Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ও সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটি’র ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে রাইজআপ এনওয়াইসি লিডারশিপ সামিটে শক্তিশালী কমিউনিটি বিনির্মাণে পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রার্থীদের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 44 বার

প্রকাশিত: February 17, 2026 | 10:08 AM

সিকান্দর হক, নিউইর্য়ক : নিউইয়র্কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় গেল রাইজআপ নিউইর্য়ক সিটির এর তৃতীয় বার্ষিক লিডারশিপ সামিট। গত ৭ ফেব্রুয়ারী কুইন্সের গুলশান টেরেসে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বাংলাদেশের আমেরিকানদের পাশে থেকে একটি শক্তিশালী সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তীব্র কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন নিউইর্য়ক স্টেটের কম্পট্রোলার, সিনেট, অ্যাসেম্বলি, ইউএস কংগ্রেসের বিভিন্ন পদের ১৮ জন প্রার্থীসহ বর্তমান কাউন্সিল সদস্য ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঐক্য, নাগরিক সচেতনতা এবং নিউইর্য়কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির ভবিষ্যত নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন।
আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাইজআপ এনওয়াইসির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনওয়াইপিডির অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডিং ডিটেকটিভ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী তেজওয়ার (আরভিন)।
মূল বক্তব্যে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল হক বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রগতি এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘ভবিষ্যৎকে জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেটিকে নিজেই তৈরি করা।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিউইর্য়কে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ও নাগরিক অংশগ্রহণ দিনদিন বাড়ছে কিন্তু এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তম্মধ্যে নির্বাচিত বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধির অভাব, সিটির উচ্চপদে বাংলাদেশিদের সীমিত উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত কমিউনিটি সেন্টারের অভাব দূর করতে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
২০২১ সালে কয়েকজন বাংলাদেশি আমেরিকানদের নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন শামসুল হক। শুরু থেকেই তারই নেতৃত্বে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্পটে ভোটার নিবন্ধন , নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি নেতাদের মতে, ২০২৫ সালের সিটি মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি ভোটারদের রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণে এই সংগঠনের বড় ভূমিকা ছিল। যার ফলে বর্তমানে নিউইর্য়ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানির ট্রান্সজিশন কমিটিতে শামসুল হক সহ ১০ বাংলাদেশি স্থান পেয়েছে । আগামী বছরগুলোতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বিস্তৃত পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। যাতে আমেরিকার মূল ধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা যায়।
প্রার্থীগণের মধ্যে বক্তব্য দেন নিউইর্য়ক স্টেট কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী রাজীব গোয়েল , আদেম বাষ্কেদ্দেকো, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ডিস্ট্রিক্ট ৬ এর পদপ্রার্থী চাক পার্ক, ডিস্ট্রিক্ট -৭ অ্যান্টোনিও রেইনোসো এবং জুলি ওন , নিউইর্য়ক স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট -১৩ জেসিকা রামোস, জেসিকা গঞ্জালেস – রোহাস, ডিস্ট্রিক্ট -২৪ ওমর মোহাম্মদ, নিউইর্য়ক স্টেট এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট -২৪ মাহতাব খান, ডিস্ট্রিক্ট- ২৫ কেনেথ প্যাক , ডিস্ট্রিক্ট -৩২ মোহাম্মদ মোল্লা, ডিস্ট্রিক্ট -৩৪ আবির কায়াস, ব্রায়ান রোমেরো, ডিস্ট্রিক্ট -৩৭ পিয়া রহমান, ডিস্ট্রিক্ট -৩৮ ডেভিড অরকিন, ডিস্ট্রিক্ট – ৮৭ জাকির চৌধুরী। এছাড়াও আরো বক্তব্য দেন নিউইর্য়ক সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট-২১ এর সদস্য শ্যানেল থমাস -হেনরি যিনি বর্তমানে কেনো পদে প্রার্থী নন।
নিউইর্য়ক স্টেট এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট -৩৪ এর প্রার্থী আবির কায়াস তিনি প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হতে চান বলে তার বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। এছাড়াও বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে দৃঢ় অঙ্গিকারবদ্ধ বলে জানান তিনি।
এদিকে কংগ্রেসনাল প্রার্থী জুলি ওন বলেন, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদসদ্যের নিউইর্য়ক সিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার এবং তিনি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।
আসন্ন ২৩ শে জুন প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে বক্তারা নিউইর্য়কজুড়ে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অতীতের চেয়ে আরও বেশি সংখ্যায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। সর্বশেষ নির্বাচনে নিবন্ধিত বাংলাদেশি ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট প্রদান করেছেন বলে বক্তারা জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় আগামীতে এই হার ৯০ শতাংশে উপনীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের আশা ব্যক্ত করেন বক্তারা। এতে মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তিশালী কমিউনিটি বিনির্মাণে প্রতিনিধিদের আরো দায়বদ্ধ ও সক্রিয় করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রার্থীরা বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানান। প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, সুযোগ সৃষ্টি করা এবং শক্তিশালী কমিউনিটি বিনির্মানে সম্মিলিত কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
কমিউনিটির নেতারা এই সামিটকে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং সম্মিলিত উদ্যোগের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনব্যক্ত করেন। নাগরিক শক্তি বৃদ্ধি, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সরকারের প্রতিটি স্তরে বাংলাদেশি আমেরিকানদের কন্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়াই হল রাইজআপ নিউইর্য়ক সিটির ব্যানারে বার্ষিক লিডারশিপ সামিটের মূল লক্ষ্য।
সমাপনী বক্তব্যে শামসুল হক অনুষ্ঠান সকল প্রার্থী, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আর্থিক সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কমিউনিটির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে ফটোসশেন এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV