Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

অনন্য হিলারি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 100 বার

প্রকাশিত: May 4, 2012 | 6:17 PM

মাহফুজ রাহমান : নম্র-ভদ্র সৌম্য চেহারার অধিকারী। বিভিন্ন ধরনের মিউজিকের সঙ্গেও রয়েছে তার সখ্য। কারণ তার জীবনে কী ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে কতটা কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন_ এসব অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না তিনি। তাই সঙ্গীতই হয়ে উঠেছে তার অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম ভাষা। তিনি দারুণ রোমান্টিকও বটে। ‘প্রেমের প্রেমে’ কীভাবে পড়তে হয় তা ভালোভাবেই জানেন তিনি। জনগণের জন্য কাজ করেন, জনগণের মনের ভাষাটাও ভালোই বোঝেন। বোঝেন জনগণ কখন কী চায় সেটিও। বলা হচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কথা।
প্রথমে তার পরিচয় ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্ত্রী এবং মার্কিন ফার্স্ট লেডি। অন্যান্য মার্কিন ফার্স্ট লেডির মতো স্বামীর বিদায়ের সঙ্গে তার নিজেরও বিদায়ের রাগিণী বাজেনি। পরবর্তীকালে বিলকে ছাড়িয়ে নিজেকে পৃথক পরিচয়ে গড়ে তুলেছেন হিলারি। নির্বাচিত হয়েছেন মার্কিন সিনেট সদস্য হিসেবে। ২০০০ সালে সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়ে মার্কিন সিনেটে আগমন তার। ২০০১ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সিনেটর ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তিনি একমাত্র নারী এবং ফার্স্ট লেডি, যিনি প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য লড়াই করেছেন। নির্বাচনে ওবামা ক্ষমতায় এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন হিলারি। তিনি একমাত্র সাবেক ফার্স্ট লেডি, যিনি মার্কিন মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন। ইন্টারনেট অবলম্বনে।
ফার্স্ট লেডি হিলারি :১৯৯৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিল ক্লিনটন। সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ইলিনিওর রুজভেল্টের পর হিলারিকেই সবচেয়ে ক্ষমতাবান ফার্স্ট লেডি হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন গণমাধ্যম। তার স্বামীর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে গণমাধ্যমে সব সময়ই আলোচনায় ছিলেন তিনি। প্রধান বিরোধী দলগুলো তাকে কো-প্রেসিডেন্ট বলে অভিহিত করেছিল।
এ ছাড়া বিলের নির্বাচনী প্রচারে নাম হয়ে গিয়েছিল বিলারি (বিল এবং হিলারির সমন্বয়ে)। ফার্স্ট লেডি থাকাকালে হিলারির সমর্থন করা অন্যতম ইস্যু হলো স্বাস্থ্য সংস্কার টাস্কফোর্স। এ টাস্কফোর্সের প্রধান হিসেবে হিলারিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিল। গণমাধ্যম এটিকে ‘হিলারি কেয়ার’ বলেও অভিহিত করেছিল। নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড (নাফটা) চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত অনেক কার্যক্রমে অংশ নেন। ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের সম্পর্কের খবরে মিডিয়ায় হইচই শুরু হয়। এ সংকটপূর্ণ সময়ে নিপুণ গৃহিণীর মতো বিলের পাশেই ছিলেন তিনি। এ কেলেঙ্কারির কারণে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অভিসংশনের মুখে পড়েছিলেন বিল। এ সময় গণমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন হিলারি। বলেছিলেন, এটি কট্টর ডানপন্থিদের ষড়যন্ত্র। যদিও মনিকা প্রকাশ্যেই বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। মিডিয়ায় জোর গুঞ্জন শুরু হয় বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন বিল-হিলারি। হিলারি তাৎক্ষণিক এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং আস্থা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাফল্য :২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামা জয়ের পর হিলারিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। ডিসেম্বরের ২১ তারিখে ওবামা ঘোষণা করেন হিলারি হচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এমন সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন সমগ্র বিশ্ব সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের পররাষ্ট্রনীতিতে ত্যক্ত-বিরক্ত। মোটমুটিভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র কার্যক্রমকে একঘরে করে গিয়েছিলেন জর্জ ডবি্লউ বুশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে নজর দেন হিলারি। যার ফল আসন্ন নির্বাচনের আগে বিশ্লেষকরা এবং মার্কিনিরাও বলছেন, পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে সফল ওবামা প্রশাসন। জাতীয় ব্যর্থতার কারণে যা বরাবরই চলে যাচ্ছে পাদপ্রদীপের আলোয়। ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে রিপাবলিকানরা ওবামা-হিলারির নিয়মিতভাবে দোষারোপ করলেও হিলারির কূটনীতিই গত সেপ্টেম্বরে কায়রো থেকে ইসরায়েলের কূটনীতিকদের সফলভাবে উদ্ধার করেছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশ্বের প্রায় ১০০টির বেশি দেশ চষে বেড়িয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে আরব গণজাগরণের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন গণতন্ত্রায়নে পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সর্বশেষ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এশিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে এশিয়া সফরে হিলারি। সাবেক ফার্স্ট লেডির পরিচয়টি মুছে ফেলেছেন নিজের যোগ্যতায়। বর্তমানে তার এমনকি স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন হয় না বরং বিল ক্লিনটন হয়তো উল্টো বলতে পারেন আমি হিলারি ক্লিনটনের স্বামী। ঘরে-বাইরে সবখানে সফল হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এ নারী।

ক্ষমতাধর নারী :

টাইম ম্যাগাজিনের গত শতাব্দীর ২৫ ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে স্থান পেয়েছেন হিলারি। এ ছাড়া ফোর্বসের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে তিনি। টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে গত শতাব্দীতে বিশ্বের ২৫ প্রভাবশালীর তালিকায় ছয় নম্বরে হিলারি ক্লিনটন। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটন যখন ক্ষমতায় আসেন হিলারি তখন বলেছিলেন, একই মূল্যে দুটি জিনিস কিনল মার্কিনিরা। সময়ের পরিক্রমায় তার সে কথা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিল ক্লিনটনের সময়ে তিনি সমগ্র বিশ্বে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী নারী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠলেন। অন্যদিকে ২০১১ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান নারী রাজনীতিবিদের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকে হিলারির নাম। ফোর্বসে বলা হয়, তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বার্তা দিয়েছেন রাজনীতিতে ক্রমশই ক্ষমতাবান হয়ে উঠছে নারীরা।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ছড়িয়ে দিয়ে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন তিনি। এতে বলা হয়, হিলারি যখন কোনো দেশ ভ্রমণে যান তখন মনে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসছেন_ নিজের ভাবমূর্তি এভাবেই গড়ে তুলেছেন তিনি। সমগ্র বিশ্বই তাকে চেনে। হোয়াইট হাউসে তার প্রবল প্রভাবের কারণে ২০১১ সালে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

এক নজরে :

১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর : শিকাগোর ইলিনয়ের
একটি হাসপাতালে জন্ম। স্কুলে পড়ার সময়ই তার
মধ্যে নেতৃত্ব গুণ প্রকাশ ঘটে।

১৯৬৫ : ওয়েলিসলে কলেজে ভর্তি। সেখানেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
১৯৬৮ : মার্টিন লুথার কিং হত্যার পর ডেমোক্রেট দলকে সমর্থন দেওয়া শুরু।
১৯৬৯ : স্নাতক শেষে ইয়েল আইন বিদ্যালয়ে ভর্তি।
১৯৭১ : ইয়েলে পড়ার সময়ই বিল ক্লিনটনের সঙ্গে পরিচয়। এরপর প্রেম।
১৯৭২ : ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্জ ম্যাকগোভেনের নির্বাচনী প্রচারে অংশ গ্রহণ।
১৯৭৩ : ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ। বিলের বিয়ের প্রস্তাব নাকচ।
১৯৭৫ : বিয়ে করতে সম্মতি।
১৯৭৫ : ১১ অক্টোবর ক্লিনটনের সঙ্গে বিয়ে।
১৯৭৭ : রোজ ল’ ফার্মে যোগদান।
১৯৮০ : ২৭ ফেব্রুয়ারি চেলসির জন্ম।
১৯৯২ : বিল ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিল
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ফার্স্ট লেডি হিসেবে অভিষেক।
২০০০ : মার্কিন সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়লাভ।
২০০৬ : দ্বিতীয়বার সিনেটর নির্বাচিত।
২০০৭ : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট থেকে মনোনয়ন চাওয়ার
ঘোষণা। প্রাক-নির্বাচনী মনোনয়নে ওবামার সঙ্গে
স্মরণীয় লড়াই।
২০০৮ : ১ ডিসেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা।

সমকাল I

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV