Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

বিয়ে বাড়ীতে শাহী নজরের সময় লুকিং গ্লাসে ম্যালফাংশন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 140 বার

প্রকাশিত: January 21, 2024 | 1:29 PM

রাশিদুল ইসলাম : “শলীলটা বালাহ না, বেবাগ জায়গায় বিষ করে, বইলে উঠলে পারি না, উঠলে বইতে পারি না।’’ -এটা কোন অসুস্থ রোগীর অভিব্যক্তি না। বরঞ্চ, লটারীতে জিতে যে প্রাইজ মানি পেয়েছেন এটা তারই অভিব্যক্ত। আমাদের দেশে অনেক ধরনের লটারী হচ্ছে, এবং অনকেই লটারীতে জিতছে – লটারীর যে প্রাইজ মানি পেয়েছে্ন এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি, যদি জিজ্ঞাসা করেন, সেক্ষেত্রে অবালীল ভাবে সে উপরোক্ত অভিব্যক্তি জানাবে। বিষয়টা হালকা কারার জন্য যদি জিজ্ঞাসা করা হয় “ভাই আপনার কি পরিবার আছে। ফিক করে হাসি দিয়ে বলবে- আছে তো – দুই খান, গোলাপি আর আলাপি । আমারে আবার পরিবারের কথা বেশী জিগায়েন না। শ-র-ম পাই। পিটুইটারি গ্যালান্ডে যার স্টেজ ফোর স্ক্যান্সার হয়েছে তাকে যদি একই প্রশ্ন করা হয় – তবে, তারও উত্তরটা মোটামুটি একই রকম হবে । বস্তুতঃ অজাতিত্ ভাবে অনেক ক্ষেত্রই আমরা নেতিবাচক অভিযোগ প্রবন হই, ইতিবাচক হতে পারি না, উচ্ছাস প্রকাশে জরতা থকেই যায়। আমরা জাতি হিসাবে উচ্ছাস প্রবন জাতি নই, হাসির ব্যাপারে আমারদের কৃপণতা রয়েছে, আমারা খুব একটা প্রান খুলে হাসি না, কোন ব্যপারে সহসাই খুশী হতে পারি না, সহসাই সমস্যা খুজে বেরাই।


আমরা বাঙালি জাতি হিসাবে প্রচন্ড আবেগ প্রবন, পরোপকারী, সহজেই প্রান খুলে নিজের অনেক ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সাথে শেয়ার করি, অনেক ক্ষেত্রই পলটিক্যালি ইনকারেক্ট থাকি, বোধ করি, – আমাদের এগুলি আমাদের জাতীয় আমাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এবং সব জাতিরই একটা জাতীয় চরিত্র রয়েছে যার ইতিবাচক ও নেতিবাচক আংগিক রয়েছে, আমাদেরও আছে, আমাদের অনেকের মত আমিও আমাদের জাতীয় চরিত্র নিয়ে গৌরবান্বিত।
আমি স্যাটায়ার মাধ্যমে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রম্য রচনা আকারে উপস্থাপনার চেস্টা করছি, তারই ধারাভকিতায় আমাদের সনাতনী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা রম্য রচনা আকারে উপস্থাপনার চেস্টা মাত্র।
এটা অনস্বীকার্য আমাদের সমাজে বিয়ের সামগ্রিক আয়োজন, লাগাতর অনুষ্ঠান, অত্যন্ত আন্দনঘন পরিবেশনা, এবং প্রচন্ড আবেগ প্রবন উৎসব – এতসব আয়োজন নিয়েই কিন্তু আমাদের দেশের বিয়ে।
সে কারনে আমি আমার কাজিন সিসটারদের সাথে বিয়ে নিয়ে লিখার বিষয় আলাপ করলাম। তারা সবাই জানতে চাইল আমি কি লিখব। আমি বললাম এই যে বর, শোরোয়ানী পরে স্ং সেজে, মাথায় খুব সুরুত পাগরী লাগিয়ে টুকুস টুকুস করে হাটে, বর ব্যাটার নাকের উপর একটা হাঙ্কী ঠেসে ধরে, মনে হয়, বরের নাকের একটা কাহিনী আছে। বললাম তোমারা বিয়ে উপলক্ষ্যে মাঞ্জা লাগায়, বিকালে আবার কান্নাকাটি কর। শুনে সবাই আমার দিকে কট মট করে তাকালো। তেলে বেগুনে জ্বলা – মনে হল এটা একটা আউটডেটেড এক্সপ্রেশন। মনে হল বিশাল আকারের রুই মাছের মাথা টগবগ গরম তেলে ছাড়লে মাছের মাথা এবং টগবগে গরম তেল যে রকম দিক বিদারী আওয়াজ করবে, সবাই মিলে সে রকম আওয়াজ করল। মাছের মাথা এবং গরম তেলের আওয়াজকে যদি কোন সুপার কম্পিউটার দিয়ে যদি ডি কোড করা যায়, তা হলে শোনা যাবে – মাছের মাথা তেলকে বলছে “ব্যাটা ওফ যা। .. লগে আমার শরীরটা নাই। থাকলে তোরে হালা আমি গিল্যা খাইতাম।“ গরম তেল বলছে, বুচ্চি মিয়া ভাই। আপনি খালি আক্যাইমা ফাল পারেন। পানির থ্যাক্যা উটত্থাই ফাল পারছেন – এথনও ফাল পারতাছেন”।
আমার এক কাজিন আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল, মনে হলো ওর চোখ দুটো বের হেয়ে আমার চোখ দুটো থেতলে দিবে। আমি জানতে চাইলাম তোমার ফেমাস অছোবুকো ইটালীয়ান কুজিন রান্নার খবর কি। কবে খাওয়াবে – বললাম ভীলের পরিবর্তে মাটন ব্যবহার করতে পার। ও যে ভাবে আমার দিগে তাকাল, মনে হলো অছোবুকো খায়াওয়ার ভাগ্য আমার আদোই হবে না।
তার পরও ভাবলাম, আমাদের দেশের বিয়ে নিয়ে লিখি। প্রথেমই শুরু করা যাক বিয়ের নওশা, অথবা বর নিয়ে। বরকে দেখে মনে হয়, ব্যাটা বর, টেবিল ওয়েটিং করে, সেখান থেকে সরাসরি বিয়ে বাড়ীতে হাজির। মাথায় আলীশান পাগড়ি, শোরোয়ানী পরে স্ং সেজে নাকে একটা হাঙ্কী লাগিয়ে টুকুস টুকুস করে হাটেন। শোরোয়ানী দেখে একজন বলেই ফেল্লে, – ভাবছেন শোরোয়ানী পইরা শের হইছেন। খারান, শাদিটা কইরা লন, শের থ্যাকাইয়া সিরিঙ্ক কইরা বিল্লী হইয়া যাইবেন। লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, বর নাকের উপর হাঙ্কী ঠেসে ধরেন এবং কোন কারেনই নাক থেকে টা সরান না, তাতে মনে হ্য়, হাঙ্কী চেপে ধরার পিছনে একটা কিচ্ছা আছে। এখানে উলখ্য বিষয় হচ্ছে, বিয়ে উপলেক্ষ নওশা সাহেব ডুকাটি পিনাজেল মডেলের একটা বাইক কিনেছেন।
বিয়ের আগের দিন, ডুকাটি বাইকটা দেখানোর জন্য কনের বাড়ির চারদিকে ঘুর ঘুর করছিলেন, কনে অরনা, বাসার ছাদ থেকে সেটা দেখছিলেন। হঠাৎ, দেথা গেল, পাড়ার ছেলেরা ওনার বাইকাটা ঘিরে ধরেছে। এদের মধ্য একজন বলে উঠল, “হালা আমাগো মহল্লার মাঈয়ার লগে টাংকী মারতাছে, লহ হালারে বানাহ”। একজন বল্লো হালারে একটু ছিচা দেই। আর একজন বল্লো, হালার নাকটারে, একটু ডইল্যা দেই। বরের নাক ডইল্যা দোয়ার কারনে তার নাকের কারটিলেজ বোনটা হারিয়ে ফেলেছে, এবং কারটিলেজ বোনের বাকী অংশ নাকের ডিসচার্জের কারনে হারিয়েছন। একই সাথে, সামনের দূটো দাত নিরুদ্দেশ হেয়েছে। ওনেকেই ভাবছেন বিয়ের বর লাজুক, শ-র-ম পাইতাছে, তাই নাকের ঊপর হাঙ্কী লাগায় রাখচ্ছে – আসলে, সব বরের নাকের একটা কিচ্ছা আছে, এবং সেই কারনে নাকের উপর একটা হাঙ্কী ঠেসে ধরেন।
বরের মাথার পাগড়ি – এক অভিনব উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতার এক মূর্ত প্রতিক। মোটর বাইকের হেলমেটের মত পাগড়ি কিন্তু বরের মাথার সব চুলকে ঢেকে রাখে না । বরঞ্চ, পাগড়ি কৌশলগত ভাবে শূধু মাত্র ছেলেদের মাথার উপরের অংশটা ঢেকে রাখে, এবং মাথার চার দিগে যে চুল রয়েছে – তা সকলের কাছে দির্শমান করে। এখানে বলে রখা ভাল, বরের চান্দী ছিলা অথবা, টাকের উপস্থিতি মাথার উপরের অংশই থাকে, এবং বিয়ের সময় যেহেতু বর ফ্লোরে বসে শাদি মোবারক করেন, সেহুতু, বিয়ে বাড়ীর সবাই মিলে সহজেই বরের মাথায় কয়টা চুল রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কয়টা চুল থাকবে – সেটার একটা সংক্ষিপ্ত হিসাব করতে পারেন। পাগড়ির কারনেই কারও পক্ষে বরের চুলের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজেক্টাইল করা সম্ভব হয় না। পাগড়ি বরের মাথায় ঠেসে বসে, এবং পাগড়ির লেজটা সহসাই সেফটি পিন দিয়ে এংকর করা যায়। বিয়েতে পাগড়ি পরার সুজোগ না থাকলে সম্ভবতঃ বরেরা স্কীন হেডেড কিংবা ন্যাড়া মাথা হয়ে বিয়ের পিড়িতে বসতে হত। নিঃসন্ধে পাগড়ি একটা অভিনব উদ্ভাবন, পাগড়ির কারনেই চুলের সহজাত উপস্থিতি দেখিয়ে বিয়ে করা যায়, সেই কারনেই পাগড়ির ডিজাইন কারীকে মরণোত্তর পুরস্কারে পুরস্কৃত উচিৎ।
বিয়ের কন্যা, – অরনা, একজন ক্যারেক্টার, সাত সকালে বিউটি পার্লারে হাজির হন, এবং সবাই বলেন “আজকে আমার বিয়ে, আমি কিন্তু একটু কান্না কাটি করব, এমন ভাবে আমাকে মেকআপ দিবেন, যেন কোন অবস্তাতেই আমার মেকাপ যেন নষ্ট না হয় । বাসায় ফিরে কনে এমন ভাব দেখান, ওনি এতদিন অন্য প্লানেটে ছিলেন, ইলেন মাস্কের স্প্যাস এক্স ফ্যাল্কন নাইন রকেটে একটু আগে গুলশান লেকে নেমেছেন, কাউকে ঠিক চিনেতে পারছেন না। দুখে ওনার মন ভারাক্রান্ত।
দুপুরে কনের এক ফ্রেন্ড, নয়নিকা এসে হাজির, এসেই অরনার ডিমোরালাইজড হওয়ার কারন জানতে চাইল। অনেক ক্ষন পরে অরনা জানাল বিয়ের কারনে তার সাপ্লাই চেইন সমস্যা হচ্ছে ।। নয়নিকা জানতে চাইল.. কাচ্চি বিরানীর রান্নার মশলার শ্স্প্লাই চেইন নিয়ে কোন সমস্যা হচ্ছে না তো। উত্তরে একটু বিরক্ত হয়ে জামাল কাচ্চি বিরানী কেন আমার সাপ্লাই চেইনের বিষয় হবে।
নয়নিকা অবাক হয়ে বললো “তোমারা দশ বছর, দশ মাস, দশ দিন ফ্রেম – মানে ইয়ে করে বিয়ে করেছ”। সার্টেনলি, “ইট ইজ নট দ্যা বিগেনিং অফ দ্যা এন্ড – রাদার বিগেনিং অফ আ নিঊ এপিসোড”। নয়নিকা জানালো “ডিউড, ক্যান ইউ প্লিজ স্পেল আউট”।
ক্থা প্রসঙ্গে অরনা জানলো “আমার দুটো সাপ্লাই চেইন আছে”- একটা আব্ব্রুর- এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো হাই অফিসিয়াল হওয়ার কারনে পৃথিবীর বিভন্ন জায়গা থেকে ডিজাইনের পারফুউম, ডিজাইনের হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে আসতেন। আব্বু সহসাই অবসরে যাবেন, আমার “ও” মানে তোমার ভাইয়ার কারনে আমার জন্য একটা কার্যকরী সাপ্লাই চেইন রয়েছে।
আমি বুদ্ধি করে আমি আমাদের ত্রিশটা অ্যানিভার্সারি দিন করেছি। মানে আমাদের প্রথম দেথার দিন, প্রথম মাথায় বেলী ফুলের মালা লাগিয়ে আসার দিন, প্রথম ঝগরা কারর দিন। ইত্যাদি। প্রতি অ্যানিভার্সারি দিনে, আমি একটা গিফট পেতাম, এবং ঢাকার হাই এন্ড রেস্টুরেন্টে ফাইন ডানিং আমারা যেতেম। শুনে নয়নিকা জানলো, “গিফট নোয়ার পরেও, “ আমার ভাইয়ের ঘার মাটকায় ডিনার করতে”। জানতো, “তোমার ভাইয়া, ওর কোম্পানীর উজার্স এক্সপেরিয়েন্স মোইন ফোকাল পারসন, সে কারনে মিলানে ওদের ডিজাইন সেন্টারে প্রায়ই যেতে হয়”, অরনা জানাল। ইটালীর রোমের কাছে স্পেন্সার শহরে প্রথিবীর সব স্বনামধন্য কোম্পানির যে বুটিক স্টোর রেয়েছে, সেই স্টোর গুলি থেকে পারফিউম, ডিজাইনের হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে আসত। সেদিন তোমার ভাই জনালো, বিয়ের পরে মান্থলি এক্সপেন্স আইটেম গুলি রিভিউ করবে, সুতরাং বুঝতেই পারছো, তোমার ভাইয়ার যে সাপ্লাই চেইন রয়েছে সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত। এবং এখন ইউটার্ন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
“তোমার ভাইয়ের মা, মানে আমার ওডবী মাদার ইন লো – দেখলেই মনে হয়, ইনভিজিবিলী আমার পায়ে পাড়া দিয়ে রেখেছে, ভদ্র মহিলা ইজ আন্ডার মাই স্কীন” – অরনা জানালো । আমাকে সব সমেয়ই প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে। কোলকাতার লরেটো কলেজে পরেছে। পরে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে পলিটিকাল ইকোনমি মাস্টার্স করেছে। ওপেনিয়েটেড, কোম্পিটেন্ট, এবং জ্ঞানী। কন্তেম্পরারি লিটারেচার থেকে শুরু করে সব বিষেই কথা লতে পারনে। ফ্লোরিডার এভার গ্লেডের চোদ্দ ফিট লম্বা কুমীরের কি কারনে স্টমাক আফসেট হতে পারে, সে ব্যাপের এক ঘন্টার বক্তব্য রাখতে পারবেন। “ভদ্র মহিলাকে ম্যানেজ করা কঠিন”। অরনা জানলো।
“ভদ্র মহিলা একাই ওনার ছেলেকে মানুষ করেছেন, দুধের সর, কলা খাইয়ে ছেলেকে নাদুষ নাদুষ করে ডাগর বানিয়েছেন। এখন জীমে পাঠিয়ে চেহারা নূরানী বানচ্ছেন। এখন, তুমি ওনার নূরানী পোলারে বগল তবা করবে। ওনি তো পাসেসিভ হবেই- এটা তো স্বাভাবিক”। নয়নিকা জানালো। “কিন্তু পজেশন তো সময়ের সাথে সম্পৃক্ত, এক সময়ে ছেড়ে দিতে হ্য়, বা শেয়ার করতে হয়”। অরনা জানলো। “ওটা তো যুক্তির কথা। মানুষের আবেগ এবং যুক্তি কিন্তু সহ অবস্থান করে না। অনেকটা বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। অনেক ভদ্র মহিলা একই সাথে একজন সার্থক “মা” এবং একই সাথে একজন শাশুড়ি। এই দুই চরিত্রেই ওনার চরিত্রের বৈপরীত্য লক্ষণীয়। কারন একটাই “পজেশন”। এটার সহজাত সমস্যা, সরলীকরণ করা কঠিন, তবে সবারই স্পেস দিয়ে চলা উচিত”। নয়নিকা জানলো।
অরনাকে ওপেনিয়েটেড না হওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। ওপেনিয়েটেড মানুষকে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে, প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আমারা সহজেই বন্ধুত্ব করি না। সাথে ওপেনিয়েটেড না হয়ে, বন্ধুত্ব করার চেস্টা করাই বুদ্ধিমান কাজ হবে। বন্ধুত্ব হলে, তোমার ওডবী মাদার ইন লোর একাকীত্ব কমবে, অনেক বেশী ওপেন হবেন।
“তুমি একটা লীডীং আর্কিটেক্ট ফার্মের ম্যানেজিং পার্টনার। বিং রেসুলেট, ডিসাইসিভ, কমিটেড হওয়া – অবশ্যই গুড ম্যানেজমেন্ট পার্কটিস। কিন্ত এন্ড অফ ডে, অবশ্যই টীম প্লেয়ার, সাপোর্টিভ অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেটর হতে হবে। তোমাকে অবশ্যই মাইন্ড ফুল হতে হবে যে কোন অরগানাইজেশন জন্য হিউম্যান রিসোর্স ইজ দা মোস্ট ইম্পরট্যান্ট রিসোর্স । অবশ্যই স্পেস দিয়ে চলতে হবে- ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্সের – কোন বিকল্প নাই, সবসময় মাথায় রাখতে হবে”। নয়নিকা শর্ট লেকচারের আকারে অরনাকে জানালো, এবং অনুরোধ করল, এই গুলি পার্কটিস করতে। । অরনা জানালো, আমিতো বসী, ডমিনেটিং। বুঝলাম “মাই ওয়ে অর হাই ওয়ে” নয়নিকা জানলো।
বিয়ে বাড়ীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব হচ্ছে শাহী নজর পর্ব। যথারীতি, শাহী নজর পর্বে কনের সামনে একটা, লুকিং গ্লাস ধরা হলো, কনে নিজের চেহারা আয়নাতে দেখল, মেকাপ নষ্ট হয়নি জেনে ফিক করে হাসলো। লুকিং গ্লাসটা অরনার সামনে ঘুরানোর কারনে তার সব বান্ধবীরা কি ভাবে সেজে এসেছিল সেটা মাপছিল। যেই মাত্র লুকিং গ্লাসে ওনার বান্ধবী কুলসুম দেখে অরনা বির বির করা শুরু করলেন। এক সময় অরনা বলেই ফেললো “কুলসুম একদম সেকলে, জানে না, কি ভাবে ফ্যাশান করতে হ্য়। আমার বিয়ে উপলক্ষে আমি সবাইকে প্রাডার মেকাপ বক্স গিফট করেছি, ও কি ভাবে এত ডিস্প্রপোসোনেট হয়”। একই কথা কনে বার বলে তার আম্মাকে নালিশ করছিল। অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই ভাবছে, সারদিন না খেয়ে থাকার কারনে কনের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে, তাই সবাই বরকে বাদ দিয়ে কনেকে ব্যাস্ত হয়ে পরলো, বাসার কাজের মেয়েটা অতি উৎসাহী হাতের নাগালে থাকা ফ্লোর পরিষ্কার করার বাকেটে থাকা পানি কনের মাথায় ঢালার চিন্তা করছিল। সবাই মিলে তাকে জাপ্টে থমানো হলো যাতে করে কনের পাচ লাখ টাকার লেহাংগা নষ্ট না করে।
অবশেষে কিছুটা বিরতি নিয়ে শাহী নজর পর্ব শেষ হল।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমার লেখায় আলোচনার বিষয় বস্তু এবং আলোচ্য চরিত্রহগুলি নিছক কল্পনা প্রসুত। -রাশিদুল ইসলাম।

Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV