Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

মানুষের বয়স মাত্র ৭০-৮০ কেন?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 110 বার

প্রকাশিত: June 2, 2012 | 4:24 PM

গোলাম সারওয়ার:শুক্রবারের সকাল। তবু মাশআল্লাহ কম যানজট ছিল না। গাজীপুর চৌরাস্তা পেরিয়ে বেশ দূরে হোতাপাড়া বাজার থেকে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে সমকালের কাহিল মাইক্রোবাসটি মোটামুটি চলছিল। কিছুদূর যেতেই বুঝলাম, এ বড় কঠিন যাত্রা। রাস্তার দুরবস্থা দেখে মনে হলো, আজ যদি যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে আমাদের সঙ্গী করতে পারতাম! স্বচক্ষে দেখতেন আমাদের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের সুখের ঠিকানা ‘নুহাশ পল্লী’তে যেতে কী কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের মানে আমি, আমার স্ত্রী সালেহা সারওয়ার, সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ এবং তার দু’সন্তান রূপকথা ও নীলপদ্মসহ সহধর্মিণী আলপনা, সমকালের আলোকচিত্র সাংবাদিক রাজীব। ‘নুহাশ পল্লী’র বন্ধ দরোজা আমাদের জন্য খুলে যেতে যেতে দেখলাম হুমায়ূন আহমেদের প্রিয়জন সালেহ চৌধুরী ও একদা আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাময়িকী সচিত্র সন্ধানীর সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দীন আহমদও দাঁড়িয়ে। ‘নুহাশ পল্লী’তে ঢুকলাম। না, ‘ঢুকলামে’র মতো একেবারেই নিরাভরণ রুগ্ণ কোনো শব্দ ‘নুহাশ পল্লী’র সঙ্গে বেমানান। তাই বলব_ নুহাশ পল্লীর সুরক্ষিত সিংহদ্বার দিয়ে ‘প্রবেশ’ করে দেখলাম বিশাল ‘নুহাশ পল্লী’তে তার ভক্ত এবং চলচ্চিত্র ইউনিটের লোকজনের ব্যস্ত উপস্থিতি। ‘জননী বঙ্গভূমি’র ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ গ্রামের যে দৃশ্যপট রবীন্দ্রনাথ এঁকেছেন তা আমাদের হৃদয় জুড়ে, তার সঙ্গে হুমায়ূনের স্বপ্নের ‘নুহাশ পল্লী’র চমৎকার সাদৃশ্য। আজ থেকে ১৫ বছর আগে ‘নুহাশ পল্লী’র জন্ম। এখন ফলে-ফুলে, পত্র-পল্লবে সুশোভিত নুহাশ পল্লী। গাছগাছালি, বিশেষ করে ঔষধি ‘বৃক্ষে’র সাজানো বাগান। হুমায়ূন জানালেন, কমপক্ষে ২০০ ঔষধি গাছ রয়েছে এখানে। নিজের কটেজে বৈঠকি আড্ডায় হুমায়ূন নুহাশ পল্লীর নানা বৈচিত্র্যের কথা বললেন। জানালেন, বিদেশ থেকে একটি মজার গাছ এনেছিলাম_ ‘পতঙ্গভুক’। কীটপতঙ্গ কাছে এলেই অবলীলায় মুখের মধ্যে নিয়ে কিছুক্ষণ পর মুখ খুললে দেখা যায় কীট কিংবা পতঙ্গটি সম্পূর্ণ হজম হয়ে গেছে। গাছপালার ন্যায় পশুপাখিকেও দারুণ ভালোবাসেন লেখক। নুহাশ পল্লীতে দুটি লিচুগাছ রয়েছে। একদিন দেখলেন পাখি যাতে লিচু ‘ধ্বংস’ করতে না পারে সে জন্য পাকা গোলাপি লিচুতে ভরপুর দুটি গাছই জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে ক্ষুণ্ন নয়_ ক্ষুব্ধ হলেন হুমায়ূন। বললেন, একটি থেকে জাল সরিয়ে নাও। একটি গাছের লিচু খাবো আমরা। অন্যটার লিচু পাখিদের জন্য। এই হচ্ছে হুমায়ূনের পাখিপ্রেম। গল্পকথায় সময় দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছিল। হুমায়ূন আহমেদের মতো গল্পকার হলে আমি চমৎকার সুখপাঠ্য রচনা লিখতে পারতাম। দুর্ভাগ্য আমি লেখক নই। সামান্য সাংবাদিক। ‘সেলিব্রেটির’ সঙ্গে কথা বলার আগেই সংবাদ তৈরি করার প্রসঙ্গগুলো মনে জমা থাকে। তাই তার আলোচিত পুস্তক ‘দেয়াল’ প্রসঙ্গ তুললাম। কয়েক দিন আগে হুমায়ূনের সঙ্গে ধানমণ্ডির ফ্ল্যাটে ‘দেয়াল’ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। পাশে ছিলেন হুমায়ূনপত্নী_ গায়িকা-নায়িকা শাওন। ‘দেয়াল’ আদালত পর্যন্ত গড়াবার কারণ সম্পর্কে বলেছিলাম ‘প্রায় বর্তমানের’ কোনো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে উপন্যাস লেখা ঝুঁকিপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সময়কার লাখ লাখ মানুষ এখনও বেঁচে আছেন। এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রয়েছে। জাতির জনকের জন্য কোটি কোটি মানুষের মনে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার পবিত্র একটি স্থান সংরক্ষিত। উপন্যাসের যৌক্তিক প্রয়োজনেও এর বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি মানুষ মেনে নেবে না। ‘বাদশাহ নামদার’ উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দূর অতীতের। ‘দেয়াল’ তা নয়। আমি কৃতজ্ঞ_ হুমায়ূন আহমেদ আমার এ বক্তব্য যথার্থ মনে করে জানিয়েছেন, তিনি ‘দেয়াল’ আপাতত লিখছেন না। তবে তিনি এ কথাও বললেন, যেসব প্রাসঙ্গিক পুস্তকের ওপর ভিত্তি করে তিনি ‘দেয়াল’ লিখছিলেন, সে বইগুলো পাঠকের হাতে রয়েছে।
কেমো দেওয়ার কারণে হুমায়ূনের কেশরাজি আগের মতো ঘন নেই। তবে স্বাস্থ্য আগের মতোই সুঠাম। চলনে-বলনে ক্লান্তির ছাপ নেই। আগামী ১২ জুন মোটামুটি জটিল একটি অস্ত্রোপচার। তাই মাকে দেখতে, তার দোয়া নিতে তার দেশে ফেরা। আজ শনিবার সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে ভারতীয় চিকিৎসক ড. জেইন তার শরীরে অস্ত্রোপচার করবেন। অস্ত্রোপচারের পর আরও কয়েকটি কেমো দিতে হতে পারে। কথা যখন বলছিলাম হুমায়ূন পরিবারের একান্ত ঘনিষ্ঠ মাযহার ও শাওন অলক্ষ্যে আমাদের ছবি তুলছিলেন। এক পর্যায়ে দেশের মেধাবী আলোকচিত্রী নাসির আল মামুনও কিছু ছবি তুললেন। হুমায়ূনকে বললাম, আপনার মনের জোর রয়েছে, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা রয়েছে। আপনি আবার কোটি প্রিয়জনের মধ্যে ফিরে আসবেন। আপনার শ্রেষ্ঠ রচনাটি লেখা তো এখনও বাকি। নিজের অলক্ষ্যে তার চোখে কি অশ্রুবিন্দু জমা হলো, জানি না। তবে হুমায়ূন একটু ধরা গলায়ই বললেন, মানুষের বয়স মাত্র ৭০-৮০ কেন? এত স্বল্প সময়, জীবনের অনেক স্বপ্ন তো অপূর্ণ থেকে যায়। আমি দীর্ঘদিন বাঁচতে ও অবিরাম লিখে যেতে চাই। মানুষ কেন কাছিমের মতো ২০০-৩০০ বছর বেঁচে থাকে না।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের কথা এখানেই শেষ। এরপর হুমায়ূনকে বাদ দিয়ে কথা বললাম শাওনের সঙ্গে_ হুমায়ূনের স্ত্রী ও ছায়াসঙ্গিনী। হুমায়ূনের ক্যান্সার হয়েছে_ এই আকস্মিক খবরে কি তুমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলে? ‘না সারওয়ার ভাই, বিশ্বাস করতে পারিনি ক্যান্সারের মতো বড় অসুখ হুমায়ূনের দেহে বসবাস করতে পারে। যখন নিশ্চিত হলাম, তখন নিজেকে শাসন করে বললাম, শাওন, তোমাকে ভেঙে পড়লে চলবে না। হুমায়ূনের মনের জোর বাড়াতে তোমার মন দ্বিগুণ শক্ত করতে হবে। মেইলে, ফেসবুকে হুমায়ূনের অসংখ্য ভক্ত তাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দোয়া জানিয়েছে। মানুষের এই আকুল প্রার্থনা আল্লাহ নিশ্চয়ই শুনবেন। আমি মনে মনে বলেছি, আল্লাহ, আমার জীবন থেকে যত খুশি বছর কেটে নিয়ে হুমায়ূনকে দীর্ঘজীবী করো। কারণ একজন শাওন একটু আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে কোনো ক্ষতি হবে না। লেখক হুমায়ূনকে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হবে।’ আমি বললাম, তোমার মনের জোর আছে জানি, তবু ক্যান্সারের কথা শুনে নিভৃতে কি কখনও অশ্রুপাত করেছো? ‘না করিনি। হুমায়ূন যেদিন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমার সামনে এসে বলবে, কুসুম, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। তখন আমি, হুমায়ূনের কুসুম, প্রাণভরে মনের আনন্দে কাঁদব, শুধু কাঁদব।’
হুমায়ূন, রবীন্দ্রনাথের মতো করে বলতে চাই, জানি তুমি ফিরে আসিবে আবার। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আপনি যেদিন ফিরে আসবেন, সেদিন আমরা শাওনের মতো কাঁদব না। আমরা হাসব, প্রাণভরে হাসব। কারণ আমাদের প্রিয় লেখক তার শ্রেষ্ঠ লেখাটি লেখার জন্যই আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘজীবী হোন হুমায়ূন।সমকাল

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV