নিউইয়র্কে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটিজ’র বিজয় দিবস উদযাপন : প্রতিটি বাংলাদেশির স্লোগান হোক “জয় বাংলা, জয় বাংলাদেশ” (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটিজ’ আয়োজিত বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মূলধারার রাজনীতিক, বাংলা সিডিপ্যাপ ও এ্যালেগ্রা হোম কেয়ার চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ “জয় বাংলা, জয় বাংলাদেশ” প্রতিটি বাংলাদেশির স্লোগান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে ‘বিজয়ের বায়ান্ন’ শিরোণামে এ অনুষ্ঠানে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টর কমান্ডের আওতায় গঠিত মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ান কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গণ সহ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন, আইন ও বিচার ব্যবস্থাকেও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ ১৬ ডিসেম্বর উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটিজ আয়োজিত ‘বিজয়ের বায়ান্ন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
নিউইয়র্কের পথিকৃৎ হোম কেয়ার প্রতিষ্ঠান বাংলা সিডিপাপ ও অ্যালেগ্রা’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সরকার গঠন করতে পারেননি। তাদেরকে দিয়ে আমরা সরকার গঠন করিনি। আমাদের ছিল না রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। আমাদের কেউ মন্ত্রী ছিলেন না। একমাত্র বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন পাকিস্তান সরকারের, তাও কিছুদিনের জন্য। আমরা পাকিস্তানের ন্যাশনাল এসেমব্লির মেম্বার পর্যন্ত ছিলাম না। পূর্ব অভিজ্ঞতা ব্যতিরেকেই আমাদের মুরুব্বিরা সরকার গঠন করেন। এর ভেতরেই আমরা বহু জীবন, অনেক মূল্যবান সম্পদ হারিয়েছি। হারিয়েছি বহু নেতা ও মুরুব্বিদের।
আবু জাফর মাহমুদ নিজের জীবনচিন্তা ও ধর্মানুভূতির কথা তুলে ধরে বলেন, জাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র হয়, আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা পবিত্র হয়। কিন্তু আল্লাহ যে জ্ঞান দিয়েছেন, যে ভালোবাসা দিয়েছেন তার জন্য কী করেছি, তার জাকাত কি? আমি বিশ্বাস করি, সেই জাকাতটিই হচ্ছে দেশের জন্য নিবেদিত হওয়া। সেই তাগিদ ও কর্তব্যের তাড়না থেকে, নতুন প্রজন্মের সামনে দেশপ্রেমের আদর্শ তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের শুদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরার চিন্তা থেকেই এই আয়োজন।
তিনি ষাটের দশকের দূরদর্শী ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খানের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি জয় বাংলা স্লোগান তুলে গোটা ছাত্রসমাজকে আন্দোলিত করে গোটা জাতির মধ্যে তার প্রভাব ছড়িয়ে দেন। সেই শক্তির রেশ এখনও চলছে। কিন্তু আজকে ভারতের বাঙালিরাও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।
আবু জাফর মাহমুদ বলেন, আমরা আমাদের রাষ্ট্র গঠন করেছি, আমরাই আমাদের পতাকা নির্ধারণ করেছি, আমরাই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত নিয়েছি। তাই জয় বাংলা স্লোগান যখন দেন, তা যদি ভালোবেসে দেন, তাহলে তার সঙ্গে অবশ্যই রাষ্ট্র থাকতে হবে। বাংলাদেশ থাকতে হবে। জয় বাংলার পাশাপাশি স্লোগান হতে হবে ‘জয় বাংলাদেশ’। এটিই হোক প্রতিটি বাংলাদেশির স্লোগান।
অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস উপস্থিত হতে না পারায় তার প্রতিনিধি ডেপুটি কমিশনার দিলিপ চৌহান যোগ দেন। দিলিপ চৌহান অভিবাসীদের সুযোগ ও স্বপ্ন পুরণের প্রশ্নে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শহর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উদযাপনের ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজনকে দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদের হাতে মেয়রের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সম্মানসূচক ‘রিসাইটেশন’ তুলে দেন। দিলিপ চৌহান জানান, এটি মেয়রের পক্ষ থেকে দেয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা। সেসময় মেয়রের জন্যও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটিজ এর বিশেষ সম্মাণনা দিলিপ চৌহানের হাতে তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক আজকাল এর প্রধান সম্পাদক মনজুর আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ড. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, নিউইয়র্ক মেয়রের উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শুটার ও অলিম্পিয়ান এস এম ফেরদৌস, চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কাজী আজম, সনদ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, মূলধারার রাজনীতিক মামনুনুল হক, অধ্যাপক এম রহমান সুজন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্ম ও মানবতার বাণী প্রচার করা হয়। কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাদিক, বাইবেল থেকে পাঠ করেন রেভারেন্ড জেমস রয় এবং রামায়ণ ও গীতা থেকে আলোচনা করেন রাশেশ্বরী গোল্লাপুরি।
শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জনপ্রিয় সব বাংলা গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রিজিয়া পারভীন ও চন্দন চৌধুরি। আবৃত্তি করেন অভিনয় শিল্পী ও আবৃত্তিকার টনি ডায়েস ও মোস্তফা কামাল। নৃত্য পরিবেশন করেন প্রিয়া ডায়েস এবং আর নুশা।
‘ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। (www.usanewsonline.com Facebook: https://www.facebook.com/USANewsNY)
বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল