..ইয়েস, আই ক্যান ডু ইট -এই শব্দগুলো অসম্ভব পাওয়ারফুল : জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন
নিউইয়র্ক : ড. এ কে আবদুল মোমেন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গর্ব। ২০০৯ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি তাঁর কর্মদক্ষতায়, জাতিসংঘে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। যে দেশটির দিকে জাতিসংঘের অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলো তাকাতো অবহেলা ভরে, একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমী ও কর্মোদ্যমী মানুষের একাগ্র প্রচেষ্টায়, আজ সে দেশটি অনেকগুলো বিষয়েই জাতিসংঘে নেতৃত্ব দিচেছ। ড. মোমেন কথা-প্রসঙ্গে তাঁর এই সাফল্যের অর্ন্তনিহিত কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, তাঁর কাজকে ব্যাপকভাবে সহজ ও গতিময় করে দেয়। পেশাগত জীবনে ড. মোমেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। একজন সফল কূটনীতিক, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, সব জায়গাতেই তিনি তাঁর স্বীয়গুণে ও কর্মদক্ষতায় সমুজ্জ্বল। ব্যক্তি জীবনে অসম্ভব বিনয়ী ও খোলা-হৃদয়ের এই মানুষটির সাথে, সম্প্রতি তাঁর নিউইয়র্কের বাসভবনে, অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বিলেতের অন্যতম কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক আবু হোসেন এর সঙ্গে। একান্ত এ আলাপচারিতা ফুটে উঠেছে, দেশ ও দেশমাতৃকা নিয়ে একজন দেশরতেœর কর্মজীবনের নানা সমস্যা ও সমাধান এবং সফলতার বিস্তৃত বিবরণ।
প্রশ্ন : আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের শ্রদ্ধাভাজন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি দিলওয়ার এবং অধ্যাপক আবুল বশর কিছুদিন পূর্বে লোকান্তরিত হয়েছেন। কবি দিলওয়ার আপনার সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব এবং অধ্যাপক আবুল বশর আমাদের শিক্ষক ছিলেন। তো আপনি যদি আপনার শৈশব এবং স্কুল জীবন সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করেন, তাহলে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম খুবই উপকৃত হবে।
এ কে মোমেন : খুবই দু:খের ব্যাপার যে সিলেটের তথা বাংলাদেশের দুই জন গুণীজন একেবারে পর পর মারা গেলেন, বিশেষ করে কবি দিলওয়ার, আমি তাঁকে চিনি এবং তাঁর প্রথম বইটা, আমি এবং সৈয়দ মোস্তফা কামাল চাঁদা তুলে প্রকাশ করি। এটা ষাটের দশকের প্রথম দিকে। আর অধ্যাপক আবুল বশর ছিলেন আমাদের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। আমরা বিভিন্ন সময় যখন কোন কিছু পাবলিশ করতাম, তখন বশর সাহেব অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ রকম একজন উদার হৃদয় এবং সত্যিকার শিক্ষক হারানো আমাদের জাতীয় লস, কারণ, হি ইজ এ মডেল অব এ টিচার। তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, এই আদর্শবান শিক্ষককে আমরা হারালাম। বশর সাহেবের ছোট ভাই আমার ক্লাশফ্রেন্ড ছিল। তার সাথে আমার আলাদা একটা সম্পর্কও ছিল। তখন প্রায়ই ওখানে যাওয়া হতো। এ্যানিওয়ে, দিজ আর স্যাড স্টরিজ। মনে পড়লে খারাপই লাগে। আমার স্কুল শুরু হয় সিলেট গভর্ণমেন্ট স্কুল থেকে। আমি সেখানে ফিফথ গ্রেডে ভর্তি হই। এর আগ পর্যন্ত আমি বাসায় পড়াশোনা করেছি, তো ফিফথ গ্রেডে যখন যাই তখন আমার সহপাঠীরা সবাই আমার থেকে বড় ছিল। বাট এ্যানিওয়ে ইট ওয়াজ নট এ বেড টাইম। সিলেট গভর্ণমেন্ট হাইস্কুল থেকে আমি মেট্রিক পাশ করি। আমরা যখন ক্লাস এইটের ছাত্র, তখন বেশ বড় একটা দূঘর্টনা ঘটে। তখন আমরা আঠারো মাসে এক বছর পালন করি। তো আমরা ছিলাম টেস্ট কেইস। তারপর যখন নবম শ্রেণীতে গেলাম, তখন প্রথম বোর্ডের পরীক্ষা হয়। তখন থেকে এস এসসি শুরু হয়। এটা আয়ূব খানের রাজত্বের সময়। তো প্রথম এসএসসি দিলাম নবম শ্রেণীতে আবার দশম শ্রেণীতে পুনরায় এসএসসি দিলাম- সুতরাং পরপর দুই বার এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। ক্লাস এইটে পড়ার সময় অংকে আমি খারাপ করলাম। সে জন্য আমার শিক্ষক খুব অসন্তুষ্ট হন। এরপরে নবম শ্রেণীতে যখন পরীক্ষা দিই, আমি তখন অংকে প্রথম এবং দ্বিতীয় পরীক্ষায় একশ তে একশ পাই। এই আমার কাল হয়েছে। সারা জীবন অংক লেগেই থাকল। যেহেতু বেশি ভাল করে ফেললাম, তারপর ক্লাস টেনে গিয়েও সাধারণ গণিত এবং ইলেকটিভ মেথ, সেগুলোতেও একশ তে একশ। তো যেহেতু অংকে ভাল করে ফেললাম এবং এগুলোতে ভাল করছি, এ জন্যে যে, আমি বার বার চেষ্টা করেছি, এটা এমনিতে হয়নি। আমি সেহরির পর বসে বসে অংক কষতাম এবং পাঠ্যবইতে যতগুলো অংক ছিল আমি সবগুলোর রেজাল্ট জানতাম। যাদবের বইয়ের যতগুলো অংক ছিল, সব গুলোর রেজাল্ট জানতাম। হয়তো প্রসেস কোথায় গন্ডগোল হতে পারে তবে আই নো দ্য রেজাল্ট। মানে, এতবার কষছি। এ্যানিওয়ে, তার ফলে বাধ্য হয়ে যখন কলেজে গেলাম সবাই বললো, তুমি অংকেতে ভালো, ভালো মানে রেজাল্ট ভালো- আই ডিডনট হ্যাভ দ্যাট মাচ ইন্টারেস্ট ওন দোজ ডেইজ বাট- যেহেতু অংকে ভালো তার ফলে- আমি সায়েন্সের ছাত্র। সেইখানেও অংক। মতিন স্যার, প্রফেসর মতিন সাহেব আমার অংকের অধ্যাপক, আপনারাও তাকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন, মতিন স্যারকে আমরা অন্যভাবে বলতাম – ডু ফলো-ডু ফলো, ক্যান ফলো, ক্যান ফলো। তিনি সব সময় বলতেন ক্যান ইউ ফলো। ক্যান ফলো ক্যান ফলো? ডু ইউ ফলো। ডু ফলো, ডু ফলো- এ নিয়ে আমরা বেশ রসিকতা করতাম। আই ফিল বেড। তার ছেলে এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) আছেন। যাই হোক, যেহেতু- কলেজেও অংক ছিল তার ফলে ইউনির্ভাসিটিতে যখন আসলাম, সবাই বললো, তুমি যেহেতু অংকে ভালো, সেহেতু অংক নাও, তাই স্টেটিস্টিকস এন্ড ম্যাথমেটিকস হলো আমার সাবসিডিয়ারি, সো, সারাজীবনই অংক লেগে আছে। বিদেশে এসে যখন পিএইচডি করতে গেলাম সবাই বললো, তুমি যেহেতু অংকে ভালো, অবশ্য এর মধ্যে একটু প্রেক্টিসও হয়েছে, আবার ইকোনমিকস এ পিএইচডি। সেটি বেসিক্যালি ইজ এন ইকোনমিক মডেল, এটা আবার অন্য লোকে বুঝবেন না।
প্রশ্ন: কোনটা?
উত্তর: এটা নর্থ ইস্টার্ণ ইউনিভার্সিটিতে স্পেসিফিক্যালি ওন ইকোনমিটিক মডেল। ইটস এ হাইলি টেকনিক্যাল এ্যাপলিক্যাশন অব ম্যাথমেটিক্যাল মডেলস টু আইডেনটিফাই সার্টেন হাইপথেসিস। এ্যানিওয়ে, এই অংকই লেগে থাকলো সারা জীবন।
প্রশ্ন: তৎকালিন সময়ে আমি নিজে রাজা জিসি হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম ১৯৬৯ ও ৭০ এর দিকে এবং ঐ সময়ে শ্লোগান, মিছিল, লেগেই থাকতো এবং আমরা মিছিল করে যেতাম আপনাদের ধোপাদীঘির পারস্থ বাড়ির পাশ দিয়ে। তখন কোন বাসা কোন দিকে বলা যেত। এখন তো ঐ এলাকাটা ব্যাপকভাবে জনবহুল হয়ে গেছে।
উত্তর: আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, ৬০ এ যখন এডুকেশন আন্দোলন হলো, তখন তো আমরা পোস্টার লাগাতাম, সিটে বসে সাইকেল চালাতে সক্ষম না হওয়ায়, সাইকেলের মধ্য অংশে পা ঢুকিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করতাম। নুরুল ইসলাম নাহিদও ছিলেন তখন আমাদের সাথী। তারপর ইউনিভার্সিটি আন্দোলন আমাদের বাসা থেকেই হতো, সুতরাং এগুলোতে আমরা খুব সম্পৃক্ত ছিলাম। তৎকালিন বিভিন্ন রকম আন্দোলন, আয়ূব বিরোধী আন্দোলনে আমরা সম্পৃক্ত থাকায় টিকটিকির খাতায় আমাদের নাম লিখা থাকতো। জনৈক টিকটিকির ছেলে আমাদের সাথে পড়তো, ফলে আরও সমস্যা ছিলো।
প্রশ্ন: সিলেট তখন কেমন ছিলো? আপনার ছাত্র জীবনের সিলেট এবং এখনকার সিলেট প্রায় পঞ্চাশ বছরের ব্যবধান। এখন সিলেটে গেলে পা-ফেলার জায়গা নেই, তখনকার সময়ের সিলেট শহরের অবস্থাটা কেমন ছিলো?
উত্তর : ইউ সি লাইফ ওয়াজ মাচ মউর কমফর্টেবল। তৎকালিন সিলেট ছিল অত্যন্ত সুন্দর শহর। সবার মধ্যে এক ধরনের সম্প্রীতিভাব ছিল। আমরা সিলেট গালর্স স্কুলে গিয়েও বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠান করেছি। যেমন ইস্ট পাকিস্তান উইক এর অনুষ্ঠানের কথা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। আমি আবার ঢাকায়ও গেলাম স্পীকার হিসেবে কবিতা আবৃত্তি করার জন্য। যতদূর মনে পড়ে, আমার সঙ্গে কেয়া নামে গালর্স স্কুলের একজন ছাত্রীও ছিল, উই হেড ডিফারেন্ট আপব্রীংগিং। আর শহরে যেহেতু লোক কম ছিল, আমরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতাম। কোন ধরনের সন্ত্রাস তো জীবনে দেখিনি। এগুলো ছিলোই না। কলেজ জীবনে আমরা সাইকেলে করে কলেজে যেতাম। লাইফ ওয়াজ ভেরি ভেরি কমফর্টেবল এন্ড ডিফারেন্ট। এখনকার ছেলেমেয়েদের সাথে তুলনা করলে খুব খারাপ লাগে। কারণ, এখন দেখি, যে বহু রকমের জঞ্জাল এবং যানজটে জীবন অতিষ্ঠ। আমাদের সময়ে তো এই রকম সমস্যা ছিল না। আমরা সব লোককে চিনতাম এবং সম্মান করতাম। শিক্ষকদের দেখলে ইদানিংকালে যে রকম হয়, এ রকম ছিল না, আমাদের সময়ে একটা আলাদা শ্রদ্ধাবোধ ছিল। যারা আমাদের সিনিয়র এবং উপরের ক্লাশে পড়তেন, তাদেরকেও আমরা অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখতাম এবং তারাও আমাদের অত্যন্ত আদর-স্নেহ করতেন। সুতরাং দ্যা হউল এটিচিউড ওয়াজ ডিফারেন্ট দ্যান হোয়াট উই হেভ টুডে। এটা বোধ হয়, এই ডায়নামিক পরিবর্তনের কারণে হয়েছে। বাট আই মিস দৌজ ডেইজ।
প্রশ্ন: উনসত্তরের গণআন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ, এ সময়ে আপনার অনেক সহপাঠী ছিলেন, সিলেটের অনেক বিশিষ্ঠজন এ সব আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। এদের দু একজনের নাম কি আপনার এ মূহুর্তে মনে পড়ে। যারা হয়তো প্রয়াত অথবা আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন?
উত্তর: নিশ্চয়ই। চঞ্চল ভাই, খালিক সাহেব, কিংবা আমাদের লুতফুর, গুলজার ভাই প্রমুখ। গুলজার ভাই তো তখনকার সময়ে ভালো বক্তা ছিলেন।
দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেব তখন সিনিয়র নেতা। কিন্তু আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যেমন নুরুল ইসলাম নাহিদ, ওয়াজ এ গুড ওয়ার্কার, বক্তৃতা তেমন দিতেন না, বেশিরভাগ সময় গুলজার ভাই বক্তৃতা দিতেন।
আমি ৬৯ এর মুভমেন্টে ঢাকায় ছিলাম না। তখন আমি চলে গেলাম ইসলামাবাদে। সত্তরে পাকিস্তানে ছিলাম। সেখানে যখন ৬৯ এর আরটিসি( রাউণ্ড টেবিল) বৈঠক হলো, সেখানে আমরা বড় নেতা, যখন বঙ্গবন্ধু সেখানে গেলেন, সারাক্ষণ আমরা এক সাথেই আছি। দুই দুইবার গেলেন তিনি। দুই দুইবার . . . আমি হলাম তার এক ন’র এ্যাসিটেন্ট। কারণ সেখানে তখন এতো লোকজন যেতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু যখন প্যারলে মুক্তি পেয়ে আসলেন আর টিসি মিটিংয়ে, ঐ সময়ে আমরা ওয়েস্ট পাকিস্তানে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রুপের নেতা। আমরা ছিলাম মাউথপিস অব বাংলাদেশী পিপল ইন ওয়েস্ট পাকিস্তান এবং সেই জন্য আমাদের সমস্যাও হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি কি এমসি কলেজের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: আমি এমসি কলেজের ছাত্র। আমি ইন্টারমিডিয়েট এমসি কলেজ থেকে পাশ করেছি। এবং ঢাকা ইউনির্ভাসিটি থেকে অনার্স পাশ করি এবং মাস্টার্স পাশ করি। কিন্তু মাঝখানে একবার ইন্টারউইন স্কলার, ইসলামাবাদ ফেলো হিসেবে আমি ইসলামাবাদ ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম। তখন আমরা মাত্র চারজন সেখানে ছিলাম। আমি ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মাহমুদুল আলম। শেষের দিকে এসে একজন আমাদের সাথে জয়েন করে, আমাদের এসডি চৌধুরী সাহেবের ছেলে এহতেশাম চৌধুরী, সো- দৌজ ওয়্যার ডিফারেন্ট ডেজ।
প্রশ্ন: এরপর থেকে কর্মজীবনের শুরু, নাকি আমেরিকায় চলে আসলেন, পড়াশোনা করলেন?
সরকারের কোন ডিপার্টমেন্টে প্রথম কাজ শুরু করেন?
উত্তর: আমি তো প্রশাসনিক বিভাগে কাজ শুরু করি। তারপর বাংলাদেশ হবার পরে দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেবের প্রাইভেট সেক্রটারি ছিলাম, আরও অনেক মন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি ছিলাম, ওয়ান অব দ্য লংগেস্ট প্রাইভেট সেক্রেটারি। তারপরে আমি বিদেশে আসলাম। হার্ভার্ডের ছাত্র থাকাকালিন অবস্থায় বাংলাদেশে মার্শাল ল জারি হলো। তখন বাংলাদেশের মার্শাল ল-র বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার কারণে তৎকালিন সরকার বাহাদুর আমাকে পিও অর্ডার ৯ এ টার্মিনেট করলেন অর্থাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ফেললেন। পসিবলি আই এম ওয়ান অব দি ইয়ংগেস্ট গভ: অফিসার হো ওয়াজ টারমিনেট আন্ডার পিও অর্ডার ৯। তার ফলে আই নেভার লুকড বেক। তখন বিদেশে রয়ে গেলাম এবং বিদেশে বসে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করলাম, সরকার তাতে খুব উষ্মা প্রকাশ করলেন। আমার পাসপোর্ট জব্দ করতে চাইলেন। বহু রকমের দূর্ঘটনা ঘটেছে। ইউ নো আপস এন্ড ডাউনস বাট উই সার্ভাইভড এন্ড ইট ওয়ার্কড আউট।
বিদেশে যেদিন পাড়ি দেন বাঙালিরা আরও স্বদেশপ্রেমিক হয়ে ওঠেন, দেশপ্রেম অসম্ভব রকম বাড়ে তো সারাজীবন আমরা বিদেশে থেকে বাংলাদেশ বাংলাদেশ করি।
যাইহোক, মাঝখানে আমি সৌদি আরবে কাজে যাই। এদেশের সরকার আমাকে সেখানে নিয়ে যান এবং সেখানে কিছুদিন কাজ করি। আমি আমেরিকার রাজনীতির সাথে যুক্ত হই।
আমি এই দেশে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের ডেমোক্রেসির উপরে একটি হেয়ারিং এর আয়োজন করি ওয়াশিংটনে এবং তৎকালিন সময়ে আমাদের গভর্ণর ছিলেন যিনি, তিনি পরবর্তীকালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট হন, যাঁর নাম ছিল মাইকেল ডুকাকিস। আমি তাঁর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হই। তো সেই উপলক্ষে আমার আমেরিকার রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়া- অনেকের সাথে পরিচয় হয়। বিশেষ করে যখন হি ওয়াজ এবাউট টু পিক আপ হিজ ভাইস প্রেসিডেন্সি। তখন আমার সাথে এদেশের সিনেটর গভর্ণরস মোটামুটি সবার সাথেই পরিচয় হয়। কারণ তারা আসতেন তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে। যার ফলে ওদের সাথে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা হয়। সো থিংস ওয়ার ডিফারেন্ট ওন দউজ ডেইজ। দেন অফকোর্স মাইকেল ডুকাকিস ফাইনেলি ফেল করলেন, যদিও ১৭ পয়েন্ট এডভানস- এ ছিলেন। কিন্তু লাস্ট মিনিটে দুই একটা এড এর কারণে হি ফেইলড। যাই হোক বুশ সিনিয়র জয়লাভ করলেন। তখন এই দেশের যারা রাজনীতিবিদ তারা আমাকে মিস্টার বাংলাদেশ হিসেবেই চেনেন। সো, আই ওয়াজ নোউন ফর মেনি ইয়ারস এজ মি. বাংলাদেশ। সো, বাংলাদেশের জন্য আমরা সারা জীবনই হইচই করি বিদেশে । হুইচ ইউ ওলসো, ডু বিদেশে সব সময় প্রবাসীরা বাংলাদেশকে খুব গভীরভাবে মনের মধ্যে রাখে। সব সময় এটা থাকে। যাই হোক, এখানে আমি শিক্ষকতা শুরু করি।
প্রশ্ন: সেটা কোন ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: আমি এই খানে বহু জায়গায় কাজ করি। প্রথম হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে মাস্টারি করি, তারপরে একটি কলেজে সেটেলড করি। কারণ ইউনিভার্সিটিতে থাকলে, যাকে বলে পাবলিস ওর প্যারিশ আর কলেজে থাকলে সে হিসেবে কোন ঝামেলা নেই । ইউ ক্যান ডু ইউর ওউন থিংস, সো, আই ওয়াজ উইথ এ স্টেইট কলেজ সিস্টেম। পরে আমার এক পরিচিত ভদ্রলোক, যিনি ঐ সময়ে ডেপুটি সেক্রেটারি অব ট্রেজারি হলেন, উনি বললেন যে, বিদেশে একটা কাজ আছে, সেটা আমি করবো কিনা, আমি রাজি হলাম। সো এই সূত্রে, আমি সৌদি আরবে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করি। সেইখানে আমি সৌদি এণ্ড ইউএস গভর্ণমেন্ট এর একটি জয়েন্ট প্রজেক্টে এ কাজ করি। ঐ সময়ে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন। তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেশে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সেই সময়ে আমার স্কুল পড় ুয়া ছেলে-মেয়েগুলোকে নিয়ে দেশে যেতে পারিনি।
তারপর যখন ( ২০০৯ সালে) উনি যখন আবার জয়যুক্ত হলেন, তখন আমাকে সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করলেন। আমি সৌদি আরবে অনেক দিন ছিলাম। সেইখানে থাকার সময় আমাদের সৌদি প্রবাসীদের যে যন্ত্রনা, বিশেষ করে আদম ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের অনেকেই যে উত্যক্ত হয়, তা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাই, আই গট ইনভলবড ইন ইট। এর আগে অবশ্য আমার ইনভলবমেন্ট ছিলো ট্রাফিকিউ অব ওমেন এন্ড চিলড্রেন বিশেষ করে দুবাইতে এবং গলফ কান্ট্রি গুলোতে বাচ্চাগুলোকে যে উটের জকি হিসেবে ব্যবহার করতো, এটা নিরসনে আই লাঞ্চ এ মুভমেন্ট এন্ড থ্যাঙ্কস গড, এটা মোটামুটিভাবে আমরা বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছি। সেই জন্য আমাকে অনেকে খুব সাহায্য করেছেন। এদেশের অনেক আইন বিশেষজ্ঞজন যেমন সিনেটর কেনেডি, কংগ্রেসম্যান,বার্নিফ্রাঙ্ক, জন কেলি, মকলে, টম ল্যানটোস প্রমুখ আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। সব মিলিয়ে ১৩২ জন ইউ এস ল-মেকার্স সেন্ট এ লেটার টু মিডিল ইস্ট কান্ট্রিজ টু স্টপ দিস গেইম, আই মিন দি এবিউস অব চিলড্রেন। আর যেটা সবচেয়ে সুখের কথা, তখন এদেশের স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা বিশেষ করে স্কুলের ফিফথ – সিকসথ- সেভেনথ গ্রেডের ছাত্ররা বড় কষ্ট করে আমাকে টাকা তুলে দিত- এই মুভমেন্ট চালানোর জন্য ফ্রম হান্ড্রেড অব স্কুল। আর আমি খুব বিজি থাকতাম এবং বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে বক্তৃতা দিতাম। বাচ্চারা ঐ ক্যামেল জকি কেমন হয়- এগুলো জানতে চাইতো। সো দউজ ডেইজ ওয়ার গোলডেন ডেইজ আমার জন্য। থ্যাঙ্কস টু দি মিডিয়া, থ্যাঙ্কস টু দি ইউএস ল মেকার্স, থ্যাঙ্কস টু স্কুল চিলড্রেন- বাচ্চারা তাদের এলাকার সিনেটরদের চিঠি লিখতো, সেই সিনেটররা আমার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং জানাতেন যে বাচ্চারা এই নিষ্ঠুর খেলাটি বন্ধের জন্য তাদের সাহায্য চেয়েছে। সো আই হ্যাড গুড স্কউপ ওন দউজ ডেইজ এন্ড আই এম থ্যাঙ্কফুল টু গড। কারণ এটি আল্লাহর ইচছায় হয়েছে।
প্রশ্ন: আমাদের দেশ থেকে যারা অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ বা হার্ভার্ড ইউনির্ভাসিটিতে লেখাপড়া করতে যান, তাদের নিয়ে আমরা অনেক গর্ববোধ করি। আমরা গর্ববোধ করি যে আপনি নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন এবং সাথে সাথে আপনার অনেক ছাত্র-ছাত্রী রাজনীতিক হিসেবে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন, আপনি যদি তাদের দু এক জনের বিষয়ে আমাদের বলেন।
উত্তর: দিস ইজ দি গুড থিং অব এ টিচার। একজন টিচারের কাছে বহু ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে এবং এদের অনেকেই পরবর্তীতে ভালো অবস্থানে যায়। তখন ইউ ফিল গুড এবাউট ইট। যেমন সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সে আমার ছাত্র, সে খুব সিরিয়াস স্টুডেন্ট ছিল। সে লিকুয়ান-এর পুত্র, আমরা জানতাম। লি কুয়ান ছিলেন আমাদের কাছে একজন আদর্শ মানুষ। জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব বান কি মুন সাহেব আমার ডাইরেক্ট স্টুডেন্ট ছিলেন না। কিন্তু আমি যখন টিচার ছিলাম, তখন উনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং উনি আমার অধীনে একটি কোর্সে ভর্তি হতে চেয়েও নাকি হননি। কারণ আমি নাকি খুব টাফ টিচার ছিলাম। আমার গুলো কুয়ান্টেটিভ কোর্স ছিল তো,প্রিন্সিপাল অব মাইক্রো ইকনমিকস এর উপর। যাই হোক, ইদানিং আরও অনেকের সাথে দেখা হয়, যারা দেখি স্ব-স্ব অবস্থানে ভেরি পাওয়ারফুল এবং এরা এককালে আমার ছাত্র ছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই আন্ডার গ্রেজুয়েট লেভেলে আমার ছাত্র ছিলেন, যদিও ঐ লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীদের আমি তেমন চিনি না। বাট হোয়েন দে টেল প্রফেসর ইউ আর মাই টিচার, আই ফিল গুড এবাউট ইট এবং দে আর ওলোওয়েজ ভেরি নাইস।
প্রশ্ন: জাতিসংঘে তো আপনাদের এবং বিশেষ করে আপনার ভুমিকা হচেছ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বাংলাদেশকে তুলে ধরা। আমরা অনেকেই ওয়াকিবহাল, এই যে, বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে কীভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জাতিসংঘের মাধ্যমে আপনি অনেক কাজ করে যাচেছন – যেগুলো আমরা সাধারণ মানুষ জানি না- যদি এ ব্যাপারে কিছু বলেন।
উত্তর: থ্যাঙ্কস গড। কারণ গড আমাদের সাহায্য করছেন প্রতি পদে। আমি যখন ইউ এন-এতে আসি, তখন আমাদের খুব বদনাম- বাংলাদেশের খুব বদনাম। ইভেন আই কুড সি, আমার মিশন এর লোকগুলোও খুব নম্র হয়ে চলে। বদনাম, কারণ বাংলাদেশ এক ন’র করাপ্ট কান্ট্রি, পর পর মনে হয় তিন বছর- পাঁচ বছর হলো, বাংলাদেশ একটা সন্ত্রাস জঙ্গীবাদের দেশ হিসেবে তখন পরিচিত। মিশনের লোকেরা লুকিয়ে লুকিয়ে থাকে, ভয় পায়। বাংলাদেশে এর মধ্যে একটা নন পলিটিক্যাল গভর্ণমেন্ট আসলো। আমার সৌভাগ্য, যে আমি যখন জাতিসংঘে আসলাম তখন একটা ফেয়ার-ফ্রি এন্ড ক্রেডিবল ইলেকশন এর মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসলো এবং সেই সরকার আমাকে এখানে পাঠায়। বাংলাদেশ সরকার দ্বার্থহীনভাবে ঘোষণা করলো যে, তারা কোন ধরনের সন্ত্রাস এলাও করবে না। কথা যেটা বলেছে- জিরো টলারেন্স এবং এর প্রাক্টিসও হয়েছে। তো এই কারণে আমাদের ইকোনমি খুব ভালো করতে লাগলো। সো আই গেটে এ স্কোপ, আমরা সন্ত্রাস এবং করাপসন ধ্বংশ করলাম ও করাপশন। যতগুলো লোক নিয়োগ করলেন প্রথম মন্ত্রিসভায়, কারোরই আগের করাপ্ট লিনিয়েজ নেই। তো এই গুলো আই কুড প্রমোট ইট। আমাকে এখানে পাঠিয়েছে বাংলাদেশের ইমেইজ বিলড আপ -এর জন্য। আই ট্রাইড মাই বেস্ট। এবং দেশে ভালো কাজ হচিছলো বলে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উদ্ধারে তা খুব উপকারে আসে। আমি মাস্টার মানুষ, সো আই ডিড এ সোয়াট এনালাইসেস। আমার স্ট্রেনথ, আমার উইকনেস, আমার অপরচনিটিজ এইগুলো আমি একটা এনালাইজ করে দেখলাম। কোন কোন ক্ষেত্রে যেমন পিস কিপিং এ আমাদের স্টেগথ খুব ভালো, সেইটাতে আমরা এডিশনাল এফোর্ট নিলাম। এটা শুধু আমি একা নয় – আমরা হোউল টিম, ইউ সি- আমরা বসে চিন্তা করেছি, আই ওয়াজ ওলসো, লাকি টু গেট গুড অফিসার্স লাইক নজিবুর রহমান। উনি এখন বাংলাদেশে সেক্রেটারি, ভেরি গুড অফিসার। যাই হোক, আমরা দেশের ভাবমূর্তি উদ্ধারে সিলেক্টিভলি এ্যাপ্রোচ করি। সব গুলোতেই বিশেষ করে সোশাল ইকোনমিক ইস্যুগুলোতে আমাদের ইম্পর্টেন্স দেয়া দরকার। আমাদের ইউএনডিপি-এর সাহায্য দরকার। সো উই রেইজ আওয়ার ইস্যুজ এবং বাংলাদেশে সরকারও ভালো কাজ করছে। সবগুলো মিলিয়ে আমাদের কিছু একটা করার সুযোগ তৈরি হয়। তার ফলে আমরা একটার পর একটা ইলেকশান করি। আমরা অনেকগুলো ইলেকশান করি। আমি আমার আগে যারা পিআর (পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ) ছিলেন, তাদের সাথে আলাপ করি, যেমন ইফতেখার ভাই, মহিউদ্দিন সাহেব, এরশাদ সাহেবের সাথে যিনি ছিলেন যেমন আনোয়ারুল করিম চৌধুরী, উনাদের জিজ্ঞেস করি যে উনারা অফিসে থাকাকালিন কেন ইলেকশান করেননি। উনাদের অপিনিয়ন জানি, দেন উই ডিসাইড। আমরা একটার পর একটা ইলেকশান করি এবং সবগুলোতে আমরা জয়লাভ করি।
তো এই জন্য একটু খাটতে হয়, মানে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে হয়। এর ফলে আমরা লিডারশীপ পজিশানে গেলাম। আমরা চারটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। প্রটেক্ট ইন্টারেস্ট অব বাংলাদেশ, প্রমোট ইন্টারেস্ট অব বাংলাদেশ, প্রভাইড গ্লোবাল লিডারশীপ এবং প্রভাইড লিডারশীপ ইন পিস। তো আমরা এই ৪ পি স্ট্রেটেজি নিয়ে কাজ করি। আমরা প্রায় বিয়াল্লিশটি কমিটিতে ইলেক্টেড। কোথায় আগে সাত আটটার বেশি কমিটিতে ছিলাম না। তো এই কমিটিগুলোতে আমরা প্রিসাইডিং, ইউ আর চেয়ারিং ওর ইউ আর ডুয়িং সামথিং। আরেকটা সুবিধা হয়েছে আমাদের যে আমি যখন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আসলাম, তখন দেখলাম যে, জাতি সংঘে যিনি যুক্তরাষ্টের স্থায়ী প্রতিনিধি, উনি আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদে শি রেসপেক্ট মি এ লট। সুতরাং তিনি আমাকে প্রমোট করলেন অনেক সুযোগ-সুবিধা যেগুলো আমরা আগে পেতাম না, উনার মাধ্যমে সেগুলো পেতে আমাদের সুবিধা হয়। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল এর সাথে যখন পরিচিত হতে গেলাম, দেখা গেল উনিও আমাকে চেনেন, দ্যাট ওয়াজ এন এক্সিডেন্ট, দ্যাট ওয়াজ এ সারপ্রাইজ। এই দেশে সেক্রেটারি জেনারেল হচেছন ওল ইন ওল। উনি যখন আপনাকে পাত্তা দেন, তখন বাকী ইউএন অফিসিয়ালসরাও আপনাকে পাত্তা দেন। উনার কাছে এপয়েন্টমেন্ট চাইলে উনি আমাকে এপয়েন্টমেন্ট দেন। তারপরে আমাদের মিশন এর মোটামুটি প্রায় সব গুলো ইভেন্ট এ উনি আসেন। তো উনাকে বললাম, বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য, উনি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন। উনার সেকেন্ড টার্ম ইলেকশান এর সময় ফার্স্ট কান্ট্রি- হি ভিজিটেড দ্যাট ওয়াজ বাংলাদেশ। এই খানে যত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আছেন – মোটামুটি সবাই বাংলাদেশ ভিজিট করেছেন। ইটস বিকজ উই হেভ ডেভলপড এ গুড রিলেশনশীপস, দি আদার থিং ইজ বাংলাদেশেও ভালো কাজ হচেছ। বাংলাদেশে গত পাঁচ বছর বলা যায়- বাংলাদেশের সুবর্ণযুগ। দেশে ভালো কাজ হচেছ বিধায় জাতিসংঘে আমরা তা প্রমোট করতে পারছি। জাতিসংঘের এভরি মিটিং ইউগো, ইউ উইল হেয়ার পিপল আর ঞ্ঝিকিং হাই অব বাংলাদেশ। আমারও খুব গর্ব লাগে এই জন্য যে এক সময় আমরা পরিচিত ছিলাম বাসকেট কেইস হিশেবে, যখন আমরা ইমপোর্ট করতে পারতাম না, ইমপোর্ট করতে গেলেই বিদেশী কোম্পানিগুলো বলতো যে, যেহেতু তোমাদের কোন রিজার্ভ নেই, কোন টাকা নেই- তোমরা থার্ড পার্টি গ্রান্ট্রি নিয়ে আসো। থার্ড পার্টি গ্রান্ট্রি ভারত ছাড়া কেউ দিতো না। এতো দূর্নাম ছিল আমাদের। আরেকজন বলবে যে ঐ লোক পয়সা দিতে পারবে, কারণ ওদের বিশ্বাস নেই যে এই দেশ টিকে থাকবে। এই রকম অবস্থায় কিন্তু আমরা চাকরি করেছি- ইন দি আরলি সেভেনটিজ। এই রকম বিল্ড আপ করা হয়েছে। আর এখন দেখি, সেই কোথায় বটমলেস বাসকেট, যাদের বিশ্বাস করতো না কেউ, এখন তারাই মডেল অব ইকনমিক ডেভলপমেন্ট। সবাই আমাদের দিকে এখন তাকায়। এবং জানতে চায় যে তোমরা কি করে এমন জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও হাও কুড ইউ রীচ দি এমডিজি গোউলস। হাও কুড ইউ রিডিউস পভার্টি? ওরা জানতে চায় পাকিস্তানের অবস্থা তো তোমাদের চেয়ে ভালো ছিল, এখন তোমাদের থেকে পাকিস্তান অনেক পিছনে। দিনে দিনে পাকিস্তান একটি ইনস্টেবল কান্ট্রি হয়ে যাচেছ আর তোমরা এত ভালো করলে কি করে? সাউথ এশিয়াতে দেখুন কতগুলো দেশ – ভারত, ভূটান, নেপাল বলুন, সবগুলো থেকে এডুকেশনে উই আর বেটার অফ। তারা কিন্তু আমাদের চেয়ে উপরে ছিল। তারপর আমরা বিভিন্ন সোশাল ইস্যুতে যেমন ইনকাম ডিসপেরেটি হোয়েদার ইট ইজ প্রাইমারি স্কুল এনরোলমেন্ট অর পভারটি এ্যালিভেশন অর ইনফেন্ট ডেথ রেইট – এগুলোতে উই আর বেটার অব ইন কমপেয়ার ট* এনি সাউথ এশিয়ান কান্ট্রি এক্সেপ্ট শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা মোটামুটি আমাদের চেয়ে এগিয়ে। জনসংখ্যাও অনেক কম তাদের। মাত্র ২৯ মিলিয়ন লোক, আমাদের এত জনসংখ্যার চাপ, এর মধ্য থেকেও এত উন্নতি কিভাবে সম্ভব হলো? এগুলো সম্ভব হয়েছে তার কারণ গুলো হচেছ- প্রথমত সরকারের সদিচছা, লিডারশীপ, কমিটমেন্ট এন্ড ডায়নামিক পিপল। আমি এটি সব জায়গায় বলি যে নেসেসিটি ইজ দি মাদার অব ইনভেনশন। আমরা ইনোভেটিভ ওয়েতে অনেক কাজ করেছি। দেখুন, কলেরায় আমাদের দেশের কত মানুষ মারা যেত। কলেরা নিরাময়ে ঢাকায় অবস্থিত আইসিডিডি আর বি যে ওষুধটি উদ্ভাবন করেন, তার ফলে হাজার হাজার মানুষের অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়েছে। মিলিয়নস অব পিপল ওয়ার সেভড। এই ইন্সটিটিউশন সরকারের একটি নবোল প্রাইম, কারণ এতগুলো লোকের উপকার করেছে। এ্যনিওয়ে- এক সাথে দুটি দিক যার একটা হচেছ যে,দেশে ভালো কাজ হচিছল এবং ভালো কাজ হওয়ার ফলে আই ক*ড প্রমোট ইট এবং গড ওলসো হেলপড। অনেকের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ফলে -যেমন অনেকের সাথে কবে, কোথায় দেখা হয়েছে আই ডিড নট নো দ্যাট আনটিল আই ওয়াজ হেয়ার, বাট দউজ থিংস ওয়ার্কড আউটপ্রিটি ওয়েল। এবং অনেকেই যদিও এরা আমার ছাত্র না কিন্তু আমাকে হয়তো দেখেছেন কেনেডি স্কুল এ বক্তৃতা দিতে এবং দে রিমে’ার ইট। এগুলো আমার জন্য ভেরি ইউজফুল হয়।পুরোনো সম্পর্ক অনেক সময় খুব কাজ দেয় এবং এই যে যোগাযোগ, এগুলো বাই এক্সিডেন্ট। এগুলো উপরওয়ালা ঠিক করেছেন। আপনি শুনে খুশি হবেন যে এখন বাংলাদেশ, এখন ইউ এন এ ইজতে এ মডেল অব ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট। আমরা নতুন আরেকটি এ্যাপ্রোচ হাতে নিয়েছি। যেমন আগে আমাদের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী আসলে শুধু একটা বক্তৃতা দিয়েই চলে যেতেন। ইদানিং আমরা সেটা করি না। আমরা এখন উনারা আসলে আমাদের বিভিন্ন ইভেন্ট এ উনাদের কীনোট স্পীকার, চীফ-গেস্ট হিশেবে আমন্ত্রণ জানাই। যার ফলে যিনি আসেন, তাকে আমরা খুব খাটাই। একটা থেকে আরেকটায় রোবটের মত দৌড়াদৌড়ি করাই। কিন্তু এতে হয় কি- ইট ইম্প্রোভস দি ইমেজ অব দি কান্ট্রি এণ্ড ইট টেলস দ্যাট দি কান্ট্রি ইজ ভেরি একটিভ। তো আল্লাহর হুকুমে আমরা মোটামুটি কাজ করছি। এছাড়া আমরা আমেরিকায় বাড়ি কিনলাম,অফিস কিনলাম।
দেখুন, যতদিন ইউএন থাকবে বাংলাদেশ এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে। এখানে বাংলাদেশের এ’্যামবাসেডর থাকবে, তার অফিস থাকবে, ১৯ সেপ্টেম্ব’র ১৯৭৪ এ বাংলাদেশ ইউএন এর মেম্বারশীপ লাভ করে আর এতদিন ধরে আমরা ভাড়া দিয়ে থাকি। আমি যখন প্রথম এখানে আসলাম, দেখলাম যে ভাড়া খুব বেশি। আমার মনে হয়েছে যে, আই এম সাকিং দ্যা ব্লাড অব পুউর পিপল। চেক লিখতে গিয়ে আমার খুব কষ্ট হতো। এত বেশি ভাড়া, থ্যাংস টু প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা, উনাকে বললাম যে, আমি একটা বাড়ি কিনবো, একটা অফিস কিনবো। উনি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন। তো উনার ইচছায়ই এটা সম্ভব হয়েছে। কারণ, আমাদের ব্যুরোক্রেসি ইজ সো ডিফিকাল্ট। তো ওদের মাধ্যমে এসব পাওয়াটা খুব কঠিন। যাই হোক, আমি প্রথম অফিস কিনলাম। আগে আমরা ৫০২৭ স্কয়ার ফুটের ছোট্ট অফিস করতাম আর এখন আমরা ১৩৭২৬ স্কয়ার ফুটের অফিস কিনেছি। অফিস সুন্দর হলে আমাদের স্টাফদের মটিভেশনও বাড়ে। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা রুম পেয়েছে। আগে যেখানে একই কামরায় দুই তিন জন অফিসারকে বসতে হতো। দ্বিতীয়ত আমরা বড় একটা হলরুম এর মত করেছি, যেখানে আমরা আমাদের মিটিংগুলো করি। এবং অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আমি ওখানে বিনে পয়সায় মিটিং করতে দিই। তাতে আমাদের সাথে তাদের সম্পর্কটা আরও গভীর হয়। সে যাই হোক, এটা কিনে আমাদের খরচ বাড়ে নাই। অফিস কেনার কারণে বাংলাদেশ সরকার প্রতিমাসে প্রায় বত্রিশ হাজার ডলার সেইভ করছে এবং আমাদের দেশের নিজস্ব প্রপার্টি হয়েছে। আমরা যে সময় কিনেছি, আমেরিকাতে আপনি জানেন যে, হোম মার্কেট তখন খুব বেড। বাড়িঘর কেনাবেচায় তখন ধ্বস নেমেছে। ইট ইজ এ বায়ার্স মার্কেট নাও। যে অফিস আমি কিনেছি, ৫.৫- ৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে, সেটি আগে নাকি ৮ মিলিয়ন ছিলো, সেটি কমে গিয়ে মাত্র সাড়ে ৫ মিলিয়ন ডলারে আমরা প্রপার্টিটা কিনতে সক্ষম হই। দিস ইজ অপরচোনিটি এন্ড ইট ইজ দি রাইট টাইম টু বাই ইট। তো আমরা চার শত পয়ত্রিশ ডলারে পার স্কয়ার ফুট কিনেছি। আগে যেখানে বারশত ডলার পার স্কয়ার ফুট ছিলো। তারপরে আমি দেখলাম যে, বাসা কেনা দরকার। কারণ, এখানে যতদিন বাংলাদেশের এ্যামবেসি থাকবে ততদিন একজন এ্যামবেসেডরও থাকবেন এবং এ্যামবেসেডরদের থাকার জন্য যে বাসা, সেটার ভাড়া অসম্ভব বেশি। তো আমি বাড়ি ভাড়ার খরচ সংক্রান্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে, বাড়ি কেনার চেষ্টায় লাগলাম এবং অবশেষে একটা বাড়ি কেনা হলো। বাড়ি কেনা সংক্রান্ত ডিসিশন পেতে আমার অনেকদিন সময় লেগেছে, কারণ সরকারের সিস্টেম ইজ ভেরি কামভারসম বাংলাদেশ সরকারের এই সমস্ত বাড়ি কেনার যে প্রক্রিয়া, সেটি বড় কঠিন বাট উপযুক্ত প্রসেস এর মাধ্যমে আমরা বাড়ি কেনার ব্যাপারটায় বলা যায়- উই আর সাকসেসফুল। আমার সব সময় ইচেছ ছিল যে আমি অফিসে থাকাকালিন অবস্থায় বাড়িটা কিনে দিয়ে যাবো। এবং এ জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ উনি আমাদের টাকাটা দিয়েছেন। অন্যরা হয়তো টাকাটা দিতেন না। একবার শুনেছিলাম, এইখানে একটা বিল্ডিং কেনার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু ত”কালিন সময়ে অথর্ মন্ত্রনালয় টাকাটা বরাদ্দ করেনি। যার কারণে সেটা কেনা সম্ভব হয়নি। এটি অনেক আগের ঘটনা। সো উই আর ভেরি লাকী যে এগুলো আমরা কিনতে পেরেছি। এবং আমাদের স্থায়ী একটি অফিস, বাসা হলো এবং এতে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ৪৩০০০ (তেতাল্লিশ হাজার) ডলার সেইভ হচেছ। কারণ, এই বাড়ি বাবত অনেক খরচ হতো। বাড়ি বাবত প্রায় ১১০০০(এগারো হাজার) ডলারের মত সেইভ হচেছ প্রতিমাসে আর অফিস বাবত সেইভ হচেছ প্রতিমাসে প্রায় ৩২০০০(ব(িড)শ হাজার) ডলার।
এগুলো মর্গেজ করে কেনা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ক্যাশ টাকা দিয়ে কিনেছে। এখন এই ক্যাশ কেনার একটা সুবিধা আছে। কারণ, আমেরিকাতে এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোন ক্রেডিট দেয় না। সো ক্যাশ দিয়ে কেনার ফলে আমরা এই প্রপার্টি গুলো সস্তায় কিনতে পেরেছি। যে টাকা বাড়ি এবং অফিস কেনায় খরচ হয়েছে, আমরা হিশেব করে দেখেছি ঐ টাকাটা ১৩ বছরের মধ্যে পে-ব্যাক হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আমার মনে হয় আপনার সময়ের আরেকটি সাফল্য হচেছ যে অটিজম বিষয়টি নিয়ে আপনারা কাজ করছেন ইউএন ও এবং তার অঙ্গ সংগঠন যেমন ইউনিসেফ থেকে বিভিন্ন প্রজেক্ট এর জন্য ফান্ড দেয়া হয়। তো অটিজম বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপনারা কাজ করে যাচেছন এবং আমি বিশেষ করে জানতে চাইবো, এই বিষয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ থেকে কোন ফাণ্ড পেয়েছে কিনা কিংবা অদূর ভবিষ্যতে কোন ফান্ড পাওয়ার আশা আছে কি না।
উত্তর: দেখুন, পৃথিবীতে ফিলনথ্রোপিক ইস্যু গুলো সবাই এক্সেপ্ট করে। এই ইস্যুগুলোর কোন শ(ড)ু নেই। কালচারাল এরিয়াতেও শত্রুর সংখ্যা কম থাকে। সো, উই ডিসাইডেড হোয়াট কাইন্ড অব ডিপ্লোমেসি ইউ নিড টু প্রমোট। যেমন এক সময় আমরা দেখেছি, সৌদি আরবে আমাদের মেজর ডিপ্লোমেসি ছিলো মেডিক্যাল ডিপলোমেসি, আমাদের ডিপলোমেটগণ ওখানে গিয়ে ট্রিটমেন্ট কি করে ভালো পান, সেদিকেই শুধু খেয়াল রাখতেন। বর্তমানে মিডল-ইস্ট এ আমাদের ডিপলোমেসি হচেছ ম্যানপাওয়ার ডিপলোমেসি। কি করে ওখানে জনশক্তি রফতানি করতে পারি- এটিই এখন মুখ্য বিষয়। আমরা দেখলাম যে ফিলানথ্রপিক ইস্যুগুলোতে সব লোক এক, আপনাকে সাপোর্ট দেয়। উই আর ভেরি লাকী যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, তিনি আমাদের স্পিরিট বিহাইন্ড দি অটিজম রেজুলিউশন। আমরা অটিজম রেজুলিউশন এ সবদেশের সাহায্য পেয়েছি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম বাবত বছরে কয়েকশত বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এবং এই খরচ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচেছ। তো, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ে শোনার পরে, বলা যায় দে সাপোর্টেড আস ভেরি মাচ। আমরা অটিজম রেজুলিউশন পাস করি। এটি কনচুয়াস, সব দেশ এটাতে রাজি হয় এবং অটিজম বিষয়ে বলা যায় আমরা এখন বিশ্বের নেতা। কারণ, আমরা এটা প্রমোট করেছি। এ কাজে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলা যায় টুক লট অব ইন্টারেস্ট এবং উনার মেয়ে ইজ দি স্পিরিট বিহাইন্ড ইট। এখানে দুটো স্পিরিট কাজ করেছে। একজন হচেছন সায়মা ওয়াজেদ এবং অন্যরা হচেছন বব এন্ড সুসান রাইস, উনাদের নাতি অটিস্টিক। নাও এর জন্য অনেক ফান্ড তৈরি হচেছ। ইউএস গভর্ণমেন্ট এটির জন্য ফান্ড দিচেছ। বাংলাদেশে এ নিয়ে অনেক কাজ শুরু হয়েছে। এ ইস্যুটা নিয়ে বাংলাদেশে এর আগে কেউ চিন্তা করেনি। এখন গভর্ণমেন্ট এই জন্য ক্লিনিক খুলেছে এন্ড উই আর কনস্ট্যান্টলি ওয়াকিং এজ টু হাও টু গেট এ্যাডিশনাল ফান্ড, যাতে যারা অটিস্টিক চিলড্রেন আছে, তাদের সোসাইটি সাথে এক করে ইকুয়াল অপরচুনিটি দেয়া যায়। বাংলাদেশ সরকার তাদের জন্য শতকার ১ ভাগ জব কোটাভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ করেছেনএবং দেয়ার আর মেনি ট্রেইনিং প্রোগ্রামস আর অনগয়িং। ফান্ডিংয়ের জন্য আমরা চেষ্টা করছি এবং ফান্ডিং আমরা পাবো। বাট ইউ আর লাইনিং আপ দউজ মানি। যেমন, ধরুন- টাকা পেতে অনেকদিন লাগে। যেমন আমি আসলাম ২০০৯ এ কিন্তু ইউনিসেফ এর ফান্ডিং অনেক পরে বাড়লো। সেটা সাথে সাথে বাড়েনি। গত ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের বরাদ্দে আমাদের ফান্ডিং অনেক বেড়েছে। আমরা ইউনিসেফের কাছ থেকে পেয়েছি হাইয়েস্ট ইন দি ওয়ালর্ড, ৪৫১ মিলিয়ন ডলার ফর বাংলাদেশ। আমরা যেমন ইউএনডিপি ইউ এন এফ পি এ থেকে পেয়েছি। ১.৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার, হাইয়েস্ট ইন দি ওয়ালর্ড। ইউএনডিপি এর টোটাল বাজেট ৫.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যার মধ্য থেকে আমরা পেয়েছি ১.৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এগুলো পেতে অনেক সময় লাগে।
প্রশ্ন: আপনাদের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অটিস্টিক জনগোষ্ঠী লাভবান হচেছ এবং হবে। এমন এক সময় ছিল যখন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অটিজম সম্পর্কে কোন স্বচছ ধারণা ছিল না।
উত্তর: হ্যা, তখন তো অনেকেই এটাকে জ্বীন বা ভুতে ধরা রোগ মনে করতেন।
প্রশ্ন: যাই হোক, আমি বলতে চেয়েছিলাম, আমেরিকা অনেক বড় দেশ এখানে যদি আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশ থেকে লক্ষাধিক লোক ও অভিবাসনের সুযোগ পান, তবে তাদের স্থান সংকুলানের কোন সমস্যা হবার কথা নয়। আমেরিকার আয়তন বিবেচনায় রেখে।
উত্তর: আই ট্রেভেলড দি হউল অব ইউ এস এ। আমি যখন ডুকাকিস সাহেবের সাথে ইলেকশান ক্যাম্পেইন করতাম, আই ট্রেভেলড ৪৯ ইউএস স্টেইটস। উন পঞ্চাশটি রাজ্যে আমি উনার সাথে ঘুরেছি, বিমানে অথবা গাড়িতে। মিডওয়েস্টে উনার অফিসগুলোতে আইওয়াসিটিতে এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোতে আমি উনার অফিসে কাজও করেছি। মাইকেল ডুকাকিস যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে এবং আমার দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন রাজ্যে উনার অফিসগুলোতে গিয়ে সাহায্য করা। এন্ড আই ডিড দৌজ।
প্রশ্ন: তাহলে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
উত্তর: তখন আমি খুব নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। আই ওয়াজ ওয়ান অব দি ফাউণ্ডার মেম্বারস অব ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি। যাই হোক, এই সময়ে ইলেকশান ক্যাম্পেইন এর সুবাদে এমনও জায়গায় গাড়ি চালিয়ে গিয়েছি, যেখানে ১০০ মাইল এর মধ্যে কোন বসতি নেই। উইসকনসিন বলুন বা নাভাদা বা সাউথ ডাকোটা দিয়ে যাচেছন, কোন বাড়ি-ঘর কিচছু নেই, মানুষ নেই। আমার সব সময় মনে হয় যে, বাংলাদেশে এত মানুষ। দেখুন, আইওয়া রাজ্য আর বাংলাদেশ আয়তনে মোটামুটি সমান। আমাদের দেশের ভূ-খন্ডের শতকরা ২৬ ভাগ পানির নীচে চলে যায় বর্ষা মৌসুমে অপরদিকে বাংলাদেশের সমান কিন্তু মৌসুমী জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া এই আইওয়া রাজ্যের জনসংখ্যা মাত্র ৩ মিলিয়ন আর বাংলাদেশে ১৫৪ মিলিয়ন পিপল, জাস্ট ইমাজিন- পঞ্চাশ গুণের বেশি। এরা ইচছা করলে, আমি বলতে চাইছি, উই লিভ ইন এ গ্লোবাল ওয়ালর্ড। আমি সবাইকে বলি, ইফ ইউ লুক ফর হিউমিনিটি . . .।
প্রশ্ন: এটি যদিও হাস্যকর হবে শুনতে, আপনি যদি কোনভাবে প্রস্তাব রাখতে পারেন যে, বাংলাদেশ এবং আইওয়া রাজ্য আয়তনে সমান কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই রাজ্যটির জনসংখ্যার পঞ্চাশ গুণ, তো যদি এই দিকটি বিবেচনা করে আমাদের দেশের অন্তত ছোট একটি অংশকে যুক্তরাষ্ট সরকার এখানে অভিবাসনের সুযোগ করে দেন, এ রকম একটি প্রস্তাব কি এ দেশের সরকারকে দেয়া যায় না?
উত্তর: নিশ্চয়ই দেয়া যায়। তোমরা যদি মানুষের উপকারের জন্য চিন্তা করো, তাহলে এ বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারো।
প্রশ্ন: আপনারা যেমন অটিজম এর উপর কাজ করে সফল হয়েছেন,ঐ একই উপায়ে কি এ বিষয়টি লিখিত আকারে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা যায়?
উত্তর: এ বছর মাইগ্রেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট এর উপরে একটি হাই লেভেল ইভেন্ট হবে, আমরা বলেছি, মাইগ্রেন্ট, এই যে মাইগ্রেশন ওয়ার্কাস, দে হেভ এ পজেটিভ এফেক্ট ওন ৩০ তম। দি হোস্ট ইকোনমি এন্ড দি ইকোনমি অব দেয়ারকান্ট্রি অব অরিজিন। যে দেশ থেকে তারা আসে, তাদের কারণে ঐ দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, তাদের হেলথ, এডুকেশন সব কিছুর উন্নতি হয়, আমাদের দেশে দেখুন, প্রবাসীদের কারণে আমাদের দেশের হেলথ, এডুকেশন অনেক ভালো হয়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠান- যার ফলে এই সব ছেলে-মেয়েরা ভালো স্কুলে যেতে পারে। তো এর মাধ্যমে দেশের উপকার হয়। আর অভিবাসীরা যে দেশে আসেন, যেমন ধরুন, এই যে মিডল-ইস্ট এ, ওখানকার ফ্যাক্টরিগুলোতে ৯৫% হলো বিদেশী শ্রমিক। তাদের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- বিলডিং, রাস্তা- এগুলোর সবকিছু প্রবাসীরা, এক্সপাট্রাইট ওয়ার্কাররা তৈরি করছে। সো দে হেভ পজেটিভ ইম্পেক্ট ওন দি হোস্ট ইকোনমি। এই নিউইর্য়ক শহরে ইমিগ্রেণ্ট এর সংখ্যা বেশি- এই জন্য নিউইর্য়ক শহরে আনএমপ্লয়মেন্ট সবচেয়ে কম। বিকজ, দৌজ, এক্সপাট্রিয়েট ডু নট লুক ফর জবস, দে ক্রিয়েট জবস, তারা জবস ক্রিয়েট করে। এই জন্য আমরা বলছি, যে যারা প্রবাসে আসতে আগ্রহী, তাদের জন্য আমাদের দরজা খুলে দেয়া উচিত। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে কোন ভিসা ছিলনা, নো ভিসা। এখন ইউ লিভ ইন এ ওয়ান লিটল প্লানেট, আমাদের লিডারশীপ এর অঙ্গীকার যদি হয় প্রো-পিপল, দেন ওল সোড বি ইনক্লোডেড, ইনেেক্লাসিভিটি ইজ ইম্পর্টেন্ট। সেই জন্য ফ্রি মুভমেন্ট টু মাইগ্রেন্টস ওল এক্রস দি গ্লোব এর সুযোগ করে দেয়া উচিত। এ প্রেক্ষিতে আমি বলতে পারি, আমেরিকা এত বড় দেশ, এদেশে যদি দশ-বিশ মিলিয়ন বাঙালি নিয়ে আসে, তাতে তাদের অপকার হবে না, বরং উপকার হবে। তাদের উন্নয়ন আরও বেশি হবে। এই জন্য বিদেশে আমাদের যে সমস্ত বাঙালি কমিউনিটি আছে, দে শুড মেইক বিগ নয়েজ এবাউট ইট। তোমরা আমাদের দেশের মানুষকে অভিবাসনের সুযোগ করে দাও। দেখুন, গত বছর ২০১২ সালে এই গ্লোবাল কমিউনিটি হেজ স্পেন্ট ১৭৩৪ বিলিয়ন ডলার, ওনলি ফর ডিফেন্স। আর ডিফেন্স এ এত টাকা ব্যয় করে ইনস্টেবিলিটি বাড়ানো হচেছ। অপর দিকে এই গ্লোবাল কমিউনিটি দুই বিলিয়ন ডলারও এডুকেশনের জন্য খরচ করেনি। সুতরাং দেয়ার উই শুড চেইঞ্জ দি মাইন্ডসেট এবং মাইন্ডসেট পরিবর্তন করে। ডিফেন্স এর জন্য টাকা খরচের পরিবর্তে মানুষের উন্নয়নের জন্য মাইগ্রেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট এর উপর ব্যয় করা উচিত। এবার যেমন- পোস্ট ২০১৫ ডেভলপমেন্ট এজেন্ডা, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে যে সকল ডেভলপমেন্ট এর কাজে হাত দেয়া হবে, তার মধ্যে বড় একটা এজেণ্ডা আমরা চিন্তা করে দেখেছি এবং বাংলাদেশ ইজ পুশিং ফর ইট। এবং সেটি হচেছ মাইগ্রেশনাল ডেভলপমেন্ট। এ বিষয়টি আমরা এজেন্ডা এর মধ্যে রাখতে চাই। মাইগ্রেশন শুড বি স্মোথ এবং এটি ডেভলপমেন্ট এর একটি বিশেষ অঙ্গ। এখনও সব দেশের সাপোর্ট আমরা পাইনি। কিন্তু আশার কথা কিছু কিছু ইউরোপিয়ান নেশন যেমন- মলদোভা, সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকা মহাদেশে কানাডা ও অন্য দেশগুলোর অল্প-অল্প সাড়া পাওয়া যাচেছ।
আমরা এই সব দেশের পাবলিক অপিনিয়ন চাই ইন ফেভার অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কাস। স্পেন যেমন এসেছে, মেক্সিকো এসেছে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে। আমরা স্পেন এবং মেক্সিকোর সাথে এ ব্যাপারে এক সাথে কাজ করছি। তো এই ইস্যুগুলো আমরা নিয়ে আসছি ইউ এন ফ্লোর এ এবং উই উইল ডু আওয়ার বেস্ট। তবে আমরা চাই যে, পাবলিক এওয়ারনেসটা বাড়ানো দরকার। এবং তা যদি হয়, তাহলে বিষয়টি পুশ করা যাবে।
প্রশ্ন: আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করলাম। জাতিসংঘে আপনার কর্মজীবন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের যে সফলতা তুলে ধরেছেন, অনেক তথ্যবহুল ঘটনাপঞ্জি আপনার কাছ থেকে জানলাম, তার জন্য আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। আমি কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জানতে চাইবো, যেটি আমরা যারা বিলেত প্রবাসী অথবা যারা বাংলাদেশে আছেন, তারা হয়তো জানতে আগ্রহী হবেন, বাংলাদেশে থাকাকালিন আপনার শখ বা হবি কি ছিল? সেটি কি এখনও বিদেশের মাটিতে বজায় রেখেছেন?
উত্তর: দেশে থাকতে শখ ছিল যে, বিদেশে যাবো, পড়াশোনা করবো তারপরে দেশে ফিরে যাবো, বিদেশে যাবার শখের কারণ ছিল যে ওখানে গিয়ে চেষ্টা করে দেখবো, কি করে বিদেশে বাঙালি জাতিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় এন্ড আই উইল বি প্রাউড অব ইট – যদি এটি করতে পারি, তাহলে মনে শান্তি নিয়ে মরতে পারবো।
প্রশ্ন: আপনি তো আপনার কাজের মাধ্যমে তার চেষ্টা চালিয়ে যাচেছন।
উত্তর:তবুও, আই থিং- প্রবাসে যারা আছেন, তাদের শখ হচেছ যে নিজের দেশটা কি করে আরও ভালো করা যায়, তার চেষ্টা করা। আর নিজের দেশের পাসপোর্ট দেখে যেন কেউ সেটাকে হেয় না করে। এটা দেখলে যেন সম্মানের সাথে গ্রহণ করে। এটা বোধ হয় মোটামুটি সব প্রবাসীরই কাম্য।
প্রশ্ন: দেশের কল্যাণে আপনার কাজ করার উদ্যোগ লক্ষণীয়। তো, আপনি জানেন যে আমি লন্ডন থেকে এসেছি এবং সেখানে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের সন্তানরা, পড়ালেখায় অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় আপনি যা বলছিলেন যে, আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যারা বিদেশে এসেছিলেন, তারা কখনো ভাবেননি যে বিদেশে স্থায়ী হবেন। এখনকার অবস্থা ভিন্ন। এখন বিলেতে আমাদের তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে গেছে। আমেরিকায়, বিলেতের তুলনায় আমাদের বাঙালি কমিউনিটি ছোট, তো এখানকার বাঙালি কমিউনিটি সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন।
উত্তর: ইউ সী, যারা নতুন ইমিগ্রেন্ট কমিউনিটি, তাদের বহু রকম সমস্যা থাকে। কিন্তু যারা আসে তারা খুব কমিটেড লোক। এবং এরা খুবই খাটে। অসম্ভব খাটুনি। বাই এন লার্জ সবাই পরিশ্রমী। কিছু লোক ঝরে পড়ে। তো ঝরে পড়ার ফলে কিছু লোক স্ট্রেইট পথ বাদ দিয়ে অন্য দিকে চলে যায়, তখন অসুবিধা হয়। এদেশের সাকসেস এর জন্য আমাদের কমিউনিটি এর দুইটা জিনিস প্রয়োজন- কোয়ালিটি এডুকেশন এবং গুড নেটওয়ার্ক। আমাদের যুবকদের এমন হওয়া উচিত যে, দে শেল নেভার সে নো টু ওয়ার্ক। কোন দায়িত্ব যদি দেয়া হয়- তাদের বলা উচিত ইয়েস, আই ক্যান ডু ইট। এই ক্যান ডু ইট এই শব্দগুলো অসম্ভব পাওয়ারফুল। এই শব্দগুলো আমাদের ছেলে-মেয়েদের মনে গেঁথে দেয়া উচিত বোধ করি। এটা যদি গেঁথে দেয়া যায়, তাহলে তার বস যে হবে, সে বলবে যে- দিস গেই ক্যান ডু ইট। এই কনফিডেন্স-টা আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বাড়াতে হবে। বিদেশের মাটিতে সমস্যা তো থাকেই। ইদানিং সমস্যাগুলো একটু বাড়ছে। একটা জিনিস আমাদের, যেমন ধরুন- এই নেটওয়ার্কিং দরকার এমনংস আওয়ারসেলভস। পরিবারের সাথে নেট ওয়ার্কিং রাখার প্রয়োজন এ কারণে যে, কোন রকমের মানসিক দু:শ্চিন্তা হলে ইউ এক্সপ্রেস ইউর সেলভস। আপনি আপনার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে যদি এগুলো বলে ফেলেন, তাহলে সমস্যা অনেকটুকু লাঘব হয়ে যায়। এই জন্য আমাদের কমিউনিটিতে ডাইভোর্স কিংবা সুইসাইড কম। এই সব পাশ্চাত্য দেশের লোকগুলো নিজের সমস্যাগুলো অন্যদের বলতে পারে না। বলতে পারে না বলে সে সুসাইড কমিট করে ফেলে। এই জন্য নেটওয়ার্কিং বউথ উইদিন দি কমিউনিটি এবং উইথ দি নিউ কমিউনিটি। বিদেশে, দেশের লোক আপনাকে খুব হেল্প করে। মেনি অব দেম আর ভেরি হেল্পফুল। সেই জন্য এই দুইটি নেটওয়ার্কিং-ই করা উচিত। এবং আরেকটি কাজ হলো, আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমাদের কমিউনিটি এর সাথে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করা। আমাদের কমিউনিটির একটি সমস্যা হচেছ যে, আমরা শুধু দেশীয় জিনিস বুঝি আর অন্য জিনিস বুঝি না। এই ব্যাপারে আমার মনে হয়, উই হেভ ট বি মউর ব্রডেন্ট এবং বাচ্চাদেরও এসপিরেশন কি, সেটার দিকেও একটু নজর দেয়া দরকার। নজর দিলে, ইফ উই ক্যান ডু থিংস লাইক দ্যাট, আমাদের সমস্যা হয়তো কমবে এবং দেশ তথা সবার জন্য উপকার হবে। আই অলওয়েজ সে দিজ উয়াং পিপল শুড জয়েন দি মেইনস্ট্রীম পলিটিক্স ইন ইউ এস এ ফর হেল্পফুল এখানে যদি একটা বাঙালি ছেলে সিনেটর বা কনগ্রেসম্যান হয়, সে কিন্তু বাঙালিদের জন্য অনেক কিছু করবে। বাঙালি কেউ যদি ইউ এস এ এর প্রেসিডেন্ট হয় , ইউ নো কেনিয়ার লোক প্রেসিডেন্ট হয়েছে যে কোনদিন কেনিয়াতে যায়নি। কেনিয়ানস আর ভেরি হেপি। যদিও ওবামা সাহেব তাদের দেশে যাননি। বাঙালি ছেলে বা বাঙালি মেয়ে যেদিন ইউএসএর প্রেসিডেন্ট হবে, আই উইল বি দি ওয়ান হু উড বি মোস্ট হেপি। তাহলে হি বা সি ক্যান ডু এ লট অব থিংস ফর হিজ অর হার কান্ট্রি অব অরিজিন।
প্রশ্ন: আমি আশা করি, এ রকম একদিন আসবে। ওবামার মত বিদেশী বংশোদ্ভূত একজন যখন ইউ এস এ-এর প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, তখন ভবিষ্যতে হয়তো বাঙালি বংশোদ্ভুত কেউ একজন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
্উত্তর: এ বিষয়ে আমার একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে। গত নির্বাচনে আমরা হিলারি ক্লিনটনকে সাপোর্ট করেছিলাম। আমার মেয়ে খুব ক্ষেপে গেল যে তোমরা হিলারি ক্লিনটনকে কেন সাপোর্ট দিচেছা? জানতে চাইলাম- কেন? তো সে বললো, তোমরা ওবামাকে সাপোর্ট করবে। জিজ্ঞেস করলাম- কেন? উত্তরে সে বললো- ডোন্ট ইউ নো তুমি হিলারিকে সাপোর্ট করলে হিলারি উড বি দি ফার্স্ট উইমেন প্রেসিডেন্ট অব ইউএস এ। দ্যান আই ক্যান নট বি দি ফার্স্ট উইমেন প্রেসিডেন্ট, ইফ ইউ ডু নট সাপোর্ট হিলারি দ্যান আই কোড বি দি ফার্স্ট উইমেন প্রেসিডেন্ট অব ইউ এস এ। জীবনে আপস এন্ড ডাউনস ছিলো বাট উই সার্ভাইভড। দেশ যখন আপনাকে সাহায্য করে না, দেশ হোস্টাইল হয়ে যায়, তখন ডাউন সেন্সটা আরও বাড়ে। আই হেভ গোন থ্রো মেনি প্রসেসেজ। এদেশে যখন সরকার আমার চাকরি খেয়ে ফেললেন, তখন এই দেশে কোন কাজ নাই। সো উই হেড টু ওয়ার্ক এজ এ সিকিউিরিটি গার্ড, দ্যান- এজ এ লাইব্রেরি এ্যাসিসটেন্ট, কত রকমের কত কাজ করে থিংস ওয়ার্কআউট, মে বি দিস ইজ দি লাইফ।
প্রশ্ন: এই আরেকটি বিষয় বিদেশে আসার পর আমরাও দেখেছি যে, এখনকার ছাত্ররা, ছাত্রাবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি খন্ডকালিন কাজ করে। বাংলাদেশে থেকে মনে করা হয় যে, এতে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। বিদেশে উল্টো, এই খন্ডকালিন কাজকে উ”সাহ দেয়া হয়। ছাত্রদের এই খন্ডকালিন কাজ তাদের আতন্ডবিশ্বাস বাড়াতে বিশেষ সহায়ক হয়। আপনার সাথে আলোচনার ফলে এই বিষয়টি পরিষ্কার হলো যে, পড়ালেখার পাশাপাশি খন্ডকালিন কাজ প্রকৃতপক্ষেই ছাত্রদের কনফিডেন্স বাড়িয়ে দেয়। আমি বিলেতে একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে জানি যে, বাচ্চাদের আমরা কী করে আই ক্যান ডু ইট এর লার্নিং বোস্ট দিয়ে থাকি। আপনার চিন্তাধারার সাথে যা হুবহু মিলে যায়। আপনার পরিবার এবং ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে কিছু বলুন।
এছাড়া আপনার পরিবারের সবাই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশ এবং এর জনগণের জন্য কাজ করে যাচেছন। আপনার ছেলেমেয়েরাও আমেরিকায় স্ব-স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ওদের মধ্যে কি কোন রুট কানেকশান আছে?
উত্তর:আছে, দে ফিল ফর দেয়ার কান্ট্রি। আমি দেখেছি, আমার মেয়েরা, তারা গ্রুপ করে দেশে ফাণ্ডিং এর ব্যবস্থা করেছে, স্কলারশিপ দেয়ার কাজে এরা সম্পৃক্ত।
প্রশ্ন: আরেকটা বিষয় জানতে চাইবো। গতকাল আপনি এবং আমি দুজনেই ম্যানহাটন এ জুমার নামাজ আদায় করলাম। তো জুমার খুতবায় ইমাম বলছিলেন যে- নিউইয়র্কে আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্রিসমাস কিংবা এদেশের জাতীয় উতসবে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মনোযোগী। কিন্তু নিজেদের ধর্মীয় সেলিব্রেশন যেমন ঈদ- এ ব্যাপারে তারা উদাসীন। উনার কথায় বুঝা গেল – ঈদ সেলিব্রেশন-টা যেন ওদের মন থেকে হারিয়ে যাচেছ। এর কারণ কি হতে পারে বলে- আপনি মনে করেন?
উত্তর: আমাদের যারা প্রফেসনাল আছেন, ইউ সী, সিলেটী। কমিউনিটি যারা এদেশে থাকেন দলবেঁধে, তাদের মধ্যে এই সেলিব্রেশন এর ব্যাপারটা এত খারাপ নয়। ওরা, ঈদের সময় ছুটি নেন। তো ছুটি নেয়ার জন্য, ছেলেমেয়েরা এই সেলিব্রেশন এর ব্যাপারটা বুঝতে পারে এবং আমরা যেমন দেশে থাকতে, ঈদের দিনে এ বাসা থেকে ঐ বাসায় বেড়াতে যেতাম, তারাও এখানে ঐ বিশেষ দিনে বেড়াতে যায়। তার ফলে দে হেভ মেনটেইনড দি কাস্টম। কিন্তু যারা অন্য অনেক প্রফেশন এ কাজ করেন এবং এমন শহরে থাকেন,যেখানে কোন মুসলমান নেই কিংবা বাঙালি নেই, ওরা অনেকেই ঈদের দিন ছুটি নেন না, কাজে চলে যান। এতে ঐ বিশেষ দিনটির ইম্পর্টেন্স ওদের মধ্যে আর থাকে না। আমার একজন জুইশ কলিগ ছিল, তো সে জুইশ যতগুলো হলিডে হতো, সবগুলোতে সে ছুটি নিতো, যদিও সে ধর্মীয় কর্মকান্ডে উ”সাহী নয়। আমি তাকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম যে, তুমি জুইস ধর্মের সব পর্বের ছুটি নাও কেন? কারণ ওগুলো সরকারি ছুটি নয়- সে ছুটি নিলে আমাকে বলতো যে, তুমি আমার ক্লাশগুলো নেবে কিনা? এবং নরমেলি আই ইউজড ডু ইট। তো আমি তাকে বললাম, হোয়াট ইজ দিস? এভরি টাইম ইউ টেইক হলিডে বাট ইউ কাম. . । সে আবার অফিসেও আসেকিন্তু ক্লাশ নেয় না। তো আমি বললাম, তুমি এমন করো কেন? সে বললো যে, দিস ইজ মাই রিলিজিয়াস হলিডে এন্ড আই ডু ইট সো দ্যাট মাই কিডস নো দ্যাট- আই এম ওন লিভ বিকজ অব মাই রিলিজিয়াস হলিডে। তো আমি যেমন মাস্টারি করতাম, সব সময় আমি ঈদের ছুটি নিতাম, আমাদের তো ঈদের ছুটি দেয় না, তখন আমি পারসনাল রিজন দেখিয়ে ছুটি নিয়ে নিতাম এবং আই মেইড ইট এ রুটিন যে ঈদের দিন ছুটি। ঈদের দিনে আমরা একটি ওপেন হাউস করি। দি বেসিক অবজেক্ট ইজ- যে এটি আমাদের ছুটির দিন। এগুলো কালটিভেইট করতে হয় এবং পেরেন্টস হেজ টু ডু ইট কিংবা কমিউনিটির এটি করা উচিত। এটি এসেনশিয়েল, এর অভাবে আমরা এই সেলিব্রেশন গুলো ভুলে যাবো।
প্রশ্ন: আপনি আরেকটি কমিউনিটি সম্পর্কে বলেছিলেন যে, জুইশ কমিউনিটি এদেশে অত্যন্ত উন্নত এবং তাদের প্রভাব অনেক উঁচ*তে বিস্তৃত। হোয়াইট হাউস পর্যন্ত বলা যায়। তাদের পরিচালিত মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের লিফট -এ লেখা দেখলাম যে, তাদের ধর্মীয় ছ*টির দিন ঐগুলো বন্ধ থাকবে। মাত্র দেড়শ দুশ বছর ধরে অভিবাসী হয়ে আসা এই জুইস কমিউনিটি খুবই উন্নতি লাভ করেছে এবং এই উন্নতির পরিক্রমায় তারা তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ বা সংস্কৃতি কোনটাকেই হারিয়ে যেতে দেয়নি বরং এগুলো দিনে দিনে আরো উন্নতি লাভ করেছে। আমি বলছি, রুট কানেকশন-এর কথা, যেটা বিদেশে বসবাসকারি মা-বাবারা সব সময় তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভাবেন যে, আমাদের পরে তাদের মধ্যে আমাদের ধর্ম, সংস্কার, সংস্কৃতিগুলো থাকবে কিনা? এ বিষয় নিয়ে কি আপনি কখনো উদ্বিগ্ন হন?
উত্তর: দেখুন, জুইশরা সব সময় পারসুইটেড। তাদের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচেছ। ইউ নো ওদের স্প্রেড অব দি রিলিজিয়ন ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট, কারণ জন্মগত সূত্রে জুইশ না হলে কেউ জুইশ হতে পারবে না। কনভার্সন নাই। তো তারা যারা আছে, তারা তাদের ধর্মকে খুব আঁকড়ে ধরে এবং দে পারসোনেলি বিলিভ দে আর দি চোজেন পিপল অব গড। জুইসরা খুব ফিলনথ্রোপিক। তাদের টাকাও আছে, টাকাটা তারা খুব ভালো বুঝে। নিউইর্য়ক-এ সরকারি যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে সব তারা ভোগ করে এবং তাদের এত বুদ্ধি যে, তারা আইন করে ওগুলো ভোগ করে। তাদের নতুন কোন ইমিগ্রান্ট এদেশে আসলে তার বাড়ির খরচ, তার ফোনের খরচ, তার ইউটিলিটি-এর খরচ, সব সরকার থেকে নেয়। আমরা পারি না। বাঙালিরা এটা পারি না। তারা এটা করতে পারে কারণ তারা ইউনাইটেড এবং পলিটিক্যাল মাসুলও বেশি। দ্বিতীয়ত তাদের ফিনান্সিয়াল মাস্যুলটাও বেশি। মিডিয়া তারা কন্ট্রল করে এবং এর কারণ হচেছ, তারা শিক্ষিত, বাই এন লার্জ, দে আর ভেরি গুড ইন এডুকেশন, এনি লাইন ইন এডুকেশন, মেডিক্যাল বলেন, আর শিক্ষার যতগুলো শাখা আছে সবগুলোতেই তারা আছে। ভালো এর্টনি, দে আর জুইশ। তাদের শিক্ষা ও বুদ্ধি বেশি- এই জন্য দে ক্যান এক্সপ্লয়েট আদারস। আমরা যদি জুইশদের মত পড়াশোনায় ভালো করি, ভালো স্কুলে যাই আর ফিনান্সিয়াল মার্কেট-টা আমরা দখল করতে পারি, তাহলে আমাদেরও অনেক উন্নতি হবে। আমাদের ফিলানথ্রোপি এর মনটা কম। জুইশরা এ ব্যাপারে খুব এগিয়ে। যত ভালো হাসপাতাল, অল দি বেস্ট হসপিটালস, অল আর ডনেটেড বাই জুইশ পিপল। মুসলমানরা এই সব ব্যাপারে নাই, উনার মসজিদ বানিয়ে মনে করে দায়িত্ব শেষ। কিন্তু ভালো স্কুল, ভালো হাসপাতাল সব জুইশদের কনট্রিবিউশন। বিশেষ করে হাসপাতাল, এগুলো করতে যে একজনকে অনেক টাকা দিতে হয়, এমন নয়, ওরা করে কি, ওরা একটি রুম এর টাকা দেয়, একটা লিফট এর টাকা দেয়, তবু দে ডনেট। আমাদের এই মাইন্ডসেট নেই। আমরা শুধুমাত্র মসজিদের জন্য খরচ করি। অন্যখাতে আর খুব একটা খরচ করি না। কিন্তু জুইশরা কমিউনিটি এর জন্য অনেক কিছু করে । তাদের সিনেগাগগুলোতে সব সময় কমিউনিটি ইভেন্ট হয় এবং এতে ওদের বাচ্চারা অংশ নেয়। যার ফলে ওরা নিজেদের কমিউনিটি এর সাথে সম্পৃক্ত হয়। আমাদের মসজিদগুলোতে কমিউনিটি ইভেন্ট খুব একটা হয় না।
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








