দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় :বাংলাদেশের ওপর আরও চাপ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে
ডেস্ক: বাংলাদেশে সংশোধিত শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা খুব কমই। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ওপর অবশ্যই আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। ১৭ই জুলাই ‘হাফ হার্টেড লেবার রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বাংলাদেশ তৈরী পোশাক কারখানার সমস্যা সমাধানের দিকে নজর দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরা বিদ্যমান শ্রম আইন সংস্কার করেছেন। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠন করা সহজ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এ সংস্কার বা পরিবর্তন অনেকটাই কম। এতে অগ্নিনিরাপত্তা, ভবন ধস ও অন্যান্য ট্র্যাজেডি থেকে সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এপ্রিলে একটি ভবন ধসের পর এতে কমপক্ষে ১১২৯ জন মানুষ নিহত হন। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দেখানোর চেষ্টা করছে, যেসব ঘটনা দেশের গার্মেন্ট কারখানায় মহামারীর মতো সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে নিরাপত্তার মান নিম্নমুখী, সেই ধারাকে ভেঙেচুরে দিচ্ছে তারা। ওয়াল-মার্ট, গ্যাপ ও এইচএন্ডএম-এর মতো পশ্চিমা বড় বড় ক্রেতারা এ দেশ থেকে বড় বড় চালান নিয়ে থাকে। এখানে শ্রমিকরা যত বেশি সংগঠিত হতে পারবে ততই তারা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে কারখানা মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন। সংশোধিত আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবর্তন হলো- কারখানা মালিকরা ইউনিয়নের বিষয়ে ভেটো দিতে পারবেন না। কিন্তু যেসব শ্রমিক ইউনিয়ন করতে চাইবেন তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে এর মাধ্যমে। এখনকার আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের ভিতর থেকেই ইউনিয়নের নেতা নির্বাচিত করতে হবে। কারখানার বাইরে থেকে কোন নেতা নির্বাচন করা যাবে না। এর অর্থ হলো যেসব নেতা ওই কারখানায় চাকরি করবেন, তাদের পছন্দ না হলেই মালিক তাদের বরখাস্ত করে দিতে পারেন। এর মাধ্যমে মালিক তার বিরোধীদের দুর্বল করে দিতে পারেন। এতে আরও বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি শ্রমিক নেতা নির্বাচিত হতে হলে তাকে ওই কারখানার শতকরা কমপক্ষে ৩০ ভাগ শ্রমিকের ভোট পেতে হবে। একটি কোম্পানি অনেক বিষয় দাঁড় করে দিতে পারে, যাতে এতগুলো ভোট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে কোন কারখানার শ্রমিকদের শতকরা ৩০ ভাগই একটি ইউনিয়ন গঠন করার জন্য আবেদন করতে পারে। অন্যভাবে আইন অন্যভাবেও সীমাবদ্ধ করা। তা হলো- রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় যেসব কারখানা আছে সেখানে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অনুমতি নেই। ওইসব কোম্পানি হলো পশ্চিমা কোম্পানির পোশাক প্রস্তুতের মূল কারখানা। আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো- ধর্মঘট ডাকতে হলে শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদন দরকার হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মঘট ডাকার জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকজন শ্রমিকই যথেষ্ট। যখন দেখা যাবে ধর্মঘট মারাত্মক ক্ষতিকর হবে কমিউনিটির জন্য অথবা তা জাতীয় স্বার্থের জন্য বিপর্যয়কর হবে তখন সরকার ধর্মঘট করার অধিকারকে থামিয়ে দিতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওবামা প্রশাসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের ক্ষেত্রে সংশোধিত এ আইনই যথেষ্ট হবে। কিন্তু যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাদের মতে শ্রমিকদের বিপজ্জনক কর্মক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা দিতে এ আইনই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই আরও বেশি চাপ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের