Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

হয়রানির অভিযোগ একুশে টেলিভিশন চেয়ারম্যানের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 104 বার

প্রকাশিত: March 16, 2012 | 12:23 PM

বিশেষ প্রতিনিধি: একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালাম তার প্রতিষ্ঠান ও তাকে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল টেলিভিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের তিনি এ অভিযোগ করেন। বলেন, ২০০৭ সালে আদালতের আদেশে বিটিআরসি’র কাছ থেকে আগের শর্ত অনুযায়ী লাইসেন্স তরঙ্গ অনুমোদন নিয়েই ইটিভি সমপ্রচার কার্যক্রম শুরু করেছিল। পুনঃসমপ্রচার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিটিআরসি’র সব পাওনা পরিশোধ করেছে। পাওনা সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজপত্র হালনাগাদ আছে। সালাম বলেন, সরকারের ভেতরের এক শ্রেণীর লোক স্যাবোটাজ করছে। এ ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে একুশে টেলিভিশনের উপদেষ্টা আতিকুল হক চৌধুরী, প্ল্যানিং এডিটর হারুন অর রশিদ, জেনারেল ম্যানেজার প্রশাসন  মেজর (অব.) রেজাউল করিম, সিএনই ইব্রাহিম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুস সালাম বলেন, একুশে টেলিভিশনের বিরুদ্ধে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট এক মন্ত্রী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কতিপয় ব্যক্তি জড়িত। তারা বিটিআরসি ও একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১২ই মার্চে ক্যাবল অপারেটরদের চাপ দিয়ে একুশে টেলিভিশনের সমপ্রচার ৩ ঘণ্টা বন্ধ করে রাখা হয়। দর্শকরা ওই সময়ে একুশে দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। চ্যানেলটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বিটিআরসি’র নোটিশের ব্যাপারে কি করবেন জানতে চাইলে বলেন, আমরা বিটিআরসি’র চিঠির জবাব দিয়েছি। এখন অপেক্ষা করছি। দেখি বিটিআরসি পরবর্তী ব্যবস্থা কি নেন। আবদুস সালাম বলেন, একটি চ্যানেল পাঁচ বছর ধরে পুনঃসমপ্রচার করে আসছে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া, লাইসেন্স না দেয়া সবই উদ্দেশ্যমূলক। এর আগে একুশে টেলিভিশন বন্ধ করার জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মনে হয় পরিস্থিতি সেই দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একুশে টেলিভিশনকে চাইলেই বন্ধ করা যাবে না। আমরা জানি কেমন করে বন্ধ টেলিভিশন চ্যানেল চালাতে হয়।
সালাম বলেন, আকস্মিকভাবে ১১ই মার্চ অফিস সময়ের পর বিটিআরসি’র বিশেষ বাহকের মাধ্যমে একুশে টেলিভিশন কর্র্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে ১. একুশে টেলিভিশন তরঙ্গ স্থগিতের পর কিভাবে সমপ্রচার চালানো হচ্ছে; ২. একুশে টেলিভিশনের রেডিও লাইসেন্স এ্যাপাটারস লাইসেন্স নেই। একুশে টেলিভিশন এই লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেনি। এ নোটিশের প্রেক্ষিতে একুশে টেলিভিশনের বক্তব্য হলো ৫ বছর ধরে পুনঃসমপ্রচার চালিয়ে আসার পর বিটিআরসি’র এই নোটিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  কারণ একুশে টেলিভিশন বিটিআরসি’র ডিমান্ড নোট অনুযায়ী সব চার্জ পরিশোধ করে আসছে। ২০১২ সাল পর্যন্ত তা হালনাগাদ আছে। আব্দুস সালাম বলেন, আদালতের নির্দেশে একুশে টেলিভিশন সকল বৈধতা ফিরে পেলে ২০০৭ সালের ২৯শে মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে একুশে টেলিভিশনকে তার তরঙ্গসহ সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয় বিটিআরসি এবং টেলিভিশন সমপ্রচারে যায়। এর পরের মাসে ২২শে এপ্রিল বিটিআরসি আরেকটি চিঠির মাধ্যমে একুশে টেলিভিশনকে ৩০ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে এবং তরঙ্গ স্থগিত করার কথা বলে। এই আদেশের বিরুদ্ধে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আদালতে গেলে ২০০৭ সালের মে মাসে বিটিআরসি’র ২২শে এপ্রিল ২০০৭ এ দেয়া চিঠির কার্যকারিতা পুরোপুরি স্থগিত করে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করার আদেশ দেয় হাইকোর্ট। রিট পিটিশনটি এখনও আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, বিটিআরসি আদালতের আদেশ অমান্য করে একুশে টেলিভিশনকে আবারও চিঠি দিয়েছে। যে চিঠির কার্যকারিতা আদালত স্থগিত করেছে সেই চিঠির ভিত্তিতে নতুন করে চিঠি দেয়া শুধু হয়রানি এবং উদ্দেশ্যমূলকই নয় আদালত অবমাননারই শামিল। তিনি বলেন, আদালত বিটিআরসি’র ২২শে এপ্রিলের দেয়া চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করার পর একুশে টিভি নতুন করে রেডিও এ্যাপাটারস লাইসেন্স নেয়ার প্রয়োজন নেই। তবু বিটিআরসি নির্ধারিত ফরম পূরণ করে এ্যাপাটারস লাইসেন্সের আবেদন করে। এবং বিটিআরসি তা অফিসিয়ালি গ্রহণ করে। তাই এ্যাপাটারস লাইসেন্সের জন্য একুশে টেলিভিশন আবেদনই করেনি এ কথা সত্য নয়। তবে বিটিআরসি নিয়মিতভাবে এ্যাপাটারস ফি নিলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে এর কপি এখনও একুশে টেলিভিশনকে দেয়নি। তিনি বলেন, বিটিআরসি একুশের কাছে ৩০ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে ও তরঙ্গ স্থগিত করার কথা বলে। এটা হাস্যকর, কারণ ২০০০ সালে আমরা ৫ বছরের ফি একসঙ্গে আগাম পরিশোধ করেছি। ২০০২ সালের ২৯শে আগস্ট একুশে বন্ধ করে দেয়া হয়। একুশে যাতে আর সমপ্রচারে আসতে না পারে সে জন্য সেই সময়ে বিএনপি সরকার নতুন করে বন্ধ টেলিভিশনের ওপর ৩০ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফি ধার্য করে। বর্তমান সরকারের সময় বিটিআরসি সেই পুরনো হিসাব ধরেই হয়রানিমূলক চিঠি দিচ্ছে। তবে এই চিঠির কার্যকারিতা আদালত স্থগিত করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হয়রানির এখানেই শেষ নয়। বিটিআরসি’র সঙ্গে এনবিআর-ও যুক্ত হয়েছে। একুশে টেলিভিশনের ২০০১-২০০২ এবং ২০০২-২০০৩ এর আয়কর পরিশোধ করা থাকলেও চলতি বছরে এনবিআর রিএ্যাসেসমেন্ট করে একুশে টিভিকে ১২ কোটি ৮১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলেছে। এর বিরুদ্ধেও আমরা আইনি লড়াই করছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একুশে টিভিকে গত দুই বছর ধরে বিদেশে স্যাটেলাইট ভাড়া পরিশোধ করার জন্য রেমিটেন্স পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছে না তথ্য মন্ত্রণালয়। অন্য সব টেলিভিশনকে অনুমতি দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি বিদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া পরিশোধ করছি। এ নিয়েও হয়রানির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কেবল একুশে টেলিভিশনকে নয় আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কর গোয়েন্দা বিভাগ আমাকে গত সাত বছরের আয়কর রিটার্ন জব্দ করে হয়রানির চেষ্টা করছে। আমার ভাইদেরও হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন ও করে যাচ্ছেন। তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। ১৪ই মার্চের মহাসমাবেশেও তিনি স্বাধীন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের কথা বলেছেন। একুশে টেলিভিশনের জন্য তার সংগ্রামের কথা ও তার ভালবাসার কথা সবার জানা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একুশে টেলিভিশনের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা তদন্তের দাবি জানান।
একুশে টেলিভিশন স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী বলে তিনি দাবি করে বলেন, আমরা বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ সংবাদ ও অনুষ্ঠান সমপ্রচার করে আসছি। আমরা মনে করি স্বাধীন গণমাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হলে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়। বাধাগ্রস্ত হয় বাক-স্বাধীনতা। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বিরোধী দলও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী একুশে টেলিভিশন দলনিরপেক্ষ একটি চ্যানেল। মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV