Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ও সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটি’র ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
সব ক্যাটাগরি

বিত্তের সঙ্গে একদিন – নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক কেভিন রুজ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 125 বার

প্রকাশিত: April 14, 2012 | 12:49 PM

আমি নিউইয়র্ক টাইমসের একজন সাংবাদিক। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে লেখালেখিই আমার পেশা। টাকার কুমিরদের পেছনে ঘুরে ঘুরে তুলে আনি অনেক অজানা ও না বলা খবর। খবরের পেছনের খবর। ওয়ালস্ট্রিটের অনেক হাঁড়ির খবরই আমার টেপ রেকর্ডারে সংরক্ষিত আছে। কোটিপতি থুড়ি পড়বেন বিলিয়নীয়রদের খুব কাছ থেকে দেখে, তাঁদের সম্পর্কে জেনেছি, মানুষকে জানিয়েছি। কিন্তু আজ আমার অ্যাসাইনমেন্ট একটু আলাদা, বেশ রোমাঞ্চকরও। আমার অ্যাসাইনমেন্ট—একদিনের জন্য ‘বিলিয়নীয়র হওয়া’। একদিনের জন্য ঐশ্বর্যের প্রাচুর্যের মধ্যে থেকে অসীম বিত্তের অধিকারীদের ভেতরের ব্যাপারগুলো বের করে নিয়ে আসা।
কাজটা হাস্যকরই বটে। একদিনের জন্য ঐশ্বর্যের অনুষঙ্গগুলো উপভোগ করে ঐশ্বর্যধারীদের সম্পর্কে আর কতটুকুই বা জানা যায়। তার ওপর পৃথিবীময় ‘ওয়ালস্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলন যখন সমর্থন পাচ্ছে সাধারণ মানুষের, যখন বিত্তবানদের করপোরেট কারসাজি সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে, যখন করপোরেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে তীব্র জনমত, তখন আমার এই ‘একদিনের বিত্তবান’ সাজা একটু হাস্যকরই হয়ে যায়। তার পরও চাকরির খাতিরে মানুষকে কত কিছুই না করতে হয়। আমি না হয় ‘বিত্তবান’ই সাজলাম।
আমার এই অ্যাসাইনমেন্টের প্রথম ধাপ হিসেবে আমাকে চড়তে হবে সাড়ে তিন লাখ ডলার মূল্যের একটি ঝা চকচকে রোলস রয়েসে। সেই রোলস রয়েসে চেপে আমাকে যেতে হবে বিমানবন্দরে। সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান। যে জেট বিমানে আমার সঙ্গে কথা বলবেন একজন বিলিয়নীয়র। তাঁর সঙ্গে উপভোগ্য ঐশ্বর্য নিয়ে কথা বলতে হবে আমায়।
সাড়ে তিন লাখ ডলারের সেই রোলস রয়েসের ভেতর ঢুকে মাথা ঘুরে গেল। বাইরে থেকে দেখলে অতটা বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে জায়গার প্রশস্ততা যেন মনে করিয়ে দেয় ফুটবল খেলার মাঠের কথা। ক্রিম রঙের সিট কাভার ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের কোথাও যেন পুরোনোর ছোঁয়া নেই। পায়ের নিচে ভেড়ার লোমের গালিচা। গাড়ি যখন চলছিল, তখন মনে পড়ে গেল নিজের ব্যক্তিগত জীবনাচারের কথা। ব্রুকলিনে মাথা গুঁজতে পারা যায় কোনোমতে, এমন একটি বাসায় আমার বাস। বাসা থেকে কর্মস্থল যাওয়ার পথে খুব কম সময়ই সাধারণ ট্যাক্সি ব্যবহার করি আমি। বেশির ভাগ যাতায়াত করি কোনো না কোনো গণপরিবহন কিংবা হেঁটে।
আজ আমার প্রথম গন্তব্য মিডটাউনের ‘কোর ক্লাবে’। যাতে সদস্য হতে প্রতি মাসে খরচ করতে হয় ১৫ হাজার ডলার। বছরে ৫০ হাজার ডলার। ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের স্টিফেন এ স্কোয়ারজম্যান ও থার্ড পয়েন্টের ড্যানিয়েল এস লোয়েবসহ আরও অনেকেই এই কোর ক্লাবের সদস্য। দুজনই বিত্তবান। এঁদের বিলিয়নীয়র বললেও কম বলা হয়।
প্রথমেই কথা হলো কোর ক্লাবের স্বত্বাধিকারী জেনি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে। তিনি বললেন, কোর ক্লাবের বিশেষত্বই হলো এখানে বিত্তবানেরা নিজেদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা পেছনে রেখে একান্ত কিছু সময় কাটিয়ে যান। বিত্তবানদের সেই নীরবতা, সেই আরাম-আয়েশ ও সুযোগ-সুবিধারই সংস্থান করে কোর ক্লাব।
কোর ক্লাবেই আমি আমার প্রাতরাশ সেরে নিলাম। এবার আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন সেই জেট বিমানে চড়ার পালা। জেট বিমানটি একজন বিলিয়নীয়রের। আমি সেখানে পৌঁছে দেখি সেই বিলিয়নীয়র সাহেব আগেই উপস্থিত হয়েছেন। কিছুটা লজ্জা পেলাম। আমি একটা ব্যাপার জানতাম, যেকোনো ব্যক্তিগত বিমানের মালিক বিমানে উঠে গেলে সেখানে আর কাউকে উঠতে দেওয়া হয় না। দেখলাম সেই বিলিয়নীয়র ভদ্রলোক এ ক্ষেত্রে অনেকটাই উদার। তিনি আমাকে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গেই সম্ভাষণ জানালেন। বিমানে আমাকে বসতে দেওয়া হলো অত্যন্ত আরামদায়ক একটি চেয়ারে। একজন সেবিকা আমাকে স্বাগত জানালেন কফি ও দইয়ের তৈরি অত্যন্ত সুস্বাদু পাই দিয়ে।
বিলিয়নীয়র ভদ্রলোককে দেখেই মনে হলো, পোশাক-আশাকে আমি একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছি। তাঁর পরনে অত্যন্ত সাধারণ জিন্স ও পাতলা সোয়েটার। পায়ে পাতলা স্নিকার্স। মোজা পরেননি।
আর সময় নষ্ট না করে আমার মূল কাজে চলে গেলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় একজন বিত্তবান হয়ে তাঁর অনুভূতি। খুবই সাধারণভাবে তিনি বললেন, ‘আমার তো আলাদা কিছু মনে হয় না।’ আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি ধনী হয়ে সুখী তো!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘দেখুন, সুখটা নিজের মধ্যকার ব্যাপার। কেউ অনেক সম্পদ নিয়ে সুখী থাকে। কেউ কেউ আবার প্রাচুর্যতে হতাশায় ভোগে, মনে করে তাঁর আর কিছুই পাওয়ার নেই। আমি সত্যিই সুখী আমার এই প্রাচুর্য নিয়ে।’
সি আইল্যান্ডে বিমান নামার পরপরই আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিল বিলাসবহুল এক মার্সিডিজ বেঞ্জ। সেই গাড়িতে বিলিয়নীয়র সাহেব আমাকে নিয়ে গেলেন তাঁর বাড়িতে। বাড়ি না বলে একে প্রাসাদ বলাটাই ঠিক হবে। পুরো প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা একটি পাঁচ তারকা হোটেলের চেয়েও বেশি বিলাসবহুল। বাড়িতে পৌঁছেই তিনি বললেন, ‘আসলে ঈশ্বরের সিদ্ধান্তেই আমি আজ এক বিত্তশালী।’ বলার সময় ঈশ্বরের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা যেন দৃশ্যমান মনে হচ্ছিল।
বলাবাহুল্য, বিলিয়নীয়র সাহেব তাঁর বাড়িতে খাতির যত্নের চূড়ান্ত করেছিলেন।
আমার আগ্রহ ছিল সম্পদশালীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। সি আইল্যান্ড থেকে বিমানে করে আমি আ বার ফিরলাম নিউজার্সি। সেখানে আমার দেখা হলো স্টিভ রবিনহো নামের এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। তিনি একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। প্রতি ঘণ্টায় আড়াই শ ডলার নেন তাঁর সেবার জন্য। তিনি বললেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা খুব কষ্টকর। তবে একবার যদি সেটা আয়ত্তে নিয়ে আসা যায়, তাহলে সেটা অভ্যাস হয়ে যায়।
আমার এই অ্যাসাইনমেন্টে আরেকজনের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি একজন সাবেক শরীরচর্চাবিদ। নাম জন সিতারাস। এ মুহূর্তে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্রের মালিক। বহু ধনীকে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জেনারেল ইলেকট্রিকের প্রধান জন এফ ওয়েলচ জুনিয়রকে। তাঁর হাতেই শরীরচর্চায় ঋদ্ধ হয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান পল এ ভোলকার। তাঁর শরীরচর্চা কেন্দ্রে নিয়মিত যেতে গেলে মাসে ১৩ হাজার ডলার গুনতে হয়। বুঝলাম, শরীরকে ফিট রাখতেও আর সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে বিত্তবানেরা। বিত্তের এমনই বৈভব!
বিত্তবানেরা সত্যিকার অর্থেই মানসিকভাবে কেমন থাকেন? এই প্রশ্ন অনেক দিন ধরেই ছিল আমার মধ্যে। অ্যাসাইনমেন্টের সুযোগে তা করে ফেললাম মনোবিদ গ্রুবম্যান সাহেবের কাছে। তিনি আমার প্রশ্ন শুনে হাসলেন, বললেন, ‘আসলে বিত্তবানেরা যে যা-ই বলুক, আসলে তারা মানসিকভাবে খুব একা। তাদের কোনো বন্ধু নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শান-শওকত, আলিশান বাড়ি-ঘর আর রোলস রয়েস ও মার্সিডিজের চক্করে তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় সাধারণত্ব। আর এই সাধারণত্বই মানুষকে সুখ দিতে পারে। অন্যকিছু নয়। দেখবেন তারা মানসিকভাবেও খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।’
গ্রুবম্যানের সঙ্গে কথা বলতে বলতে নিজেকে খুব সুখী মনে হলো। সুখের মাত্রাটা টের পেলাম পরের দিন। যখন আমার অ্যাসাইনমেন্ট শেষ, নিউইয়র্ক শহরের ভিড় ঠেলে আমি ছুটছি আমার কর্মক্ষেত্র ওয়ালস্ট্রিটে। মেট্রো স্টেশনে ঢুকেই কফি শপে ক্যাপাচিনোর অর্ডার দিলাম। ক্যাপাচিনোর মগে চুমুক দিয়ে দেখলাম এর স্বাদ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভালো লাগছে। আমি সুখী, আমি একজন সাধারণ মানুষ।
বেঁচে থাকুক আমার এই সাধারণ জীবন!
প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক টাইমসের সৌজন্যে প্রকাশ করা হল। কেভিন রুজ, নিউইয়র্ক টাইমসের একজন প্রতিবেদক।প্রথম আলো
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV