Saturday, 5 September 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion Irene Khan Takes Office as Bangladesh’s Permanent Representative to the United Nations নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 124 বার

প্রকাশিত: June 1, 2026 | 4:10 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক স্টেট এমেব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ এলাকা থেকে নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান জাকির চৌধুরী। তিনি বর্তমান এসেমব্লিওম্যান কারিনে রেয়েসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কারিনা ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এই পদে আসীন আছেন।
২০২৬ সালের ২৩শে জুন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীই ২০২৬ সালের ৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের হয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। এই নির্বাচনী এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবেই ডেমোক্র্যাটিক দলের শক্ত ঘাঁটি, তাই সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীই জয়লাভ করে থাকেন। ২০২৬ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি’র ৮৭তম নির্বাচনী এলাকার মোট ৬৬,৫০৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৭,৪১০ জন ভোটার ডেমোক্র্যাটিক দলের নিবন্ধিত সদস্য। এছাড়া ৪,০৬১ জন ভোটার রিপাবলিকান দলের নিবন্ধিত সদস্য। বাকি ভোটারদের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
জাকির চৌধুরী একজন সনদপ্রাপ্ত সিপিএ এবং ব্রঙ্কস এলাকার নিউ ইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি’র ৮৭তম নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী। জাকির চৌধুরী বলেন, তিনি তার পেশাগত জীবনকে উৎসর্গ করেছেন কর্মজীবী পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে এবং তাদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। একজন অভিবাসী এবং জন-সমাজের হিতৈষী হিসেবে, জাকির এখানকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন সংগ্রামের বিষয়গুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করেন-যার মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করার সক্ষমতা, জননিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা। তিনি সরকারি কার্যক্রমে বাস্তবসম্মত সমাধান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জাকির নির্বাচনে লড়ছেন এই লক্ষ্য নিয়ে যে, ৮৭তম নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর যেন শোনা যায় এবং সবার জন্য একটি অধিকতর শক্তিশালী, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জন-সমাজ গড়ে তোলা যায়। পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তার ক্ষেত্রে দশকের পর দশক ধরে অর্জিত পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং এই জন-সমাজে বছরের পর বছর ধরে বসবাস ও নিজের পরিবার গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাই তার এই প্রার্থিতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
একজন আর্থিক পেশাজীবী এবং একই সাথে একজন সমাজ সংগঠক হিসেবে, জাকির সাধারণ নিউ ইয়র্কবাসীদের দৈনন্দিন সংগ্রামের চিত্র খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন যে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সীমিত সম্পদ এবং জননিরাপত্তার ক্রমাবনতি কীভাবে কর্মজীবী পরিবার, অভিবাসী, তরুণ সমাজ, নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করে। এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে আমাদের এলাকার সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলেছে; যার মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা জোরদার করা, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলা, তরুণ ও নারীদের জন্য সুযোগের পরিধি বৃদ্ধি করা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রবীণ নাগরিকদের সেবাকেন্দ্রগুলোতে সহায়তা প্রদান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশে সহযোগিতা করা।
কারিনে রয়েস একজন নিবন্ধিত নার্স এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য, যিনি ২০১৯ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার, ক্যাসেল হিল, ওয়েস্ট ফার্মস এবং ওয়েস্টচেস্টার স্কয়ার এলাকাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
শ্রমজীবী পরিবার এবং প্রবীণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি ৩০টিরও বেশি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করেছেন। একজন ইউনিয়ন সদস্য হিসেবে, তিনি কর্মজীবী মানুষের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধার মানদণ্ড বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু আইন পাস করেছেন। একজন মা এবং সাবেক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কারিনা তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।
তিনি তাঁর স্বামী এবং দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে এই এলাকাতেই বসবাস করেন। কারিনেস নিজেকে একজন ‘আফ্রো-ল্যাটিনা’ হিসেবেও পরিচয় দেন; তিনি ডোমিনিকান এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত।
জাকির চৌধুরী বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ, এই নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার এবং তাঁরা বেশ ঐক্যবদ্ধ। প্রাইমারি নির্বাচনের বিগত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জয়লাভ করার জন্য একজন প্রার্থীর সাধারণত প্রায় ১০ হাজার ভোটের প্রয়োজন হয়। ২০২০ সালের প্রাথমিক নির্বাচনে কারিনেস ৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন; সেবার তাঁর ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন মাত্র ৩ হাজার ভোট। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারিনেস ৭,৩০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের প্রাইমারি এবং সাধারণ-উভয় নির্বাচনেই কারিনেসের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। সেই সাধারণ নির্বাচনে তিনি মোট ২৫,৮৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। আসন্ন ২০২৬ সালের প্রাথমিক নির্বাচনে যিনিই জয়লাভ করতে চান না কেন, তাঁকে আনুমানিক ১০ হাজার ভোট পেতে হবে। বর্তমানে কারিনেস জাকির চৌধুরীর কাছ থেকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। জনাব চৌধুরী আশা করছেন যে, তিনি তাঁর নিজস্ব কমিউনিটি বা সম্প্রদায়ের কাছ থেকেই প্রায় ৫ হাজার ভোট পাবেন। পাশাপাশি, অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেও তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচার দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে, সেইসাথে সাবওয়ে স্টেশন, বাস স্টপ এবং মুদি দোকানগুলোতে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করেন, তবে তাঁর জয়লাভ করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ