নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন ৩ ফেব্রুয়ারী : মেরী জোবায়দার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটি
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক :: নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার। এস্টোরিয়া ও লং আইল্যান্ড সিটি নিয়ে এই ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনী এলাকা গঠিত। মেয়র জোহরান মামদানী দায়িত্ব নেয়ার পর অ্যাসেম্বলী সদস্য হিসেবে তার এই পদটি খালি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এই শুন্য পদে বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে। নানা কারণে নির্বাচনটি পুরো কমিউনিটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে লড়ছে ৩জন প্রার্থী যথাক্রমে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জোবাইদা, ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো ও মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ। বিশেষ করে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী-আমেরিকান প্রার্থী হিসেবে মেরী জুবাইদার জয়ের সম্ভাবনায় বাংলাদেশী কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। মেরী জোবাইদাকে সমর্থন জানাচ্ছেন অন্যান্য কমিউনিটিও।
নির্বাচনে আগাম ভোট শুরু হয় গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার, চলবে ১ ফেব্রুয়ারী রোববার পর্যন্ত। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে আগাম ভোট প্রদানের হার খুবই কম পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে মাঝে ২৫ ও ২৬ জানুয়ারী আগাম ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিলো। এই আসনে ভোটার প্রায় ৮০ হাজার। সবমিলিয়ে জমে উঠেছে অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন। খবর ইউএনএ’র।
মূলত: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারীতে জোহরান মামদানীর বিজয়র পর থেকেই আসনটির নির্বাচন কমিউনিটির আলোচনায় উঠে আসে। সেই সাথে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জোবাইদার নাম। গত জুলাই মাসে সম্ভাব্য শূন্য আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। শুরু হয় আগাম গণসংযোগ ও ফান্ড রেইজিং। বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ বিভিন্ন কমিউনিটির সমর্থনে তার প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। একক প্রার্থী হিসেবে নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারনা চালান তিনি। কিন্তু গত ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জোহরান মামদানীর বিজয়ের পর পরবর্তী পর্যায়ে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঘোষণা দেন ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো, মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত শিবানী ধীর। নিজেকে সাউথ এশিয়ান মুসলিম হিসেবে দাবী করার কারণে এই আসনে সাউথ এশিয়ান এবং মুসলিম হিসেবে মেরী জোবাইদাকে সমর্থন করবেন মেয়র মামদানী এই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশাকে গুড়ে বালি দিয়ে মামদানী সমর্থন ঘোষণা করেন ইকুয়েডোরিয়ান প্রার্থীর প্রতি। এর প্রেক্ষিতে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন করছে মেরী জোবাইদাকে। অপরদিকে নির্বাচন থেকে সরে যান শিবানী ধীর।
এদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির আনুষ্ঠানিক সমর্থন না পেলেও মেরী জোবাইদা থার্ড পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রচারণা চালান। তাকে এনড্রোর্স করেছে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার-অ্যাসাল, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ (বাগ), নিউ আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক ক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন। তিনি ৩ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে রীতিমত চমক সৃষ্টি করে ভোটার তালিকায় নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করেন। মাঠের রাজনীতি, ভোটার সংযোগ এবং কমিউনিটি সংগঠনে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার অবস্থান অত্যন্ত শক্ত বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার স্বোচ্চার কন্ঠস্বর হিসেবে মেরী জোবাইদা ব্যাপকভাবে পরিচিতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং কমিউনিটিকে আইনি সহায়তা বিষয়ক কার্যক্রমই তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। তার নির্বাচনী সফল্য আর শক্ত প্রার্থী হিসেবে কমিউনিটির সমর্থন তাকে অনুপ্রাণীত করেছে। এজন্য সংশ্লিস্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর নির্বাচন ঘিরে মেরী জোবাইদার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছেন কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠন। তার জন্য ফান্ড রেইজিং হয়েছে কুইন্স, ওজনপার্ক, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই ফান্ড রেইজ করে মেরী জোবাইদার হাত শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সার্বিক সমর্থন জানিয়েছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, বাংলাদেশী-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন (বাকা), এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, নিউইয়র্ক প্রভৃতি সংগঠন।
অপরদিকে কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি সমর্থন জানিয়েছে ডায়ানা মরেনোকে। তবে মাঠ পর্যায়ের ভোটার সংযোগ, কমিউনিটি উপস্থিতি এবং সরাসরি প্রচারনায় তিনি অনেকটাই পিছিয়ে বলে জানা গেছে। এস্টোরিয়া লং আইল্যান্ড সিটির বাসিন্দাদের কাছে ডায়ানা তেমন পরিচিত নন। এছাড়াও মাত্র কয়েকদিন আগে প্রভাবশালী পলিটিকো পত্রিকায় ডায়ানা মরেনো ও রানা আবদেলহামিদের বিরুদ্ধে তাদের স্টাফদের সাথে প্রতারনামুলক আচরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দুজনের প্রচারনাতেই।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের জন্য নয়, বরং কমিউনিটি ভিত্তিক নেতৃত্ব এবং অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার প্রার্থীদের জন্য এক বড় পরীক্ষা।
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের