Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের কাটতি বেড়েছে তিন গুণ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 45 বার

প্রকাশিত: July 25, 2012 | 2:13 AM

 বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের কাটতি বেড়ে গেছে। তার মৃত্যুর পরপরই প্রায় তিন গুণ হয়ে গেছে বই বিক্রির পরিমাণ। প্রতিটি দোকানে পাঠকরা খুঁজছেন প্রয়াত এ লেখকের বই। এমনকি যারা কোন দিন তাকে পড়েননি, তারাও এখন চাইছেন পড়তে। একই ক্রেতা হুমায়ূনের প্রকাশিত সব বই কিনে নিয়েছেন। চাহিদা আসছে ঢাকার বাই েথেকেও। এভাবে চাহিদা বেড়ে যাওয়া প্রকাশকরা নতুন সংস্করণ বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরিদ উদ্দিন আহমদ, আলমগীর শাহরিয়ার, জসীম উদ্দীন ও উৎপল রায় । বাংলাবাজার: জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে সৃজনশীল প্রকাশনা জগতে কি প্রভাব পড়বে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাবাজারের প্রকাশকরা বলেছেন, প্রকাশনা শিল্পের জন্য তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। ‘শ্যামল ছায়া’র প্রকাশক স্টুডেন্ট ওয়েজের স্বত্বাধিকারী লিয়াকতউল্লাহ বই মেলার বেস্ট সেলার লেখকের নতুন বই প্রকাশ হবে না, এটা নতুন প্রজন্মকে বইবিমুখ করতে পারে বলে মনে করেন। কেউ কেউ বলছেন, হুমায়ূন আহমেদ একটা ব্র্যান্ড ছিলেন। তার মৃত্যতে যারা তার বই প্রকাশ করেছেন তাদের ব্যবসার সাময়িক ক্ষতি হবে। তবে সামগ্রিক প্রকাশনা ক্ষতির মুখে পড়বে না। লেখকের জনপ্রিয় আটটি বইয়ের প্রকাশক খান ব্রাদার্সের অন্যতম স্বত্বাধিকারী কে এম ফিরোজ খান বলেন, হুমায়ূন ছিলেন গল্পের সাগর। সে সাগর শুধু বাংলাবাজারকেই সমৃদ্ধ করেনি টিকিয়ে রেখেছে বইয়ের ব্যবসাকে। বাংলা বইয়ের পাঠক বাড়িয়েছে বহুগুণে। তার আশা, হুমায়ূনের পর আরও কেউ আসবেন, যিনি পাঠক ধরে রাখবেন। হুমায়ূনের সর্বাধিক বই প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। গতকাল দুপুরে সেখানকার বিক্রয় কেন্দ্রে ব্যস্ততা চোখে পড়ে। লেখকের মৃত্যুর পর তার বই বিক্রিতে বিস্ময়কর সাড়া পড়েছে বলে জানান সাহিদুল কবীর। নজরুল ইসলাম নামে উত্তরার বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, আজ তিনি এক লাখ টাকার বই কিনেছেন। অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বধিকারী মনিরুল হক ১৯৯০ সালে হিমু চরিত্রের প্রথম বই ‘ময়ূরাক্ষী’ প্রকাশ করেন। একই প্রকাশনী থেকে ২০১১ সালে মিসির আলী চরিত্রের শেষ বই ‘পুফি’ প্রকাশিত হয়। তিনি লেখকের পুরনো বইগুলো নতুন করে পাঠকপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করেন। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ক্রেতাদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যেও তার বই সংরক্ষণের ধুম পড়েছে। তারা অতিরিক্ত বইয়েরও অর্ডার দিচ্ছেন। লেখকের মৃত্যু পর কোনও কোনও প্রকাশনী দ্বিগুণ আবার কেউ তিন গুণও বই বিক্রি করছে। বাংলাবাজারে হুমায়ূনের পুরনো ও নতুন বইয়ে আগ্রহ বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে- উপন্যাস বৃষ্টি ও মেঘমালা, ছায়াবীথি, একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, পারুল ও তিনটি কুকুর, অপেক্ষা, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, সমুদ্র বিলাস, শ্রেষ্ঠ হিমু, দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, দারুচিনির দ্বীপ, রূপালী দ্বীপ, চক্ষে আমার তৃষ্ণা, হিমুর রূপালী রাত্রি, দরজার ওপাশে, পঞ্চকন্যা, ছোট গল্প- মিসির আলী, আত্মজীবনী- আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই, মঞ্চ নাটক- ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- আগুনের পরশমণি, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস প্রভৃতি। পার্ল পাবলিকেশন্সের ম্যানেজার মোহাম্মদ আজিজ জানান, সারাদেশে থেকেই চাহিদা আসছে। তার দোকানে কয়েকটি বই বেশ ভাল চলছে। হাতেখড়ির আবু তাহের সরকার, আফসার বাদ্রার্সের ফারুক আহমেদ, কাকলী প্রকাশনীর ইমরান আহমেদ বলেন, তার প্রতি সম্মান দেখানো ও আবেগের কারণেই মূলত ক্রেতারা আরও বেশি বই কিনছেন। অনুপম প্রকাশনীর কর্মকর্তা শাহিন বলেন, আগামী মেলায় তিনি না থাকায় মেলাকে বিধস্ত মনে হবে। জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর ম্যানেজার শরিফ হাসান জানান, পুরানো বইয়ের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক এবং গতিধারা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী সিকদার আবুল বাশার বললেন, হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের পাঠক তৈরি করেছেন। তার বইতে সাহিত্যের ক্ষুধার নিবারণ হয় না। তার মতে, বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে গুটিকয়েক প্রকাশকদের ক্ষতি হবে। গোটা শিল্পের নয়। নিউ মার্কেট: হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ভক্ত ও ক্রেতার ভিড় লেগেছে বইয়ের দোকানে। যেখানে সমপ্রতি প্রকাশিত ‘হুমায়ূন সমগ্র’ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গত ১৯ তারিখের পর অনেক লাইব্রেরিতে শুধুমাত্র হুমায়ূনেরই ৭০০ থেকে ১২০০ বই বিক্রি হয়েছে। এমনও ক্রেতা আছেন যিনি একাই ৭০টি বই কিনেছেন। নিউ মার্কেট ও নীলক্ষেতের শ’ খানেক দোকানে তার মৃত্যুর চারদিনের মাথায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এছাড়া হিমু ও মিসির আলী সঙ্কলনও ভাল বিক্রি হচ্ছে। তবে তার অপ্রকাশিত বই ‘দেয়াল’কে ঘিরেও ক্রেতা ও ভক্তদের মাঝে চাহিদা ও আগ্রহ রয়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। সকালে নিউ মার্কেট এলাকার ১নং গেট দিয়ে ঢুকতেই সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রের পরিচালক জহির হোসেন জানান, একাই ২৫ থেকে ৭০ কপি পর্যন্ত কিনে নিচ্ছেন অনেকে। এ পর্যন্ত সাড়ে ১১০০ কপি বই বিক্রি হয়েছে। সকাল থেকে ১৮ হাজার টাকার শুধু হুমায়ূন স্যারের লেখা বই বিক্রি করেছি। আলীগড় লাইব্রেরির জুম্মা আলী জানান, সকাল থেকে তিনি ৫৫টি বই বিক্রি করেছেন। ফেয়ারডিল লাইব্রেরির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার সেলফে ৩০০ বই ছিল হুমায়ূনের। এখন আছে মাত্র ৪টি। বুক মার্ট লাইব্রেরিতে বই কিনতে আসা প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটি ছাত্র শ্যামল চক্রবর্তী জানান, স্যারের লেখা বই সবসময়ই পড়তাম। স্যারের নতুন বই বের হলে কিনতাম। মাঝে মধ্যে প্রিয়জনকে স্যারের লেখা বই উপহার দিতাম। এখন খুব খারাপ লাগছে। জাকিয়া সুলতানা বলেন, তার মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। তাকে মনে রাখতে গতকাল ৭০টি বই কিনেছি। কিছু নিজের কাছে রেখে বাকিগুলো উপহার দেবো প্রিয়জনকে। বই বাজার প্রকাশনীর রবিউজ্জামান রবি জানান, এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে হুমায়ূনের লেখা বই। বেশি বিক্রির লক্ষ্যে বাইরে ফুটপাতেও দোকান বসানো হয়েছে। আজিজ সুপার মার্কেট: পাঠশালা, স্বরব্যঞ্জনের সত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এমনিতেই হুমায়ুন আহমেদের পাঠক অসংখ্য। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার বইয়ের প্রতি পাঠকে ঝোঁক আরও বেড়ে যায়। আর মৃত্যুর পরদিন থেকেই পাঠকেরা তার বইয়ের খোঁজে ভিড় করছেন। তার রচিত সত্তর দশকের সব উপন্যাসের পাঠক বেশি মনে হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ফারজানা দিবা জানালেন, তার লেখা অনেক বই পড়েছি, অনেককে উপহারও দিয়েছি। হুমায়ূন আহমেদের একটি প্রিয় চরিত্র ‘রূপা’। যা তিনি বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ করেছেন। সে রূপার মাঝে আমার চরিত্রের অনেকটাই খুঁজে পাই। তার মতে, একজন লেখক সবচেয়ে বড় অর্জন, সব শ্রেণীর পাঠকদের মুগ্ধ করা। যা পেরেছেন হুমায়ূন আহমেদ। গত কয়েক দিন দেশটা যেন হুমায়ূন ম্যানিয়ায় আক্রান্ত। জনান্তিকের সাম্য আহমেদ জানালেন, হুমায়ূন আহমেদের বই আমাদের প্রকাশনায় ছিল না। কিন্তু পাঠক তার লেখা বিভিন্ন গ্রন্থের জন্য প্রতিনিয়ত আসছে।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV