Friday, 20 March 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
সব ক্যাটাগরি

সময় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় প্রতিনিধিত্বের – মাফ মিসবাহ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 77 বার

প্রকাশিত: January 10, 2014 | 4:32 PM

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম : যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবনযাপন করছেন, নানা ক্ষেত্রে সফল হয়েছেনÑ এমন বাংলাদেশীর সংখ্যা এখন অনেক। তবে এ সফলতার পথ পাড়ি দিতে কম-বেশি সবাইকে অবতীর্ণ হতে হয়েছে কঠিন জীবন সংগ্রামে। অনেককেই প্রবাস জীবনের সুকঠিন সংগ্রামে টিকে থাকতে বেছে নিতে হয়েছে ‘অড জব’। জীবন যুদ্ধে সফলরা তাদের সে সাফল্য গাথা যেমন গর্ব করে বলেন, পাশাপাশি অশ্রু সজল বেদনা বিধুর কণ্ঠে ‘অড জব’কে সাফল্যের পেছনের অবদান হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে কুন্ঠাবোধ করেন না। সফলদের কেউ কেউ আবার নিজেকে গর্ব করে পরিচয় দেন ‘কিং অব অড জবস’ হিসেবে।

তবে এর ব্যতিক্রমও যে নেই তা নয়, যাদের প্রবাসে এসে অড জব করতে হয়নি। ব্যতিক্রমী এমন সব সফলদের কেউ কেউ তুলনা করে থাকেন ‘সোনার চামক মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া’দের সাথে। কারণ প্রবাসে তাদের কঠিনতম বন্দুর পথ পাড়ি দিতে হয়নি। এমনই একজন প্রবাসী হচ্ছেন মাফ মিসবাহ উদ্দিন। এক আলোকিত মানুষ। নামেই যিনি সমধিক পরিচিত। তিনি প্রবাস জীবন শুরু করেছেন ভিন্নভাবে। যা সচরাচর হয়ে ওঠে না। দেশে এবং প্রবাসে দুই জায়গায়ই তিনি সফলদের সফল হিসেবে নিজকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি মূলধারায় নিজের এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন সমানভাবে। মূলধারায় সফল এ রাজনীতিক আমেরিকান ফেডারেশন অব স্টেট, কাউন্টি অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ, এএফএল সিআইও, ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭-এর ট্রেজারার এবং লোকাল ১৪০৭-এর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এ গুরত্বপূর্ণ পদ দুটি শুধু বাঙালি হিসেবেই নন, এশিয়ান আমেরিকান হিসেবেও একমাত্র মাফ মিসবাহ-ই অলঙ্কিত করেন। সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ বছর ধরে। বয়ে এনেছেন বাংলাদেশীদের জন্য বিরল সম্মান। কমিউনিটি ও দেশের উন্নয়নে রেখে চলেছেন নানামুখী অবদান। এ পদ দুটি এর আগে আমেরিকান শ্বেতাঙ্গদের করায়ত্তে ছিল।
কিংবদন্তিতুল্য এশিয়ান-আমেরিকান মূলধারার রাজনীতিক মাফ মিসবাহর প্রবাস জীবনে শুরুটা করেছেন গ্র্যাজুয়েট টিচিং এসিস্ট্যান্সশিপের মাধ্যমে। ওপরের ক্লাসে পড়েছেন, নিচের ক্লাসে পড়িয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বলস্টেট ইউনিভার্সিটিতে গ্র্যাজুয়েট টিচিং এসিস্ট্যান্সশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ১৯৮৪ সালের ২৮ আগস্ট। এর আগে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি গণিতে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৮০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেমোগ্রাফিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। এ বিষয়ে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
১৯৮৪ সালে আমেরিকা আসার আগ পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডব্লিউএইচও (হু)-এর একটি প্রকল্পে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। মাফ মিসবাহ ১৯৮৬ সালে বল স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে একচ্যুারিয়াল সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এটি ছিল তার তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি। ওই বছরই তিনি নিউইয়র্ক সিটির পেনশন ডিপার্টমেন্টে একচ্যুয়ারি হিসেবে যোগ দেন। এর সুবাদে তিনি নিউইয়র্ক সিটির স্পন্সরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আমেরিকায় থাকার সুযোগ লাভ করেন। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
নিউইয়র্ক সিটিতে আসার পর ১৯৮৬ সাল থেকে বসবাস শুরু করেন ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে। ওই সময় ব্রঙ্কসে বাংলাদেশীদের বসবাস ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ছিনতাই, মারামারি, খুনখারাবি ছিল বলতে গেলে নিত্যদিনের ঘটনা। এর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে কমিউনিটির পাশে দাঁড়ান মাফ মিসবাহ। নির্বাচিত হন পার্কচেস্টার কন্ডোমিনিয়ামের বোর্ড অব ডাইরেক্টর। ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এক যুগ তিনি সফলতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্রঙ্কসকে সন্ত্রাস, ছিনতাইমুক্ত নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়তে নেতৃত্ব দেন। মূলত তখন থেকেই বাঙালিরা ব্রঙ্কসকে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিতে শুরু করেন। নিউইয়র্কের মধ্যে ব্রঙ্কস এখন বাংলাদেশী অধ্যুষিত অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাঙালিরা এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ঈর্ষণীয় সফলতা পেয়েছে।
মাফ মিসবাহ নিউইর্য়ক সিটিতে কর্মরত একাউন্ট্যন্টি, ট্যাক্স অডিটর ইউনিয়ন লোকাল ১৪০৭-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০০০ সালে। এশিয়ান আমেরিকানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ পদে নির্বাচিত হওয়ার বিরল সম্মান লাভ করেন। এর পাশাপাশি ২০০৪-এ তিনি আরেকটি বিরল দায়িত্ব লাভ করেন প্রথম এশিয়ান আমেরিকান হিসেবে। তা হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির ৫৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ডিস্ট্রিক্ট (ডিসি)-৩৭ এর ট্রেজারার নির্বাচিত হওয়া। ডিসি-৩৭ এর মেম্বার সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার। নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত টিচার এবং পুলিশ অফিসার ছাড়া সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী (সাধারণ কেরানী থেকে ইঞ্জিনিয়ার, সায়েন্টিস্ট পর্যন্ত) ডিসি-৩৭ এর সদস্য। এসকল সদস্যের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেনিফিট পরিচালনা করেন ডিসি-৩৭ এর ট্রেজারার। মাফ মিসবাহ ২০০৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ডিসি-৩৭ এর ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মাফ মিসবাহ জানান, তিনি লোকাল ১৪০৭-এ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (২০০০-২০১৪) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিউইিয়র্ক সিটির কর্মরত একাউন্ট্যান্ট, ট্যাক্স অডিটর, ইকনোমিস্ট, বুককিপার, বেনিফিট এগজামিনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২৪০০ কর্মকর্তা এর সদস্য। সিটি মেয়রের অফিসের মাধ্যমে সদস্যদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কাজ করেন লোকাল ১৪০৭-এর প্রেসিডেন্ট।
মাফ মিসবাহ জানান, তিনি ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ছাড়াও লোকাল ৮০৮-এর বিল্ডিং মেইনটেনেন্স পোটার হিসেবে বেশ কজন বাঙালিকে চাকরি দিয়েছেন। সেখানে মুসলমান কর্মচারীদের জন্য জুমার নামাজ আদায়েরও ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
তিনি জানান, লেবার মুভমেন্টে আসার পর তার এবং অন্যান্য ইমিগ্রেন্ট কমিউনিটি লিডারদের প্রচেষ্টায় সিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটিতে দুই ঈদে ৩ দিন করে ফ্রি পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। গত ১১ বছর যাবৎ সিটির মুসলমানরা এ সুবিধা ভোগ করছেন।
মাফ মিসবাহ জানান, ঈদের দিন পাবলিক স্কুলে ছুটির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও দুই ঈদের দিন স্কুলগুলোতে যেন কোনো পরীক্ষা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। তিনি জানান, অন্যান্য কমিউনিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সিটি কাউন্সিলে দুই ঈদের ছুটির বিলটি ৪৯-০ ভোটে গৃহীত হয়। কিন্তু মেয়রের ভেটোর কারণে বিলটি আলোর মুখ দেখেনি। তবে আশার কথা, ঈদের ছুটি সম্পর্কিত আরেকটি বিল বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট ও সিনেটে বিবেচনাধীন রয়েছে।
মাফ মিসবাহ জানান, ২০০৮ সালে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক ডেলিগেট হিসেবে কলারাডোর ডেনবার্গে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে একমাত্র বাঙালি ডেলিগেট হিসেবে যোগ দান করেন তিনি। ওই সম্মেলনে অন্যান্য কমিউনিটির সরব প্রতিনিধিত্ব থাকলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তেমন প্রতিনিধিত্ব না দেখে তিনি হতাশ হন। ওই সময়ই দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটিকে কিভাবে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে ক্ষমতাশালী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ওই বছরই তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত ৮ টি দেশের অভিবাসীদের সমন্বয়ে গঠন করেন ‘অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার’ (অ্যাসাল)। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাফ মিসবাহ অ্যাসালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অ্যাসালের মাধ্যমে বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কমিউনিটির সুযোগ-সুবিধা, অভাব-অভিযোগ মূলধারার রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য অ্যাসাল আমেরিকান কংগ্রেসে লেখালেখি করে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবনযাপনকারী সাউথ এশিয়ানদের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করছে সংগঠনটি। ইরাক ও লিবিয়ায় যুদ্ধকালীন আটকা পড়াদের উদ্ধারে, বাংলাদেশে জাহাজভাঙা শিল্পে শিশু শ্রমিকদের কাজের পরিবেশসহ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমেরিকান কংগ্রেসে লেখালেখি করে অ্যাসাল। এতে অনেক সুফলও পাওয়া গেছে।
মাফ মিসবাহ জানান, তার সংগঠন ডিসি-৩৭ এর পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রলয়ঙ্কারী সিডরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশ হাজার ডলার আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, কুইন্সে অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে অ্যাসাল। যার ফলে ওই আসনটি এখন দক্ষিণ এশিয়ানদের সম্ভাব্য আসন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মাফ মিসবাহ বলেন, অ্যাসাল ড্রিম অ্যাক্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটে বিবেচনাধীন বিলটি পাস করার জন্য তার সংগঠনটি জোরালো লবিং করে চলেছে। বিলটি পাস হলে নিউইয়র্কে অবৈধভাবে অবস্থান করা ১৫-৩৫ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা আমেরিকান ছাত্র-ছাত্রীদের মতোই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। মাফ মিসবাহ জানান, অ্যাসাল সিটি কর্র্তৃক বিভিন্ন স্কুল ক্লোজ করা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও প্রবল প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
মাফ মিসবাহ জানান, অ্যাসালসহ অন্যান্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ নিউইয়র্ক স্টেট মুসলিম এডভাইজারি কাউন্সিল বিল পাসে জোরালো ভূমিকা রাখছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশীদের সাহায্য কামনা করেছেন তিনি। বিলটি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী এবং স্টেট সিনেটে ভোটাভুটির অপেক্ষায় রয়েছে। বিলটি পাস হলে নিউইয়র্ক স্টেট এবং সিনেটে ইসলাম বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোনো বিল আসলে মুসলিম কাউন্সিল তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। এখন এটা পাস করতে হলে নিউইয়র্ক স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশীসহ প্রায় ১০ লাখ মুসলমানকে সক্রিয় ও সোচ্চার হতে হবে।
মাফ মিসবাহ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রে করে কোনো লাভ নেই। এ রাজনীতি কমিউনিটি কিংবা দেশের কোনো উপকারে আসছে না। বরং এখানে বাংলাদেশের রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে কমিউনিটি এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে নেতৃত্বে আসতে হলে বাংলাদেশীদের দেশীয় রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কমিউনিটি ও দেশ সেবায় সত্যিকার ভূমিকা রাখতে হলে বাংলাদেশী আমেরিকানদের মূলধারার রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে আসতে হবে।
তিনি বাংলাদেশীদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় এসেছে বাংলাদেশী অভিবাসীদের মূলধারায় প্রতিনিধিত্ব করার। মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা মানে নিজেদের ক্ষমতাহীন করে রাখা। আর মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়া মানেই নিজেদের ক্ষমতাশালী করা। এতে ক্ষমতাবানদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। উল্টো দুর্বল ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে পারেন। কমিউনিটি ও দেশ সেবায় সত্যিকার ভূমিকা রাখতে হলে বাংলাদেশী আমেরিকানদের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অনিবার্য।
মিসবাহ বলেন, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থী। এটা তাদের পরিহার করা উচিত। মুসলিম কমিউনিটির পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটিকেও বিষয়টির প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মুসলিম কমিউনিটিকেও নিজেদের চরিত্র ও আচার ব্যবহার দিয়ে অন্যদের ভ্রান্তি দূর করতে হবে। আরো বেশি মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে।
মাফ মিসবাহ বলেন, আমাদের কমিউনিটির সমস্যা অনেক। এর মধ্যে এখানে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আসা বৃদ্ধ মা-বাবাদের অনেককেই মানবেতর জীবনযাপনের মুখোমুখি হতে হয়। যা পীড়াদায়ক। তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়ায় কয়েকটি পীড়াদায়ক ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশীরা অনেকে তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে আসেন আমেরিকায়। কিন্তু কেউ কেউ বাবা-মার যথাযথ যতœ নেন না। কিছুদিন বাসায় রাখার পর বাবা-মা কে রেখে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে। মাফ মিসবাহকে এসব ঘটনা দারুণভাবে ব্যথিত করে। এসব ঘটনা জানার পর, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষ্টি, কালচার ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রেখে একটি এজিং সেন্টার (বৃদ্ধাশ্রম) স্থাপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে কমিউনিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মূলধারার রাজনীতিক মাফ মিসবাহর দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে। তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ১ মেয়েসহ বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। স্ত্রী মাজেদা আক্তার উদ্দিন (বিউটি) একজন সুগৃহিণী এবং অ্যাসাল-এর উইমেন কো-অর্ডিনেটর। ছেলে-মেয়েরা সবাই লেখাপড়া করছেন। একমাত্র মেয়ে জামিলা উদ্দিন লেখা-পড়ার পাশপাশি অ্যাসাল-এর ইয়োথ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV