Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

উইকিলিকস-এ ১৫ই আগস্ট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 75 বার

প্রকাশিত: April 9, 2013 | 4:00 PM

ডেস্ক: শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার দৃশ্যত ক্ষমতাচুত হয়েছেন। বাংলাদেশ রেডিও থেকে রেকর্ড করা ঘোষণা পড়ছেন এক মেজর। তাতে বলা হচ্ছে, শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তার পদে বসানো হয়েছে খোন্দকার মোশ্‌তাক আহ্‌মাদকে। ঘোষণায় বলা হচ্ছে, মুজিবের মন্ত্রিদের আটক করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ও রক্ষীবাহিনীকে বলা হচ্ছে সেনাদের সমর্থন দিতে, না হলে তাদের   করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। অভ্যুত্থান দৃশ্যত সকাল সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হয়েছে। ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবের বাড়ির চারদিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যখন এ অভিযান শেষ হয় তখন সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে বিকট শব্দে গোলাগুলি হচ্ছিল। মুজিবের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনেও প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না তা। ওই এলাকায় ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে। দূতাবাসের বাঙালি নিরাপত্তা সহকারী রিপোর্ট দিচ্ছেন, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি সেরনিয়াবাতকে হত্যা করা হয়েছে। ওই তারবার্তায় আরও বলা হয়, আমরা জানতে পেরেছি ২৪ ঘণ্টার কারফিউ দেয়া হয়েছে অথবা জারি করা হতে পারে। দৃশ্যত এখন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও সম্পদের ওপর কোন হুমকি দেখা যায়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানের দিন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে এই বার্তা পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এর নম্বর ক্যানোনিক্যাল আইডি: ১৯৭৫ঢাকা০৩৯৪১-বি। সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস-এ নতুন করে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় এসব কথা বলা হয়েছে। উইকিলিকস এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৭ লাখেরও বেশি গোপন তার বার্তা প্রকাশ করেছে। এসব তার বার্তা ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। এর পরেই যে তারবার্তা পাঠানো হয় তার নম্বর-ক্যানোনিক্যাল আইডি: ১৯৭৫ঢাকা০৩৯৪৭-বি। এতে বলা হয়, নতুন প্রেসিডেন্ট খোন্দকার মোশ্‌তাক আহ্‌মাদের একটি জীবন বৃত্তান্ত দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে তিনি নিজেকে আমেরিকাপন্থি হিসেবে প্রকাশ করেছেন। এর ফল হিসেবে হয়তো তার ভারতবিরোধী ও সোভিয়েত বিরোধী একটি পরিচিতি আছে। তিনি কুমিল্লায় জন্মেছেন ১৯১৮ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি ও আইনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের একজন প্রতিষ্ঠাতা ও যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য তাকে ১৯৪৬ সালে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় ১৯৫২ সালে তাকে জেল দেয়া হয়। ১৯৫৮ সালে তাকে সামরিক আইন চলাকালে আটক করা হয়। আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তাকে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত আটক রাখা হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদে তিনি নির্বাচিত হন। জাতীয় নির্বাচনে ১৯৬৫ সালে তিনি পরাজিত জন। আইয়ুব বিরোধী ইস্ট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটির সভাপতি হন তিনি ১৯৬৮ সালে। ১৯৬৯ সালে লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হন। ১৯৭১ সালের মার্চের আগে পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের তিন ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুজিব সরকারের আমলে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন ও পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী। স্বাধীনতার পরে তিনি অল্প সময়ের জন্য আইন ও পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী এবং ভূমি রাজস্ব বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। তারপর তিনি বিদ্যুৎ, সেচ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে তাকে বানানো হয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী। তারপর থেকেই তিনি এই পদে আছেন। তিনি ছোটখাটো গড়নের হালকা পাতলা মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে যে দৃঢ়তা ও ক্যারিশমা ছিল তার মধ্যে তা নেই। ক্ষমতাসীন দলে তার পরিচিতি পশ্চিমাপন্থি নেতা হিসেবে। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ যখন প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি ছিলেন তার ঘোর বিরোধী। স্বাধীনতার পর মোশ্‌তাক আহ্‌মাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, ভারতীয় নেতাদের ও তাজউদ্দিন আহমেদের প্রভাবের কারণে তিনি ওই পদ পাননি। এজন্য তিনি তাদেরকে দোষারোপ করেন। মোশ্‌তাককে খুব বেশি আমেরিকাপন্থি হিসেবে মনে করা হতো। এতে আরও বলা হয়, গত অক্টোবরে শেখ মুজিবুর রহমান পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন তাজউদ্দিন আহমেদকে। তারপর থেকে তিনি ছিলেন নিষ্ক্রিয়। আমরা গুজব শুনতে পাচ্ছি যে, এই অভ্যুত্থানে সমর্থন দিয়ে থাকতে পারেন তিনি। ওই সময়ে ভারত যে ভূমিকা নিয়েছিল তাতে মোশ্‌তাক ছিলেন নাখোশ। এতে তিনি হার্ডলাইনে চলে যান। ভারতীয় সরকারের সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে সমঝোতার সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে এ কথা বলেছিলেন তিনিই। অনেক ব্যবসায়ী ধরে নিয়েছিলেন মোশ্‌তাক হবেন বাণিজ্যিক স্বার্থ, বেসরকারি উদ্যোগের পক্ষে। অনেক ব্যবসায়ী তো তাকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিয়োগ করায় প্রকাশ্যে সন্তোষও প্রকাশ করেন। ১৯৭২ সালে মোশ্‌তাক যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, তিনি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির পক্ষে। কিন্তু তিনি সমাজতন্ত্রের পক্ষে না, যাকে তিনি অগণতান্ত্রিক হিসেবে দেখেন। বাংলাদেশে ভারত ও সোভিয়েতের অতিরিক্ত প্রভাবে তিনি অসন্তুষ্ট। পাকিস্তান আমলে যখন আইয়ুব সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ঋণ সহায়তা দিচ্ছিল তখন তার কঠোর সমালোচনা করেছেন মোশ্‌তাক। তিনি ১৯৭২ সালে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে দাবি তোলেন- বাংলাদেশের ওপর ভারত ও সোভিয়েত যে প্রভাব খাটাচ্ছে তার পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে। ১৯৭৪ সালের মে মাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক সৌজন্য সাক্ষাতে মোশ্‌তাক ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রদূতের কাছে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি একজন বিশ্বস্ত মার্কিনপন্থি হিসেবে থাকবেন। তার শত্রুরাও তাকে এ নামে অভিহিত করে। তিনি শেখ মুজিবকে বর্ণনা করেছিলেন একজন ‘খাঁটি গণতান্ত্রিক’ হিসেবে। বামের দিকে চলে যাওয়ার চাপ এড়াতে শেখ মুজিবকে প্রচুর অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেন। তারপর থেকে মোশতাকের অনেক সহযোগী আমাদের কাছে তাকে মার্কিনপন্থি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১০ই আগস্ট একটি ডিনার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে মোশ্‌তাক ও বাঙালি অন্য কর্মকর্তারা বলাবলি করেন, বাংলাদেশের খাদ্য সহায়তার জন্য দরকার মুক্ত বিশ্ব এবং মন্তব্য করা হয় কেউ এখন আর বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয় না। এতে আরও বলা হয়, মুজিবের একদলীয় একনায়কত্ববাদী শাসনের কত ঘোরতর বিরোধী ছিলেন মোশ্‌তাক আমরা তা জানি না। বাকশালের তরুণ নেতারা, যারা এই ধারণার বিরোধী ছিলেন তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বলেছেন, মোশ্‌তাক বর্তমান দলীয় কাউন্সিলে নিষ্ক্রিয়। আমরা এ-ও জানি না তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানে কি ভূমিকা রেখেছেন। আমরা এটাও জানি না এতে তিনি কোন হোতার ভূমিকায় ছিলেন কিনা। তার ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের হাতে মাত্র একটিই রিপোর্ট আছে। তাতে বলা হয়েছে, আজকের সকালে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার আগে পর্যন্ত তিনি এই অভ্যুত্থানের বিষয়ে জানতেন না। আজ সকালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV