Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

আমার স্কুল আমার গায়েবি জানাজা পড়ে ফেলেছে:জীবিত থাকতেই জানাজা পেয়ে গেলাম-হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 117 বার

প্রকাশিত: August 5, 2012 | 6:13 PM

গাজী কাশেম, নিউ ইয়র্ক : স্কুল দপ্তরি ত্রিশ মিনিটকাল ঘণ্টা বাজিয়ে চলছে। বিদায়ের ঘণ্টা। ঘণ্টাধ্বনিতে শোকবার্তা। স্কুল ছুটি। ছাত্র-ছাত্রীরা মৃত্যুসংবাদে বিলাপ করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কাঁদতে কাঁদতে ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ি ফিরছে। গতিতে বয়ে চলা বেবিট্যাক্সি, রিকশা, সাইকেল সব স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী রাস্তা রেখে ক্ষেতের মধ্যখান দিয়ে স্কুলপানে ছুটে চলছে। প্রধান শিক্ষক শোকে মূর্ছা গেছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের এক হাতে রুমাল, রুমাল দিয়ে তিনি বার বার চোখ মুচ্ছেন। একজন ছাত্র তার কানে মোবাইল ফোন ধরে আছে, আরেক ছাত্র ঠান্ডা রুমাল ভিজিয়ে স্যারের মাথা ঠান্ডা রাখছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক অনেক কষ্টে আমেরিকায় ফোনের লাইন পেয়েছেন। তিনি লাইন পেয়ে অঝোর ধারায় কেঁদে উঠলেন, ম্যাডাম, আমরা হুমায়ূন স্যারের জন্য গায়েবি জানাজা পড়ায়ে ফেলেছি। স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছি। সর্বত্র শুধু শোকের ছায়া। আমরা শোকাভিভূত। আপনাকে সান্ত¡না দেয়ার মতো আমাদের কোনো ভাষা নেই। আমরা এখন কী করব বলেন? কথাগুলো শাওনকে বলতে বলতে সহকারী প্রধান শিক্ষক হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।

সেদিন ২৭ ফেব্র“য়ারি ২০১২, সন্ধ্যা ১০ ঘটিকা। অন্যদিনের মতো আমার গৃহে প্রবেশ। আমি গৃহপরিচারিকাকে ছোট আওয়াজে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার কোথায়? গৃহপরিচারিকা আমাকে কিছু বলার পূর্বে, ভগ্নকণ্ঠে ভেতর থেকে আওয়াজ ভেসে এলো, ‘হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন।’ এরপর একটু নিচু গলায়, ‘তার গায়েবি জানাজাও হয়ে গেছে। এখন কুলখানি বাকি।’ একটু হলেও ভয় পেয়ে গেলাম, কণ্ঠটা একটু ভারী এবং ভিন্ন। ‘তুমি ভিতরে আস।’ তিনটা কক্ষের দরজাই খোলা। কোথাও দেখতে পারছি না। ছোট রুমটার দিকে চোখ গেল। দরজাটা অর্ধভেজানো। দরজার আড়াল থেকে সেই বাক্য দুটি ভেসে আসছে। তিনি ফ্লোরে বসে ছবি আঁকছেন। আমাকে বললেন, বস। আমি বসলাম। শাওন খাটে বসে আছেন।

: কোনো দুঃসংবাদ পেয়েছো?

: জি না স্যার।

: যাকে দেখছো সে তো হুমায়ূনের প্রেতাত্মা।

তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘আমার স্কুল আমার গায়েবি জানাজা পড়ে ফেলেছে। জীবিত থাকতেই জানাজা পেয়ে গেলাম। এক সপ্তাহের জন্য স্কুল ছুটিও দিয়ে দিয়েছে। এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া। কে ছড়াচ্ছে এ ধরনের গুজব, বলতো দেখি? খবরটার সততা যাচাই করে নিবি, তা না করে, শাওনকে ফোন করে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিয়েছে। এ কোন বলরামের চ্যালাদের সঙ্গে আমার বসবাস।’ আমি বললাম, স্যার এধরনের সংবাদে নাকি হায়াত বাড়ে শুনেছি। এ সংবাদে তাঁর মনটা খারাপ দেখলাম। ছবি এঁকে যাচ্ছেন আর কথা বলছেন।

নিষাদ চিৎকার করে নিনিতকে বাবার কক্ষে ধরে এনেছে। নিনিত আসামির মতো মাথা নত করে বাবার ছবি আঁকা দেখছে। নিষাদ চলে গেছে, নিনিত আবার গিয়ে টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। নিষাদের এটম বোম ফাটার মতো শব্দ। শাওন রেফারি সেজে নিনিত-নিষাদের ঝগড়া মেটাতে ছুটে গেছেন। ইলিশ ভাজার গন্ধে পুরো ঘর মৌ-মৌ করছে। তিরমিজি (গৃহপরিচারিকা) শরিষার তেলে ইলিশ ভাজছে।

ফিরে যাই পূর্বের বয়ানে। হুমায়ূন আহমেদ আধুনিকতার আদলে তাঁর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুর গ্রামে একটা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্কুলে কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রায় সবই আছে। এই বিদ্যালয় তাঁর মায়ের ইচ্ছার এক বিরাট প্রতিফলন। হুমায়ূন আহমেদের শহীদ বাবাসহ সমস্ত শহীদদের স্মৃতির এক মাইলফলক। স্কুলের যাবতীয় খরচও তিনি বহন করে যাচ্ছেন। সেই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুসংবাদ শুনে চিলের পেছনে দৌড়চ্ছিলেন।

এবার হুমায়ূন আহমেদ রংতুলি রেখে সোজা হয়ে বসলেন। ‘আরেকটা ঘটনা শোনো, এ কোন উল্লুকিপনা বলো। আমার ক্যান্সারের সংবাদ শুনে ময়মনসিংহ শহরের রাস্তায় রাস্তায় মানববন্ধন রচনা করা হয়েছে। মানববন্ধন কেন করতে হয় এটাও তারা জানে না।’ একটু হাসলেন, ‘ব্যাপারটা এটা বোঝায়, আমার কেন ক্যানসার হল, তারা আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।’ এই বলে বেশ হাসলেন। ‘কেমন লাগে কও।’

আহারে কত অদ্ভুত মানুষের ভেতর দিয়েইনা আমরা পার হচ্ছি। তিনি আবার রংতুলি নিয়ে ছবি আঁকতে লাগলেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV