হাজার বছরের পরিকল্পনা আঁটছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল
গত মাসে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আরো ‘কয়েক হাজার বছর’ টিকে থাকবে তার প্রতিষ্ঠান। তার মতে, ‘আমরা এখানে ৪ মাস, ৮ মাস, পরের ৪ মাস বা পরের এক বছরের জন্য আসিনি। আমরা হাজার হাজার বছরের জন্য এসেছি। তাই আমরা ‘সবচেয়ে বেশি’ বানানো কোমপানি নই। আমরা কিন্তু ‘সেরা’ পণ্য বানানোর কোমপানি।’
অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার কনফারেন্সের চেয়ে এ বক্তব্যের সুসপষ্ট প্রমাণ আর কোথাও ছিল না। স্যান ফ্রান্সিসকোতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এ কনফারেন্স। বিভিন্ন রকমের পণ্য ও নতুন ফিচার উন্মুক্ত করা হয়েছে অনুষ্ঠানটিতে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে যাবে এগুলো। কিন্তু কিছু জিনিসের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালে, একটি কৌশল ধরা পড়বে। এ কৌশল পরবর্তী আইফোন রিলিজের চেয়েও অনেক বেশি দূরদর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ
২০১৬ সালে আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়া নিয়ে যখন ওয়ালস্ট্রিট উদ্বিগ্ন, অ্যাপলের নেতৃত্ব এমন ভিত্তি গড়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যার দরুন সামনের বহু দশক প্রযুক্তি শিল্পে ছড়ি ঘুরাতে পারবে বলে আশা তাদের। সোমবার মঞ্চে বেশিক্ষণ ছিলেন না কুক। বরং, অনেক ডেমো উন্মুক্ত করা ও বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছেন তার কাছের সহযোগীরা। কিন্তু টিম কুক ব্যক্তিগতভাবে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা অনেককেই কৌতূহলী করে তুলতে যথেষ্ট। শিশুদের বেসিক প্রোগ্রামিং শিক্ষা দেয়ার জন্য সুইফট প্লেগ্রাউন্ড নামে খুবই মজার দেখতে একটি আইপ্যাড অ্যাপ ছিল সেটি। সুইফট প্লেগ্রাউন্ডে, শিশুরা প্রোগ্রামিংয়ের ধারণা শিখবে। অ্যাপটিতে তারা ক্ষুদে এক অ্যালিয়েনকে রত্নপাথর সংগ্রহে সাহায্য করার ছলে শিখবে প্রোগ্রামিং!
অ্যাপলের মূল বাজার কখনোই শিশুরা নয়। ৬৫০ ডলার দিয়ে আইফোন কিনেছেন এমন মানুষের মধ্যে ১০ বছর বয়সীদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু শিশুদের একটা ব্যাপার নিয়ে নিশ্চয়তা অবশ্যই আছে। সেটি হলো, একদিন তারা বড় হবে। আর যখন তারা বড় হবে, অ্যাপলের প্রত্যাশা তখন তাদের রপ্ত থাকবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এটা অনেক বড় ধরনের পরিকল্পনা। সেটি হলো, তরুণদের শেখানো, যাতে করে সামনের বছরগুলোতে এ খাতে দক্ষ লোকবল পাওয়া যায়।
এখন চারটি কমিপউটিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে অ্যাপলের। ওয়্যার্যাবলস, স্মার্টফোন, ডেস্কটপ কমিপউটার ও টেলিভিশন- প্রত্যেকটির জন্য একটি করে প্ল্যাটফর্ম। তবে সোমবার অনেকটা গোপনভাবে আরেকটি নতুন প্ল্যাটফর্মের কথা ঘোষণা দেয় অ্যাপল। ম্যাপ, সিরি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও মেসেজিং ছাড়াও, সোমবারের মূল বক্তব্যে স্মার্ট-হোম নোটিফিকেশনের জন্য ‘হোমকিট’, অ্যাপল ডিভাইসগুলোর জন্য ওয়ান-টাচ চেকআউট এবং অন্যান্য অ্যাপের জন্য ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করবে এমন একটি ফোন অ্যাপের আগমনের কথা ঘোষণা করা হয়। এ সব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। সেটি হলো, এসব বাইরের সফটওয়্যার ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবে। এরাই পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাপ ও সার্ভিস তৈরি করবেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে অ্যাপল। আরেকটি উদাহরণ হলো, অ্যাপল ওয়াচের জন্য ইশারা বুঝতে পারে এমন এপিআই উন্মুক্তকরণ। এর ফলে একদিন হয়তো আপনি স্রেফ হাওয়ার মধ্যে হাত নাড়াচাড়া করে আপনার কমিপউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি এ জিনিস হয়তো আগামী বছরই করতে পারবেন না। কিন্তু ২০১৮ সালে এটি আসতে পারে হাতের নাগালে।
গুগল থেকে ফেসবুক- প্রত্যেক বড় প্রযুক্তি কোমপানি এখন নিজেদের মতো করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বা এআই ভিত্তিক প্রযুক্তির ভাণ্ডার গড়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। অনেকের ধারণা, পরবর্তী যুগের কমিপউটিংয়ের মূল অনুষঙ্গ হবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছে প্রযুক্তি কোমপানিগুলো। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এদিক থেকে অ্যাপল পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
এ ব্যাপারে অ্যাপল সোমবার যে বার্তা দিয়েছে, তার সারমর্ম হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিজস্ব দর্শন সংজ্ঞায়িত করতে ও একে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে সময় নিচ্ছে অ্যাপল। মূল অনুষ্ঠানে উল্লেখ না থাকলেও, পরে হঠাৎ করে ডেভেলপারদের জন্য বেশ কয়েকটি টুলের কথা ঘোষণা করে অ্যাপল। এসব টুল ব্যবহার করে ডেভেলপাররা এমন অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন, যা ব্যবহার করবে সর্বশেষ প্রযুক্তির এআই কলাকৌশল।
অ্যাপল আরো একবার উল্লেখ করেছে, তথ্যের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচেষ্টা প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ফেসবুকের ‘বেনামি’ প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু। অ্যাপল একে বলে থাকে ‘পার্থক্যমূলক গোপনীয়তা’। এর মানে কী, তা সপষ্ট নয়। কিন্তু অ্যাপল এমন গবেষণা করছে, যাতে করে এআইর সুবিধা তারা নিতে পারে, কিন্তু বিপুল আকারে তথ্য সংগ্রহের হ্যাপা পোহানো ছাড়াই।
কনফারেন্সে মূল বক্তব্য শেষের কিছুক্ষণ পর অ্যানালিস্ট জ্যান ডসন লিখেছেন, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক খাতে গুগলই সম্ভবত নেতা। কিন্তু অ্যাপল প্রমাণ করছে, এসব ক্ষেত্রেও উদ্ভাবনী কিছু করার ক্ষমতা পুরোপুরি তাদের আছে। কিন্তু অ্যাপল এসব করছে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি ঠিক রেখে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীদের ডিভাইসের তথ্য সেখানেই রেখে দিয়ে এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার না করে।
এআই দৌড়ে গুগল বা ফেসবুকের তুলনায় কয়েক মাস পিছিয়ে পড়া নিয়ে অ্যাপল উদ্বিগ্ন নয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আঁটছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলে এমন হবে, নিজেদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে অ্যাপল কিনে নেবে কোনো এআই প্রযুক্তি এবং দৌড়ে আবারও ধরে ফেলবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের।
কনফারেন্সের মূল বক্তব্যে যেসব জিনিসের কথা প্রকাশ করা হয়েছে, তার কিছুই গ্রাহকদের কাছে উপলভ্য নয় এখন। নিকট ভবিষ্যতেও হবে না। কিন্তু ডব্লিউডব্লিউডিসির মতো উচ্চপর্যায়ের প্রোগ্রামার সম্মেলনে এটি কোনো বিষয় নয়।
৩০১৬ সালে, অতদূর যাওয়ার দরকার নেই, ২০২৬ সালেই হয়তো মানুষ পেছনে ফিরে তাকাবে আর অবাক হয়ে দেখবে, অ্যাপল একটি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তির বীজ বপন করে রেখেছে। কিন্তু সেটা কী, তা-ই দেখার বাকি।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া