Tuesday, 8 September 2026 |
শিরোনাম
বঙ্গবীর ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান উত্তর আমেরিকার ৪১তম ফোবানা চার ভাগে অনুষ্ঠিত: আগামী বছর ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও হিউস্টনে পৃথক সম্মেলন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন: সেলিম–আলী ও কুনু–ফিরোজ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নিউইয়র্কে ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা: তরুণ নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কার্ডে ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সংশোধিত নির্বাচনী তফসিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক কন্স্যুলেট! নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
সব ক্যাটাগরি

উত্তর আমেরিকার ৪১তম ফোবানা চার ভাগে অনুষ্ঠিত: আগামী বছর ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও হিউস্টনে পৃথক সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 188 বার

প্রকাশিত: September 7, 2026 | 10:25 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ঐক্যের প্রত্যাশা থাকলেও বিভক্তির বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা)। চলতি বছরের লেবার ডে উইকেন্ডে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডার টরন্টোতে পৃথকভাবে চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামী বছরও অন্তত তিনটি শহরে পৃথক ফোবানা সম্মেলনের প্রস্তুতি স্পষ্ট হয়েছে। এর সঙ্গে নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলো যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ফোবানার দীর্ঘদিনের বিভক্তি নিয়ে ঐক্যের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরং চার দশকের পুরোনো এই সংগঠনটি গত কয়েক বছরে ভাঙতে ভাঙতে একাধিক পৃথক ধারায় বিভক্ত হয়েছে। ফলে ‘ঐক্য’ এখনো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান স্লোগান হলেও সাংগঠনিক বাস্তবতায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

আগামী বছরও একাধিক শহরে সম্মেলন

এবারের লেবার ডে উইকেন্ড—৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর—নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডার টরন্টোতে পৃথক ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সম্মেলনগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর লেবার ডে উইকেন্ডে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ইউএস-বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’, নিউইয়র্ক সিটিতে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’ এবং টেক্সাসের হিউস্টনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পৃথক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, টরন্টোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পক্ষ থেকে এখনো ৪১তম সম্মেলনের হোস্ট সিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলো হতে পারে তাদের পরবর্তী সম্মেলনের সম্ভাব্য ভেন্যু।

ফলে আগামী বছরও ফোবানার ব্যানারে একাধিক সম্মেলন হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এতে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় এই মিলনমেলা আরও বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেতৃত্বেও চার ধারা

বিভক্ত ফোবানার নতুন নেতৃত্বের চিত্রেও সাংগঠনিক বিভাজনের প্রতিফলন রয়েছে। চারটি ধারার মধ্যে দুই চেয়ারম্যান ফ্লোরিডায় এবং অপর দুই চেয়ারম্যান নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করেন।

নিউইয়র্কভিত্তিক দুই চেয়ারম্যানের একজন জাকারিয়া চৌধুরী এবং অপরজন গিয়াস আহমেদ। সংশ্লিষ্ট মহলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। অন্যদিকে ফ্লোরিডাভিত্তিক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও এম রহমান জহিরের মধ্যকার সমঝোতার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন কয়েকজন সচেতন প্রবাসী।

তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সমঝোতা যথেষ্ট নয়—৪১তম সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনগুলোকেও নমনীয় হতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের উদ্যোগের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

৪০ বছরেও কাটেনি বিভক্তির রাজনীতি

ফোবানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় চার দশক ধরে প্রতিটি সম্মেলনের আগে ঐক্যের আহ্বান ও বিভক্তি নিরসনের আলোচনা হয়ে আসছে। কিন্তু সম্মেলন শেষে বাস্তব চিত্র খুব কমই বদলেছে।

ক্রমাগত বিভক্তির ফলে একসময় উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির ‘মহামিলনমেলা’ হিসেবে পরিচিত ফোবানা এখন একাধিক পৃথক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন শহরে সম্মেলন আয়োজন যেমন কমিউনিটির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তেমনি ফোবানার মূল সাংগঠনিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সেমিনারে কম, সাংস্কৃতিক আয়োজনে বেশি ভিড়

৬ সেপ্টেম্বর রাতে চারটি সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। সবকটি সম্মেলনেই উল্লেখযোগ্য লোকসমাগম হয়েছে। বাংলাদেশ ও প্রবাসের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন থাকলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই ছিল অধিকাংশ সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ।

নিউইয়র্কের সম্মেলনে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর বিভিন্ন আয়োজনে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। পাশাপাশি মানবাধিকার, সুশাসন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও ব্যাপক লোকসমাগম হয়। তবে সেমিনার ও আলোচনা পর্বে উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অডিটরিয়াম ছিল দর্শকে পূর্ণ বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কানাডার টরন্টোতেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে সমাপনী পর্ব পর্যন্ত প্রতিটি সন্ধ্যায় ছিল বিপুল জনসমাগম। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির সম্মেলনে বিভিন্ন স্টেট থেকে প্রবাসীরা সপরিবারে অংশ নেন। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় বাংলাদেশিদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

নিউইয়র্কের নতুন কমিটি

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পরবর্তী নির্বাহী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নূরল আমিন বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, যুগ্ম এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুব্রত তালুকদার ও মাহমুদুল হাসান এবং ট্রেজারার সাজ্জাদুল হাসান।

অরল্যান্ডোর কমিটিতে যারা

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পরবর্তী নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আতিকুর রহমান। এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি রহিম নিহাল, ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া ও আমিনুল ইসলাম কলিন্স, জয়েন্ট সেক্রেটারি সাহাবউদ্দিন ও ইমরান জনি আলম এবং ট্রেজারার শাহেদুল ইসলাম অঞ্জন।

লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন নেতৃত্ব

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এম রহমান জহির চেয়ারপারসন এবং প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।

অপর নির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন ভাইস চেয়ারম্যান আবির আলমগীর, যুগ্ম সচিব অ্যান্থনি গোমেজ পিয়ুস এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন।

এছাড়া আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দিন সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, মকবুল এম আলী, বাবুল হাই ও ড. আব্দুস সাত্তার।

টরন্টোতে পুরোনো কমিটিই বহাল

কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আগের নির্বাহী কমিটিকেই বহাল রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে গিয়াস আহমেদ এবং সেক্রেটারি হিসেবে ফিরোজ আহমেদ রয়েছেন।

ফোবানার টরন্টো অংশের অন্যতম সংগঠক অনিক রাজ জানান, সংশ্লিষ্টরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে আগামী বছরের ৪১তম ফোবানা সম্মেলনের স্থান ও হোস্ট সংগঠনের নাম চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রশ্ন রয়ে গেল ঐক্য নিয়ে

ফোবানার চার দশকের ইতিহাসে ঐক্যের আহ্বান নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবারই ঐক্যের প্রত্যাশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তা সাংগঠনিক বাস্তবতায় রূপ নেয়নি। এবারও চার শহরে পৃথক সম্মেলন এবং আগামী বছর একাধিক শহরে সম্মেলনের প্রস্তুতি সেই পুরোনো সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন উঠছে—ফোবানা কি সত্যিই আবার একক প্ল্যাটফর্মে ফিরতে পারবে, নাকি বিভক্তিই হয়ে উঠবে এর স্থায়ী সাংগঠনিক বাস্তবতা? আগামী ৪১তম সম্মেলন ঘিরে এই প্রশ্নের উত্তরই এখন উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ