Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ ছাড়াও আরো অনেকেই নিয়েছেন নিউইয়র্কের ফ্রি চিকিৎসার সুযোগ!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 85 বার

প্রকাশিত: August 9, 2012 | 11:53 AM

মাহফুজুর রহমান, নিউইয়র্ক, ৯ আগষ্ট : নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর নিউইয়র্কের বাংলা সাপ্তাহিকগুলো একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে চমক সৃষ্টি করতে গিয়ে তার (হুমায়ূনের) সরকারী খরচে (মেডিকেইড-এ) চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেছে। কিন্তু এ তথ্যে প্রবাসী বাঙ্গালীরা তেমন বিস্মিত হননি। কারন হুমায়ূনের আগে বাংলাদেশের অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তিরা নিউইয়র্কে এসে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার এই সুযোগ নিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দেশের ডাকসাঁইটে রাজনৈতিক নেতা আবার কেউবা অভিনেতা বা অভিনেত্রী অথবা বড় মাপের সঙ্গীত শিল্পী। তালিকায় আরও আছেন দেশের বড় বড় শিল্পপতি থেকে শুরু করে বিচারক, সাহিত্যিক-সাংবাদিকও।

নেতাদের মধ্যে চিকিৎসা নেয়া কেউ কেউ ইহলোকও ত্যাগ করেছেন। যেমন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মান্নান ভূইয়া। আর জীবিতদের অনেকেই প্রতি বছর নিউইয়র্কে এসে ফ্রি চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আবার গ্রীণকার্ডধারী। এ ধরণের চিকিৎসা নেয়ার পাল্লায় এগিয়ে আছেন বিরোধীদল বিএনপির নেতারা। এ দলের সংসদীয় গ্রুপের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা পুলিশের নির্যাতনে আহত হবার পর গত এক বছরে বেশ ক‘বার নিউইয়র্কে এসে চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এক নেতা যিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের এবং এক এগারোর পুরো সময়টাই নিউইয়র্কে অবস্থান করে শুধু সাধারন চিকিৎসা না, দুর্ঘটনা জনিত মামলায় বিশেষ চিকিৎসা করিয়েছিলেন ইন্স্যুরেন্সের বড় অংকের অর্থ পাওয়ার জন্য। এক সময়ের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনীতির প্রবল পুরুষ দুয়েকজন কমিউনিস্ট নেতাও নিউইয়র্কে এসে এরকম ফ্রি চিকিৎসা করেছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্ঠাও গত দুবছরে তার নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বেশ ক‘বার নিউইয়র্কে এসেছেন। শেষবার বেশ ক‘মাস থেকে স্ত্রীর দূরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতা ও বিরোধীনেত্রীর উপদেষ্ঠা নেতা দুজনই আবার আমেরিকার গ্রীণকার্ডধারী বলে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতাও এই তালিকায় রয়েছেন। তিনিও গ্রীণকার্ডধারী। আরো আছেন পরাক্রমশালী (!) এক জাসদ নেতাও এই চিকিৎসা সুযোগ গ্রহণকারীদের মধ্যে।

রাজনীতিবিদের এরকম ফ্রি চিকিৎসা পেতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকেন তাদের মতাদর্শের চিকিৎসকরা। এসব চিকিৎসকরা নিউইয়র্কের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরতর চিকিৎসক। তারা বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর বের করে তাদের প্রিয় নেতাদের লক্ষ লক্ষ ডলারের চিকিৎসা বিনামূল্যে করে দিয়ে নিজেদের ধন্য মনে করেন। সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল জব্বার ও সুবীর নন্দী এখানকার এই চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহন করে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে গিয়ে আবার তাদের সৃষ্টিশীলতা বজায় রেখেছেন। অভিনেতাদের চেয়ে অভিনেত্রীরা এখানকার ফ্রি চিকিৎসার সুযোগটি বেশী ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেকেই এখানে তাদের সন্তান জন্ম দেবার বিষয়টি সম্পন্ন করে একধারে বিনা খরচে বা অল্প খরচে তা সম্পন্ন করেন এবং একই সাথে তাদের নবজাতক সন্তানকে আমেরিকার পাসপোর্টের অধিকারী বানাচ্ছেন। এটা সবাই জানেন যে, বাংলাদেশের টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় অভিনেতা দম্পত্তি নিউইয়র্কে এসে দীর্ঘদিন অবস্থান করে এখানেই তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ করিয়েছেন। অভিনেত্রীদের কেউ কেউ আবার তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ প্লাস্টিক সার্জারীও করিয়ে নিচ্ছেন কম খরচে বা নামমাত্র ব্যয়ে। এসব সুবিধা নিতে হুমায়ূন আহমেদের বেলায় যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ ভূয়া ক্গজ পত্র দেখিয়ে মেডিকেইড সিস্টেমের কোন ইন্স্যুরেন্স নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অথবা না হয়েও বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক নেতা এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাধারন চেক আপ থেকে শুরু করে হৃদরোগের মত বিশাল ব্যয়ের চিকিৎসা সুযোগ গ্রহন করছেন। বাংলাদেশের অনেক শিল্পপতি যাদের বেশীর ভাগই আমেরিকার গ্রীণকার্ডধারী তারা এখানে এসে নিম্ন আয়ের কাগজপত্র দেখিয়ে উন্নত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা করিয়ে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী কলা-কুশলী যারা গ্রীণকার্ডধারী তারা এই সুযোগ অব্যহতভাবে ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর সামান্য আয় দেখিয়ে ট্যাক্স ফাইলও করে থাকেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে তাদের বাড়তি সুবিধা হয়, কারন তখন আর তাদেরকে আর মিথ্যা কাগজ-পত্রের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। আর তাই দেখা যায় বছরের প্রথম দিকে জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ট্যাক্স ফাইলিংয়ের মওসুমে এদের অনেকেই বেড়ানোর নামে আমেরিকায় এসে ট্যাক্স ফাইলিংয়ের কাজটা সেরে নেন এবং একই সাথে চিকিৎসাও করিয়ে যান।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV