দুর্নীতি তদন্তের পরই পদ্মা সেতুতে মিলবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন!

এজাজ হোসেন : প্রথমে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হবে। তারপর সেই তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই পদ্মা সেতুতে মিলবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন। গতকাল বুধবার সকালে বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে এ কথাটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই বিবৃতিতে খানিকটা অভিযোগের সুরে বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সামপ্রতিক অবস্থানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে বিবৃতি আকারে নতুন এই ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে, বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ এখনো আছে। এ কারণে আমরা এটি স্পষ্ট করেছি যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন করে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবকিছু ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে প্রকল্পের ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক ও সহ-অর্থায়নকারীরা আরও ভালভাবে জানতে পারে। কেবলমাত্র এসব বিষয়ের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ইতিবাচকের প্রতিবেদনের পরই বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে অগ্রসর হবে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্ণ বিবৃতি :গণমাধ্যমে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে আমরা নিম্নলিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা জরুরি মনে করছি:
বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার প্রদান করেছে। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাংক ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ বাতিল করে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে সরকার নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সম্মত হয় যে: তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সকল সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গকে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে ছুটি প্রদান;
এই অভিযোগ তদন্তের জন্য বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি বিশেষ তদন্ত ও আইনি দল গঠন;
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি এক্সটারনাল প্যানেলের কাছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যের পূর্ণ ও পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার প্রদান যাতে এই প্যানেল তদন্তের ব্যাপকতা ও সুষ্ঠুতার ব্যাপারে উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ দিতে পারে;
এরপর সরকার পদ্মা সেতুর অর্থায়নের বিষয়টি আবারো বিবেচনা করার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানায়।
বিশ্বব্যাংক সার্বিকভাবে বাংলাদেশের এবং বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। এ কারণেই আমরা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে যা বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী দাতাদের প্রকল্পের ক্রয় কর্মকাণ্ড আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিবে। শুধুমাত্র এই সকল পদক্ষেপসমূহের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের এক্সটারনাল প্যানেল থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।
একটি দুর্নীতিমুক্ত সেতু পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে এগোনোর জন্য আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে অবাধ ও সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নানা পর্যায়ে দেন দরবারের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক নতুন করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়। তাদের এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের শর্ত সন্তোষজনকভাবে পূরণ করায় এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্মত হওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে নতুন করে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ইকবাল মাহমুদ ২৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা প্রকল্পে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক নতুন কোনো শর্ত দেয়নি। নতুন করে ঋণ চুক্তি করার বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করছেন বলে যে অভিযোগ বিশ্বব্যাংক এনেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে তার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির গন্ধে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি যে হয়েছিল, সেটা তো প্রমাণ করতে হবে। দুর্নীতির অনুসন্ধানে বিশ্ব ব্যাংককে এখন ‘অনেক বেশি অংশীদারিত্ব’ দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে বড় ধরনের কন্ট্রাক্ট শেষ করে কাজ শুরু করা হবে।
১ অক্টোবর আসছে বিশ্বব্যাংক, জাইকা এডিবির প্রতনিধি দল
পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বিষয়ে বৈঠক করতে আগামী ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও এডিবির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে এক বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে আজ পদ্মা সেতুর প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক ছিল। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরী, সদস্য আইনুন নিশাত উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী ও গওহর রিজভী কোনো কথা বলেননি। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি। এটি একটি অনির্ধারিত বৈঠক ছিল।’
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া যাবে এ বিষয়ে কিছু সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন, বুধবার বিশ্বব্যাংক এমন একটি বিবৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ইকবাল বলেন, ‘কিছু কর্মকর্তা বলতে বিশ্বব্যাংক কী বুঝিয়েছে, তা বিশ্বব্যাংককেই জিজ্ঞাসা করুন। এর বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ইত্তেফাক
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes