভাগের ডিশটিঙ্গুইশড প্রফেসর ও কবি মীনা আলেক্সান্দার তার স্মৃতিচারণী বক্তব্যে বলেন, ‘ভারতীয় এ কবির জন্মস্থান পরিভ্রমণ করেছি এবং তার কীর্তির প্রতি সাধারণ মানুষের আকুতি প্রত্যক্ষ করেছি।’
কবি এবং লেখক আফতাব শেঠ বলেন, ‘এমন মানুষের আবির্ভাব খুব কমই ঘটে থাকে। বাঙালির ইতিহাসেও তিনি ক্ষণজন্মা।’ ফ্রাঞ্চের উর্দ্ধতন কূটনীতিক গুইলোম ডেবুইস, জাপানের ক’টনীতিক হিসাও নিশিমাকি, এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের সহকারী অধ্যাপক ডা. কানোয়ারজিৎ সিং এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা লেখক হাসান ফেরদৌস কবির কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বক্তব্য রাখেন। দু’ঘন্টার এ অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে তার গানে। সে সময় তিনি বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষীদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানান বাঙালি কবি স্মরণে এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করায়। আলোচনার শেষে এই শিল্পী আরো ৫টি গান পরিবেশন করেন। এগুলো ছিল ১. আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভূবন ভরা, ২. আমার এ পথ চাওয়াতেই আনন্দ, ৩. জগতে আনন্দ জজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ, ৪. তাই তোমার আনন্দ আমার পর এবং ৫. বিশ্ব সাথে যবে যেথায়। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের রবীন্দ্র ভক্তরা অংশ নেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘে নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত কোন সাহিত্যিকের স্মরণে এটিই প্রথম অনুষ্ঠান।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes

