Monday, 9 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

‘লেখকের সৃষ্টিশীলতায় হস্তক্ষেপ কাম্য নয়’ তথ্যগত ত্রুটি সংশোধন করবেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 77 বার

প্রকাশিত: May 16, 2012 | 4:28 PM

 

  কাজল ঘোষ: রায়ের দলিলের কপি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় তথ্যগত ত্রুটি সংশোধনে সিদ্ধান্ত নেবেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। ঘনিষ্ঠজনদের এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এ ঘটনায় বেশ ক’জন খ্যাতনামা লেখক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এটা লেখকের সৃষ্টিশীলতায় হস্তক্ষেপের শামিল। ইতিহাসের সত্য আর শিল্পের সত্য এক নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। হুমায়ূন আহমেদ বইটি ইতিমধ্যেই ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মন্‌জুরুল ইসলাম ও ড. আনেয়ার হোসেনকে পড়তে দিয়েছেন। সৈয়দ মন্‌জুরুল ইসলামের পরামর্শে ইতিমধ্যেই তিনি বইটিতে বেশ কিছু তারিখে সংশোধনী এনেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ও তৎপরবর্তী সময় নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘দেয়াল’-এর কিছু অংশ একটি দৈনিকে প্রকাশের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কিছু অংশ সংশোধন করে তা প্রকাশে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনলে মঙ্গলবার ভুল সংশোধন নিয়ে দেয়া রুলের জবাবও দিতে বলা হয়েছে লেখককে। ক্যান্সার আক্রান্ত লেখক হুমায়ূন আহমেদ নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা নেয়ার সময় এই উপন্যাসটির কাজ শুরু করেছিলেন। ইতিমধ্যেই তিনি উপন্যাসটির ২০০ পৃষ্ঠারও বেশি লিখেছেন। ১৫ দিনের ছুটিতে দেশে ফিরে গত শুক্রবার সরাসরি নুহাশ পল্লীতে যান তিনি। সেখানে তিন দিন থেকে বর্তমানে ঢাকায় ধানমন্ডিতে দক্ষিণায়নে অবস্থান করছেন। বইটির প্রকাশক অন্য প্রকাশের নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রুল জারির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া লেখক বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায়ের বিবরণীর পেপারব্যাক কপি এখনও হাতে আসেনি। হাতে পেলে তা মিলিয়েই সংশোধনী করবেন।’ মাজহারুল ইসলাম আরও জানান, লেখক নিজেও চাইছেন বইটিতে যেন কোন তথ্যগত ত্রুটি না থাকে।
উল্লেখ্য, বইতে শেখ রাসেলকে নিয়ে লেখা অংশে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ তাদের মাঝখানে রাসেলকে নিয়ে বিছানায় জড়াজড়ি করে শুয়ে থরথর করে কাঁপছিল। ঘাতক বাহিনী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলো। ছোট্ট রাসেল দৌড়ে আশ্রয় নিলো আলনার পেছনে। যেখান থেকে শিশু করুণ গলায় বললো, তোমরা আমাকে গুলি করো না। শিশুটিকে তার লুকানো জায়গা থেকে ধরে এনে ঝাঁঝরা করে দেয়া হলো। এরপর শেখ জামাল ও শেখ কামালের মাত্র কিছুদিন আগে বিয়ে হওয়া দুই তরুণী বধূকে হত্যার পালা। কিন্তু বলা হচ্ছে, সেই রাতে হত্যাকাণ্ডের আগে শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সহকারী রমার কাছে ছিল। পত্রিকায় লেখায় সেভাবে ঘটনাটি আসেনি। তাতে হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা কমে গেছে- এমনটাই বলা হচ্ছে।
‘লেখকের সৃষ্টিশীলতায় হস্তক্ষেপ ঠিক নয়’
লেখকের সম্পদ তার সৃষ্টিশীলতা। লেখক তার প্রয়োজনে কোন চরিত্র বাস্তবের মতো না-ও লিখতে পারেন। আবার কখনও বিকৃতও করে থাকেন। বাস্তব আর কল্পনা মিশিয়ে এক অন্য অভিধাও দিতে পারেন। তবে লেখকের সৃষ্টিশীলতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন কোন হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় কাম্য হতে পারে না। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, হরিপদ দত্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখক সৈয়দ মন্‌জুরুল ইসলাম মানবজমিনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন এমন নানা কথা। 
হাসান আজিজুল হক: হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘দেয়াল’ উপন্যাস নিয়ে আদালতের রুল প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য না করে হাসান আজিজুল হক বলেছেন, উপন্যাস লেখকের বহু রকমের স্বাধীনতা থাকবে। এটা তাদের সৃষ্টিশীলতার অংশ। যে কোন ঐতিহাসিক চরিত্র ইতিহাস থেকে নেয়া। লেখক এই চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে প্রায় একই রকম না-ও রাখতে পারেন। আবার বিকৃতও করতে পারেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘প্রথম আলো’তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন, রানু চরিত্রকে ল্যাংটা দেখা গেছে। কথা হচ্ছে, এটা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা মিল আছে? লেখক দেখেছেন কিনা? সুনীল এর জবাবে বলেছিলেন, বইতেই রানুর বয়স পাঁচ বলা আছে। তখন এমন ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডিএইচ লরেন্সের লেডি চ্যাটার্লি’স লাভার, বুদ্ধদেব বসুর রাতভর বৃষ্টি, সমরেশ বসুর প্রজাপতি নিয়েও এমন বিতর্ক বহুদিন চলেছে। নিষেধাজ্ঞা আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। কিন্তু একটা সময় পরে তা ঈড়সঢ়ষবঃব এবং টহবফরঃবফ প্রকাশিত হয়েছে। কাজেই অশ্লীল বিষয় আছেই। বিচারে ধরা পড়লে তা নিয়ে আপত্তিও থাকতে পারে। আদালতের রায় নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বক্তব্য না করেও কলতে চাই, লেখকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কিছুতেই আমরা অনুমোদন করতে পারি না। সৃষ্টিশীলতাই কলমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। সেই স্বাধীনতা উপন্যাস লেখকের আছে- তা হুমায়ূন আহমেদেরও থাকবে। কিন্তু কোথাও যদি স্বাধীনতার অপব্যবহার হয় তা যাচাই না করে সৃষ্টিশীলতায় বাধা দেয়া অনভিপ্রেত। আদালত রায় দিয়েছেন। আবার লেখকের নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরারও অধিকার রয়েছে। লেখক সমাজের চোখ, কান ও মাথা।
হরিপদ দত্ত: লেখক ইতিহাস লেখেন না, শিল্প তৈরি করেন। ইতিহাসের সত্য আর শিল্পের সত্য এক নয় এমনটাই মনে করেন কথাসাহিত্যিক হরিপদ দত্ত। হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’ উপন্যাস নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য লেখক কল্পনার আশ্রয় নিতে পারেন- এটা লেখকের অধিকার। লেখক হুমায়ূন আহমেদ হয়তো একটি ট্র্যাজিক উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলেন। ওই ট্র্যাজেডির কারণেই হয়তো তিনি কল্পনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এটি কোন শিল্পগত অপরাধ নয়। তবে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন তাকেও অস্বীকার করা যায় না। কেননা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকার্য শেষ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণে সেখানে নিশ্চয়ই ওই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই লেখকদের এই বিবেচনাটুকু সঙ্গে নিতে হয় উল্লেখ করে শক্তিমান এই লেখক বলেন, হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয় লেখক। তার লাখ লাখ পাঠক রয়েছে। এই বর্ণনা পাঠকের মনে নানারকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার আশঙ্কা। তাই ইতিহাসের যে সত্য তাকেই অনুসরণ করা লেখকের উচিত। যদিও এখানে লেখকের স্বাধীনতা বলে একটি কথা আছে। বিষয়টি রাজনীতির চেয়েও ভয়ঙ্কর বাস্তব।   
ড. সৈয়দ মন্‌জুরুল ইসলাম: আনন্দের বিষয় হচ্ছে, জটিল-দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েও তিনি দেশে ফিরেছেন এবং লিখতে শুরু করেছেন। যে বইটি নিয়ে কথা হচ্ছে তা এখনও ছাপা হয়নি। কাজেই এটি সংশোধনের সুযোগ আছে। বইটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ব্লগ, ফেসবুক, ই-মেইলে ব্যাপক সংখ্যক তরুণ লেখালেখি করছেন, মতামত দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ নিউ ইয়র্কে বসে বইটি লিখেছেন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের এসব মতামত তিনি বিবেচনায় নিয়ে ভেবে দেখতে পারেন। লেখককে ধন্যবাদ দিতে হয় একটি কারণে, মানুষ সমসাময়িক জীবনকালের ইতিহাস নিয়ে লিখতে সাহস পান না। সেখানে তিনি এমন একজন মানুষকে নিয়ে লিখেছেন- যা সত্যিই সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। মনে রাখতে হবে, এটি ইতিহাস নয়, ইতিহাসনির্ভর উপন্যাস। এতে সত্যের যতখানি কাছাকাছি থাকা যায় ততটাই ভাল। প্রকাশের আগেই আমার বইটি পাঠের সুযোগ হয়েছে। এতে আমি নেতিবাচক কিছু পাইনি। বঙ্গবন্ধুকে যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কতটা বীভৎস ভাবাই যায় না। বইটির শেষ দিকে বড় রকমের বিষাদ আমাকে আচ্ছন্ন করেছে। বইতে কর্নেল তাহের ও খালেদ মোশাররফের অধ্যায়টি সত্যিই টানে। লেখকের প্রতি একটাই কথা, তিনি যেন ইতিহাসের চেতনা ও সত্য থেকে বিচ্যুত না হন।মানবজমিন
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV