Sunday, 8 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

খালেদার রিটের রায়ে যা বলেছে হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 118 বার

প্রকাশিত: October 21, 2010 | 11:31 PM

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে ঘোষিত রায় প্রকাশিত হয়েছে। ৪০ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। গত ১৩ই অক্টোবর ঘোষিত এ রায়ে খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়তে কমপক্ষে ৩০ দিন সময় দিতে বলা হয়েছে। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, এটা সত্য যে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে  (খালেদা জিয়াকে বাড়ি বরাদ্দের সময়ে) সরকারের ক্ষমতা প্রয়োগের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে এ ক্ষমতা আইনসাপেক্ষে হতে হবে। প্রেসিডেন্ট আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রেসিডেন্টও দেশের আইন মানতে বাধ্য। তিনি আইন অনুযায়ী তার ক্ষমতা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রয়োগ করবেন। যে কোন ব্যক্তিকে যে কোন মূল্যে রাষ্ট্র বা জনগণের সম্পত্তি হস্তান্তরের একক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। প্রেসিডেন্টকে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং এর জনগণের স্বার্থ দেখতে হবে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যে ব্যতিক্রমী কারণে জনগণের সম্পত্তি ব্যক্তিবিশেষের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। সে অবস্থায় সরকার জনগণের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে যদি তাতে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী না হয়। জাতীয় প্রয়োজনে জনগণের সম্পত্তি কোন ব্যক্তিকে দেয়ার ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত থাকতে হবে যে, তা যেন রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী না হয়। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থের বিপরীতে কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দেয়া হলে তা অননুমোদনযোগ্য ও বাতিলযোগ্য। কোন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের উচিত রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ দেখা। রায়ে বলা হয়েছে, এ মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সামরিক অফিসারের একটি বড় অফিসিয়াল বাংলো- যা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি- লিজ দেয়া হয়েছে। এটা জনগণের স্বার্থবিরোধী। এটা আরও অযৌক্তিক এ কারণে যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর পিটিশনার (বেগম খালেদা জিয়া) ও তার দুই ছেলেকে প্রচুর অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়া হয়েছে, গুলশান মডেল টাউনে দেড় বিঘার বেশি স্থানে নির্মিত বাড়ি দেয়া হয়েছে। রায়ে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির লিজ অবৈধ হওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালের ঈখঅ রুলস অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ক্লাস-১ পর্যায়ের ভূমি হস্তান্তরযোগ্য নয়। পিটিশনারকে (বেগম খালেদা জিয়া) বাড়ি হস্তান্তরের সরকারি কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। লিজের পুরো প্রক্রিটিয়াটিই ছিল সর্বোচ্চ বেআইনি। সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের বাড়িটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও পিটিশিনারের অনুকূলে এর বরাদ্দ জনস্বার্থ বিরোধী। রায়ে বলা হয়েছে, নোটিসের ক্ষেত্রে (বাড়ি ছাড়তে খালেদা জিয়াকে দেয়া নোটিস) আমরা কোন ধরনের বেআইনি কিছু খুঁজে পাইনি। এতে বলা হয়েছে, রিট পিটিশনারের আইনজীবীরা বলেছেন, রেজিস্টার্ড লিজ দলিল নির্বাহী কোন আদেশের দ্বারা বাতিল করা যায় না। একমাত্র যথাযথ আদালতই রেজিস্টার্ড লিজ দলিল বাতিল করতে পারে। হাইকোর্ট বলেছে, বর্তমান অবস্থায় আমরা এ আর্গুমেন্ট গ্রহণ করছি না। এক্ষেত্রে কোন নির্বাহী আদেশের দ্বারা লিজ বাতিল করা হয়নি। এটা পরিষ্কার এ লিজ শুরু থেকেই অবৈধ। এটা আইনের স্বীকৃত বিধান যে, শুরু থেকে অবৈধ চুক্তি বাতিলের প্রয়োজন হয় না। রায়ে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, পিটিশনারকে ২০০৯ সালের ২৪শে মে বাড়ি ছাড়তে যে নোটিস দেয়া হয়েছে তাতে বেআইনি কিছু নেই। এ অবস্থায় রুল খারিজ করা হলো। রুল দেয়ার সময় যে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছিল ও পরে যার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল তা বাতিল ঘোষণা করা হলো। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর তার বিধবা স্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়িটি বরাদ্দ দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট। উপসেনা প্রধান হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া এ বাড়িতে সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও থাকতেন জিয়াউর রহমান। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৮ই এপ্রিল মন্ত্রিসভা আইনগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়িটির ইজারা বাতিল করে। এরপর ২০শে এপ্রিল খালেদা জিয়াকে ১৫ দিনের মধ্যে তার সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার নোটিস দেয় সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ২৩শে এপ্রিল সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার নোটিস পাঁচ দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরকার, সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরকে উকিল নোটিস পাঠান খালেদা জিয়া। ২৪শে মে আরেক দফায় নোটিস দেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি নোটিসটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করলে গত বছর ২৭শে মে হাইকোর্ট এ নিয়ে রুল জারি করে। একই সঙ্গে নোটিসের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেছিল। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ওই রুল জারি করেছিল। পরে এ রুলটি শুনানির জন্য বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়। ওই বেঞ্চের প্রতি খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলে মামলাটি বিচারপতি মো. ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। গত ১৭ই এপ্রিল ও ৫ই মে এই বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে খালেদা জিয়া আবেদন দিলেও তা খারিজ করে আদালত। গত ১১ই এপ্রিল একই বেঞ্চে এ মামলার সময় আবেদনের শুনানিতে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছিল। সেদিন হট্টগোলের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পুলিশ ডেকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেয়ার কথা বলেছিল হাইকোর্ট। পরে প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন।
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV