Tuesday, 8 September 2026 |
শিরোনাম
বঙ্গবীর ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান উত্তর আমেরিকার ৪১তম ফোবানা চার ভাগে অনুষ্ঠিত: আগামী বছর ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও হিউস্টনে পৃথক সম্মেলন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন: সেলিম–আলী ও কুনু–ফিরোজ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নিউইয়র্কে ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা: তরুণ নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কার্ডে ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সংশোধিত নির্বাচনী তফসিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক কন্স্যুলেট! নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
সব ক্যাটাগরি

স্বাধীনতা দিবসে আঁতশবাজির উৎসবে হারালো যুক্তরাষ্ট্র!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 7 বার

প্রকাশিত: July 5, 2013 | 12:06 AM

শিহাবউদ্দীন কিসলু, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
স্বাধীনতা দিবসে আঁতশবাজির উৎসবে হারালো যুক্তরাষ্ট্র!

নিউইয়র্ক : বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সন্ধ্যাটি ছিলো দেশজুড়ে আঁতশবাজির মহাউৎসব। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই দিনে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ে দেশের জনগণের মঙ্গল ও উন্নয়ন কামনা করেছেন। নিউইয়র্কের আকাশ হয়ে উঠেছিলো আলোর ঝলকানিতে লাল, নীল, সবুজ, সোনালী। সেই আলোর নিচে নানা বরণ ধারন করছিলো নিচের লক্ষ-কোটি মানুষ। দিনভর ভবনে ভবনে উড়লো লাল-নীল জমিনে তারকাখচিত পতাকা।  স্বাধীনতার উদযাপন এভাবেই করলো নানা জাতির সংমিশ্রণে গঠিত একটি দেশ।
১৭৭৬ সালে তৎকালীন দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি রিচার্ড হেনরি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। প্রথম ১৩টি কলোনী রাজ্যকে স্বাধীনতার  প্রক্রিয়ায় রেখে কংগ্রেসের ভোটে  স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রস্তাব পাশ হয়।
এসময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সংখ্যা ছিল আড়াই মিলিয়ন মাত্র। আর আজকের ২৩৭তম স্বাধীনতা দিবসে দেশটির জনসংখ্যা ৩১৬ দশমিক ২ মিলিয়ন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সবচেযে প্রিয় সময় গ্রীস্মের শুরুতে বহু প্রতিক্ষীত এই  দিনটিকে ঘিরে সবাই আনন্দ বন্যায় নিজেদের ভাসিয়ে দেয়। হারিয়ে যায় ‘আঁতশবাজি’ উৎসবে। স্বজনদের সাথে দেখা করা, বেড়ানো, পিকনিক, র‌্যালি, বার-বি-কিউ পার্টি, প্রীতি খেলাধুলা, নানান আয়োজন চলে দিনভর।
এদিকে, স্বাধীনতা দিবসে গোটা দিনই টপ সিক্রেট অভিযান চালিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই অত্যন্ত গোপণে চলে এই অভিযান। অপারেশন ইন্ডিপেন্ডেন্স নামে এই অভিযানে রায়ট গিয়ারে কিংবা ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাজার হাজার অফিসার। সবগুলো পরিবহণ হাব সাবওয়ে স্টেশন, বাস স্টেশন, প্রধান প্রধান জটলার স্থান সর্বত্রই রয়েছে এদের বিচরণ। একটি পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান এটি যাতে অংশ নেয় কাউন্টি শেরিফ বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও টিএসএ এজেন্টরা। সঙ্গে ছিল সাদা পোশাকধারী অফিসাররা যারা সাধারণ যাত্রীর মতোই পরিবহনগুলোতে উঠে যে কোনো সন্দেহভাজন চেহারার ব্যক্তির ওপর নজর রাখছে ব্রিফকেস, ব্যাকপ্যাকে তল্লাশি চালায়। বস্টনে বোমা হামলাকারীরা ৪ জুলাই নিউইয়র্কে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো সে কথা আগেই ফাঁস হয়ে গেছে। বোস্টন হামলাকারীদের ধরা হয়েছে কিন্তু তাদের পেছনের চক্রের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফলে সব ধরনের সতর্কতাই ছিলো নিউইয়র্কে। কর্তৃপক্ষ বলেছে তাদের এই বিশেষ সতকর্তা ও অভিযান স্বাধীনতা দিবসে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার একটি বোধ নিশ্চিত করতেই।     এবারে ৪ জুলাইয়ের ছুটির সাথে যোগ হয়েছে সপ্তাহান্ত। ফলে আনন্দ আয়োজন যেনো আরও বেশি।
বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে সবচেয়ে বড় আয়োজন আঁতশবাজি উৎসব। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর  মেসি’র স্পন্সরদের অর্থে এই আতসবাজি উৎসবের আয়োজন হয়। বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্কেই আমেরিকার মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় আতসবাজি উৎসবের আয়োজন। গোধুলী পেরুতেই শুরু হয় নানান রঙের আঁতশবাজির খেলা। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সৌহার্দ, সম্প্রীতি, শান্তি, উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এসবেরই প্রকাশ ঘটে এই আঁতশবাজি উৎসবে। রঙ আর আলোর খেলায় সান্ধ্য আকাশে বিভিন্ন প্রতীক আর লেখা দিয়ে এসব বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ হৃদয়ে মুহুর্তেই।
মেসি’স এর শুধু নিউইয়র্কের আঁতশবাজিতেই ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে বিভিন্ন বক্তব্যধর্মী আতসবাজিতে এই ব্যয়ের পরিমান আরো বেড়ে যায়। নিউইয়র্কের আঁতশবাজিতে ৪০ হাজার পাউন্ড বিস্ফোরক ব্যবহার হয়। মোট ৩৫ হাজার বিস্ফোরক শেলের সাথে ১ লাখ ২০ হাজার রঙ আর আলোর শেল ব্যবহার করে আতশবাজি উৎসবকে হৃদয়গ্রাহী করে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯ শতকের গোড়ার দিকে সানফ্রান্সিসকো বে এলাকায় প্রথম আঁতশবাজির ব্যবসা শুরু করেন স্যামুয়েল ডি স্যুজো। তার কারনেই আঁতশবাজি ও এই বিস্তৃতি। স্যুজো’র এই আবিস্কারে তাকে এখন সবাই পাপাজিও বা স্প্যনিশ ভাষায় দাদু নামেই চেনে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ‘পাপাজিও’র অবদান অনেক। বিভিন্ন  উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর এখন ১ বিলিয়ন ডলারের ‘আঁতশবাজি’র ব্যবসা হয়। তবে মজার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায় ‘শক্তিশালী’ অবস্থান করে নিয়েছে চীন। কারণ ‘আতশবাজি’তে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সরঞ্জামাদি সবই সুলভে আমদানি হয় সুদুর চীন থেকে। আর  নিজেদের ব্যবহারের পর বাকি বিস্ফোরক সরঞ্জামাদি বিদেশেও রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র।
সরকারি হিসেব মতে, গত ২০১২ সালে মোট ২২৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের আঁতশবাজি চীন থেকে আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরাইলের কাছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানিসহ মোট  ১১দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বিস্ফোরক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে কাপড়ের তৈরি পতাকাও ব্যাজসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে ৩০২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করে।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ