Tuesday, 21 July 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান শিশু ও নারীর কল্যাণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান ড. তিতুমীরের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ইউএসএ’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণ সভা Trump Admin Rescinds Public Charge Rule BOROUGH PRESIDENT GIBSON ANNOUNCES SIGNIFICANT INVESTMENTS IN THE BRONX EU and G77 express support for Bangladesh’s smooth and sustainable LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেকে বিরত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোর্টে মামলা হবে: নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে হুমকি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 184 বার

প্রকাশিত: January 7, 2013 | 12:13 PM

এনা, নিউইয়র্ক, রাজনৈতিক বিদ্বেষপূর্ণভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অহেতুক অপপ্রচার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলীয় নেতারা বিরত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল কোর্টে মানহানীর মামলা দায়েরের হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। তারেক রহমানের পক্ষে ব্যারিস্টার মারহবুবউদ্দিন খোকন কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদত্ত নোটিশের উদ্ধৃতি দেন বিএনপির প্রবাসী নেতারা। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের মূল কাজ হচ্ছে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা, গত ৪ বছরে সে দায়িত্বটি তারা যথাযথভাবে পালন করেছেন। একইসাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সর্বস্তরে দুর্নীতির বিস্তার ঘটিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাঠিয়েছেন, অথচ অপবাদ দেয়া হচ্ছে তারেক রহমানকে। এহেন জঘন্য মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলার বিকল্প নেই বলেও নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন।

৬ জানুয়ারি রাতে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ‘টক অব দ্য টাউন’ রেস্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এ হুমকি প্রদান করা হলো। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভেদ-বিভক্তি পরিহারের সংকল্পও ব্যক্ত করা হলো। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনপি নেতা ও তারেক পরিষদের সভাপতি আকতার হোসেন বাদল এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং সেক্রেটারী সাইদুর রহমান সাঈদ, তারেক পরিষদের মহাসচিব জসীমউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয় যে, ১৯ জানুয়ারি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় ধরনের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে বাংলাদেশ থেকে স্বৈরাচার হঠাতে আন্তর্জাতিক জনমত জোরদারকল্পে। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ঘাতকদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে সীমাহীন টালবাহানার সমালোচনা এবং জনতার দাবি হিসেবে কেয়ারটেকার সরকার পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কার্যক্রম চলছে ৪ খন্ডে বিভক্ত হয়ে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সে বিভক্তি পরিহার করে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শরাফত হোসেন বাবু এবং আকতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের অঙ্গিকার করলো এ সংবাদ সম্মেলনে। এ ঘটনায় অপর দুই গ্র“পেও ইতিবাচক সারা পড়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যের ব্যাপারে সকলকে জোট বাধার কথা বলেছেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ মুনাজাত করা হয় নিউইয়র্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলমের দ্রুত আরোগ্যে। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপিকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় স্বৈরশাসনকে চিরস্থায়ী করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, একের পর এক আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের বিরদ্ধে মিথ্যাচার, সাজানো মামলার ঘটনা ঘটছে, মামলার হিংস্র থাবা থেকে বাদ যাচ্ছেন না ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে লাগাতার মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গুম করা হয়েছে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ অনেককে।

আজ আর কারো অজানা নেই যে, বর্তমান শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই সংবাদ পরিবেশন করছেন তারাই রোষানলে পড়ছেন। রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেই শুধু নয়, সাংবাদিক-সম্পাদকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হচ্ছে। হুমকি-ধামকির ঘটনা অহরহ ঘটছে। সরকার একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলছে, অপরদিকে মিডিয়া দলন ও বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করার মতলববাজিতে লিপ্ত রয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগররুনি খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা দূরের কথা এখন পর্যন্ত তদন্তই নাকি শেষ হয়নি। রাজধানী ঢাকায় নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া এই সাংবাদিক দম্পতির খুনীদের গ্রেফতারের জন্যে সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা আন্দোলনে রয়েছেন। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা এবং ইটিভির সাহসী সাংবাদিকতাকে রুখে দিতে সরকার নানা ধরনের স্বৈরনীতি গ্রহণ করেছে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তিনি বেশ কদিন যাবত গ্রেফতারের আতংকে অফিসেই দিনাতিপাত করছেন।

প্রবাসীদের প্রিয়নেতা নাজিমউদ্দিন আলমকেও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিউইয়র্কে আসতে হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ছবি উঠাতে গিয়ে ৪ সাংবাদিক বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে। শুধু তাই নয়, পরিচয় পত্র দেখিয়েও রেহাই পাননি ঐ সাংবাদিকরা। তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আপনারা সকলেই জানেন, ১/১১তে গঠিত অবৈধ জরুরী সরকারের সময় প্রিয়নেতা তারেক রহমানকে গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আমরা নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘তারেক মুক্তি আন্তর্জাতিক কমিটি’ গঠন করেছিলাম। রাজপথ এবং মূলধারা ও জাতিসংঘে লাগাতার লবিং চালিয়েছি। ঐ জরুরী সরকার তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্যে মুক্তি প্রদানের পরই বিএনপি নেতৃবৃন্দের পরামর্শ অনুযায়ী সেই সংগঠনের নাম পাল্টিয়ে ‘তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় কমিটি’ করা হয়েছে।

এ সংগঠনের ব্যানারে নিউইয়র্কে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিএনপির কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। একইসাথে নানাবিধ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় তারেক পরিষদের ব্যানারে বেশ কয়েকটি ঐক্য প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টারাও তারেক পরিষদের ঐক্য প্রক্রিয়ার সাক্ষী। বিএনপির ঐক্য সুসংহত করতে বিএনপির ব্যানারের বিকল্প নেই ভেবেই সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করছি। তবে আমরা আরো অনেকের মত নিজেদের কোন পদ-পদবীতে অধিষ্ঠিত করিনি। কারণ, আমরা পদ চাই না, আমরা ঐক্য চাই এবং বাংলাদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ একটি প্ল্যাটফরম চাই এই নিউইয়র্কে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, অকথ্য নির্যাতনের ভয়ে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই এ প্রবাস থেকে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হেনস্থার বিরুদ্ধে। বিচার বিভাগ আজ সরকার দলীয় অঙ্গলি হেলনে পরিচালিত হচ্ছে। বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বলে কেউই মনে করে না। ফলে বহুল প্রত্যাশিত আইনের শাসন আজ চরমভাবে অনুপস্থিত বাংলাদেশে। এক ভয়ংকর পরিস্থিতি দেশের নীরিহ মানুষদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে শহীদ জিয়ার সৈনিকদের ঐক্যের ভীষণ প্রয়োজন। হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ারমার্কেটে হরিলুট, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে কাজ শুরুর আগেই ঘুষ বাণিজ্য, প্রশাসনের সর্বস্তরে ঘুষ-দুর্নীতি এবং গত ৪ বছরে সরকারের দু:শাসন-অপশাসন থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি উঠেছে তার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে আমাদের ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য দরকার। সে ঐক্যেরই উদাত্ত আহবান এ সংবাদ সম্মেলন থেকে। একইসাথে আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনাদের সনির্বন্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যত, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী নোটিশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এতদসত্বেও যদি তিনি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অহেতুক বদনাম করা থেকে বিরত না হন তাহলে আমরাও এই প্রবাসের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করতে বাধ্য হবো।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV