অটিস্টিকদের পাশে দাঁড়াতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব – প্রতিবন্ধী মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান সায়মার
নিউইয়র্ক : শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। ‘অটিজম আক্রান্ত শিশু, তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা’ শীর্ষক ওই প্রস্তাব উত্থাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইসিওএসওসি চেম্বারে এক বিশেষ সভা হয়।বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএ মোমেনের সভাপতিত্বে সভায় জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি ভুক জেরেমিক উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবে সবার সমর্থন চেয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে ও গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন শেখ সায়মা হোসেন পুতুল।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে ও গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন শেখ সায়মা হোসেন পুতুল বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে অটিজম আজ আন্তর্জাতিক সমস্যা। এই সমস্যা দূরীকরণে পারিবারিক পর্যায়ে থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ মনোযোগই মূল হাতিয়ার। মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে কোন রকম হেলা না করে তার বিকাশের অন্তর্হিত সম্ভাবনাটুকু যাচাই করে তাকে সহযোগিতা করতে হবে। অটিস্টিক শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব উত্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
‘অটিজম আক্রান্ত শিশু, তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা’ শীর্ষক এই প্রস্তাব উত্থাপন উপলক্ষে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইকোসক চেম্বারে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভুক জেরেমিক, মহাসচিবের বিশেষ দূত ও সহকারী মহাসচিব শামসাদ আকতার, ইকোসকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস আলফন্সো ডি অ্যালবা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. জ্যাকব কুমারেসান, অটিজমকে স্বীকৃতি প্রদানের চলমান আন্দোলন ‘অটিজম স্পিকস’র প্রতিষ্ঠাতা বব রাইট ও সুজান রাইট, জাতিসংঘে ফিলিপাইনের স্থায়ী প্রতিনিধি লিব্রান এন ক্যাবাকতুলানসহ আরো অনেকে বক্তৃতা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সায়মা হোসেন বলেন, অটিজম মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতা, যা শিশুর জন্মের তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পেয়ে থাকে। প্রসঙ্গত তিনি বিশ্বে অটিজমের তথ্য চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮৮ জনের একজন এবং সারবিশ্বে মোট ৭০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭ কোটি মানুষ অটিজমে আক্রান্ত। সায়মা হোসেন পুতুল বলেন, “প্রতিবছর যে সংখ্যায় এইডস, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয়, তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় যোগ হচ্ছে অটিস্টিক শিশু। আমাদের দেশে গত দুই বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারিÑ এই অটিজম আক্রান্তদের জন্য দরকার বহুমুখী সহায়তা।” বাংলাদেশের প্রস্তাবে মানসিক প্রতিবন্ধী সমস্যায় আক্রান্তদের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘে এই রেজুলেশন গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি আমাদের মনোযোগ পক্ষান্তরে পারিবারিক জীবনে অর্থনৈতিক অবদান, সামাজিক অংশ গ্রহণ এবং বৃহত্তর অর্থে বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এই কারণে তিনি অটিজমের ব্যাপারে ব্যক্তি পর্যায় থেকে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরীর জন্য সদস্য রাষ্ট্র সমূহের এই রেজুলেশন পাশের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন।
রাষ্ট্রদূত এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন এটি প্রস্তাব আকারে গ্রহণের জন্য ১২৯টি দেশের সমর্থন দরকার। তবে প্রস্তাবের খসড়া বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ, ক্যারিবীয় নয়টি দেশ, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ কো-স্পন্সর হয়েছে। তিনি আশা করেন এটি প্রস্তাব আকারে গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশের সমর্থন মিলবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়ায় তার শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সহকারী মহাসচিব শামসাদ আকতার। বান কি-মুন তাঁর বার্তায় বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অটিজম আক্রান্তদের সহায়তায় আরো বড় পরিসরে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তাত্ত্বিকভাবে আমরা যা বুঝতে সক্ষম, সব ক্ষেত্রেই এর চর্চা হয় না। শুরুতেই অটিজম আক্রান্তদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরির জন্য উপযোগী করে তুলতে শিক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দিতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব তার বার্তায় অটিজমসহ সব ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।
ভুক জেরেমিক বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা ঘাটতি দূর করতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে সচেতনতা তৈরিতে আমাদের আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের খসড়া প্রস্তাবের পক্ষেও সমর্থন ব্যক্ত করেন অধিবেশনের সভাপতি। তহবিল গঠনের বিষয়েও সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। ভুক জেরেমিক জানান, আগামী বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যার বিষয়বস্তু হিসাবে থাকবে মানসিক প্রতিবন্ধিতা। পাশাপাশি শিগগিরই এর জন্য সহায়তাকারী হিসাবে কয়েকজনকে নিয়োগ করা হবে। সভায় উপস্থিত সবাই বাংলাদেশের প্রস্তাবকে যুগোপযোগী অভিহিত করেন এবং প্রস্তাবে সায় দিতে সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests