Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

নুহাশপল্লীর মাটির ঘরে চিরনিদ্রায় শায়িত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 10 বার

প্রকাশিত: July 24, 2012 | 4:55 AM

গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে।

গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। ছবি: মাসুদ রানা

এই লিচুবাগানেই শেষশয্যায় শায়িত হবেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ।

এই লিচুবাগানেই শেষশয্যায় শায়িত হবেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ। ছবি: মাসুদ রানা I

মাসুদ রানা : টিপটিপ বৃষ্টি। চারদিকে শোকাতুর মানুষের ভিড়। প্রিয় মানুষকে চিরবিদায় জানাতে স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী-ভক্তসহ সবার চোখে জলের স্রোত। এমন মর্মস্পর্শী আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুবাগানের শীতল ছায়ায় মাটির ঘরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। মঙ্গলবার বাদ জোহর নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় নামাজে জানাজা  অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দুপুর দুইটায় বিপুলসংখ্যক মানুষের শ্রদ্ধা, ভলোবাসা ও চোখের জলে হুমায়ূন আহমেদকে খুব যতনে শুয়ে দেওয়া হয় নুহাশপল্লীর মাটির ঘরে। বঁাশ ও চাটাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় কবরের ওপরের অংশ। হুমায়ূন আহমেদের তিন ছেলে নুহাশ, নিষাদ, নিনিত বাবার কবরে দিয়েছেন মুঠো মুঠো মাটি। কবরের ওপর মুঠো ভরে মাটি ছড়িয়ে দিয়েছেন অন্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী ও  ভক্তরা। ধীরে ধীরে কবর ঢেকে যায় মাটিতে। মোনাজাত শেষে কবরের ওপর ফুল দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি  জানানো হয় পরম ভালোবাসা। অচিন দেশে, অচিন কোনো গঁায়ে চন্দ্রকারিগরের কাছে ধবল পঙ্খী নায়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তঁার সে আকুতি কবুল হয়েছে। চিরদিনের জন্য তিনি চলে গেলেন চন্দ্রকারিগরের কাছে। দিনভর সদ্ধিান্তহীনতার পর গতকাল সোমবার গভীর রাতে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়াত লেখককে নুহাশপল্লীতেই সমাহিত করা হবে। সে অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বারডেমের হিমঘর থেকে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে নুহাশপল্লীর দিকে রওনা দেন তঁার স্বজনেরা। দুপুর ১২টার দিকে নুহাশপল্লীতে পঁেৌছায় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ পঁেৌছার আগেই নুহাশপল্লীতে যান তঁার মেয়ে নোভা, শীলা ও ছেলে নুহাশ। লেখকের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আহসান হাবীবসহ অন্য স্বজন ছাড়াও সেখানে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তঁার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ সকালে বৃষ্টি থাকায় লিচুবাগানের পাশে শামিয়ানা টানানো হয়। গ্রামের মানুষ সকাল থেকেই তাদের প্রিয় স্যারকে শ্রদ্ধা জানাতে নুহাশপল্লীতে জড়ো হয়। নুহাশপল্লীতে ঢুকে মাঠ ধরে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই হাতের বঁা পাশে শেফালিগাছের ছায়ায় নামাজের ঘর। এর পাশেই তিনটি পুরোনো লিচুগাছ নিয়ে একটি ছোট্ট বাগান। লিচুবাগানের উত্তর পাশে জামবাগান আর দক্ষিণে আমবাগান। ওই লিচুবাগের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জানা যায়, কথাচ্ছলে তঁার সহকর্মীদের ওই জায়গাটির কথা বলতেন হুমায়ূন। নুহাশপল্লীর সহকারী ব্যবস্থাপক নুরুল হক বলেন, Èআমাদের তিনি (হুমায়ূন আহমেদ) প্রায়ই ওই লিচুবাগানের কথা বলতেন, যেন মৃতু্যর পর তঁাকে সেখানে কবর দেওয়া হয়।’ নুহাশপল্লীর প্রধান বাবুর্চি আবুল বাশার বলেন, Èস্যার নুহাশপল্লীতে প্রবেশ করলেই সবার আগে খঁোজ নিতেন তঁার প্রিয় গাছগাছালির। তিনি প্রায়ই ওই লিচুবাগানে ছুটে যেতেন। সব সামাজিক অনুষ্ঠান ওই লিচুগাছের নিচেই হয়ে আসছে।’ নুহাশপল্লীর ওই তিনটি লিচুগাছ এই উদ্যানের সবচেয়ে পুরোনো। উদ্যানটি গড়ার সময় প্রথম একটি খড় ও শণের ঘর ছিল ওই স্থানে। সেখানে লেখক প্রথম দিকে বসবাস করতেন। ওই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার কথা লেখক তঁার সহকর্মীদের বলেছেন। নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, Èএই লিচুবাগান ছিল স্যারের খুব প্রিয়। তিনি প্রায়ই এখানে এসে বসতেন। লিচুগাছের শীতল ছায়ায় প্রাণ জুড়াতেন। স্যার বলতেন, Íআমি মারা গেলে ওই লিচুবাগানের নিচেই আমাকে রেখো।” স্যার আমাদের প্রায়ই ওই জায়গার কথা বলতেন।’ গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নুহাশপল্লীতে দাফন উপলক্ষে নিরাপত্তার জন্য ২৫০ জন পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়ন করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক কেৌতূহল ছিল তাদের প্রিয় লেখকের সমাধি কোথায় হবে তা নিয়ে। সকালে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, Èওনার (হুমায়ূন আহমেদ) শেষ ইচ্ছা ছিল নুহাশপল্লী। ওনাকে আর কষ্ট দিয়েন না। নুহাশপল্লীতেই ব্যবস্থা করেন।’ তবে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের অন্য সদস্যরা চেয়েছেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী বা বনানী কবরস্থানে তঁার দাফন হোক। পরিবারের মধ্যে মতপার্থক্য অবসানে গতকাল রাতভর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা কয়েক দফা দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকের পর গতকাল রাত আড়াইটার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে হুমায়ূনের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশপল্লীতেই দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সদ্ধিান্ত হয়েছে। জাফর ইকবাল বলেন, Èতঁার (হুমায়ূন) সন্তানেরা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করতে চাইলেও তারা এটাও চায়নি যে, তাদের বাবা বারডেমের হিমঘরে থাকুক। তারা যেকোনোভাবে তঁাকে মাটির নিচে ফিরিয়ে দিতে চায়। এ জন্য নুহাশপল্লীতে কবর দেওয়ার সদ্ধিান্ত মেনে নিয়েছি। আর দেশের মানুষও যেন মনে না করতে পারে যে আমরা তঁাকে নিয়ে টানাহঁেচড়া করছি।’ জাফর ইকবাল আরও বলেন, Èতঁার প্রথম পক্ষের সন্তানেরা খুব করে চাচ্ছিল, তঁাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে। তাহলে তারা সহজে যেতে পারত। দেশের মানুষও সহজে যেতে পারত। আমাদের মা-ও এটা চাচ্ছিলেন। আমরা দিনভর শাওনকে বোঝাতে চষ্টো করেছি। বোঝাতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু বোঝাতে পারিনি।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জাফর ইকবালের সঙ্গে ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও পরিচালক শাইখ সিরাজ প্রমুখ। নুহাশপল্লীতে দাফনের সদ্ধিান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন হুমায়ূনের স্ত্রী শাওন। ধানমন্ডিতে লেখকের বাড়ি Èদখিন হাওয়া’য় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, Èগত ১২ তারিখ (জুলাই) সকাল পঁাচটায় অপারেশনে যাওয়ার আগে তিনি (হুমায়ূন) বলছিলেন, Íআমি জানি আমি ভালো হয়ে যাব। তবে আমার যদি কিছু হয়, আমাকে নিয়ে ওরা অনেক টানাহঁেচড়া করবে, তুমি শক্ত থেকো, কুসুম। আমাকে নুহাশপল্লীতে নিয়ে যেয়ো”।’ এ বক্তব্যের কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকার কথা জানিয়ে শাওন বলেন, Èকোনো স্ত্রী, কোনো আত্মীয়স্বজন অপারেশনের আগের দিন রাতে বলা কথা কি রেকর্ড করে রাখে?’ হুমায়ূন আহমেদের প্রথম পক্ষের পরিবারের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে শাওন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, Èজীবিত অবস্থায় যারা হুমায়ূন আহমেদের পাশে দঁাড়ায়নি, পারিবারিক মিটিং করেনি, তাদের অধিকার নেই এখন মিটিং করার।’ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃতু্য হয়। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।প্রথম আলো

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV