Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

হিলারি-প্রণবের সফর থেকে বাংলাদেশ কি পেলো?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 15 বার

প্রকাশিত: May 7, 2012 | 3:14 PM

 

স্টাফ রিপোর্টার: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কণ্ঠেও একই সুর। বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য চাই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ঢাকার মাটিতেই তিনি একথা বলে গেলেন। বাকি ছিলেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তারাও হিলারিকে একই কথা বললেন। গোপনে নয়। সংবাদ মাধ্যমকে স্যার আবেদ সোজাসাপটা জানিয়ে দিয়েছেন। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়কের আর কোন বিকল্প এ মুহূর্তে নেই। মহাজোটের অন্যতম শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, তার কাছেও মনে হচ্ছে তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। সুনামগঞ্জে এক বইয়ের আলোচনায় এরশাদ বলেন, তিনিও চান তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যদিও এরশাদের কথা ও কাজে কোন মিল নেই। সকালে এক কথা, বিকালে অন্য। জাতীয় পার্টির অন্যতম নেতা কাজী জাফর আহমেদ বলেছেন, সময় এসেছে মহাজোটকে তালাক দেয়ার। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জোরালো করেছে। শাসক দল একদম বিপরীতমুখী। তারা আদালতের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে বসে আছেন। বিএনপিও এক সময় চায়নি। পরে জনমতের চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছিল। হিলারি ক্লিনটনের সফর নিয়ে নানা কৌতূহল ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। জনমনে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ কেউ বলেছিলেন সরকারকে মাইলএজ দিতেই তার এই সফর। বাস্তবে তা দেখা যায়নি। হিলারি কতগুলো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। দুই, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি হস্তক্ষেপ চলবে না। তিন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুম ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। চার, রাজনৈতিক ঝগড়া মেটাতে সংলাপ জরুরি। পাঁচ, মিলেনিয়াম তহবিলের টাকা পেতে হলে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ছয়, বিরোধী দলকে বলেছেন হরতাল বন্ধ করতে হবে। প্রফেসর ইউনূস ইস্যুতেই হাসিনা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরোধ চরমে পৌঁছেছিল। মার্কিন মিডিয়াও গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে দাঁড়িয়েছিল সরাসরি। হিলারি নিজে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীকে তার মনোভাব জানিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে একাধিকবার বলা হয়েছিল। কোন কাজ হয়নি। বরং উল্টো গ্রামীণ ব্যাংককে কব্জা করার জন্য উদ্যোগ নেয় সরকার। ইউনূসকে মার্কিন প্রশাসন যত কাছে টানতে চায়, বাংলাদেশ সরকার তত দূরে ঠেলে দিতেই সচেষ্ট হয়। এর ফলে মূল্য দিতে হচ্ছে দেশকে। বিশ্বব্যাংক বিগড়ে বসেছে। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন হয়নি। এমনকি জাপানও জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ইয়েস না বললে তারা এগিয়ে আসবে না। নির্বাচনী ওয়াদা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে সরকারের ভুল নীতি-কৌশলের কারণে। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে সরাতে বললো বিশ্বব্যাংক। সরানো হলো বটে। হোসেনকে মন্ত্রিসভায় রেখে দেয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংককে বুঝিয়ে দেয়া হলো অভিযোগ সত্য নয়। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশকে নিয়ে কখনও এতটা বিচলিত ছিল না। এখন তারা খুবই কনসার্নড। ২০০৮-এর নির্বাচনকে শুধু অবাধ ও নিরপেক্ষই বলেনি। তারা এ অঞ্চলে ভারতকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল না। এখন হিলারি কিংবা ওবামা প্রশাসন বলছে, ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব তাদের কাছে অনেকখানি। এখন তারা সরাসরি বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবছে। এ কারণেই সম্ভবত আগামী নির্বাচন কেমন হবে, কিভাবে হবে তা নিয়ে তাদের অবস্থান অন্তত দেড় বছর আগে পরিষ্কার করে দিয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এতকাল আমরা প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা শুনেছি। এখন দেখলাম বাংলাদেশের আরেক ব্যক্তিত্ব, জগৎজুড়ে যার নাম ছড়িয়ে পড়েছে, স্যার ফজলে হাসান আবেদও তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। স্যার আবেদ কখনও রাজনীতি নিয়ে কোন বক্তৃতা বা বিবৃতি দেন না। এবারই প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন। গ্রামীণ ব্যাংকের পর যে ব্র্যাকের ওপর খড়গ নেমে আসবে এমন জল্পনা তো অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। হাসিনা প্রশাসনের উপদেষ্টারা বরাবরই ভুল পরামর্শ দিয়েছেন। ভারত সবকিছু উজাড় করে দেবে। মনমোহনের সফর হবে যুগান্তকারী। দুই উপদেষ্টা মাসের মধ্যে চারবার দিল্লি গেছেন ওই সফরের আগে। কিন্তু শেষ খেলাটা খেলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। থেমে গেল সব আয়োজন। তিস্তা হলো না। ট্রানজিটও ফাইলবন্দি হয়ে গেল। এবারও উপদেষ্টারা বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপের চুক্তি করেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। হিলারি আদায় করে নিলেন কৌশলে। সরকার কি পেলো? স্বস্তির বদলে চরম অস্বস্তি। জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়ে গেল বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার যে কৌশল তাতে সায় নেই পশ্চিমা দুনিয়ার। এমনকি ভারতের মনোভাবেও পরিবর্তন লক্ষণীয়। মনমোহন সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক প্রণব মুখার্জিও চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সংলাপ চাইলেন। বললেন, এক দলের সঙ্গে নয়, সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক চায় ভারত। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করলেন। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রণব যখন ঢাকায় আসেন তখন সফরসূচিতে খালেদার নাম ছিল না।
গুম-খুনের রাজনীতি মার্কিন প্রশাসনকে বিচলিত করেছে। হিলারি প্রধানমন্ত্রীকেও বলেছেন, ইলিয়াস আলী গুম হলেন কিভাবে? খুঁজে বের করা জরুরি। ইলিয়াসের শিশুকন্যার সঙ্গে এভাবে দেখা হবে ভাবেননি হিলারি। বিব্রত নয়, আবেগাপ্লুত হয়েছেন তিনি। একজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, এটা ছিল বিএনপির তুরুপের তাস। ঠিকমতো খেলে দিয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের খুন নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া মার্কিন মুল্লুকে। পোশাক আমদানিকারকরা ওবামা প্রশাসনকে ‘চরমপত্র’ দিয়েছেন। বলেছেন, এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ব্যাপারে তারা চিন্তাভাবনা করবেন। হিলারি এ উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তদন্ত কিছুই হয়নি। বলাবলি আছে, সাগর-রুনি হত্যা, সৌদি কূটনীতিক খালাফ হত্যা, ইলিয়াস আলী গুম এবং আমিনুল ইসলাম খুন নাকি একই সূত্রে গাঁথা। প্রণব মুখার্জির সফর থেকে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও পেয়েছে। ২০ কোটি ডলার ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। বাকি ৮০ কোটি ডলার অবশ্য তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক খরচ হবে। তিস্তা নিয়ে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। বরং বলেছেন, এটা স্পর্শকাতর ইস্যু। তবে টিপাইমুখ ইস্যুটি যৌথ সমীক্ষা দলের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বরাবরের মতো সম্পর্ক উন্নয়নের তাগিদ ছিল তার তৎপরতায়। এক দলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে জনমনে যে অন্য প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সে বিষয়টি তাকে কিছুটা বিব্রত করেছে। সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মনে হয়েছে তিনি এমনটা জানতেন না। তাই তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়াই তার সরকারের প্রধান কাজ বা লক্ষ্য।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV