চ্যালেঞ্জ কাপের চূড়ান্তপর্বে বাংলাদেশ

এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের চূড়ান্তপর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল গ্রুপ ‘বি’র খেলায় কিরঘিজস্তান ১-০ গোলে তাজিকিস্তানকে হারালে চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত হয় লাল-সবুজদের। সেরা রানারআপ হিসেবে লোডউইক ডি ক্রুইফের শিষ্যরা দ্বিতীয়বারের মতো চূড়ান্তপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। তাদের ঝুলিতে আছে ৬ পয়েন্ট। ভারত, তাজিকিস্তান ও লাওসের সংগ্রহও সমান। তবে গোলগড়ে ভারত, তাজিকিস্তান ও লাওসকে পেছনে ফেলে চূড়ান্তপর্ব খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। আগামী ২৬ মার্চ শেষ হবে গ্রুপ ‘ই’র খেলা। তাই ততদিন পর্যন্ত দ্বিতীয় সেরা রানারআপ হিসেবে শিরোপা লড়াইয়ে কোন দল টিকিট পাবে—তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে অবশ্য স্বাগতিক দল হিসেবে সরাসরি চূড়ান্তপর্বে খেলেছিল। সেটা ২০০৫ সালে। ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছিল চ্যালেঞ্জ কাপের প্রথম আসর। আগামী বছর মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য শিরোপা লড়াইয়ে খেলবেন মামুনুল-তখলিছ-শাখাওয়াত রনিরা। বাংলাদেশ দল এবার বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘ডি’তে শক্তিশালী ফিলিস্তিন, স্বাগতিক নেপাল ও অখ্যাত নর্দার্ন মারিয়ানার বিপক্ষে লড়াই করে। বাছাইপর্ব খেলতে যাওয়ার মাত্র ক’দিন আগে জাতীয় দল ঘোষণা করেছিল ‘জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি’। আর ডাচ কোচ লোড উইক ডি ক্রুইফ নেপাল যাওয়ার মাত্র চার দিন আগে ঢাকায় এসে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। ঢাকায় তিন দিন অনুশীলনের পর দল নিয়ে নেপালে উড়াল দিতে হয়েছিল তাকে। তখন অবশ্য অনেকেই ধারণা করেছিলেন—‘ফলাফল খুব একটা সুবিধার হবে না।’ কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ক্রুইফ আশার বাণী শুনিয়েই দেশ ছেড়েছিলেন। টুর্নামেন্ট শুরুর পাঁচ দিন আগে নেপালে গিয়ে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয় মামুনুল বাহিনী। ২ মার্চ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ফিলিস্তিনের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত পারফর্ম করেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারতে হয়েছিল লাল-সবুজদের। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ফিলিস্তিনের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করলেও পরের মিনিটেই গোল হজম করতে হয়েছিল। ফলে হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ফলাফলটা অন্যরকমও হতে পারত যদি শাখাওয়াত হোসেন রনি গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করতেন। যাই হোক, ওই ম্যাচ দেখেই বোঝা গিয়েছিল ডাচ ফুটবলটা ভালোভাবেই রপ্ত করছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। পরের ম্যাচেই স্বাগতিক নেপালের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামে মামুনুল বাহিনী। স্বাগতিক হিসেবে দর্শক সমর্থন নিয়ে মাঠে নামার পরও নেপালকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ২-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ক্রুইফ শিষ্যরা। দুটি গোলই এসেছিল শাখাওয়াত রনির পা থেকে। আর গোলের পেছনের নায়ক ছিলেন টিম বিজেএমসির তরুণ ফুটবলার তখলিছ। নেপালের বিপক্ষে জয়ের পরই ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজরা। নিজেদের শেষ ম্যাচে অখ্যাত নর্দার্ন মারিয়ানাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে চূড়ান্তপর্বে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছিল তারা। নেপালের বিপক্ষে রনিকে দিয়ে গোল করানো তখলিছ মারিয়ানার বিরুদ্ধে দু’বার বল জালে পাঠান। আর রনি করেন এক গোল। এছাড়া লিঙ্কন করেছিলেন এক গোল। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন তখলিছ। ম্যাচের দু’মিনিটেই লিড এনে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর রনি, লিঙ্কনরা মিলে গোলের গ্রাফটা ৪-০তে নিয়ে যান। প্রথম ম্যাচে হারলেও টানা দু’ম্যাচ জয়ের পর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে গোটা দেশের মানুষ। দেশে ফিরে আসার পর ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ফুটবলারসহ কোচদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল তাত্ক্ষণিক। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই সফল কোচ ক্রুইফ এরপর ঢাকা থেকে নিজ দেশে চলে যান। আগামী জুনে সহকারী রেনে কোস্টারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসবেন দু’বছরের জন্য জাতীয় দলের দায়িত্ব বুঝে নিতে। মূলত তার দায়িত্বটা শুরু হবে তখন থেকেই। ক্রুইফ জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকলেও রেনে কোস্টার পালন করবেন একাডেমির দায়িত্ব।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি