নিউইয়র্কে রিহ্যাব দেশবাড়ি ফেয়ার সমাপ্ত: লোক-সমাগম কম, অযৌক্তিক ট্যাক্স বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রবাসী ক্রেতারা
এনাঃ নিউইয়র্কে ৩ দিনের রিহ্যাব দেশবাড়ি ফেয়ার ১১ অক্টোবর রাতে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায়) শেষ হলো বিক্রেতাদের চরম হতাশার মধ্য দিয়ে। ক্রেতার আগমন একেবারেই কম ছিল। ক্রয়ের জন্যে দর-কষাকষি করতে প্রবাসীর সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা। গত ৬ বছরে নিউইয়র্কে রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ারে এমন করুণ দশা ঘটেনি বলে ঢাকা থেকে আগত ডেভেলপার এবং বিল্ডার্সরা এ মন্তব্য করেছেন ফেয়ারের শেষ লগ্নে। এবারের ফেয়ারের প্রচারণা একেবারেই না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলে হতাশ হলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ পৌণে দুই কোটি টাকার বাজেট দিয়ে �গ্রে এডভার্টাইজিং বাংলাদেশ লিঃ� নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ করা হয়। ফেয়ারের ৬ সপ্তাহ আগে থেকে নিউইয়র্কের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপণ প্রদানের কথা থাকলেও ঐ গ্রে-র প থেকে তা করা হয়নি। যদিও ঢাকায় রিহ্যাব কর্মকর্তাদের নিয়মিত আপডেট করা হয় যে নিউইয়র্কে প্রচারণা চলছে। কথিত গ্রে এডভার্টাইজিং লিমিটিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌসুল আলম শাওন ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় (অর্থাৎ ফেয়ারের দুদিন আগে) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দম্ভভরে উল্লেখ করেন যে, দুদিনের প্রচারণাই যথেষ্ঠ। অর্থাৎ তিনি রিহ্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনেই স্বীকার করেছেন যে আগে থেকে প্রচার চালানো হয়নি। উল্লেখ্য যে, ৬৫টি স্টল দেয়া হয় এবারের ফেয়ারে। প্রতি স্টলে ৩ দিনে গড়ে ১০ জন করে ক্রেতাও দেখা যায়নি বলে রিহ্যাব কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন। তারা বলেছেন, গ্রে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। গ্রে�র কর্পোরেট হেড কোয়ার্টার নিউইয়র্কে রয়েছে বলে রিহ্যাব চেয়ারম্যান দাবি করলেও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব পাননি এ ফেয়ারের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা বলেছেন, বিশ্বের ৮৩ দেশে কর্মরত গ্রে�র সুনাম পুঁজি করে বাংলাদেশভিত্তিক গ্রের শাখার নাম ভাঙ্গিয়ে এহেন কর্মে লিপ্ত হয়েছেন কেউ কেউ। কেননা, নিউইয়র্কভিত্তিক গ্রে�র চেয়ারম্যান হচ্ছেন জিম হিকিন এবং তাদের ঢাকাস্থ শাখার অফিস রয়েছে গুলশানে ৬ নম্বর বাড়ি, রোড নম্বর ১৩৭ তে। অপরদিকে রিহ্যাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ গ্রে�র অফিস রয়েছে গুলশানের এক নম্বর রোড, ২৩ নম্বর সড়কে। নিউইয়র্কভিত্তিক গ্রে�র ঢাকা অফিসের নাম কোনভাবেই গ্রে এডভার্টাইজিং বাংলাদেশ লিমিটিডে নয়। অথচ রিহ্যাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ সংস্থাটির ঐ নাম সত্বেও রিহ্যাব চেয়ারম্যান সরকার দলীয় এমপি গ্রে কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন নিউইয়র্কে ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ফেয়ারে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সকলেই গ্রে নামক বিজ্ঞাপনী সংস্থাটির আচরণে ােভ প্রকাশ করেছেন। তারা ঢাকায় ফিরে রিহ্যাব কার্যকরী কমিটির কাছে এহেন ঠকবাজির বিচার দাবি করবেন বলেও এ সংবাদদাতাকে বলেছেন। রিহ্যাবের এহেন বেহাল দশায় হতবাক হয়ে শেষ দিন ফেয়ারে আগত বাংলাদেশী সেলিনা মোমেন এ সংবাদদাতাকে বলেছেন, ঢাকা থেকে বড় আশা নিয়ে নিউইয়র্কে আগত ব্যবসায়ীরা এভাবে নিরাশ হবেন তা ভাবতেও পারিনি। একদিকে মন্দা, অপরদিকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টদের কাজে আন্তরিকতার অভাব-এজন্যে দায়ী বলে মনে হচ্ছে। আগে থেকেই প্রচারণা চালানো হলে নিশ্চয়ই অন্য বছরের মত অনেক প্রবাসীর সমাগম ঘটতো। এপার্টমেন্ট/প্লট বিক্রিও বাড়তো। তিনি বলেন, সামনের বছরের হাউজিং ফেয়ারের উদ্যোগ অনেক আগে থেকে নেয়া হবে বলে আশা করছি। জানা গেছে, ঢাকার একেকটি কোম্পানীকে স্টল বাবদ ৩ লাখ টাকা এবং ফেয়ারের স্পন্সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হয়েছে। এছাড়া আরো গড়ে ১০ লাখ টাকা করে ব্যয় হচ্ছে নিউইয়র্কে আসা-যাওয়া বাবদ। এছাড়া রিহ্যাবের কর্মকর্তারা রিহ্যাব থেকে মাথাপিছু ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ ৬৫ স্টলের এ ফেয়ারে মোট ব্যয় ৮ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা হবে। সে তুলনায় ব্যবসা কতটা হয়েছে তা ফেয়ার শেষে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে চাননি ফেয়ার কমিটির আহবায়ক সাঈদ নজরুল বিদ্যুত। তিনি শুধু বলেছেন, ব্যবসা আশানুরুপ না হলেও একেবাওে হতাশাব্যঞ্জক নয়। তবে ফেয়ারের স্থান গত বছরের মত কম্যুনিটির মধ্যে হলে হয়তো আরো ভালো ব্যবসা হতো। যদিও ফেয়ারে বসুন্ধরা, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের স্টল ছাড়া অন্যগুলোতে তেমন লোক সমাগম ঘটতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ বলেছেন যে, ফেয়ারের স্থান নির্বাচনে ক্রুটির জন্যে এমন হয়েছে। আবার কেউ বলেন, ফেয়ারের সময় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ছিল বিধায় প্রবাসীরা এখানে আসেননি। আবার অনেকে ফেয়ারের প্রচার না করাকে দায়ী করেন। উল্লেখ্য যে, এর আগেও ম্যানহাটানের ব্যস্ততম এলাকায় ফেয়ার হয়েছে। সে সময় লোকসমাগম ঘটেছিল। ২০০৮ সালে ১৪ সহস্রাধিক ভোটারের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনের দিন ফেয়ার হয়েছে-তখন প্রবাসীর উপস্থিতিতে ঘাটতি পড়েনি। অপরদিকে এবার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হয় মাত্র ৩১০০ ভোটারের অংশগ্রহণে। নিউইয়র্কে পত্রিকা এবং টিভিতে বিজ্ঞাপণ না দেয়াকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রিহ্যাবের অধিকাংশ কর্মকর্তা। বাংলাদেশে স্বপ্নের নীড় রচনায় আগ্রহীরা বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন এপার্টমেন্ট/ভূমি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় এবং এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স ৩ গুণ বৃদ্ধি, গেইন ট্যাক্স ২৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা ধার্য করায়। এছাড়া রাজউকের প্লট ক্রেতাদের সোর্স ট্যাক্স ২২০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত জুলাই থেকে গেইন ট্যাক্স প্রতি বর্গমিটারে মীরপুর, বাড্ডাসহ তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ এপার্টমেন্টের জন্য ৮৫০ টাকা এবং এর বাইরে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, গ্রীণরোড. মতিঝিলসহ অধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০০০ টাকা করা হয়েছে। এর আগে সকল এলাকার জন্যে তা ছিল ২৫০ টাকা করে। এ ট্যাক্স প্রদান করতে হচ্ছে ক্রেতাকে। একইভাবে এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স বাবদ প্রতি বর্গফুটে ছিল ৬৫০ টাকা করে। গত ডিসেম্বরে তা বাড়িয়ে ১৬৫০ টাকা করে করা হয়েছে। এ অর্থও দিতে হয় ক্রেতাকে। এপার্টমেন্ট/প্লটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় আগে ছিল দেড় থেকে দু�লাখ টাকার মত, এখন তা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে ৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্পতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া একটি বিল অনুযায়ী ক্রেতার সাথে অথবা সরকারের সাথে প্রতারণাকারী বিল্ডার্স অথবা ডেভেলপারের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ দু�বছরের জেলের আইন হচ্ছে। এক্ষেত্রে ও প্রতারিত ক্রেতাদের স্বার্থ সংরণে কোন বিধান রাখা হয়নি। অর্থাৎ যে রিয়েল্টর জেলে যাবেন তার ক্রেতারা প্লট/এপার্টমেন্ট পাবেন কীভাবে অথবা টাকা ফেরৎ পাবেন কিনা-তা সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়নি ঐ বিলে। নিউইয়র্কে রিহ্যাব দেশবাড়ি হাউজিং ফেয়ারে আগত প্রবাসীরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের পর এসব তথ্য জানতে পারেন। তারা সকলেই বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন সরকারের এক তরফা আচরণে। ব্যবসা করছেন নির্মাতা এবং ভূমি উন্নয়নকারীরা, অথচ সকল ট্যাক্স চাপানো হচ্ছে প্রবাসী এবং দেশীয় ক্রেতাদের উপর। ব্র�কলীনের গৃহিনী সাজেদা বেগম এ সংবাদদাতাকে বলেন, আমরা উপার্জিত অর্থের জন্যে ট্যাক্স দিচ্ছি এদেশে। এরপর বাংলাদেশেও ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এর যৌক্তিকতা কতটুকু? এর ফলে প্রবাসীরা নিজ দেশে এপার্টমেন্ট ক্রয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন-এটা বলার অপো রাখে না। তিনি বলেন, বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে উপরোক্ত ট্যাক্স দ্বিগুণ করা হলেও আপত্তি ছিল না। তা ৩ গুণ থেকে ৮/১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘটনায় বিবেকসম্পন্ন সকল মানুষই ব্যথিত হবেন এই মন্দার সময়ে। জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন ইস্ট এলমহার্স্টের মাহাবুব চৌধুরী বলেছেন, রাজউকের প্লট কিনেছি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। সে প্লটে ভবন তৈরী করাও শেষ। এখন রেজিস্ট্রি করতে গেলে উপরোক্ত হরেক রকমের ট্যাক্সের পাশাপাশি সোর্স ট্যাক্স হিসেবে আরো দুই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। জুলাই মাসের আগে এর পরিমাণ ছিল ২২০ টাকা। তিনি বলেন, বিক্রেতাদের উপর এসব ট্যাক্স চাপালে আন্দোলনের ভয় রয়েছে বিধায় সবকিছু ক্রেতার উপর চাপানো হয়েছে। অথচ এ সরকার নাকি দিন বদলের সরকার। এ ব্যাপারে রিহ্যাব দেশবাড়ি ফেয়ারে আগত রয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম আনিসুজ্জামান ভূইয়া রানা এবং র্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সরওয়ার্দি ভূইয়া সরোয়ার এ সংবাদদাতাকে মেলা প্রাঙ্গনে বলেন, রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আমরা সচেষ্ট রয়েছি এভাবে ট্যাক্স বৃদ্ধি প্রতিরোধে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত সুবিবেচনাসুলভ আচরণ করেননি এ ব্যাপারে। তবে সামনে ঢাকায় আমাদের ফেয়ারে প্রধানমন্ত্রী আসবেন প্রধান অতিথি হিসেবে, সে সময় আমরা প্রবাসীদের এ মনোভাব তার কাছে উপস্থাপন করবো।
নিউইয়র্কের এ মেলা এবার সফল হলো না বলে ঢাকার ব্যবসায়ীরা যেমন হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন, একইভাবে প্রবাসীরাও বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন। কেন এমন হলো-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায় পরস্পর বিরোধী অভিযোগ। এবারের মেলা আয়োজনের জন্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী গ্রে এডভার্জাটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটিডে নামক একটি সংস্থাকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এ বাবদ তারা পাচ্ছেন এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা (রিহ্যাব চেয়ারম্যান প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী)। ফেয়ারের ৬ সপ্তাহ আগে থেকে নিউইয়র্কে প্রচারণা চালানোর কথা। সেভাবে প্রচার চালানো হয়নি। অধিকন্তু ফেয়ারের দুদিন আগে অর্থাৎ ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ঢাকা কাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব কর্মকর্তাদের সামনে গ্রে এড কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গওসুল আলম শাওন দম্ভ ভরে জানিয়েছেন যে, দুদিনের প্রচারণায় যথেষ্ঠ। ঐ সংবাদ সম্মেলনেই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, গ্রে কোম্পানী রিহ্যাবের ফেয়ার কমিটির সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রচারণা চালায়নি। যদিও তারা ঢাকায় রিহ্যাবের কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করেছিলেন যে নিউইয়র্কে ঠিকমত প্রচারণা চলছে। এ প্রসঙ্গে রিহ্যাব ভাইস চেয়ারম্যান এবং এবারের দেশবাড়ি ফেয়ার কমিটির কনভেনর সাঈদ নজরুল বিদ্যুত এ সংবাদদাতাকে বলেন, ঢাকায় বসে আমরা যা শুনেছি তাই বিশ্বাস করেছি। এখন নিউইয়র্কে এসে প্রত্যক্ষ করছি যে প্রচারণা ঠিকমত চালানো হয়নি। ফলে ক্রেতার উপস্থিতি আশানুরুপ নয়। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি স্টলের নির্দিষ্ট একটি সাইজ ছিল আমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখছি না। ৮/৮ ফুট বিশিষ্ট প্রতিটি স্টল করার কথা। সে স্থলে করা হয়েছে ৯/৬ ফুটের। এর নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিভিন্ন স্টলের ব্যনার ফেস্টুনে। স্টলের মাপ অনুযায়ী ঢাকা থেকে ব্যানার তৈরী করে এনেছেন সকলেই। এখানে এসে দেখছেন তা ছোট হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার আনিসুজ্জামান ভূইয়া এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, প্রতিটি স্টলকে দিতে হয়েছে ৩ লাখ টাকা করে শুধুমাত্র স্টলের জন্যে। বিপুল অর্থ প্রদান করেও তারা মাপ অনুযায়ী স্টল না পেয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ। দেখাচ্ছেন আমাদের উপর।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, গ্রে কোম্পানী কৈ-এর তেল দিয়ে কৈ ভাজতে গিয়ে পুরো মেলাকে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। তারা নিজেরা কাজ না করে মেলার ৩/৪ দিন আগে নিউইয়র্কের কয়েকজনকে সাবলিজ দেন আয়োজনের সকল কাজ। এজন্যে প্রচারণা ঠিকমত হয়নি এবং দূর-দূরান্তের প্রবাসীরা মেলায় আসার সুযোগ পাননি। এছাড়া ১০ অক্টোবর ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। এ উপলক্ষে ৫/৭ হাজার প্রবাসী দিনভর ব্যস্ত ছিলেন। নির্বাচনে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকায় পরদিন মেলার শেষ মুহূর্তেও তারা অবসর পাননি। এটিও অন্যতম কারণ লোক সমাগম কম হবার। ভেন্যু নিয়ে অনেকে বিতর্কের অবতারণা করেছেন। কিন্তু এই ভেন্যুতে গত বছর মেইড ইন বাংলাদেশ হয়েছে এবং তার আগের বছরগুলোর মেলা হয়েছে এ স্থানের কয়েক ব্লক দূর ম্যানহাটান সেন্টারে।
অনুসন্ধানকালে আরো জানা যায়, এবারের ফেয়ারে আগত রিহ্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে মাথাপিছু ৫ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে একজন কর্মকর্তা গত এক মাসে দু-বার নিউইয়র্ক সফর করায় মোট ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন রিহ্যাব থেকে। অর্থাৎ পৌণে দু-কোটি টাকা গ্রে কোম্পানীকে প্রদানের পরও মোটা অর্থ ব্যয় হলো, কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা হয়েছে বলে মনে করেন না অধিকাংশ ব্যবসায়ী। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিহ্যাব চেয়ারম্যান নসরুল হামিদ বিপু এমপি বলেছেন, এখানে আমাদের ফেয়ার করার মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয়, প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকার দলীয় এমপি জনাব বিপু অবশ্য বলেছেন, ট্যাক্সের যাতনা থেকে ক্রেতাদের রায় আমরা তদবির চালাচ্ছি। অর্থ মন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের আরো বেশী সোচ্চার হতে হবে, তাহলে আমাদের তদ্বির কাজে লাগবে বলে মনে করছি।
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








