৫০ শীর্ষ রিপাবলিকানের বিবৃতি : ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য
রিপাবলিকান দলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ স্থানীয় ৫০ জন কর্মকর্তা অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তারা পরিষ্কার করে বলেছেন, আমরা কেউই ট্রাম্পকে ভোট দেবো না। ট্রাম্পকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘মাথাভাঙা’ বা বেপরোয়া প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোমবার এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক মাইকেল হেডেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রধানও ছিলেন। এ ছাড়া রয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী মাইকেল চেরটফ, ন্যাশনাল ইন্টেলিজিন্সের সাবেক পরিচালক জন নেগ্রোপন্টে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুজন ব্যবসায় বিষয়ক প্রতিনিধি কারলা হিলস ও রবার্ট জোয়েলিক। এ ছাড়া অন্য যারা এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পেন্টাগন ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তা ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পরিকল্পনা ও তা তদারকিতে সহায়তা করেছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, এমনিতেই রিপাবলিকান দলে ভীষণ সমালোচিত হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একের পর এক শীর্ষ স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিক সরে পড়ছেন, দল থেকে পদত্যাগ করছেন। তার ওপর ৫০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তার এমন বিবৃতি অবশ্যই প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে ট্রাম্পের ওপর। তাদের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একজন প্রেসিডেন্ট হতে যেমন চরিত্রের, মূল্যবোধের ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন তার ঘাতটি রয়েছে ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তবিশ্বের নেতৃত্বে রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেই নৈতিকতাকে দুর্বল করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তার বেসিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ধর্মীয় সহনশীলতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় তার জ্ঞানের গভীরতা নেই। বিবৃতিতে ওই রিপাবলিকান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমাদের কেউই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেবো না। তবে তাদের মাঝে কেউ কেউ ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই বিবৃতিতি প্রথমে প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসে। এতে তারা আরও বলেন, পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে প্রেসিডেন্ট ও কমান্ডার ইন চিফ হওয়ার মতো যোগ্যতা নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আমরা মনে করছি, তিনি নির্বাচিত হলে হবেন একজন ভয়াবহ (ডেঞ্জারাস) প্রেসিডেন্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও কল্যাণকে ঝুঁকিতে ফেলবেন।
উল্লেখ্য, ৫০ জন শীর্ষ স্থানীয় এই রিপাবলিকানের বিবৃতি সংগ্রহে সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন ফিলিপ জেলিকো। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিসা রাইজের একজন শীর্ষ উপদেষ্টা ছিলেন। এই বিবৃতিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এ কারণে অনেক মার্কিনি হতাশাগ্রস্ত। বিবৃতিতে বলা হয়, তাই বলে আমেরিকানরা যে ভীতিকর চ্যালেঞ্জের মুখে এই নির্বাচনে তার জবাব ডোনাল্ড ট্রাম্প হতে পারেন না। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন তাহলে ওভাল অফিসে তিনি হবেন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেপরোয়া প্রেসিডেন্ট। এমন বিবৃতিতে ডেমোক্রেট শিবির থেকে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে। দলটির পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রিপাবলিকান দল নিউ ইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন দিয়ে যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ এই বিবৃতি। সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস এবং হিলারি ক্লিনটনের প্রচার উপদেষ্টা ব্রায়ান কাতুলিস বলেছেন, বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা রিপাবলিকান দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক শাখায় এখনও রয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রাইমারি নির্বাচনে হেরে গেছেন দলের যেসব প্রার্থী তাদের কারো কারো উপদেষ্টা ছিলেন এদের অনেকে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক মুখপাত্র টমি ভিয়েটর বলেছেন, ট্রাম্পকে কমান্ডার ইন চিফ পড়ে অযোগ্য বলাটা খুব কঠিন। তবে এটা বলা যায়, তার বেসিক মূল্যবোধ সম্পর্কে তার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। তবে এ বিবৃতির বিষয়ে জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের ওয়াশিংটনের ব্যর্থ অভিজাত (ফেইল্ড ওয়াশিংটন এলিট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, এরাই বিশ্বকে এত ভয়াবহ স্থানে পরিণত করেছেন। রিপাবলিকান দলের এসব ব্যক্তি ও হিলারি ক্লিনটন ইরাক আক্রমণের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক। তারাই আমেরিকানদের বেনগাজিতে মারা যাওয়া অনুমোদন করেছেন। তারাই আইসিসের উত্থানকে অনুমোদন দিয়েছেন।মানবজমিন
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women