Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

ঈদুল আযহা ও কুরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 134 বার

প্রকাশিত: October 14, 2013 | 7:09 PM

জাকির হোসাইন আজাদী 
সব জাতিরই আনন্দোত্সব রয়েছে। তারা সেইসব উত্সব তাদের নিজস্ব নিয়ম-রীতিতে উদযাপন করে থাকেন। মুসলমানদের জন্য যে নির্মল আনন্দের দিন দান করা হয়েছে তা দু’টি। একটি ঈদুল আযহা অন্যটি ঈদুল ফিতর। এই ঈদ রসূল (স.)-এর মক্কার তের বছরের নবুওয়াতি জীবনে ছিল না। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পর প্রথম বছরে রসূল (স.) ও মুসলমানরা নওরোজ ও মেহেরজান নামে মদীনাবাসীদের দু’টি আনন্দের দিন দেখতে পেলেন। সেই সময় মুসলমানরা রসূল (স.) কে জিজ্ঞেস করলেন- আমাদের জন্য কী কোনো আনন্দোত্সব নেই? রসূল (স.) তাতে চিন্তান্বিত হলেন। তারপর দ্বিতীয় হিজরি হতে দু’টি ঈদ দান করা হলো। তখন রসূল (স.) বললেন, তোমরা ইহুদীদের ঐ দু’টি আনন্দোত্সব দেখে আক্ষেপ করছো! তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তোমাদেরকে ওদের ঐ দু’দিনের চেয়ে উত্কৃষ্ট দু’টি আনন্দের দিন দান করেছেন। একটি ঈদুল ফিতর, অন্যটি ঈদুল আযহা তখন মুসলমানরা খুবই খুশি হলেন। তখন থেকে রসূল (স.) রমজানের শেষে ১লা সাওয়াল আর জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ ঈদ উদযাপন করেন। মসজিদে নববীর প্রায় ২০০ হাত দূরে ‘শি’বে আখবার’ নামে একটি স্থান রয়েছে। যেখানে রসূল (স.) প্রত্যেকবারই মুসলমানদের নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েছেন। বৃষ্টি হওয়ায় একবার মাত্র মসজিদে পড়েছিলেন। এই ঈদের দিনে নির্মল আনন্দ প্রকাশ করতে নিষেধ নেই। ইসলামে যে বিনোদন আনন্দ করার সুযোগ রয়েছে এটাও বেশিরভাগ মুসলমানরা জানেন না। এক শ্রেণীর মুসলমানেরা আনন্দ ও বিনোদনের নামে লাগামহীন চলাফেরা ও উচ্ছৃঙ্খল কাজ-কর্ম করে থাকেন। যা ইসলাম কেন, কোন ধর্মই সমর্থন করে না। পক্ষান্তরে অন্যপক্ষ সামান্যতম আনন্দ-উল্লাস করার বিষয়েও নিরুত্সাহিত করে থাকেন। যা ইসলাম সমর্থন করে না। যেমন এক ঈদে রসূল (স.)-এর সামনে কিছু সংখ্যক ছোট ছোট বাচ্চারা নাচ-গান করছিল। এমতাবস্থায় সেখানে আবুবকর (রা.) প্রবেশ করলেন। তাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন। রসূল(স.) তখন আবু বকরকে বললেন, সব জাতির ঈদ রয়েছে। আজ আমাদের ঈদের দিন। সুতরাং তুমি তাদের আনন্দ করতে দাও। বাচ্চারা তখন খুশি হয়ে আবারো আনন্দ-উল্লাস করতে থাকলো। ইসলাম হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সহনীয় ধর্ম। সাবলীল ধর্ম। সহজ-সরল অনাবিল শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম মানতে কষ্ট কঠোরতার মধ্যে পড়তে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। আনন্দের দিনে মুসলমানদের আনন্দ প্রকাশ শুরু হয় পরম প্রভু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে সেজদা দেয়ার মাধ্যমে। আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব প্রকাশের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়ার মাধ্যমে- “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ”। আর কুরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সুবিস্তৃত। আমরা যে কুরবানি করি এ সম্পর্কে সাহাবীগণ রসূলকে (স.) জিজ্ঞেস করেছিলেন- মা হাজাল আজাহি? কুরবানি কি জিনিস? রসূল (স.) বললেন, সুন্নাতা আবিকুম ইব্রাহিম (আ.)। কুরবানি হলো আমাদের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত। সাহাবীরা আবার জিজ্ঞেস করলেন- তাতে আমাদের লাভ কি? রসূল (স.) বললেন, কুরবানির পশুর প্রত্যেক পশমের বদলে পুণ্য রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি কে করেছিলেন? যদি এভাবে আমরা অনুসন্ধান করি, তাহলে দেখবো— হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর প্রথম সন্তান হাবিল ও কাবিল প্রথম কুরবানি করেছিলেন। ঘটনাটি ছিল এমন: আদম (আ.)-এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল, দু’মেয়ে আকলিমা ও লিওয়াজা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলো তখন আদম (আ.) তাদের বিবাহের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। আল্লাহর নির্দেশে প্রথম জোড়ার ছেলের সঙ্গে দ্বিতীয় জোড়ার মেয়ে আর প্রথম জোড়ার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় জোড়ার ছেলের বিবাহ নির্ধারণ করা হলো। এই সিদ্ধান্তে কাবিল রাজি হয়নি। সে বললো- আমি এবং লিওয়াজা একই সঙ্গে মায়ের পেটে ছিলাম সুতরাং তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আমিই বেশি হকদার। তখন আদম (আ.) কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। সে অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ হলো হাবিল ও কাবিল কুরবানি করুক। যার কুরবানি কবুল হবে সে ঐ সুন্দরী বোন লিওয়াজাকে পাবে। তারা কুরবানি করলো। তখন হাবিলের কুরবানি কবুল হলো। আর বলা হলো- ইন্নামা এতাকাব্বালুল্লাহি মিনাল মুত্তাকীন। আল্লাহ কেবল পরহেজগারদের কুরবানিই কবুল করে থাকেন। এরপর থেকে সকল জাতির ওপর কুরবানির প্রচলন ছিল। কুরআনে বলা হয়েছে- ওয়ালি কুল্লি উম্মাতিন জায়ালনা মানসাকান লিইয়াজকুরু ইসমাল্লাহ অর্থাত্ প্রত্যেক জাতির ওপর কুরবানির বিধান দেয়া হয়েছে। যাতে তারা তাদের নিজ নিজ পশু যবেহতে আল্লাহর নাম নিতে পারে। আর আমাদের কুরবানিই এসেছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) থেকে। ইব্রাহিম (আ.)-এর বয়স যখন ৮২ বছর তখন পর্যন্ত তার কোনো সন্তানাদি ছিল না। এই বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর কাছে হাত উঠালেন। বললেন- রব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন-হে আল্লাহ, আমাকে একজন সত্ সহনশীল সন্তান দান করুন। আল্লাহ বললেন ফাবাশশার নাহু বিগুলামিন হালিম – আমি তাকে একজন অনুগত সহনশীল সন্তানের সুখবর দিলাম। ঐ ছেলেটি যখন খেলাধুলার বয়সে উপনীত হলো। তখন ইব্রাহিম (আ.) বললেন, হে আমার ছেলে, আমি স্বপ্নে দেখেছি, তোমাকে যবেহ করছি। এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কি? স্বপ্নের কথা শুনে সে বললো- হে আমার স্নেহপরায়ণ পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি অবিলম্বে তা পালন করুন। ইনশাল্লাহ আপনি আমাকে সেসময়েও ধৈর্যশীলদের মাঝে পাবেন। অতঃপর যখন তারা পিতা-পুত্র দু’জনই আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার সম্মুখে আত্মসমর্পণ করলো এবং ইসমাইলকে জবেহ করার জন্য কাত করে শুয়ে দিলো তখন ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইলকে (আ.) কুরবানি করার জন্য ছুরি হাতে নিলেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দুতে শিহরণ জেগে উঠছিল। পুত্রের প্রতি তার স্নেহ উথলে উঠছিল। ইসমাইল (আ.) বললেন, পিতা, আপনি আপনার চোখে কাপড় বেঁধে নিন, আর আমার চোখেও কাপড় বেঁধে দিন। আর আমার জামাটা নিয়ে যাবেন। আমার আম্মাকে দেবেন, তাহলে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন। ইব্রাহিম (আ.) তাইই করলেন। এরপর ছুরি চালাবার সময়। ইব্রাহিম (আ.) ছুরি হাতে নিয়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ছিলেন। আর একটু পরেই ছুরি চালাবেন। আল্লাহর ফেরেশতাগণ স্তম্ভিত হয়ে রইলেন। আদমের সৃষ্টির সময় বিরোধীতাকারী ফেরেশতারা হয়তো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো। বৃক্ষ-তরুলতা হয়তো নড়াচড়া করছিল না, বাতাস হয়তো প্রবাহিত হচ্ছিল না। সমগ্র সৃষ্টি রাজি হয়তো চেয়ে ছিল কী ঘটতে যাচ্ছে! সেই সময় ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, আল্লাহু আকবার, ইসমাইল (আ.) বলেছিলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আর ফেরেশতারা বলেছিলেন, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ, এই তিন পক্ষের কথা গুলি একাত্রিত করে আমাদের তাকবীর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তাই ঈদের সময় আমরা বলে থাকি আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওল্লাহু আকবার ওল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। হযরত ইব্রাহিম (আ.) এরপর ছুরি চালালেন প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.) এর গলায়। তার আগেই আল্লাহ ছুরিকে নির্দেশ করেছিলেন যেন ইসমাইলের গলা না কাটে। সেই জন্য ছুরি ইসমাইল (আ.) এর গলা কাটছিল না।ইব্রাহিম(আ.) শান্তি পাচ্ছিলেন না। শরীরের সর্বোশক্তি প্রয়োগ করে ছুরি চালাচ্ছিলেন তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় তিনি আরো শক্তি দিয়ে ছুরি প্রবাহিত করছিলেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ ঘোষণা করলেন, হে ইব্রাহিম ‘ক্বদ ছদ্দাকতার রুইয়া’ তুমি তো স্বপ্নকে সত্য করে দেখালে। ইন্না কাযালিকা নাজঝিল মুহছেনিন এমনিভাবে আমি সত্ বান্দাদের পুরস্কার দিয়ে থাকি। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে জিব্রাইল (আ.) বেহেশতি সেই দুম্বাটা নিয়ে এলেন যেটা হাবিল কুরবানি করেছিল। জিব্রাইল (আ.) অতি সন্তর্পণে ইসমাইলকে উঠিয়ে নিয়ে সেই স্থানে দুম্বাকে এমন সতর্কভাবে শুইয়ে দিলেন যা ইব্রাহিম (আ.) কিছুই বুঝতে পারলেন না। এখন ছুরি গলা কেটে ফেললো। জবেহ হয়ে গেল। ইব্রাহিম (আ.) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। বুঝলেন তিনি আল্লাহর পরীক্ষায় পাস করেছেন। চোখের কাপড় খুলে দেখলেন একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে গেছে। আর পাশে জিব্রাইল (আ.), তার পাশে ইসমাইল (আ.) হাসি মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই কুরবানির বিধান চলে আসছে। আর কেয়ামত পর্যন্ত এটা চলতে থাকবে। তবে কুরবানি কবুলযোগ্য হিসেবে প্রতিপন্ন হবে তাদেরটা যারা তাকওয়াবান। দুনিয়াবিক কোনো স্বার্থ হাছিল করা ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যারা কুরবানি করবেন তাদের কুরবানি কখনোই কবুলযোগ্যতার স্তরে উন্নীত হতে পারে না।ইত্তেফাক

ই-মেইল: [email protected]

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV